মঙ্গলবার, ২৩ জুন ২০২৬,
৯ আষাঢ় ১৪৩৩
বাংলা English
ই-পেপার

মঙ্গলবার, ২৩ জুন ২০২৬
শিরোনাম: বিকল লঞ্চ থেকে ৯৯৯-এ ফোন, ৮০ যাত্রী উদ্ধার      সেপ্টেম্বর থেকে স্থানীয় সরকার নির্বাচন শুরু হতে পারে: ডা. জাহেদ      সালমান শাহর লাশ উত্তোলনের আদেশ বাতিল      সুশাসন ও সংস্কার ছাড়া বাজেট বাস্তবায়ন কঠিন      দেশজুড়ে কঠোর সতর্কতা      চীনের দালিয়ানে পৌঁছেছেন প্রধানমন্ত্রী      চীন পৌঁছেছেন প্রধানমন্ত্রী      
খোলাকাগজ স্পেশাল
সরকারের সাফল্য পশুর হাটে ম্লান
শিপার মাহমুদ
প্রকাশ: সোমবার, ১ জুন, ২০২৬, ৯:৫৫ এএম

ঈদুল আজহা ঘিরে রাজধানীসহ সারা দেশের পশুর হাটগুলোতে ব্যাপক জমজমাট দেখা গেলেও অব্যবস্থাপনা, চাঁদাবাজি, অতিরিক্ত হাসিল আদায় ও যানজটসহ বিভিন্ন অভিযোগ উঠেছে। একইসঙ্গে সরকারের পক্ষ থেকে সুশৃঙ্খল হাট ব্যবস্থাপনা, চাঁদাবাজি নিয়ন্ত্রণ ও বর্জ্য অপসারণ নিয়ে কঠোর অবস্থানের কথা বলা হলেও বাস্তবে সেই উদ্যোগের কার্যকারিতাও অনেক ক্ষেত্রে প্রশ্নবিদ্ধ হয়েছে।

যদিও পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষে রাজধানীতে কুরবানির পশুর বর্জ্য দ্রুত অপসারণ কার্যক্রম সরেজমিনে পর্যবেক্ষণ করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। গত শুক্রবার বিকেলে তিনি নিজেই গাড়ি চালিয়ে ঢাকার বিভিন্ন এলাকার সড়ক ঘুরে দেখেন এবং সার্বিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করেন। এ সময় বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় গাফিলতির দায়ে ঢাকার দুই সিটি করপোরেশনের দুই কর্মকর্তাকে দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দিয়ে তাদের চাকরি জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে ন্যস্ত করা হয়েছে। পাশাপাশি আরও ছয় কর্মকর্তার বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী।

প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে থাকা মীর শাহে আলম গণমাধ্যমকে জানান— রাজধানীর উন্নয়ন প্রকল্প ও কুরবানির পশুর বর্জ্য ব্যবস্থাপনা পরিদর্শনের সময় হাতিরপুল, এলিফ্যান্ট রোড, গ্রিন রোড, ফার্মগেট ও কারওয়ান বাজার এলাকায় সড়কে ময়লা-আবর্জনা জমে থাকতে দেখা যায়। এর প্রেক্ষিতে ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের দুই আঞ্চলিক নির্বাহী কর্মকর্তাকে সাময়িকভাবে দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়।

এদিকে সরকারি তথ্য অনুযায়ী, এ বছর সারা দেশে তিন হাজার ছয়শোর বেশি অস্থায়ী পশুর হাট বসে। কুরবানিযোগ্য পশুর সরবরাহ চাহিদার তুলনায় বেশি থাকায় প্রায় ২০ থেকে ২২ লাখ পশু উদ্বৃত্ত থাকার সম্ভাবনার কথাও জানানো হয়। ফলে পশুর সংকট বা দামের অস্বাভাবিক ঊর্ধ্বগতির আশঙ্কা কম থাকলেও হাট ব্যবস্থাপনার দুর্বলতা ও অনিয়ম সেই ইতিবাচক দিককে ম্লান করে দিয়েছে।

