মঙ্গলবার, ২৩ জুন ২০২৬,
৯ আষাঢ় ১৪৩৩
বাংলা English
ই-পেপার

মঙ্গলবার, ২৩ জুন ২০২৬
শিরোনাম: একযোগে ১৭ ডেপুটি-সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেলের পদত্যাগ      বিকল লঞ্চ থেকে ৯৯৯-এ ফোন, ৮০ যাত্রী উদ্ধার      সেপ্টেম্বর থেকে স্থানীয় সরকার নির্বাচন শুরু হতে পারে: ডা. জাহেদ      সালমান শাহর লাশ উত্তোলনের আদেশ বাতিল      সুশাসন ও সংস্কার ছাড়া বাজেট বাস্তবায়ন কঠিন      দেশজুড়ে কঠোর সতর্কতা      চীনের দালিয়ানে পৌঁছেছেন প্রধানমন্ত্রী      
খোলাকাগজ স্পেশাল
কমছে সামাজিক সহিষ্ণুতা
জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক
প্রকাশ: বুধবার, ৩ জুন, ২০২৬, ৯:৩১ এএম
ছবি : খোলা কাগজ

ছবি : খোলা কাগজ

দেশে দিন দিন ভেঙে পড়ছে সামাজিক সহিষ্ণুতা। সামান্য কারণে সংঘর্ষসহ হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটছে। এমনকি আইনের প্রতি অনাস্থাও বাড়ছে। এতে পিটিয়ে হত্যা, বাড়িঘরে অগ্নিসংযোগের মতো ঘটনা বেড়ে চলেছে। যা সমাজের গভীর সংকটকে নির্দেশ করছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

গত সোমবার নেত্রকোণায় বিয়েবাড়িতে গান-বাজানো নিয়ে সংঘর্ষে আমীর ফয়সাল নামের এক কলেজছাত্র নিহত হয়েছেন। গতকাল মঙ্গলবার খুলনায় রাশিদুল ইসলাম নামের এক যুবককে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা। এ ছাড়া ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় আধিপত্য বিস্তার নিয়ে দুই পক্ষের সংঘর্ষে অন্তত ১০ জন আহত হয়েছেন। এর আগে সোমবার তুচ্ছ ঘটনা নিয়ে রাতভর সংঘর্ষে জড়ায় চার গ্রামের মানুষ। একই দিন হবিগঞ্জে ডাকাতির সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার অভিযোগে একজনের বাড়ি পুড়িয়ে দিয়েছে গ্রামবাসী।

সমাজবিশ্লেষকরা বলছেন, বর্তমানে মানুষ এক অস্থির সময়ের মধ্যে বাস করছে। সেই সঙ্গে দুর্বল আইনের শাসনে মানুষের মধ্যে হতাশা ও অনাস্থা তৈরি হয়েছে। এর প্রতিফলনই দেখা যাচ্ছে সমাজের নানা ঘটনায়। বেড়ে যাচ্ছে খুন-খারাবি। এ ছাড়া কোনো বিষয়ে বিরোধ দেখা দিলে আইনের বা প্রশাসনের দ্বারস্থ হওয়ার প্রবণতাও কমে আসছে। নিজেরাই সংঘর্ষে জড়াচ্ছে। এতে হত্যাকাণ্ডের মতো ঘটনা ঘটছে। এমনকি চুরি-ছিনতাইয়ের অভিযোগ এনে গণপিটুনিতে মানুষ মারা হচ্ছে।

বিশ্লেষকরা বলছেন, এ পরিস্থিতি থেকে উত্তরণের জন্য দেশে সত্যিকার আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা করতে হবে। যাতে মানুষ রাষ্ট্রের প্রতি, প্রতিষ্ঠানের প্রতি আস্থা ফিরে পায়। সেই সঙ্গে অপরাধ করলে পার পাওয়া যাবে না—এ ধারণাও পোক্ত করতে হবে। আর সবচেয়ে বড় কথা, সামাজিক ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠায় জনসচেতনতা বাড়াতে হবে।

