মঙ্গলবার, ২৩ জুন ২০২৬,
৯ আষাঢ় ১৪৩৩
বাংলা English
ই-পেপার

মঙ্গলবার, ২৩ জুন ২০২৬
শিরোনাম: বিকল লঞ্চ থেকে ৯৯৯-এ ফোন, ৮০ যাত্রী উদ্ধার      সেপ্টেম্বর থেকে স্থানীয় সরকার নির্বাচন শুরু হতে পারে: ডা. জাহেদ      সালমান শাহর লাশ উত্তোলনের আদেশ বাতিল      সুশাসন ও সংস্কার ছাড়া বাজেট বাস্তবায়ন কঠিন      দেশজুড়ে কঠোর সতর্কতা      চীনের দালিয়ানে পৌঁছেছেন প্রধানমন্ত্রী      চীন পৌঁছেছেন প্রধানমন্ত্রী      
খোলাকাগজ স্পেশাল
বাস্তবসম্মত বাজেট চান ব্যবসায়ী-অর্থনীতিবিদরা
জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক
প্রকাশ: শুক্রবার, ২২ মে, ২০২৬, ১০:১৯ এএম
ছবি : খোলা কাগজ

ছবি : খোলা কাগজ

আসন্ন ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জাতীয় বাজেট ঘিরে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ, সামষ্টিক অর্থনীতির স্থিতিশীলতা, রাজস্ব ঘাটতি, ঋণচাপ, বিনিয়োগ স্থবিরতা ও বাজারে আস্থাহীনতা নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন অর্থনীতিবিদ, ব্যবসায়ী ও শিল্প উদ্যোক্তারা। 

তারা বলছেন, বর্তমান বৈশ্বিক ও অভ্যন্তরীণ অর্থনৈতিক চাপের মধ্যে এবারকার বাজেট হবে সরকারের জন্য ভারসাম্যের এক কঠিন পরীক্ষা। 

বৃহস্পতিবার রাজধানীর সোনারগাঁও হোটেলে প্রথম আলো আয়োজিত ‘সংকটকালের বাজেট ও জনপ্রত্যাশা’ শীর্ষক গোলটেবিল আলোচনায় বক্তারা এসব কথা বলেন। 

বক্তারা বলেন, বাজেটে উচ্চাভিলাষী লক্ষ্যের বদলে বাস্তবসম্মত পরিকল্পনা, কর ব্যবস্থার সংস্কার, অপ্রয়োজনীয় করছাড় পুনর্বিবেচনা, আর্থিক খাতের সংস্কার এবং উৎপাদন ও ব্যবসা টিকিয়ে রাখতে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার ওপর জোর দিয়েছেন তারা। একইসঙ্গে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণকে বাজেটের মূল লক্ষ্য নির্ধারণ, বৈষম্য কমাতে সম্পদ কর ও উত্তরাধিকার কর চালু, শিল্প খাতে করের চাপ কমানো এবং বাজারে গুটিকয়েক শিল্পগোষ্ঠীর আধিপত্য কমাতে বিকল্প ব্যবস্থা তৈরির দাবি উঠেছে।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, কিছু লোকের নিয়ন্ত্রিত অর্থনীতি ও পৃষ্ঠপোষকতার সংস্কৃতি থেকে বের হয়ে দেশের সাধারণ মানুষের জন্য একটি কল্যাণমুখী রাষ্ট্র এবং মানবিক অর্থনীতি প্রতিষ্ঠা করতে সরকার সর্বাত্মক সংস্কার কর্মসূচি হাতে নিয়েছে।  

