প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান আজ শনিবার (২৩ মে) দুপুরে ময়মনসিংহের ত্রিশাল আসছেন। তার আগমনকে কেন্দ্র করে উচ্ছ্বসিত হয়েছেন বিএনপি, অঙ্গ এবং সহযোগী সংগঠনের সর্বস্তরের নেতা-কর্মী ও সমর্থকসহ ময়মনসিংহ বিভাগবাসী। প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পর এটিই তার প্রথম ময়মনসিংহ সফর। প্রধানমন্ত্রীর এই সফরকে কেন্দ্র করে বিভাগজুড়ে উৎসবের আমেজ বিরাজ করছে। শুক্রবার সন্ধ্যা থেকেই নিরাপত্তার চাদরে ঢেকে ফেলা হয়েছে অনুষ্ঠানস্থল এবং আশপাশের এলাকা। প্রধানমন্ত্রীর আগমনস্থলে থাকছে সাতস্তরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা। পর্যাপ্ত আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যের পাশাপাশি নিরাপত্তার মূল দায়িত্বে থাকবে এসএসএফ ও পিজিআর। এই দুই সংস্থার গুরুত্বপূর্ণ একাধিক টিম দুই দিন ধরে ময়মনসিংহের ত্রিশালে অবস্থান করেছে।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান আজ সকাল সাড়ে ৯টায় তার বাসভবন থেকে সড়কপথে ময়মনসিংহের ত্রিশালের উদ্দেশ্যে রওনা দেবেন। দুপুর সাড়ে ১২টায় বৈলর ইউনিয়নের ধরার খাল পুনঃখনন উদ্বোধন ও সুধী সমাবেশে বক্তব্য রাখবেন। সেখান থেকে ত্রিশাল নজরুল ডাকবাংলোয় গিয়ে বিশ্রাম ও দুপুরের খাবার খাবেন। বিকাল পৌনে ৪টায় নজরুল মঞ্চে ১২৭তম নজরুল জন্মজয়ন্তীর তিন দিনের অনুষ্ঠান উদ্বোধন করে প্রধান অতিথির গুরুত্বপূর্ণ ভাষণ দেবেন। তিনি গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি প্রকল্পের ঘোষণা দেবেন বলে নির্ভরযোগ্য সূত্র নিশ্চিত করেছে। তারেক রহমান বিকাল সাড়ে ৫টায় ত্রিশালের নজরুল অডিটোরিয়ামে বিএনপি আয়োজিত সাংগঠনিক সভায় যোগ দেবেন। দলীয় নেতাদের বক্তব্য শুনে তিনি গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশনা দেবেন বলে জানা গেছে। সভায় ময়মনসিংহ উত্তর, দক্ষিণ ও মহানগর বিএনপি, অঙ্গ এবং সহযোগী সংগঠনের নেতারা উপস্থিত থাকবেন।
জানা যায়, সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয় আয়োজিত ১২৭তম নজরুল জন্মজয়ন্তীর তিন দিনের জাতীয় অনুষ্ঠানে দেশের বিশিষ্ট কবি, সাহিত্যিক ও সংস্কৃতিকর্মীরা উপস্থিত থাকবেন। ২০০৬ সালের পর দীর্ঘ ২০ বছরের মাথায় এবারই প্রথম জাতীয়ভাবে ত্রিশালে নজরুল জন্মজয়ন্তী উদযাপিত হচ্ছে। এতে প্রাণ ফিরে পেয়েছেন নজরুলভক্তরা। এই আয়োজনকে ঘিরে ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কজুড়ে বর্ণিল তোরণ, ব্যানার ও ফেস্টুন লাগানো হয়েছে। নজরুল একাডেমি মাঠে বসেছে বিশাল গ্রামীণ মেলা ও বইমেলা। এরই মধ্যে সেখানে বসানো হয়েছে পাঁচ শতাধিক স্টল। পুরো ত্রিশাল পৌর শহর ও আশপাশের এলাকায় করা হয়েছে বর্ণিল আলোকসজ্জা।
শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান ও বেগম খালেদা জিয়ার ছেলে তারেক রহমান দীর্ঘ ২২ বছর পর তৃতীয় বারের মতো আজ ময়মনসিংহের মাটিতে পা রাখবেন। ২০০৫ সালের ২০ জুলাই তিনি ময়মনসিংহে এসেছিলেন। ওই সফরে তিনি ময়মনসিংহ মহানগরসহ কয়েকটি উপজেলায় যান। প্রধানমন্ত্রীর কর্মসূচি কভার করার জন্য এরই মধ্যে অর্ধশত গণমাধ্যমকর্মী ত্রিশালে পৌঁছেছেন। অনুষ্ঠানগুলো সরাসরি সম্প্রচার করবে রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন বিটিভি ও বেসরকারি বিভিন্ন টেলিভিশন।
এদিকে প্রধানমন্ত্রীর সফর ঘিরে ঢাকা থেকে ময়মনসিংহের ত্রিশাল চার লেন জাতীয় সড়কে নেওয়া হয়েছে নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা ব্যবস্থা। সড়কপথের গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টগুলোতে গোয়েন্দা সংস্থার নির্দেশনা অনুযায়ী বিজিবি, র্যাব, অতিরিক্ত পুলিশ ও আনসার সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে।
ত্রিশাল উপজেলা নির্বাহী অফিসার আরাফাত সিদ্দিকী শুক্রবার রাতে দৈনিক খোলা কাগজকে জানান, ‘‘প্রধানমন্ত্রীর আগমন উপলক্ষে এরই মধ্যে সব ধরনের প্রশাসনিক প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে।’’
এদিকে স্থানীয় সংসদ সদস্য ডা. মাহবুবুর রহমান লিটন, ময়মনসিংহ সদরের সংসদ সদস্য আবু ওয়াহাব আকন্দ ওয়াহিদ, মুক্তাগাছা আসনের সংসদ সদস্য জাকির হোসেন বাবলু, কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় বিএনপি নেতৃবৃন্দ প্রধানমন্ত্রীর সফরের সার্বিক তদারকি করছেন।
ডা. মাহবুবুর রহমান লিটন বলেন, ‘‘প্রধানমন্ত্রীর সফর নেতা-কর্মীদের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা সৃষ্টি করেছে। মানুষের প্রত্যাশা, এই সফরের মাধ্যমে উন্নয়নে নতুন নতুন ঘোষণা আসবে।’’
তারেক রহমান ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রচারণায় অংশ নেওয়ার জন্য গত ২৭ জানুয়ারি (মঙ্গলবার) ময়মনসিংহে এসেছিলেন। বিকেল ৪টায় ঐতিহাসিক সার্কিট হাউস মাঠে নির্বাচনি জনসভায় ঐতিহাসিক ভাষণ দেন। এ সময় তিনি ময়মনসিংহ বিভাগের ২৪ আসনে বিএনপির ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থীদের পরিচয় করিয়ে দিয়েছিলেন। ময়মনসিংহে এদিন বিএনপির সফল জনসভা হয়েছিল। ছাড়িয়ে গিয়েছিল অতীতের সব রেকর্ড। লোকে লোকারণ্য হয়ে ওঠে নগরী। কাছ থেকে এক নজর দেখতে ও তার গুরুত্বপূর্ণ বক্তব্য শুনতে উপস্থিত হন বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার লাখ লাখ মানুষ। গত নির্বাচনে ময়মনসিংহ বিভাগের চার জেলার ২৪ আসনের মধ্যে ২০টিতে জয় পায় বিএনপি। চারটির মধ্যে জামায়াতে ইসলামী তিনটি ও খেলাফত মজলিস একটি আসনে বিজয়ী হয়।
কেকে/এলএ