পটুয়াখালীর দশমিনা উপজেলায় হাত-পা বাঁধা অবস্থায় এক যুবকের মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ।
রোববার (৩১ মে) বিকাল সোয়া ৪টার দিকে উপজেলার বেতাগী সানকিপুর ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের বেতাগী গ্রামের একটি পরিত্যক্ত কচুরিপানায় ভরা খাল থেকে মরদেহটি উদ্ধার করা হয়।
উদ্ধারকৃত নজির ফরাজি (৪৫) বেতাগী গ্রামের মৃত আব্দুল খালেক ফরাজির ছেলে।
স্থানীয় ও পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, নজির ফরাজি মাঝে-মধ্যে ঘর থেকে কাউকে কিছু না বলে চলে যেতেন, আবার ফিরে আসতেন।
গত সোমবার (২৫ মে) সকালে ঘর থেকে বের হয়ে আর ফিরে আসেননি। পরিবারের পক্ষ থেকে আত্মীয়স্বজনের কাছে খোঁজ নিয়েও তার সন্ধান পাওয়া যায়নি। রোববার বিকালে বাড়ির পাশে একটি পরিত্যক্ত কচুরিপানায় ভরা খালে হাত-পা বাঁধা অবস্থায় এক যুবকের মরদেহ ভাসতে দেখেন স্থানীয় লোকজন। পরে দশমিনা থানার পুলিশকে খবর দেওয়া হলে তারা ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে। এ সময় তার পুত্র মো. রাসেল মরদেহটি নজির ফরাজির বলে শনাক্ত করেন। পরে পুলিশ মরদেহ থানায় নিয়ে আসে।
মো. রাসেল জানান, নজির আমার বাবা। গত সোমবার সকালে ঘর থেকে বের হয়। এ রকম মাঝে-মধ্যে কোথাও কিছু না বলে চলে যায়, আবার ফিরে আসে। এ জন্য আমরা বেশি চিন্তিত ছিলাম না। তারপরও তার বন্ধুবান্ধব ও আত্মীয়দের কাছে খোঁজ করি। আজ রোববার আমাদের বাড়ি থেকে কিছুটা দূরে একটি পরিত্যক্ত কচুরিপানায় ভরা খালে হাত-পা বাঁধা এক যুবকের মরদেহ ভাসতে দেখার খবর পেয়ে আমিও সেখানে যাই। লোকজন সাহস করে মরদেহের কাছে যাচ্ছিল না। পরে দশমিনা থানা-পুলিশ এসে খাল থেকে মরদেহ উদ্ধার করে রাস্তার ওপর রাখলে দেখি, সেটি আমার ভাই নজির ফরাজির মরদেহ। ৭ দিন নিখোঁজ থাকার পর আজ ভাইকে হাত-পা বাঁধা অবস্থায় মৃত পেলাম। কারা আমার ভাইকে হাত-পা বেঁধে পরিত্যক্ত খালের পানিতে ফেলে হত্যা করেছে, তার সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে বিচার চাই।
দশমিনা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আতিকুল ইসলাম জানান, উপজেলার বেতাগী সানকিপুর ইউনিয়নের বেতাগী এলাকার একটি খালে হাত-পা বাঁধা অবস্থায় এক যুবকের মরদেহ ভাসছে—এমন খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে যাই। পরে হাত-পা বাঁধা অবস্থায় মরদেহ উদ্ধার করা হয়। মরদেহের পরিচয় শনাক্ত করা হয়েছে। ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ পটুয়াখালী মর্গে পাঠানো হয়েছে। পরবর্তী আইনগত কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
কেকে/এলএ