কুমিল্লার মেঘনা উপজেলায় এক প্রবাসীর স্ত্রী নিখোঁজ হওয়ার ঘটনা ঘটেছে। নিখোঁজ ওই নারীর নাম রোকসানা আক্তার (২৫)। তিনি উপজেলার চালিভাঙ্গা গ্রামের মো. আমিন হোসেনের স্ত্রী।
পরিবার সূত্রে জানা গেছে, বুধবার (২৭ মে) সকালে প্রবাসে থাকা স্বামী ঈদ উপলক্ষে সংসারের খরচ বাবদ বিকাশের মাধ্যমে ৫৭ হাজার টাকা পাঠান। ওই টাকা উত্তোলন করে বাজার করার উদ্দেশ্যে একই দিন দুপুরে উপজেলার মানিকারচর বাজারে যান রোকসানা। এ সময় তার সঙ্গে ছিল ১৮ মাস বয়সী শিশু কন্যা নুড়িয়া।
একই দিনে রোকসানার মা রাধানগর ইউনিয়নের পাড়ারবন্দ গ্রাম থেকে মানিকারচর বাজারে এসে মেয়ের জন্য কিছু কাপড় নিয়ে আসেন এবং কাপড় বুঝিয়ে দিয়ে চলে যান। তখন তাকে গাড়িতে তুলে দেওয়ার কথা বলা হলে রোকসানা নিজেই গাড়িতে করে শ্বশুরবাড়ি চালিভাঙ্গায় যেতে পারবেন বলে জানান।
আমিনের পরিবারের অভিযোগ, দুপুর প্রায় ২টার দিকে মানিকারচর বাজার থেকে রওনা দেওয়ার পরও তিনি বাড়িতে পৌঁছাননি। পরে সন্দেহ হলে বাসায় তল্লাশি করে দেখা যায়, স্বর্ণালংকারসহ তিনি নিখোঁজ। এরপর সারারাত পেরিয়ে গেলেও এখন পর্যন্ত তার কোনো খোঁজ পাওয়া যায়নি।
এ ছাড়া রোকসানার ভাইদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তারা বলেন, “আমরা আপনাদের পাশে আছি, আমাদের ভাগনিকে আমরা ফেরত চাই। তবে রোকসানা নামে আমাদের কোনো বোন নেই। আপনারা থানায় সাধারণ ডায়েরি করুন।”
স্থানীয় একাধিক বাসিন্দা জানান, রোকসানা পরকীয়ায় জড়িত ছিলেন বলে তাদের সন্দেহ ছিল। তিনি প্রায়ই মোবাইল ফোনে দীর্ঘ সময় কথা বলতেন। পাশাপাশি তার চলাফেরা ও বাচনভঙ্গিও তাদের কাছে স্বাভাবিক মনে হতো না। তাদের ধারণা ছিল, একসময় তিনি স্বামীকে রেখে চলে যেতে পারেন। সেই ধারাবাহিকতায় এখন তাদের মনে হচ্ছে, তিনি নিখোঁজ নন; বরং পরকীয়া প্রেমিকের সঙ্গে স্বেচ্ছায় চলে গেছেন। তবে এসব অভিযোগের কোনো স্বাধীন সত্যতা নিশ্চিত করা যায়নি।
তবে এ ঘটনায় থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করার জন্য আমিনের পরিবার প্রস্তুতি নিচ্ছে।
মেঘনা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শহীদুল ইসলাম জানান, এ বিষয়ে এখন পর্যন্ত কোনো লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি। অভিযোগ পাওয়া গেলে তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
কেকে/এলএ