অর্থমন্ত্রী বলেন, ব্যবসা পরিচালনার খরচ এবং বন্দর থেকে শুরু করে পণ্য পরিবহনের সব স্তরের অতিরিক্ত চার্জ ও আমলাতান্ত্রিক হয়রানি কমাতে সরকার কঠোর পদক্ষেপ নিচ্ছে। ব্যবসা বা প্রকল্প বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে আগে যেখানে অসংখ্য অনুমোদনের প্রয়োজন হতো, তা কমিয়ে আনা হচ্ছে। আগামী এক বছরের মধ্যে দেশের পুরো অর্থনৈতিক ও প্রশাসনিক ব্যবস্থাকে ডিজিটাল অটোমেশনের আওতায় আনা হবে। একই সঙ্গে ‘ওয়ান সিটিজেন, ওয়ান কার্ড’-এর মাধ্যমে সব নাগরিক সেবা নিশ্চিতের উদ্যোগ চলছে। 

অর্থমন্ত্রী বলেন, উচ্চ সুদের ব্যাংক ঋণের বিকল্প হিসেবে ক্যাপিটাল মার্কেট (পুঁজিবাজার) ও বন্ড মার্কেটকে শক্তিশালী করা হচ্ছে। আন্তর্জাতিক ইনভেস্টমেন্ট ব্যাংকার, ফান্ড ম্যানেজার এবং আইএফসি থেকে ব্যাপক সাড়া পাওয়া যাচ্ছে। একটি নির্দিষ্ট পরিমাণের বেশি মূলধনী কোম্পানিগুলোর জন্য পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত হওয়া বাধ্যতামূলক করা হবে। এ ছাড়া সরকার দেশে এবং বিদেশে ‘বাংলাদেশ বন্ড’ ফ্লোট করার প্রক্রিয়া চালাচ্ছে, যেখানে সুদের হার ৬ থেকে ৯ শতাংশের মধ্যে থাকবে।

আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, সাধারণ রেস্টুরেন্ট বা ক্ষুদ্র দোকানদারদের করের আওতায় আনতে এবং কর কর্মকর্তাদের হয়রানি থেকে বাঁচাতে বছরে একটি সহজ ‘ফ্ল্যাট রেট’ চালুর পরিকল্পনা করা হচ্ছে। কর নীতি প্রণয়নে আমূল পরিবর্তন আনা হচ্ছে। 

অর্থমন্ত্রী দেশবাসীকে আগামী দুবছর ধৈর্য ধরার আহ্বান জানিয়ে বলেন, আমাদের মূল লক্ষ্য শুধু জিডিপি প্রবৃদ্ধি বাড়ানো নয়, বরং প্রবৃদ্ধির সুফল সাধারণ মানুষের জীবনে কতটুকু পরিবর্তন আনল তা নিশ্চিত করা। আগামী দুবছরের মধ্যে বাংলাদেশ একটি প্রকৃত কল্যাণমুখী রাষ্ট্র হিসেবে আত্মপ্রকাশ করবে।

বেসরকারি গবেষণা সংস্থা সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) সম্মাননীয় ফেলো দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য বলেছেন, সামষ্টিক অর্থনীতি স্থিতিশীল রাখতে হলে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণকে আগামী ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটের ‘ধ্রুবতারা’ বা মূল লক্ষ্য ধরা উচিত হবে। 

দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য বলেন, একদিকে অমীমাংসিত কাঠামোগত সংস্কারের অভাব এবং প্রতিকূল বৈশ্বিক পরিস্থিতি, অন্যদিকে আইএমএফের শর্ত ও জনগণের উচ্চাশা এই চতুর্মুখী চাপের মুখে দাঁড়িয়ে অর্থমন্ত্রীকে বাজেট প্রণয়ন করতে হচ্ছে। এ পরিস্থিতিতে সামষ্টিক অর্থনীতি স্থিতিশীল রাখতে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণকে বাজেটের ‘ধ্রুবতারা’ বা মূল লক্ষ্য করা উচিত হবে।

দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য বলেন, ভঙ্গুর অর্থনীতি থেকে সমৃদ্ধির পথে ফেরার জন্য সামষ্টিক অর্থনীতির কাঠামোয় একটি ‘অ্যাঙ্কর’ বা নোঙর প্রয়োজন। মূল্যস্ফীতিকে ধ্রুবতারা হিসেবে অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতায় রাখাটা এখনো সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।
 
রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা নিয়ে দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য বলেন, বছরের বড় অঙ্কের রাজস্ব ঘাটতি মেটানোই এখন বড় চ্যালেঞ্জ। কর-জিডিপি অনুপাত ৮ শতাংশে উন্নীত করার যে লক্ষ্য মন্ত্রী দিয়েছেন, তা অর্জনে নতুন ক্ষেত্রে করজাল বাড়ানো এবং কর ব্যবস্থাপনায় দক্ষতা বৃদ্ধির কোনো বিকল্প নেই।

দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য বলেন, বর্তমানে জিডিপির প্রায় ৬ শতাংশ করছাড় দেওয়া হচ্ছে। করপোরেট আয়করে বর্তমানে ২৫ হাজার কোটি টাকার ওপর ছাড় দেওয়া হচ্ছে। তৈরি পোশাক ও বস্ত্র খাতে এ ছাড়ের পরিমাণ প্রায় ৪ হাজার ৬৪৬ কোটি টাকা। আবার বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতে ছাড় দেওয়া আছে ৭ হাজার ৬১১ কোটি টাকার মতো। জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) উচিত হবে এ করছাড়ের জায়গাগুলো ভালো করে ‘ঝেড়ে-মুছে’ দেখা। বিশেষ করে বিদ্যুৎ খাতে যে বিশাল করছাড় দেওয়া হচ্ছে, তা পুনর্বিবেচনা করার সুযোগ আছে।

বৈদেশিক ঋণ পরিশোধের চাপ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য বলেন, বাংলাদেশ এখন ‘মডারেট ডেট ডিস্ট্রেস’ বা মাঝারি মাত্রার ঋণের সংকটে ঢুকে গেছে। বৈদেশিক ও অভ্যন্তরীণ ঋণ ব্যবস্থাপনা এখন বিশাল চ্যালেঞ্জ। বিশেষ করে বৈদেশিক দায় পরিশোধে এখন শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতের ব্যয়ের চেয়েও দ্বিগুণ টাকা চলে যাচ্ছে। এ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে বাংলাদেশ ব্যাংক ও অর্থ মন্ত্রণালয়ের মধ্যে কার্যকর সমন্বয় প্রয়োজন।

রাজস্ব বৃদ্ধির বিকল্প উৎস হিসেবে সরকারের হাতে থাকা বহুজাতিক ও লাভজনক শিল্পপ্রতিষ্ঠানের শেয়ারবাজারে ছাড়ার পরামর্শ দেন দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য। 

তিনি বলেন, সাবেক অর্থমন্ত্রী সাইফুর রহমানের আমল থেকেই এ আলোচনা চলছে। এমনকি সর্বশেষ অন্তর্বর্তী সরকারও এ বিষয়ে সাহসী সিদ্ধান্ত নিতে পারেনি। বর্তমান অর্থমন্ত্রী চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি ছিলেন। তিনি যদি এটি করতে না পারেন, তবে আর কে পারবেন? মূলত আমলাদের পক্ষ থেকে এক ধরনের প্রতিরোধের কারণে এটি সম্ভব হয় না, কারণ, ওইসব প্রতিষ্ঠানের পর্ষদ সভায় বসে তারা বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা পেয়ে থাকেন।

সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা ও অর্থনীতিবিদ হোসেন জিল্লুর রহমান বলেন, বাজেটের মাধ্যমে জনপ্রিয়তা অর্জনের চেয়ে সফলতার বিষয়টিকে বেশি গুরুত্ব দিতে হবে। জনপ্রত্যাশা হচ্ছে স্বস্তির বাজেট। উচ্চাভিলাষী বাজেট এ মুহূর্তে জনপ্রত্যাশা নয়। বিনিয়োগকারী থেকে শুরু করে সাধারণ মানুষ, সবার মধ্যে আস্থা সংকট রয়েছে। বাজেটের বিভিন্ন পদক্ষেপের মাধ্যমে এ আস্থার সংকট অতিক্রম করা বা দূর করা জরুরি।