রাজধানীর গাবতলী, কেরানীগঞ্জ, পোস্তগোলা ও উত্তরা দিয়াবাড়িসহ বিভিন্ন হাটে বৃষ্টির কারণে জলাবদ্ধতা, কাদা-পানি, অস্থায়ী অবকাঠামোর দুর্বলতা ও পর্যাপ্ত ড্রেনেজ ব্যবস্থার অভাবে ক্রেতা-বিক্রেতারা চরম ভোগান্তির শিকার হন। অতিরিক্ত ভিড় ও যানজট পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তোলে, বিশেষ করে হাট-সংলগ্ন সড়কগুলোতে। এমনকি মেট্রোরেল স্টেশন ও প্রধান সড়ক দখল করে পশু রাখার অভিযোগেও অভিযান চালিয়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।

তবে সবচেয়ে বেশি আলোচনায় এসেছে চাঁদাবাজি ও অতিরিক্ত হাসিল আদায়ের অভিযোগ। বিভিন্ন স্থানে অপ্রাতিষ্ঠানিক গেট বসিয়ে প্রবেশ ফি আদায়, পথে পথে অর্থ আদায় এবং ইজারাদার-স্থানীয় প্রভাবশালীদের যোগসাজশে অতিরিক্ত টাকা নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে।

এ অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে আসে রাজধানীর দিয়াবাড়ি হাট। সেখানে গভীর রাতে মাইকিং করে প্রতি গরুর বিপরীতে এক হাজার টাকা করে ‘শেড খরচ’ বা ‘বকশিস’ আদায়ের ঘোষণা দেওয়া হয় বলে অভিযোগ করেন ব্যবসায়ীরা। যদিও অভিযোগের বিষয়ে ইজারাদার প্রতিষ্ঠান এস এফ করপোরেশনের স্বত্বাধিকারী মো. শেখ ফরিদ হোসেনের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি মন্তব্য দেননি। তবে আইন অনুযায়ী সিটি করপোরেশন নির্ধারিত হাসিল ছাড়া অতিরিক্ত অর্থ আদায়ের সুযোগ নেই। কিন্তু বাস্তবে অভিযোগের ভিত্তিতে মাঠপর্যায়ে সেই নীতিমালার প্রয়োগ দুর্বল বলে মনে করছেন অনেকে।

জানা গেছে— গত মঙ্গলবার দিবাগত রাত প্রায় ১২টার দিকে হঠাৎ মাইকিং করে জানানো হয়, হাটে থাকা প্রতিটি গরুর জন্য এক হাজার টাকা করে দিতে হবে। খামারি ও বেপারিরা বলছেন, হাটে অন্তত দুই থেকে আড়াই লাখ গরু এসেছে। সে হিসাবে এই চাঁদার পরিমাণ দাঁড়ায় ২০ থেকে ২৫ কোটি টাকা। দিয়াবাড়ি হাটে গত মঙ্গলবার সরেজমিনে বিভিন্ন বেপারির সঙ্গে কথা বললে তারা এ অভিযোগ করেন।

পাবনার পশু চিকিৎসক আজিজুল হক জানান, হাটে পানি নিষ্কাশনের অব্যবস্থাপনা, কাদা-পানি আর টয়লেট সংকটসহ নানা অব্যবস্থাপনার কারণে এমনিতেই পশুর দাম কম। যার ফলে তার ১৩টি গরুতে প্রায় পৌনে দুই লাখ টাকা লোকসান হয়েছে। এর ওপর রাসেল, তুষার ও মনসুরসহ বেশ কয়েকজন ব্যক্তি এসে তাকে শাসিয়ে গরুপ্রতি এক হাজার টাকা করে চাঁদা আদায় করেছে।

আজিজুল বলেন, হাটের মূল খরচ ২০-২৫ কোটি টাকা বেপারিদের কাছ থেকে তোলাই হয়তো তাদের লক্ষ্য। সেজন্যই রাত পৌনে ১২টা বা ১২টার দিকে হঠাৎ করে মাইকিং করে বলা হলো, শেড বাবদ এক হাজার টাকা করে দিতে হবে গরুপ্রতি। অথচ আমার গরু শেডের বাইরে থাকলেও আমাকে দিতে হলো সম্পূর্ণ টাকাই। কান্নাজড়িত কণ্ঠে আজিজুল বলেন, এখনো যদি আমাদের এ ধরনের চাঁদাবাজির মধ্যে পড়তে হয়, তাহলে আসলে আমরা মুক্তি পাব কবে?

