মঙ্গলবার, ২৩ জুন ২০২৬,
৯ আষাঢ় ১৪৩৩
বাংলা English
ই-পেপার

মঙ্গলবার, ২৩ জুন ২০২৬
শিরোনাম: একযোগে ১৭ ডেপুটি-সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেলের পদত্যাগ      বিকল লঞ্চ থেকে ৯৯৯-এ ফোন, ৮০ যাত্রী উদ্ধার      সেপ্টেম্বর থেকে স্থানীয় সরকার নির্বাচন শুরু হতে পারে: ডা. জাহেদ      সালমান শাহর লাশ উত্তোলনের আদেশ বাতিল      সুশাসন ও সংস্কার ছাড়া বাজেট বাস্তবায়ন কঠিন      দেশজুড়ে কঠোর সতর্কতা      চীনের দালিয়ানে পৌঁছেছেন প্রধানমন্ত্রী      
খোলাকাগজ স্পেশাল
বিচারহীনতায় বাড়ছে ধর্ষণ
শিপার মাহমুদ
প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ২১ মে, ২০২৬, ৯:১৯ এএম
ছবি : খোলা কাগজ

ছবি : খোলা কাগজ

‘আপনারা বিচার করতে পারবেন না। আমার মেয়েও আর ফিরে আসবে না। আপনাদের বিচারের কোনো উদাহরণ নেই। এটা বড়জোর ১৫ দিন চলবে, আবার কোনো ঘটনা ঘটবে। এরপর এটা ধামাচাপা পড়ে যাবে।’ গণমাধ্যমের সঙ্গে এ কথাগুলো বলছিলেন রাজধানীর পল্লবীতে ধর্ষণের পর নৃশংস হত্যাকাণ্ডে শিকার শিশু রামিসার বাবা আবদুল হান্নান মোল্লা। 

এরপর থেকেই তার এ মন্তব্যকে কেন্দ্র করে দেশজুড়ে শুরু হয়েছে আলোচনা সমালোচনা। একইসঙ্গে প্রশ্ন উঠেছে দেশের বিচারব্যবস্থা নিয়েও। অনেকেই মনে করছেন এসব অপরাধের ঘটনায় দেশে সঠিক বিচার না হওয়ায়, বিচারব্যবস্থার ওপর আস্থা রাখছে পারছে না সাধারণ মানুষ। 

এ ছাড়া বিচারব্যবস্থার দীর্ঘসূত্রতা, ভুক্তভোগী অভিভাবকদের মামলা চালানোর সামর্থ্য না থাকা ও আইনের ফাঁকফোকরে অপরাধীদের পার পেয়ে যাওয়ায় ভুক্তভোগীদের মধ্যে এক ধরনের চাপা ক্ষোভ তৈরি হয়েছে। যার বহিঃপ্রকাশ ঘটেছে রামিসার বাবার কথায়। 

এদিকে গত কয়েক বছরের ঘটে যাওয়া হত্যাকাণ্ডগুলো বিশ্লেষণ করলে দেখা যায় এসব অপরাধ সংঘঠিত হওয়ার পর কিছুদিন আলোচনা চললেও কিছুদিন পর আবার নতুন ইস্যু সামনে আসালে পুরোনো ঘটনা চাপা পড়ে যায়। বিশেষ করে অন্তর্বর্তী সরকারের সময় মাগুরায় আলোচিত শিশু আছিয়া ধর্ষণ-হত্যা মামলার এক বছর পেরিয়ে গেলেও এখনো বিচারের আলোর মুখ দেখেনি। 

মামলার প্রধান আসামি হিটু শেখের মৃত্যুদণ্ড হলেও হাইকোর্টে আপিলের ঘুরপাকে থমকে আছে গতি। যদিও শিশু আছিয়ার মৃত্যুর পর উত্তাল হয়ে ওঠে দেশ। তোপের মুখে নারী নির্যাতন দমন আইনে সংশোধন এনে দ্রুত বিচার ও রায় কার্যকর করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন তখনকার আইন উপদেষ্টা আসিফ নজরুল। 

এ প্রসঙ্গে মাগুরা জেলা গণকমিটির সদস্যসচিব প্রকৌশলী শস্পা বসু গণমাধ্যমকে বলেন, ‘আছিয়ার মতো একটি চাঞ্চল্যকর নির্মম ধর্ষণ ও হত্যার ঘটনায় আসামির ফাঁসির রায় এখনো কার্যকর না হওয়ায় আমরা ক্ষুব্ধ। বিচার কার্যক্রমের এমন দীর্ঘসূত্রতা অপরাধীদের অপরাধ প্রবণতা বাড়ায়। এর প্রমাণ সম্প্রতি ঢাকার পল্লবীতে রাইসা নামের একটি শিশুকে ধর্ষণ ও হত্যা। এ ধরনের শিশু নির্যাতন প্রতিনিয়ত ঘটছে। আমরা চাই হিটু শেখের দ্রুত ফাঁসি হোক।’

এ ছাড়া নেত্রকোনায় শিক্ষকের ধর্ষণে গর্ভবতী হয়ে পড়ে ১১ বছরের এক শিশু এবং মানিকগঞ্জে পাঁচ বছর বয়সি এক শিশুকে ধর্ষণের অভিযোগ ওঠে তার সৎ বাবার বিরুদ্ধে। এসব ঘটনায় স্তম্ভিত হয়ে পড়ে সারা দেশ। 

