পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষে মহাসড়কে যানজট ও ঘরমুখো মানুষের ভোগান্তি কমাতে গাজীপুরের পোশাক কারখানাগুলোতে ধাপে ধাপে ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে। পুলিশ প্রশাসন ও কারখানা মালিকদের সমন্বিত সিদ্ধান্তে এ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
রোববার (২৪ মে) সকালে গাজীপুর শিল্পাঞ্চল পুলিশের পুলিশ সুপার (এসপি) মো. আমজাদ হোসেন খোলা কাগজকে বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
তিনি বলেন, ‘সোমবার (২৫ মে) থেকে পর্যায়ক্রমে বিভিন্ন পোশাক কারখানায় ছুটি শুরু হবে। ২৫, ২৬ ও ২৭ মে—এই তিন দিনে ধাপে ধাপে কারখানাগুলো ছুটি দেওয়া হবে। এতে একসঙ্গে শ্রমিকদের চাপ কমবে এবং মহাসড়কে যানজটও তুলনামূলকভাবে কম হবে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।’
বেতন-ভাতা পরিশোধের বিষয়ে এসপি আমজাদ হোসেন বলেন, ‘এ পর্যন্ত এপ্রিল মাসের প্রায় ৯৬ শতাংশ শ্রমিকের বেতন পরিশোধ করা হয়েছে। বাকি ৪ শতাংশ বেতন আজ ও আগামীকালের মধ্যে পরিশোধ করা হবে। এছাড়া প্রায় ২৫ শতাংশ কারখানায় ঈদ বোনাস দেওয়া হয়েছে। আজ ও আগামীকালের মধ্যে অধিকাংশ কারখানায় বোনাস পরিশোধ হবে।’
মহাসড়কের পরিস্থিতি নিয়ে তিনি বলেন, ‘এবার মহাসড়কের অবস্থা ভালো থাকবে বলে মনে করছি। মানুষ যাতে স্বস্তিতে যাতায়াত করতে পারে, সে পরিবেশ নিশ্চিত করার চেষ্টা চলছে।’
এদিকে, গার্মেন্টস ও সোয়েটার শ্রমিক ট্রেড ইউনিয়ন কেন্দ্র গাজীপুর জেলার সাধারণ সম্পাদক জালাল হাওলাদার জানান, গাজীপুরের বেশিরভাগ কারখানাই বকেয়া পরিশোধ করেছে। তবে ইউনিক ডিজাইনারস লিমিটেডের শ্রমিকদের দুই মাসের বকেয়া এখনো পরিশোধ হয়নি। এছাড়া কারখানাটি শ্রম আইনের ১৩(১) ধারা অনুযায়ী বন্ধ ঘোষণা করায় শ্রমিকদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। যদিও শ্রমিকদের আশ্বাস দেওয়া হয়েছে, আজ বিকেলের মধ্যে বকেয়া পরিশোধ করা হবে।
এ বিষয়ে এসপি আমজাদ হোসেন বলেন, ইউনিক ডিজাইনারস লিমিটেড, ট্রাউজার ল্যান্ড ও কেয়া কসমেটিকসহ কয়েকটি কারখানায় কিছু সমস্যা রয়েছে। তবে সেগুলো সমাধানে কাজ চলছে। ইউনিক ডিজাইনারস লিমিটেডের বকেয়া আজ দুপুরের পর পরিশোধ হওয়ার কথা রয়েছে বলেও জানান তিনি।
শিল্প পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গাজীপুর মহানগরীতে বর্তমানে ২ হাজার ৬৭৪টি কারখানা রয়েছে।
অন্যদিকে, ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কে ঈদযাত্রা নির্বিঘ্ন রাখতে বিভিন্ন প্রস্তুতির কথা জানিয়েছেন কোনাবাড়ী-নাওজোর হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সওগাতুল আলম।
তিনি বলেন, ‘চন্দ্রার এই সড়ক দিয়ে ২৩টি জেলার মানুষ যাতায়াত করে। সাধারণ সময়ে প্রতিদিন প্রায় দুই লাখ মানুষ চলাচল করলেও ঈদের সময় পোশাক কারখানা ছুটি হলে ১৫ থেকে ২০ লাখ মানুষ রাস্তায় নামে। ফলে যানজট হওয়া স্বাভাবিক।’
ওসি আরও জানান, এবার ফুটপাতে অস্থায়ী দোকানপাট বসতে দেওয়া হবে না। রাস্তার পাশের দোকান সরিয়ে সড়ক প্রশস্ত রাখার চেষ্টা করা হবে। পাশাপাশি চন্দ্রা এলাকায় যাত্রী ওঠানামাও নিয়ন্ত্রণ করা হবে। তবে সাভার থানার অধীন বাইপাইল এলাকার কিছু অংশ ক্ষতিগ্রস্ত থাকায় সেখানে ধীরগতির আশঙ্কা রয়েছে।
কেকে/ এমএস