কুষ্টিয়ার কুমারখালি থেকে ১০টি গরু নিয়ে আসা মো. মাসুদ রানা বলেন, ‘কাল রাত আনুমানিক ১২টার দিকে হঠাৎ মাইকিং করে বলা হলো, বেপারিরা আপনারা গরুপ্রতি এক হাজার করে বকশিস দিবেন। টাকা না, বকশিস। বিক্রি হলে দিবেন। না হলে দেওয়ার দরকার নেই। এরপর সকালে এসে একজন আমার কাছে জানতে চাইল কয়টা গরু বিক্রি হয়েছে। আমি দুইটা বলার পর দুই হাজার টাকা চাইল। যদিও আমি তখন দেইনি। তবে পরে আবার আসবে বলেছে।’

চুয়াডাঙ্গা থেকে ২০টি গরু নিয়ে এসেছেন মো. হাবিব। তিনি বলেন, আমার চারটি গরু বিক্রি করেছি। চার গরুতে লোকসান হয়েছে ৬০ হাজার টাকা। এখন ঋণ করে গরু হাটে নিয়ে এসেছিলাম। খেত-খামারে বদলা দিয়ে ঋণ পরিশোধ করতে হবে। নিরাপত্তা বিষয়ে তিনি বলেন, হাটে কোনো নিরাপত্তা নেই। পাশের খামারির দুটি গরু চুরি হয়েছে। এরপর তো কাদা-পানি আছেই। পরে আবার চাঁদা। এসব আমাদের ওপর জুলুম। ‘মরার ওপর খাঁড়ার ঘা’ যাকে বলে আরকি। হাটে অন্তত দুই থেকে আড়াই লাখ গরু এসেছে। এসবের হাসিলেই তো তাদের সব খরচ ওঠার পর আরও অনেক লাভ হবে। সেখানে আমাদের সঙ্গে এ জুলুম।

নাটোরের সিংড়া থানা থেকে আসা আব্দুস সবুর এসেছেন দুটি মহিষ নিয়ে। তিনি জানান, আমরা এ হাটে আর কখনোই আসব না। পুরো হাটেই অব্যবস্থাপনা। এখানে টেকাই দায়। দুটি মহিষ যে দরে কিনেছি, ছয় মাস লালন-পালন করার পরও এখন সে দরেই বিক্রি করতে হচ্ছে। হাটের অব্যবস্থাপনার জন্যই আমাদের এ অবস্থা। এরপর আবার এখন বেপারিদের বাধ্য করা হচ্ছে এক হাজার টাকা করে দেওয়ার জন্য। এটাকে তারা বলছে শেড খরচ। কিন্তু এ খরচ তো তাদের হাসিল থেকে খরচ করার কথা।

নাছির এগ্রো ফার্মের ডিরেক্টর অপি বলেন, আমাদের একেকটা গরুতে ১৫ থেকে ৫০ হাজার টাকা করে তারা হাসিল পাচ্ছে। এরপর আবার মাইকিং করল গরুপ্রতি টাকা দেওয়ার জন্য। আমার যেহেতু বড় গরু, তাই কত করে দিতে হবে সেটা এখনো নিশ্চিত না। কী করব বুঝতেছি না। তবে চাঁদা না দিতে পারলেই ভালো লাগত। পানিতে ভিজছে আমার গরুগুলো। একটু পর পর পানি সেচতে হচ্ছে আমাদের নিজেদের লোক নিয়েই।

এদিকে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের আওতাধীন অস্থায়ী ১০টি হাট এবং স্থায়ী গাবতলী পশুর হাটে এখন পর্যন্ত কোনো ধরনের চাঁদাবাজি বা বড় ধরনের অনিয়মের অভিযোগ পাওয়া যায়নি বলে জানিয়েছেন ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের প্রশাসক শফিকুল ইসলাম খান মিল্টন। তিনি বলেন, হাট ব্যবস্থাপনায় নিয়মিত নজরদারি ও যাচাই কার্যক্রম চলমান রয়েছে।

গত মঙ্গলবার দুপুরে রাজধানীর গাবতলী পশুর হাট পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।

প্রশাসক জানান, গাবতলী হাটসহ ঢাকা উত্তর সিটির আওতাধীন মোট ১১টি হাটে ব্যবস্থাপনা-সংক্রান্ত বিভিন্ন অভিযোগ খতিয়ে দেখা হয়েছে। এখন পর্যন্ত কোনো ধরনের চাঁদাবাজি বা অতিরিক্ত অর্থ আদায়ের প্রমাণ পাওয়া যায়নি।