বিয়েবাড়িতে গান-বাজনা নিয়ে সংঘর্ষে কলেজছাত্র নিহত : নেত্রকোণা সদর উপজেলার বামনীকোনা গ্রামে বিয়ের অনুষ্ঠানে উচ্চৈঃস্বরে গান বাজানোকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষে মোস্তফা আমীর ফয়সাল (২০) নামে এক কলেজছাত্র নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আরও তিনজন আহত হয়েছেন। গত সোমবার রাত পৌনে ১২টার দিকে উপজেলার চল্লিশা ইউনিয়নের বামনীকোনা গ্রামের সংসদ বাজার এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, স্থানীয় ইদ্রিস আলীর মেয়ের বিয়ের অনুষ্ঠান উপলক্ষে রাতের দিকে বাড়িতে গান বাজানো ও ছবি তোলার আয়োজন করা হয়। এ সময় একই গ্রামের কামরুল ইসলামের ছেলে মাসুম কয়েকজন বন্ধুকে নিয়ে সেখানে গিয়ে উচ্চৈঃস্বরে গান বাজিয়ে নাচ-গান শুরু করেন। একপর্যায়ে ফয়সাল তাদের সেখান থেকে চলে যেতে বললে উভয় পক্ষের মধ্যে বাগ্বিতণ্ডা হয়। পরে মাসুম ঘটনাস্থল ত্যাগ করে কিছুক্ষণ পর পরিবারের সদস্য ও স্বজনদের নিয়ে ফিরে এসে ফয়সাল ও তার সঙ্গীদের ওপর হামলা চালায় বলে অভিযোগ করেছেন নিহতের স্বজনরা।

চোর সন্দেহে পিটিয়ে হত্যা : মেহেরপুরের গাংনীতে চোর সন্দেহে গণপিটুনিতে অজ্ঞাত এক ব্যক্তি (৩৫) নিহত হয়েছেন। গতকাল সকাল ছয়টার দিকে উপজেলার বামুন্দী বাজারে এ ঘটনা ঘটে। স্থানীয় লোকজন ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, ভোরে পাঁচ সদস্যের একটি চোরচক্র পিকআপ ভ্যান নিয়ে বামুন্দী বাজারের একটি টায়ারের দোকানের তালা খুলে টায়ার বের করে পিকআপে তুলছিল। বিষয়টি টের পেয়ে বাজারের নৈশপ্রহরী ও ব্যবসায়ীরা চোরচক্রের সদস্যদের ধাওয়া করেন। এ সময় চক্রের অন্য সদস্যরা পিকআপ ভ্যান নিয়ে পালিয়ে গেলেও একজনকে ধরে ফেলেন স্থানীয় লোকজন। পরে উত্তেজিত জনতার পিটুনিতে তার মৃত্যু হয়।

বামুন্দী বাজারের এক ব্যবসায়ী বলেন, পিটুনির পর রক্তাক্ত অবস্থায় ওই ব্যক্তি দীর্ঘক্ষণ সেখানে পড়ে ছিলেন। আশপাশের উৎসুক মানুষ তাকে উদ্ধারের চেষ্টা না করে মুঠোফোনে ভিডিও ধারণ করছিলেন। পিপাসার্ত ওই ব্যক্তিকে কেউ একটুও পানি পর্যন্ত দেননি। বিষয়টি যে কতটা ভয়াবহ ও মর্মান্তিক, তা উপস্থিত সাধারণ মানুষ অনুধাবনও করতে পারছিলেন না।

ডাকাতির অভিযোগে বাড়ি পুড়িয়ে দিল গ্রামবাসী : হবিগঞ্জের নবীগঞ্জ উপজেলার পুরানগাঁও গ্রামে ডাকাতির সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে এক ব্যক্তির বসতঘরে অগ্নিসংযোগ করা হয়েছে। গত রোববার মধ্যরাতে এ ঘটনা ঘটে। স্থানীয়রা জানান, ওয়াহিদ মিয়া নামের ওই ব্যক্তি দীর্ঘদিন ধরে পুরানগাঁও গ্রামে বসবাস করে আসছেন। তার বিরুদ্ধে অভিযোগ, তিনি ডাকাত দলের নেতৃত্ব দিয়ে আসছেন এবং তার বিরুদ্ধে একাধিক ডাকাতি মামলা আছে। বিভিন্ন সময় চুরি ও ডাকাতির মাধ্যমে লুট হওয়া অটোরিকশা, গাড়িসহ নানা মালামাল তার বাড়িতে এনে রাখা হতো। পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত রোববার রাতে পুরানগাঁও গ্রামের পঞ্চায়েত কমিটির একটি সভা হয়। সভায় ওয়াহিদ মিয়ার কর্মকাণ্ড নিয়ে তীব্র সমালোচনা হয়। গ্রামবাসীরা বলেন, তার কারণে গ্রামের সুনাম ক্ষুণ্ন হচ্ছে। এ সময় ক্ষোভ প্রকাশ করে অনেকে অভিযোগ করেন, একাধিকবার বিষয়টি নবীগঞ্জ থানাকে জানানো হলেও কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। সভা শেষ হওয়ার পর রাত ১২টার দিকে ক্ষুব্ধ একদল লোক ওয়াহিদ মিয়ার বসতঘরে আগুন ধরিয়ে দেন। মুহূর্তের মধ্যেই আগুন পুরো ঘরে ছড়িয়ে পড়ে এবং ঘরটি জ্বলতে থাকে।

