নোয়াখালীর সোনাইমুড়ী উপজেলায় সম্পত্তি নিয়ে বিরোধের জেরে সৎ মা কমলা বেগম (৩২) ও তার শিশু ছেলে মো. নোমানকে (৮) হত্যার ঘটনায় দুই বছর পর পুকুর খনন করে তাদের কঙ্কাল উদ্ধার করেছে সিআইডি। এ ঘটনায় তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
রোববার (২৪ মে) দুপুরে উপজেলার জয়াগ ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডে আবুল কালাম আজাদ ওরফে আবু আমিনের বাড়ির পাশের একটি পুকুর ভেকু মেশিন দিয়ে খনন করে মা-ছেলের কঙ্কাল উদ্ধার করা হয়।
গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন—জিয়াউর রহমান সাগর (৪০), তার ভাই সাইফুল ইসলাম রাজন (৩৫) এবং আবু আমিনের বড় ছেলের ঘরের নাতি আশিকুর রহমান টিয়া (১৮)।
স্থানীয় ও মামলার সূত্রে জানা গেছে, আবুল কালাম আজাদের প্রথম স্ত্রীর মৃত্যুর পর তিনি কমলা বেগমকে বিয়ে করেন। কমলার ঘরে জন্ম নেয় নোমান। অভিযোগ রয়েছে, পৈতৃক সম্পত্তি ভাগাভাগি নিয়ে বিরোধের জেরে ২০২৪ সালের ২৭ অথবা ২৮ ফেব্রুয়ারি সৎ মা কমলা বেগম ও তার ছেলে নোমানকে হত্যা করা হয়। পরে বাড়ির সেচ করা শুকনো পুকুরে গর্ত করে তাদের মরদেহ পুঁতে রাখা হয়।
ঘটনার পর থেকে অভিযুক্তরা বিভিন্নভাবে প্রচার করতে থাকে যে কমলা ও তার ছেলে বাড়ি ছেড়ে পালিয়ে গেছেন। পরে কমলা বেগমের ভাই আদালতে একটি মামলা দায়ের করলে আদালত মামলার তদন্তভার সিআইডিকে দেয়।
দীর্ঘ তদন্ত শেষে সিআইডি ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত হয়ে রোববার ঘটনাস্থলে যায়। পরে ভেকু মেশিন দিয়ে পুকুর খনন করে মা ও ছেলের কঙ্কাল উদ্ধার করা হয়।
এ সময় ঘটনাস্থলে শত শত মানুষ ভিড় করেন। স্থানীয়রা গ্রেপ্তারকৃতদের সর্বোচ্চ শাস্তির দাবিতে বিক্ষোভও করেন।
এলাকার বাসিন্দা জসিম উদ্দিন বলেন, “এ ধরনের নৃশংস ঘটনা অত্যন্ত দুঃখজনক। জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি হওয়া উচিত।”
জয়াগ বাজারের ব্যবসায়ী আবুল কাসেম বলেন, “দীর্ঘ সময় পর হলেও সিআইডি মা-ছেলের হত্যার রহস্য উদঘাটন করতে পেরেছে। আমরা এ ঘটনার সঠিক বিচার প্রত্যাশা করি।”
নোয়াখালী জেলা সিআইডির কর্মকর্তা মো. মামুন জানান, উদ্ধার হওয়া কঙ্কালগুলো ডিএনএ পরীক্ষার জন্য ঢাকায় সিআইডি সদর দপ্তরে পাঠানো হবে। প্রতিবেদন পাওয়ার পর পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা ও মামলার চার্জশিট দাখিল করা হবে।
কেকে/এজে