মঙ্গলবার, ২৩ জুন ২০২৬,
৯ আষাঢ় ১৪৩৩
বাংলা English
ই-পেপার

মঙ্গলবার, ২৩ জুন ২০২৬
শিরোনাম: একযোগে ১৭ ডেপুটি-সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেলের পদত্যাগ      বিকল লঞ্চ থেকে ৯৯৯-এ ফোন, ৮০ যাত্রী উদ্ধার      সেপ্টেম্বর থেকে স্থানীয় সরকার নির্বাচন শুরু হতে পারে: ডা. জাহেদ      সালমান শাহর লাশ উত্তোলনের আদেশ বাতিল      সুশাসন ও সংস্কার ছাড়া বাজেট বাস্তবায়ন কঠিন      দেশজুড়ে কঠোর সতর্কতা      চীনের দালিয়ানে পৌঁছেছেন প্রধানমন্ত্রী      
খোলাকাগজ স্পেশাল
সীমান্তে আটকা সম্পর্ক
রবিউল ইসলাম
প্রকাশ: বুধবার, ৩ জুন, ২০২৬, ৯:০৩ এএম আপডেট: ০৩.০৬.২০২৬ ৯:৩৫ এএম
ছবি : খোলা কাগজ

ছবি : খোলা কাগজ

আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর বাংলাদেশের সঙ্গে ভারতের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক ভেঙে পড়ে। দুই দেশের মধ্যে কার্যক্রম চলে নামমাত্র। সম্পর্কের স্রোত অজানার পথে বয়ে চলে। বিশেষ করে দেশের বিভিন্ন সীমান্তে অস্থিরতা নতুন রূপ লাভ করে। ভারত তখন ঢালাওভাবে পুশইনের পথ বেছে নেয়। দিনে-রাতে সমানতালে অনুপ্রবেশকারী আখ্যা দিয়ে নাগরিকদের বিভিন্ন সীমান্ত দিয়ে ঠেলে দেয়।

তখন অবশ্য ভারত থেকে বাংলাদেশে জাতীয় নির্বাচন ও নির্বাচিত সরকারের ওপর জোর দেওয়া হয়। ছাব্বিশের জাতীয় নির্বাচনে বিএনপি নেতৃত্বাধীন সরকার ক্ষমতায় আসে। এরপর থেকেই দুই দেশের সম্পর্কে নতুন মাত্রা যুক্ত হয়। কিন্তু ভারত তার অবস্থান থেকে তেমন একটা সরেনি। তারা পুশইন, সীমান্তে গুলি চালিয়ে হত্যাকাণ্ড চালিয়ে যাচ্ছে। আবার পশ্চিমবঙ্গে বিজেপি সরকার ক্ষমতায় আসার পর থেকেই সীমান্তে নতুন করে আশঙ্কা তৈরি হয়। যদিও সীমান্ত এলাকায় সতর্ক অবস্থায় রয়েছে বিজিবি। তারা সীমান্তজুড়ে অতিরিক্ত টহল, মাইকিং এবং নজরদারি অব্যাহত রেখেছে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যকার দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক আরও জোরদারে উভয় পক্ষ থেকেই যখন ইতিবাচক বার্তা দেওয়া হচ্ছে, তখন সীমান্তে ভারতের একপাক্ষিক কিছু কর্মকাণ্ড উদ্বেগ তৈরি করছে। তাদের সাম্প্রতিক কিছু সিদ্ধান্ত দুই প্রতিবেশী দেশের দীর্ঘদিনের সম্পর্কের ওপর নতুন করে অস্বস্তির ছায়া ফেলছে। ঈদুল আজহার ছুটির সুযোগে পশ্চিমবঙ্গের হাকিমপুর সীমান্ত দিয়ে বেশ কিছু মানুষকে জোরপূর্বক বাংলাদেশে ঠেলে দেওয়া বা পুশইন করার চেষ্টা চালানো হয়েছে। পরিচয় যাচাইয়ের নামে অনেককে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য হোল্ডিং সেন্টারে রেখে মানসিক চাপ সৃষ্টির খবরও এসেছে। স্বাভাবিকভাবেই এই সংবেদনশীল সীমান্ত সংকট দুই দেশের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে কেবল আস্থার সংকটই তৈরি করছে না, বরং আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার ক্ষেত্রেও এক বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে।

পতাকা বৈঠক হলেও হয়নি সমাধান: গত সোমবার সন্ধ্যায় দুই দেশের সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিজিবি-বিএসএফের মধ্যে পতাকা বৈঠক অনুষ্ঠিত হলেও কোনো সমাধান হয়নি। ফলে দ্বিতীয় দিনের মতো তারা মানবেতর জীবন কাটাচ্ছেন।

শূন্যরেখায় মানবেতর জীবনে ১০ নারী-পুরুষ: সবশেষ খবর অনুযায়ী, যশোরের বেনাপোল সীমান্ত দিয়ে বিএসএফের ঠেলে পাঠানো ১০ জন নারী-পুরুষ ও শিশু এখনো সীমান্তের শূন্যরেখায় অবস্থান করছে। প্রতিটি মুহূর্ত তাদের আতঙ্কে কাটছে। ক্ষুধার্ত অবস্থায় তারা অসুস্থ হয়ে পড়ছেন।

