বেসরকারি শিক্ষক নিবন্ধন ও প্রত্যয়ন কর্তৃপক্ষের (এনটিআরসিএ) যাচাইয়ে জাল সনদের প্রমাণ পাওয়ায় দেশের ১১৪ জন মাদ্রাসা শিক্ষকের এমপিও সুবিধা বাতিল করেছে মন্ত্রণালয়।
এদের মধ্যে ৬০ জনই গাজীপুরের কাপাসিয়া উপজেলার বিভিন্ন মাদ্রাসায় কর্মরত ছিলেন।
সোমবার (২৫ মে) বিকাল ৫টায় গাজীপুরের কাপাসিয়া উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আরিফ তালুকদার এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
তিনি বলেন, “এসব শিক্ষকদের কাছে সরকার সরাসরি চিঠি দিয়েছে। আমি বিষয়টি নিশ্চিত হয়েছি। তবে এখনো সব তথ্য সংগ্রহ করতে পারিনি।”
গত শুক্রবার (২৩ মে) শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাদ্রাসা ও কারিগরি শিক্ষা বিভাগ থেকে জারি করা এক চিঠিতে এ তথ্য জানানো হয়।
চিঠিতে বলা হয়েছে, বেসরকারি শিক্ষক নিবন্ধন ও প্রত্যয়ন কর্তৃপক্ষের যাচাইয়ে সংশ্লিষ্ট শিক্ষকদের সনদ জাল প্রমাণিত হওয়ায় বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান (মাদ্রাসা) জনবল কাঠামো ও এমপিও নীতিমালা-২০২৬-এর ১৮ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী তাদের এমপিও সুবিধা বাতিল করা হয়েছে।
চিঠিতে আরও উল্লেখ করা হয়, সংশ্লিষ্ট শিক্ষকদের এমপিও স্থায়ীভাবে বন্ধ করার পাশাপাশি তাদের মাধ্যমে গৃহীত সরকারি অর্থ আদায় এবং প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। প্রয়োজনে তাদের বিরুদ্ধে মামলাও দায়ের করা হবে।
প্রকাশিত তালিকা পর্যালোচনা করে দেখা গেছে, ১১৪ জন শিক্ষকের মধ্যে ৬০ জনই গাজীপুরের কাপাসিয়া উপজেলার কয়েকটি মাদ্রাসায় শিক্ষকতা করতেন। একই এলাকার এত বিপুলসংখ্যক শিক্ষকের বিরুদ্ধে জাল সনদের অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় বিষয়টি এলাকায় ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
এ বিষয়ে গাজীপুর জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা আল মামুন তালুকদার বলেন, “বিষয়টি জেনেছি। এর আগে আমি যোগদানের পর ভুয়া সার্টিফিকেটে চাকরির কারণে কাপাসিয়ায় ১২ জন শিক্ষক শাস্তি পেয়েছেন। কাপাসিয়ায় সমস্যা আছে। অনেক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে এ ধরনের সমস্যা রয়েছে। ঈদের পর অফিস খোলা হলে আমরা আরও খোঁজ নেব।”
কেকে/এলএ