সোমবার, ১৩ জুলাই ২০২৬,
২৯ আষাঢ় ১৪৩৩
বাংলা English
ই-পেপার

সোমবার, ১৩ জুলাই ২০২৬
শিরোনাম: আদ-দ্বীন হাসপাতালের বিষয়ে পরিদর্শনের পর সিদ্ধান্ত : স্বাস্থ্যমন্ত্রী      ৪১৬ বছরপূর্তিতে বর্ণিল ‘ঢাকা উৎসব’, উদ্বোধনে প্রধানমন্ত্রী      ১৫ জুলাই সব সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে বৃক্ষরোপণের নির্দেশ      সারা দেশে এক লাখ স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগ দেবে সরকার: স্বাস্থ্যমন্ত্রী      আগামী ৫ বছরে দেশে ২৫ কোটি গাছ লাগানো হবে: প্রধানমন্ত্রী      দীর্ঘ হচ্ছে হামে মৃত্যুর মিছিল      ডুবল ঢাকা ভুগল মানুষ      
দেশজুড়ে
এবারের কুরবানি হাটের অন্যতম আকর্ষণ ১২শ কেজির ‘কালো মানিক’
মো. এহসানুল হক, মৌলভীবাজার
প্রকাশ: রোববার, ২৪ মে, ২০২৬, ৮:০৪ পিএম
ছবি : খোলা কাগজ

ছবি : খোলা কাগজ

মৌলভীবাজারে কুরবানির হাটে সর্ববৃহৎ পশু হিসেবে আলোচনায় এসেছে ‘কালো মানিক’ নামের একটি ষাঁড়। নাম শুনতে সাধারণ হলেও সামনে দাঁড়ালে যেন বিস্ময়ে থমকে যেতে হয় যে কাউকে। রাজকীয় গঠন, বিশাল দেহ আর আকর্ষণীয় কালো বর্ণের কারণে ইতোমধ্যেই জেলাজুড়ে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে গরুটি। 

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, শুধু এলাকায় নয়, সামাজিক মাধ্যমেও ছড়িয়ে পড়েছে কালো মানিকের ছবি ও ভিডিও। 

বিশাল আকৃতি ও সুগঠিত দেহের কারণে এবার বৃহত্তর মৌলভীবাজারের কুরবানির হাটে অন্যতম আকর্ষণ হতে পারে গরুটি। মৌলভীবাজার সদর উপজেলার ৬ নম্বর একাটুনা ইউনিয়নের উত্তর মুলাইম গ্রামে ইংল্যান্ড প্রবাসী খামারি আব্দুল গফফার মিয়া গত ৩ বছর ধরে তার মালিকানাধীন ‘জে আর ডেইরি’ খামারে যত্নে লালন-পালন করছেন এই গরুটিকে। দেশীয় পদ্ধতিতে মোটাতাজা করে এ বছর বিক্রির জন্য প্রস্তুত করা হয়েছে। 

এবারের কুরবানি ঈদে জেলার সবচেয়ে বড় গরু হিসেবে ধারণা করছে জেলার প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তর। বর্তমানে গরুটির ওজন প্রায় ১২০০ কেজি বা ৩০ মণ। বিশাল আকৃতির কারণে প্রতিদিনই দূর-দূরান্ত থেকে মানুষ এসে ভিড় করছেন গরুটি দেখতে। কেউ ছবি তুলছেন, কেউ ভিডিও ধারণ করছেন, আবার কেউ বিস্ময় নিয়ে দেখছেন কালো মানিককে।

সরেজমিনে উত্তর মুলাইম গ্রামে জে আর ডেইরি নামের গরুর খামারে গিয়ে দেখা যায়, এখানে একই নামের সিরিয়েলযুক্ত তিনটি কালো রঙের ফিজিয়ান জাতের ষাঁড় লালন-পালন করা হচ্ছে। একই খামারে প্রস্তুত রয়েছে আরো দুটি গরু। এগুলোর নাম কালো মানিক-২ ও কালো মানিক-৩। এ দুটি গরুর ওজন প্রায় ১০০০ কেজি বা ২৫ মণ করে। সবগুলো ষাঁড়ের শরীর গঠন দৃষ্টিনন্দন। খামারের একটি গাভী থেকে পরপর বাচ্চা জন্ম নেয়ার পর গরুগুলো লালন-পালনের যাত্রা শুরু হয়। ইংল্যান্ড প্রবাসী আব্দুল গফফার মিয়া প্রতিদিন নিয়মিত গোসল, ওষুধ ও বাড়তি পরিচর্যার মাধ্যমে বিশেষ যত্নে লালন করা হয়েছে এই তিনটি ষাঁড়কে। তার পরিবারের সদস্যরা প্রচন্ড আগ্রহে তিনটি ষাঁড়ের নাম রেখেছেন ‘কালো মানিক’। 