তিনি বলেন, গাবতলী হাটে গরু বাঁধার খুঁটির জন্য প্রতি খুঁটিতে ১৫ হাজার টাকা আদায়ের যে অভিযোগ উঠেছিল, তা তদন্ত করে দেখা হয়েছে। তদন্তে এমন কোনো অভিযোগের সত্যতা মেলেনি। নির্ধারিত নিয়ম অনুযায়ী ৫ শতাংশ হাসিলের বাইরে অতিরিক্ত টাকা নেওয়ার কোনো প্রমাণও পাওয়া যায়নি।

মিল্টন বলেন, হাট ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে নিয়মিত পর্যবেক্ষণ চালানো হচ্ছে। কোথাও অনিয়মের তথ্য পাওয়া গেলে সঙ্গে সঙ্গে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তবে এখন পর্যন্ত মাঠপর্যায়ের তদন্তে বড় কোনো অনিয়ম ধরা পড়েনি।

তবে বিএনপি নেতৃত্বাধীন সরকার কুরবানির পশুর বর্জ্য অপসারণে ব্যর্থ হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন জামায়াতে ইসলামীর ঢাকা মহানগর উত্তরের আমির ও ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের মেয়র প্রার্থী মোহাম্মদ সেলিম উদ্দিন। পশুর হাটে টোকেনের নামে চাঁদাবাজি নিয়ন্ত্রণেও সরকার ব্যর্থতার পরিচয় দিয়েছে বলে দাবি তার। গত শনিবার রাজধানীর মগবাজারে জামায়াতের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।

সেলিম উদ্দিন বলেন, কুরবানির পশুর বর্জ্য অপসারণে সিটি করপোরেশনের ঘোষণার সঙ্গে বাস্তব পরিস্থিতির মিল নেই। রাজধানীর অনেক এলাকায় এখনো পশুর বর্জ্য পড়ে আছে। এতে জনস্বাস্থ্য ঝুঁকির মধ্যে পড়ছে এবং বিভিন্ন রোগব্যাধি ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

তিনি অভিযোগ করেন, পশুর হাটগুলোতে টোকেনের নামে চাঁদাবাজি হয়েছে। কিন্তু এসব অনিয়ম প্রতিরোধ ও নিয়ন্ত্রণে সরকারের কার্যকর কোনো পদক্ষেপ দেখা যায়নি। পাশাপাশি সাম্প্রতিক সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণহানির ঘটনাগুলোতেও সরকারের সমালোচনা করেন তিনি।

জামায়াত নেতা বলেন, ‘জুলাইকে অস্বীকার করা মানে ফ্যাসিবাদকে মেনে নেওয়া। যারা এমন অবস্থান নেবে, তাদের বিরুদ্ধে ফ্যাসিবাদবিরোধী শক্তিকে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে।’

দ্রুত স্থানীয় সরকার নির্বাচন আয়োজনের দাবি জানিয়ে তিনি আরও বলেন, ‘জনগণের প্রত্যাশা পূরণ এবং স্থানীয় সমস্যার সমাধানে নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের কাছে ক্ষমতা হস্তান্তর জরুরি।’

অন্যদিকে, ঈদুল আজহার কুরবানির পশুর হাট ও বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রার চেয়েও বেশি বর্জ্য অপসারণ করেছে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন (ডিএসসিসি)। ডিএসসিসি প্রশাসক বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. আবদুস সালাম এ তথ্য জানিয়েছেন। গত শনিবার নগর ভবন অডিটরিয়ামে এক ব্রিফিংয়ে তিনি জানান, ঈদের দিন থেকে গত তিন দিনে মোট ৩৬ হাজার ৮৬ টন বর্জ্য মাতুয়াইল ল্যান্ডফিলে চূড়ান্তভাবে ডাম্পিং করা হয়েছে, যেখানে পূর্বনির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৩৩ হাজার ৯৪২ টন। অর্থাৎ নির্ধারিত লক্ষ্য ছাড়িয়ে অতিরিক্ত বর্জ্যও সফলভাবে অপসারণ করা সম্ভব হয়েছে।