হোসেন জিল্লুর রহমান আরও বলেন, অর্থনীতির নানা খাতেই এখন নানা সংকট বিরাজ করছে। বাজেটের ক্ষেত্রে বড় সংকট বাস্তবায়নের সংকট। বাস্তবায়নের এ সংকট প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কার ছাড়া দূর করা যাবে না।

তিনি বলেন, বিনিয়োগ এখন নিষ্ক্রিয় অবস্থায় আছে। উৎপাদন খাতের প্রবৃদ্ধি কমে গেছে, এটা অর্থনীতির জন্য ভালো বার্তা নয়। মানুষ এখন আয়-ব্যয়ের সমন্বয় করতে গিয়ে হিমশিম খাচ্ছে। বাজেটে মানুষের এ সংগতির বিষয়টাকে বিশেষভাবে বিবেচনায় নিতে হবে। শিক্ষা স্বাস্থ্য খাতে অর্থ বরাদ্দ বাড়ানোর চেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ অর্থ ব্যয়ের সক্ষমতা বৃদ্ধি। অর্থ বরাদ্দ বাড়াতে হবে সেবার মান বৃদ্ধির জন্য। তা না হলে শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতে বাড়তি বরাদ্দে শুধু ভবন তৈরিতে ব্যয় হবে। মানুষের তাতে কোনো উপকার হবে না। 

নিট পোশাক রপ্তানিকারকদের সংগঠন বিকেএমইএ সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম বলেছেন, অনেক চালু কারখানা বন্ধ হওয়ার উপক্রম হয়েছে। এসব কারখানা চালু রাখার জন্য একটি তহবিল গঠন প্রয়োজন। একইসঙ্গে যারা ব্যবসা থেকে চলে যেতে চায়, তাদের জন্য বাজেটে বরাদ্দ রাখতে হবে। 

তিনি বলেন, ‘অনেকেই ব্যবসা থেকে নিরাপদ প্রস্থান চাইছেন। তাদের জন্য একটা পথ রাখতে হবে।’ বিদ্যমান করনীতি নতুন করে দেখার প্রস্তাব দেন মোহাম্মদ হাতেম। তিনি বলেন, বিক্রির ওপর অগ্রিম আয়কর নেওয়া হচ্ছে। মুনাফা না হলেও কর দিতে হচ্ছে। এ ছাড়া সৌর বা নবায়নযোগ্য জ্বালানির প্রসারে ব্যাটারির ওপর থেকে সব শুল্ক প্রত্যাহারের দাবি জানান তিনি। 

রাজধানীর মৌলভীবাজার ব্যবসায়ী সমিতির সাধারণ সম্পাদক গোলাম মাওলা, দেশের ১৮ থেকে ২০ কোটি মানুষ ভোগ্যপণ্যের জন্য মাত্র ৪-৫টি বড় শিল্পগোষ্ঠীর ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়েছেন। এটিকে দেশের সামগ্রিক বাজার ব্যবস্থার জন্য ‘ভয়ানক ব্যাপার’ হিসেবে উল্লেখ করেন তিনি। তিনি বলেন, বেসরকারি খাতের পাশাপাশি সরকারের একটি বিকল্প ব্যবস্থা বা ‘রিজার্ভ ডিফেন্স’ থাকা জরুরি।

গোলাম মাওলা আমদানি করা পণ্যের ওপর শতাংশ হারে শুল্ক বসানোর পরিবর্তে ওজন বা টনপ্রতি ‘স্পেসিফিক ডিউটি’ বা প্যাকেজভিত্তিক শুল্ক নির্ধারণের দাবি জানান। তিনি বলেন, যে দেশ থেকেই আনা হোক, টনপ্রতি একটি নির্দিষ্ট পরিমাণ রাজস্ব ঠিক করে দিলে আর কোনো অস্বচ্ছতা থাকবে না।’