গত ৩১ মে গভীর রাতে কাঁটাতারের গেট খুলে তাদের বাংলাদেশে ঠেলে পাঠানো হয়। বিজিবি ঘটনাটি জানতে পেরে তা প্রতিহত করে। বেনাপোল আন্তর্জাতিক চেকপোস্টের উত্তরে সাদিপুর খড়ের মাঠ সীমান্ত এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

১২০ জনকে পুশইনের চেষ্টা বিএসএফের, সতর্ক বিজিবি: জানা গেছে, গত ৩০ মে সন্ধ্যায় কয়েকটি ট্রাকযোগে অতিরিক্ত ফোর্সসহ প্রায় ১২০ জনকে ঠেলে পাঠানোর জন্য ভারত সীমান্তের বিএসএফ ক্যাম্প-সংলগ্ন এলাকায় নিয়ে আসা হয়। কয়েকটি গ্রুপ করে ১০-১২ জন মানুষকে ভারতের জয়ন্তীপুর সীমান্তে নিয়ে আসে বিএসএফ। প্রথমে তারা বেনাপোলের সাদিপুর-রঘুনাথপুর সীমান্তের বিপরীতে ভারতের জয়ন্তীপুর সীমান্ত দিয়ে এপারে ঠেলে পাঠানোর চেষ্টা করে। বিজিবির বাধার মুখে সে চেষ্টা ব্যর্থ হয়। পরে রাতে আশপাশের বেশ কয়েকটি কাঁটাতারের গেট খুলে তাদের ঠেলে পাঠানোর চেষ্টা করলে তাও ব্যর্থ হয়।

যে গেট দিয়ে ঠেলে পাঠানোর চেষ্টা করা হয়, তার আগে সেখানকার সীমান্তের সার্চলাইটগুলো বন্ধ করে দেয় বিএসএফ। বিজিবি সদস্যরা বিষয়টি বুঝতে পেরে সীমান্তজুড়ে টর্চ ও সার্চলাইট জ্বালিয়ে পুরো এলাকা আলোকিত করে রাখে। এদিকে টহল দলের বিজিবি সদস্যরা সতর্ক থাকায় সে চেষ্টাও ব্যর্থ হয়।

বিজিবি জানায়, একাধিকবার ব্যর্থ হওয়ার পর রাত সাড়ে ৩টার দিকে সাদিপুর এলাকার সীমান্ত পিলার ১৯/এস-৬-এর কাছে আট থেকে ১০ জন নারী-পুরুষ ও শিশুকে কাঁটাতারের বেড়া পার করে বাংলাদেশে ঠেলে দেওয়ার চেষ্টা করা হয়। কিন্তু বিজিবি সদস্যরা আগে থেকেই প্রস্তুত থাকায় তাদের আন্তর্জাতিক সীমারেখা অতিক্রম করতে দেওয়া হয়নি।

বিজিবি যশোর ৪৯ ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল গোলাম মোহাম্মদ সাইফুল আলম খান বলেন, ‘এটা এমন একটি বিষয়, যা ইচ্ছা করলেই দ্রুত সমাধান করা সম্ভব নয়। এখন বিএসএফ বলছে, এই লোকজন তাদের নয়। এমন দাবি তারা করতেই পারে। তবে বিজিবি এ বিষয়ে কঠোর অবস্থানে রয়েছে। আমরা দীর্ঘ সময় ধরে তাদের সঙ্গে পতাকা বৈঠক করেছি, কিন্তু পতাকা বৈঠকটি কোনো সমাধান ছাড়াই শেষ হয়। তারা স্বীকার করতে চাচ্ছে না যে, এদের পুশইন করা হয়েছে। অথচ সেই সময়কার ভিডিও ফুটেজ প্রমাণ করছে, বিএসএফ এদের ঠেলে দিয়েছে। তা ছাড়া ভুক্তভোগীরাও জানিয়েছেন, বিএসএফ তাদের সীমান্তে এনে জড়ো করেছে। তারপরও বিএসএফ বিষয়টি আমলে নিচ্ছে না।’

কেকে/এলএ


আরও সংবাদ   বিষয়:  বাংলাদেশ   ভারত   সীমান্ত   সম্পর্ক  
মতামত লিখুন:
Loading...
Loading...

খোলাকাগজ স্পেশাল- এর আরো খবর

সম্পাদক ও প্রকাশক : আহসান হাবীব
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : বসতি হরাইজন, ১৭-বি, বাড়ি-২১ সড়ক-১৭, বনানী, ঢাকা-১২১৩
ফোন : বার্তা-০২২২২২৭৬০৩৭, মফস্বল-০২২২২২৭৬০৩৬, বিজ্ঞাপন ও সার্কুলেশন-০২২২২২৭৬০২৯, ০১৭৮৭৬৯৭৮২৩, ০১৮৫৩৩২৮৫১০ (বিকাশ)
ই-মেইল: kholakagojnews@gmail.com, kholakagojadvt@gmail.com

© 2025 Kholakagoj
🔝
close