তিনি বলেন, এই বিশাল কর্মযজ্ঞে ডিএসসিসির নিজস্ব ও পিসিএসপি মিলিয়ে মোট ১৩ হাজার ৪৫৩ জন পরিচ্ছন্নকর্মী মাঠপর্যায়ে কাজ করেন। পাশাপাশি ৩৮২টি বিশেষ যান-যন্ত্রপাতিসহ মোট ২ হাজার ১১৭টি যানবাহন ব্যবহার করা হয় বর্জ্য পরিবহনে।

তিনি জানান, এ সময়ের মধ্যে প্রথম দিনে ১৪ হাজার ৮১৪ টন, দ্বিতীয় দিনে ৮ হাজার ৯৭৭ টন এবং তৃতীয় দিনে ১২ হাজার ২৯৫ টন বর্জ্য অপসারণ করা হয়।

ডিএসসিসি প্রশাসক বলেন, স্বাভাবিক সময়ে ঢাকায় দৈনিক গড়ে ৩ হাজার ২০০ থেকে ৩ হাজার ৫০০ টন বর্জ্য অপসারণ করা হলেও ঈদের সময় এই পরিমাণ কয়েক গুণ বেড়ে যায়। সীমিত জনবল ও সম্পদ দিয়ে এত বিপুল বর্জ্য ব্যবস্থাপনা একটি বড় চ্যালেঞ্জ ছিল বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

তিনি আরও জানান, নগরবাসীর সহযোগিতায় অনেকেই নির্ধারিত স্থানে কুরবানি করে বর্জ্য নির্দিষ্ট স্থানে ফেলায় কাজ সহজ হয়েছে। তবে এখনো শতভাগ সচেতনতা নিশ্চিত হয়নি বলেও উল্লেখ করেন।

ডিএসসিসির আওতায় নির্ধারিত ৩৫৭টি স্থানে ১৭ হাজার ৩১৫টি পশু কুরবানি সম্পন্ন হয়েছে বলেও তিনি জানান।

বর্জ্য ব্যবস্থাপনার পাশাপাশি ১১টি অস্থায়ী হাটের বর্জ্য অপসারণ প্রায় শেষ পর্যায়ে রয়েছে বলে জানানো হয়। তবে কিছু হাটের ইজারাদার সময়মতো বর্জ্য অপসারণ না করায় জনভোগান্তি সৃষ্টি হয়েছে, যার দায়ে তাদের জামানত বাজেয়াপ্ত ও কালোতালিকাভুক্ত করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে প্রশাসক জানান।

তিনি বলেন, ভবিষ্যতে এমন অনিয়ম রোধে জামানতের পরিমাণ বাড়ানোসহ কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। নগরবাসীর উদ্দেশে তিনি আহ্বান জানিয়ে বলেন, কোথাও বর্জ্য পড়ে থাকতে দেখলে নির্ধারিত হটলাইন নম্বরে জানালে এক ঘণ্টার মধ্যে অপসারণের চেষ্টা করা হবে।

তিনি সাময়িক অসুবিধার জন্য দুঃখ প্রকাশ করে নগরবাসীর সহযোগিতার জন্য কৃতজ্ঞতা জানান এবং পরিচ্ছন্ন ঢাকা গড়তে সবার অংশগ্রহণ অব্যাহত রাখার আহ্বান জানান।

কেকে/এলএ


আরও সংবাদ   বিষয়:  সরকার   সাফল্য   পশুর হাট   ম্লান  
মতামত লিখুন:
Loading...
Loading...

খোলাকাগজ স্পেশাল- এর আরো খবর

সম্পাদক ও প্রকাশক : আহসান হাবীব
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : বসতি হরাইজন, ১৭-বি, বাড়ি-২১ সড়ক-১৭, বনানী, ঢাকা-১২১৩
ফোন : বার্তা-০২২২২২৭৬০৩৭, মফস্বল-০২২২২২৭৬০৩৬, বিজ্ঞাপন ও সার্কুলেশন-০২২২২২৭৬০২৯, ০১৭৮৭৬৯৭৮২৩, ০১৮৫৩৩২৮৫১০ (বিকাশ)
ই-মেইল: kholakagojnews@gmail.com, kholakagojadvt@gmail.com

© 2025 Kholakagoj
🔝
close