ব্যবসায়ীদের টাকা পাচারের অভিযোগের বিষয়ে গোলাম মাওলা বলেন, ‘আমাদের বলা হয় আমরা টাকা পাচার করি। আসলে পাচার ঠিক না। দুবাই বা চীনের ব্যবসায়ীদের সঙ্গে আমাদের স্থানীয় ব্যবসায়ীদের সম্পর্ক থাকে, পাওনা থাকলে তা সমন্বয় করা হয়।’

ট্রান্সকম গ্রুপের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) সিমিন রহমান বলেন, ওষুধ খাতের কাঁচামাল আমদানিতে অগ্রিম আয়কর (এআইটি) ৫ শতাংশ থেকে কমিয়ে ৩ শতাংশ করতে হবে। একইসঙ্গে করের আওতা বাড়াতে হবে। আমদানি পর্যায়ে যে ৫ শতাংশ এআইটি কাটা হয়, তা এনবিআর থেকে কখনো ফেরত পাওয়া যায় না। আমরা প্রস্তাব করছি এটি কমিয়ে ৩ শতাংশে আনা হোক। একইভাবে প্রাতিষ্ঠানিক বিক্রয়ের ক্ষেত্রে উৎসে কর (টিডিএস) ৫ শতাংশ থেকে কমিয়ে ৩ শতাংশ করা হোক। এতে ব্যবসার ওপর থেকে অবাস্তব করের বোঝা কমবে।

সিমিন রহমান বলেন, ‘আর্থিক খাতের সংস্কার নিয়ে কথা বলা সহজ, কিন্তু বাস্তবায়ন করা কঠিন। বর্তমান সরকার বিগত আমল থেকে যে ধরনের চ্যালেঞ্জ উত্তরাধিকার সূত্রে পেয়েছে, তার প্রভাব সরাসরি ব্যবসায়ীদের ওপর পড়ছে। আমরা যারা ব্যবসায়ী সমাজ, তারা প্রতিদিন আর্থিক খাতের সংকটের কারণে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছি।’

আর্থিক খাতের সংস্কার এখন সময়ের দাবি উল্লেখ করে সিমিন রহমান বলেন, ‘এই সংস্কারগুলো করা সহজ কথা নয়, তবে আমাদের সঠিক সংস্কারের দিকেই এগোতে হবে।’

তিনি বলেন, রপ্তানির উদ্দেশ্যে আমদানি করা কাঁচামালের ওপর নিয়ন্ত্রণমূলক শুল্ক (রেগুলেটরি ডিউটি) শূন্য করা প্রয়োজন। আমরা শুল্ক দিয়ে কাঁচামাল আনছি, আবার সেই পণ্য রপ্তানি করছি। এতে আমাদের উৎপাদন খরচ অন্য দেশের তুলনায় বেড়ে যাচ্ছে। এ ছাড়া পোশাক খাতের মতো ওষুধ শিল্পের রপ্তানিকারকদের জন্যও বন্ডেড ওয়্যারহাউস সুবিধা দরকার।

কেকে/ এমএস


আরও সংবাদ   বিষয়:  বাস্তবসম্মত বাজেট   ব্যবসায়ী   অর্থনীতিবিদরা  
মতামত লিখুন:
Loading...
Loading...

খোলাকাগজ স্পেশাল- এর আরো খবর

সম্পাদক ও প্রকাশক : আহসান হাবীব
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : বসতি হরাইজন, ১৭-বি, বাড়ি-২১ সড়ক-১৭, বনানী, ঢাকা-১২১৩
ফোন : বার্তা-০২২২২২৭৬০৩৭, মফস্বল-০২২২২২৭৬০৩৬, বিজ্ঞাপন ও সার্কুলেশন-০২২২২২৭৬০২৯, ০১৭৮৭৬৯৭৮২৩, ০১৮৫৩৩২৮৫১০ (বিকাশ)
ই-মেইল: kholakagojnews@gmail.com, kholakagojadvt@gmail.com

© 2025 Kholakagoj
🔝
close