বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলার বাইশারীতে ব্যবসায়ী মো. আজিজুল হক প্রকাশ আজিজ খলিফা হত্যার হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত প্রকৃত আসামিদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে।
শনিবার (২৩ মে) সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে বাইশারী বাজার চত্বরে এ মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সভা করেন নিহতের পরিবার ও স্থানীয় সর্বস্তরের জনসাধারণ।
এর আগে অংশগ্রহণকারীরা বাজারের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে বিক্ষোভ মিছিল করেন।
সমাবেশে বক্তারা অভিযোগ করেন, বাইশারী বাজারের ব্যবসায়ী উদয়ন ধরের কাছে নিজের জমা রাখা টাকা ফেরত চাইতে গিয়ে পরিকল্পিতভাবে অপহরণ ও নির্মম হত্যার শিকার হন ব্যবসায়ী আজিজ খলিফা। তারা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত অপরাধীদের আইনের আওতায় এনে সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করার দাবি জানান।
এ সময় বক্তব্য রাখেন বাইশারী বাজার পরিচালনা কমিটির সভাপতি মো. আব্দুল করিম বান্ডু, বাইশারী ইউনিয়ন বিএনপি নেতা মো. জসিম উদ্দিন, বাইশারী ইউনিয়ন জামায়াতের আমীর মো. সেলিম, বাজার পরিচালনা কমিটির সাধারণ সম্পাদক মো. জাহেদ হোসেন রুবেল, মাওলানা ফারুক আজম, আলী মো. মিনহাজ ও নিহতের স্ত্রী বেবীসহ অনেকে।
বক্তারা প্রশাসনের প্রতি ২৪ ঘণ্টার আল্টিমেটাম দিয়ে বলেন, দ্রুত হত্যাকারীদের গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনতে হবে এবং তাদের ফাঁসির ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে। অন্যথায় আরও কঠোর আন্দোলনের কর্মসূচি দেওয়া হবে বলেও হুঁশিয়ারি দেন তারা।
সমাবেশে নিহতের পরিবারের পাওনা জমাকৃত টাকা দ্রুত ফেরত দেওয়ার ব্যবস্থাও দাবি করা হয়।
বাইশারী বাজার পরিচালনা কমিটির সভাপতি মো. আব্দুল করিম বান্ডু বলেন, ‘আজিজ খলিফা হত্যার ঘটনায় জড়িত প্রকৃত আসামিদের দ্রুত গ্রেপ্তার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে। ব্যবসায়ীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত না হলে সাধারণ মানুষ আতঙ্কে থাকবে।’
বাইশারী ইউনিয়ন বিএনপি নেতা মো. জসিম উদ্দিন বলেন, ‘এটি একটি নৃশংস ও পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড। প্রশাসনকে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে খুনিদের গ্রেপ্তার করতে হবে। অন্যথায় বৃহত্তর আন্দোলন গড়ে তোলা হবে।’
বাইশারী ইউনিয়ন জামায়াতের আমীর মো. ছলিম উল্লাহ বলেন, ‘আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা করতে হলে এই হত্যার সুষ্ঠু বিচার নিশ্চিত করতে হবে। অপরাধীদের দ্রুত আইনের আওতায় এনে সর্বোচ্চ শাস্তি দিতে হবে।’
বাইশারী বাজার পরিচালনা কমিটির সাধারণ সম্পাদক মো. জাহেদ হোসেন রুবেল বলেন, ‘একজন ব্যবসায়ী নিজের জমা রাখা টাকা চাইতে গিয়ে প্রাণ হারিয়েছেন। আমরা এ ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত ও প্রকৃত সত্য উদঘাটনের দাবি জানাই।’
নিহতের স্ত্রী বেবী বলেন, ‘আমার স্বামীর হত্যাকারীদের বিচার চাই। যারা আমার পরিবারকে ধ্বংস করেছে তাদের সর্বোচ্চ শাস্তি দিতে হবে। পাশাপাশি আমাদের জমা রাখা টাকা ফেরতেরও ব্যবস্থা করতে হবে।’
কেকে/ এমএস