ইউনিসেফের তথ্যমতে, প্রতি আটজনে একজন নারী ১৮ বছর বয়স হওয়ার আগেই ধর্ষণ বা যৌন নির্যাতনের শিকার হয়েছেন। আইন ও সালিশকেন্দ্রের পরিসংখ্যান বলছে, বাংলাদেশে গত আট বছরে ৩ হাজারের বেশি শিশু ধর্ষণের মামলা দায়ের হয়েছে; ধর্ষণের শিকার হয়েছে আরও বেশি। এদের মধ্যে অন্তত ৫৩৯ জনের বয়স ছয় বছরের কম। আর সাত থেকে বারো বছরের মধ্যে আছে ৯৩৩ জন। গবেষণায় দেখা গেছে, বেশির ভাগ ক্ষেত্রে পরিচিতদের দ্বারাই শিশুরা যৌন নির্যাতন বা ধর্ষণের শিকার হয়।

জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউটের একটি নিবন্ধ অনুযায়ী, ‘শতকরা প্রায় ৮৫ ভাগ ক্ষেত্রেই যৌন নির্যাতনকারীরা শিশুর পরিচিতি- হয় তার আত্মীয়, বন্ধু বা বিশ্বস্ত কেউ।’ শিশুদের ওপর হওয়া যৌন নিপীড়ন নিয়ে ২০২০ সালে প্রকাশিত ‘চাইল্ড সেক্সুয়াল এবিউজ ইন বাংলাদেশ’ শিরোনামের গবেষণাতেও বলা হয়েছে, দুর্বৃত্তরা বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই ভুক্তভোগীর পরিচিত কেউ থাকেন।

এ বিষয়ে কথা হলে সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ব্যারিস্টার নিশাত মাহমুদ খোলা কাগজকে বলেন, ‘আইনের প্রতি সাধারণ মানুষের আস্থাহীনতা, এটা মূলত আইন প্রয়োগকারী সংস্থার ব্যর্থতারই বহিঃপ্রকাশ। আরেকটি বড় সমস্যা হলো তদন্ত কার্যক্রমে দীর্ঘসূত্রতা। এসব বিষয়ে গুরুত্ব দিতে হবে। এ ছাড়া শিশু ধর্ষণসংক্রান্ত মামলার জন্য যে বিশেষ আদালত রয়েছে, সেগুলোর কার্যকারিতা নিয়েও সরকারের আরও নজর দেওয়া প্রয়োজন। আইনের ক্ষেত্রে আমি বলব দ্রুত বিচার নিশ্চিত করতে না পারলে কাক্সিক্ষত ফল পাওয়া যাবে না।’ 

রামিসা হত্যা মামলার আসামি সোহেলের স্বীকারোক্তি :  সাত বছরের শিশু রামিসাকে হত্যা ও ধর্ষণের ঘটনায় হওয়া মামলার প্রধান আসামি সোহেল রানা আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছে। গতকাল বুধবার ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আমিনুল ইসলাম জুনাইদ ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় তার জবানবন্দি রেকর্ড করেন। 

এদিন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পল্লবী থানার উপপরিদর্শক অহিদুজ্জামান পৃথকভাবে সোহেল রানার জবানবন্দি রেকর্ড ও স্বপ্নাকে কারাগারে আটক রাখার আবেদন করেন। জবানবন্দিতে জিজ্ঞাসাবাদে আসামি সোহেল রানা ঘটনার কথা স্বীকার করে।

আসামি সোহেল শিশুকন্যা রামিসাকে জোরপূর্বক ধর্ষণের পর খুন করে এবং দ্বিতীয় আসামি স্বপ্নার সহায়তায় লাশ গুমের উদ্দেশ্যে বাদীর শিশুকন্যা রামিসা আক্তারের মাথা আলাদা এবং যৌনাঙ্গ ক্ষতবিক্ষতসহ শরীরে বিভিন্ন অংশ বিচ্ছিন্ন করার কথা স্বীকার করে। আদালত জবানবন্দির রেকর্ডের পর সোহেল রানাকে কারাগারে পাঠানো হয়।

অপর আসামি সোহেল রানার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারকেও কারাগারে পাঠানো হয়েছে। রামিসাকে হত্যার ঘটনায় তার বাবা বাদী হয়ে একটি মামলা করেন।

মামলার এজাহারে বলা হয়, বাদী তার পরিবারের লোকজন নিয়া পল্লবী থানাধীন সেকশন-১১, ব্লক-বি এলাকায় ফ্ল্যাটে সপরিবারে ভাড়া বাসায় বসবাস করিয়া বনানীতে একটি বেসরকারি অফিসে চাকরি করেন। আসামি সোহেল রানা ও স্বপ্না আক্তারও একই বাসার অন্য ফ্ল্যাটে থাকতেন। ভিক্টিম পপুলার মডেল হাই স্কুলের ২য় শ্রেণিতে লেখাপড়া করত। গত ১৯ মে সকাল সাড়ে ৯টার সময় ঘর থেকে বের হলে আসামি কৌশলে ভিক্টিমকে তার ফ্ল্যাটের রুমে নিয়ে যায়।

কেকে/ এমএস


আরও সংবাদ   বিষয়:  বিচারহীনতা   ধর্ষণ   
মতামত লিখুন:
Loading...
Loading...

খোলাকাগজ স্পেশাল- এর আরো খবর

সম্পাদক ও প্রকাশক : আহসান হাবীব
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : বসতি হরাইজন, ১৭-বি, বাড়ি-২১ সড়ক-১৭, বনানী, ঢাকা-১২১৩
ফোন : বার্তা-০২২২২২৭৬০৩৭, মফস্বল-০২২২২২৭৬০৩৬, বিজ্ঞাপন ও সার্কুলেশন-০২২২২২৭৬০২৯, ০১৭৮৭৬৯৭৮২৩, ০১৮৫৩৩২৮৫১০ (বিকাশ)
ই-মেইল: kholakagojnews@gmail.com, kholakagojadvt@gmail.com

© 2025 Kholakagoj
🔝
close