জে আর ডেইরি খামারের শ্রমিক আবুল বলেন, ‘কালো মানিক-১ এর ওজন হবে প্রায় ৩০ মণের মতো। বাকি দুটির ওজন ২৫ মণের মতো করে। আমি নিজে ৩ বছর ধরে নিজে তাদের লালন-পালন করেছি। বিক্রি করতে নিজের কাছেই খারাপ লাগছে। গরুগুলোর মায়ার পড়ে গেছি। তাই বিক্রি হয়ে যাবে তাই খুব কষ্ট লাগছে।’

রাজনগর উপজেলার উত্তরভাগের বাসিন্দা প্রবাসী শফিকুল ইসলাম বলেন, ‘এ খামারে জেলার সবচেয়ে বড় গরু রয়েছে তা শুনে এখানে এসেছি। নিজের চোখে জেলার মধ্যে সবচেয়ে বড় গরু দেখে খুবই ভালো লেগেছে।’

জে আর ডেইরির মালিক আব্দুল গফফার মিয়া বলেন, ‘আমি মূলত প্রবাসী। দীর্ঘদিন লন্ডনে বসবাস করার পর দেশে ফিরে কয়েক বছর আগে নিতান্তই শখের বসে বাড়ির পরিত্যক্ত জমিতে গড়ে তুলি খামারটি। এবারের ঈদে আমার তিনটি কালো মানিকের দাম বাজার দরের তুলনায় অনেক কম চাইছি। কালোমানিক-১ গরুটির ওজন প্রায় ৩০ মণ। অন্য দুটি প্রায় ২৫ মণের মতো। কিছুদিন আগে বড় কালোমানিকটির দাম উঠেছিল ১২ লাখ টাকা। তখন বিক্রি করিনি। তবে এখন দাম চাইছি ৮ লাখ টাকা। আর বাকি দুইটি কালো মানিকের দাম চাইছি সাড়ে ৫ লাখ করে। বড় কালোমানিকটির বয়স প্রায় ৩ বছর। অন্য দুটি বয়স দুই বছরের বেশি। প্রতিদিন তিনবেলা প্রতিটি ষাঁড়কে প্রায় ১২ কেজি দানাদার খাবার, ২০ কেজি ঘাস এবং ৭ কেজি খড় দেয়া হয়। এতে প্রতিদিন এক একটি ষাঁড়ের পেছনে প্রায় ৮০০ টাকার মতো খাবার লাগে। মাস শেষে শুধু খাবার খরচই দাঁড়ায় প্রায় লাখ টাকা।’

মৌলভীবাজার জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা (অতিরিক্ত দায়িত্ব) ডা. মো. আশরাফুল আলম খান বলেন, ‘কুরবানির ঈদ সামনে রেখে এখন জেলার বিভিন্ন খামারে চলছে শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি। এবছর মৌলভীবাজার জেলায় উৎপাদন হয়েছে ৭৪ হাজার ৫৮৪টি এবং চাহিদা ৭১ হাজার ৭৭২টি। স্থানীয় খামারিদের উৎপাদিত পশু দিয়েই জেলার কুরবানির চাহিদা পূরণ সম্ভব হবে। উদ্বৃত্ত পশু দেশের অন্যান্য  জেলাতেও সরবরাহ করা যাবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।’

তিনি আরও জানান, মৌলভীবাজার সদর উপজেলার একাটুনা ইউনিয়নের বিশাল আকৃতির কালোমানিকটি পশুর হাটে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে। খামারির নিবিড় পরিচর্যা, উন্নত খাদ্য ব্যবস্থাপনা এবং স্বাস্থ্যসম্মত পরিবেশে বেড়ে ওঠা গরুটি ইতোমধ্যেই এলাকায় ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি করেছে। ধারণা করা হচ্ছে, এটিই হতে পারে জেলার সবচেয়ে বড় পশু।’

কেকে/এজে


আরও সংবাদ   বিষয়:  কুরবানি হাট   কালো মানিক   আকর্ষণ  
মতামত লিখুন:
Loading...
Loading...

দেশজুড়ে- এর আরো খবর

সম্পাদক ও প্রকাশক : আহসান হাবীব
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : বসতি হরাইজন, ১৭-বি, বাড়ি-২১ সড়ক-১৭, বনানী, ঢাকা-১২১৩
ফোন : বার্তা-০২২২২২৭৬০৩৭, মফস্বল-০২২২২২৭৬০৩৬, বিজ্ঞাপন ও সার্কুলেশন-০২২২২২৭৬০২৯, ০১৭৮৭৬৯৭৮২৩, ০১৮৫৩৩২৮৫১০ (বিকাশ)
ই-মেইল: [email protected], [email protected]

© 2025 Kholakagoj
🔝
close