চুরির অভিযোগে তিন যুবককে আটক ঘিরে সংঘর্ষ : গোপালগঞ্জের কোটালীপাড়া উপজেলায় ব্যাটারি চুরির অভিযোগে তিন যুবককে আটকের ঘটনাকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে দফায় দফায় সংঘর্ষ, হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে। এতে নারী-পুরুষসহ অন্তত ২০ জন আহত হয়েছেন। আহত ব্যক্তিদের মধ্যে কয়েকজনকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। গত সোমবার সন্ধ্যার পর উপজেলার ঘাঘরকান্দা-ব্যাপারীপাড়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।

টেঁটা ও বল্লম নিয়ে দুই পক্ষের সংঘর্ষ : ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগর উপজেলার বিটঘর ইউনিয়নের টিয়ারা গ্রামে আধিপত্য বিস্তারসহ পূর্ববিরোধের জের ধরে দুই পক্ষের সংঘর্ষে অন্তত ১০ জন আহত হয়েছেন। এ সময় বাজারে বেশ কয়েকটি দোকানে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাট করা হয়। গতকাল সকাল থেকে উপজেলার বিটঘর ইউনিয়নের টিয়ারা গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।

স্থানীয় লোকজন ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, টিয়ারা গ্রামে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে আতিকুর রহমান ওরফে শিশু মিয়া এবং একই গ্রামের বাসিন্দা সাবেক চেয়ারম্যান আবুল হোসেনের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলে আসছিল। এই বিরোধের জের ধরে দুই পক্ষের মধ্যে কয়েক দিন ধরে উত্তেজনা চলছিল। পূর্ববিরোধের জের ধরে গত সোমবার রাতে স্থানীয় ইউপি সদস্য বাছির মিয়ার বাড়িতে দুই পক্ষের লোকজনের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। পূর্ববিরোধ ও সোমবার রাতের সংঘর্ষের ঘটনার জের ধরে গতকাল সকালে উভয় পক্ষের লোকজন দা, ছুরি, টেঁটা, বল্লমসহ দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে টিয়ারা বাজারে আবার সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়েন। সংঘর্ষ চলে সকাল সাড়ে ১০টা পর্যন্ত।

টর্চলাইটের আলোয় চার গ্রামের সংঘর্ষ : গত রোববার হবিগঞ্জ সদর উপজেলায় গভীর রাতে টর্চলাইটের আলোয় চার গ্রামের মানুষের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। রাত সাড়ে ১১টার দিকে শুরু হওয়া এ সংঘর্ষ প্রায় আড়াই ঘণ্টা ধরে চলে। এতে নারী-পুরুষসহ অর্ধশতাধিক মানুষ আহত হয়েছেন। পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, সদর উপজেলার বনদক্ষিণ গ্রামের এক যুবককে মাদক সেবনের অভিযোগে পাশের চরহামুয়া গ্রামের কয়েকজন লোক আটকে রাখেন। বিষয়টি এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে বনদক্ষিণ ও সুলতানশী গ্রামের লোকজন একদিকে এবং চরহামুয়া ও বনগাঁও গ্রামের লোকজন অন্যদিকে জড়ো হন। প্রথমে দুই পক্ষের মধ্যে বাগ্বিতণ্ডা হয় এবং একপর্যায়ে তা সংঘর্ষে রূপ নেয়।


আরও সংবাদ   বিষয়:  সামাজিক   সহিষ্ণুতা  
মতামত লিখুন:
Loading...
Loading...

খোলাকাগজ স্পেশাল- এর আরো খবর

সম্পাদক ও প্রকাশক : আহসান হাবীব
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : বসতি হরাইজন, ১৭-বি, বাড়ি-২১ সড়ক-১৭, বনানী, ঢাকা-১২১৩
ফোন : বার্তা-০২২২২২৭৬০৩৭, মফস্বল-০২২২২২৭৬০৩৬, বিজ্ঞাপন ও সার্কুলেশন-০২২২২২৭৬০২৯, ০১৭৮৭৬৯৭৮২৩, ০১৮৫৩৩২৮৫১০ (বিকাশ)
ই-মেইল: kholakagojnews@gmail.com, kholakagojadvt@gmail.com

© 2025 Kholakagoj
🔝
close