রোববার, ৭ জুন ২০২৬,
২৪ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩
বাংলা English
ই-পেপার

রোববার, ৭ জুন ২০২৬
শিরোনাম: চুক্তির ফাঁদে চাপে দেশ      ৩ দিনের সফরে রাশিয়া গেলেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী      এরদোয়ানকে বাংলাদেশ সফরের আমন্ত্রণ জানালেন প্রধানমন্ত্রী      ভারতের কাছে হেরে হ্যাটট্রিক শিরোপার স্বপ্নভঙ্গ বাংলাদেশের      ১০১ শয্যায় উন্নীত হচ্ছে দেশের সব উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স      মেসির চোখে বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনা নয় ব্রাজিলই ফেভারিট      ঋতুপর্ণার গোলে সমতা নিয়ে বিরতিতে বাংলাদেশ      
খোলা মত ও সম্পাদকীয়
ভূ-রাজনীতির টানাপোড়েনে বাংলাদেশ
পরাশক্তির ছক ও ডিপ স্টেটের ঝুঁকি
কায়ছার উদ্দীন আল-মালেকী
প্রকাশ: রোববার, ৭ জুন, ২০২৬, ১০:৫৫ এএম আপডেট: ০৭.০৬.২০২৬ ১০:৫৮ এএম
ফাইল ছবি

ফাইল ছবি

একবিংশ শতাব্দীতে এসে দক্ষিণ এশিয়ার ভূ-কৌশলগত মানচিত্রে বাংলাদেশ একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে। সাম্প্রতিক সময়ে দেশের অভ্যন্তরীণ রাজনীতি এবং প্রধান রাজনৈতিক দলগুলোর আন্তর্জাতিক যোগাযোগের ধরন বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, বাংলাদেশ এক জটিল বহুমাত্রিক কূটনীতির মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। একদিকে আঞ্চলিক শক্তিগুলোর গোয়েন্দা তৎপরতার বিস্তার, অন্যদিকে বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় পারমাণবিক ও অর্থনৈতিক পরাশক্তিগুলোর সঙ্গে দেশীয় রাজনৈতিক দলগুলোর পর্দার আড়ালের সমীকরণ—সব মিলিয়ে রাষ্ট্রের ভবিষ্যৎ এক গভীর সংকটের দিকে ধাবিত হচ্ছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ক্ষমতার এই আন্তর্জাতিকীকরণ রাষ্ট্রকে একটি অদৃশ্য ‘ডিপ স্টেট’ বা ছায়া নিয়ন্ত্রকদের খপ্পরে ফেলে দেওয়ার ঝুঁকি তৈরি করছে।

যেকোনো স্বাধীন ও সার্বভৌম রাষ্ট্রের জন্য তার অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে বিদেশি গোয়েন্দা সংস্থার প্রভাব সবচেয়ে বড় উদ্বেগের কারণ। দেশের অভ্যন্তরে এই প্রভাব কতটা গভীরে শিকড় গেড়েছে, তা গণমাধ্যমের সুনির্দিষ্ট প্রতিবেদনে উঠে এসেছে। ১০ জানুয়ারি, ২০২৫ তারিখে ইটিভি নিউজ-এর একটি প্রতিবেদনে ‘বাংলাদেশের সব সেক্টরে ভারতীয় গোয়েন্দা ‘র’-এর থাবা!’ শিরোনামে বলা হয়, “বাংলাদেশ সরকারের ভেতরে-বাইরে প্রায় ১ লক্ষেরও বেশি ভারতীয় গোয়েন্দা সংস্থা ‘র’ বা রিসার্চ অ্যানালাইসিস উইং-এর এজেন্ট তৎপর। যার মধ্যে মন্ত্রী, এমপি, আমলা, রাজনীতিবিদ, শিল্পপতি, ব্যবসায়ী, এমনকি কেরানি, পিওন, রিকশাওয়ালা থেকে শুরু করে বৈমানিক, আইনজীবীসহ বিভিন্ন স্তরে তাদের এজেন্ট সক্রিয় রয়েছে। এবং ৪,০০০-এরও বেশি ভারতীয় কর্মী ও ইনফর্মার সক্রিয় আছে।” এই ধরনের তথ্য বা দাবি যদি আংশিকও সত্য হয়, তবে তা রাষ্ট্রের স্বাধীন সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতাকে পঙ্গু করে দেয়। যখন একটি রাষ্ট্রের প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক কাঠামোর একদম নিম্নস্তর থেকে উচ্চস্তর পর্যন্ত বিদেশি শক্তির এমন নেটওয়ার্ক থাকে, তখন জাতীয় নিরাপত্তা এবং সার্বভৌমত্ব মারাত্মকভাবে বিঘ্নিত হয়।

বর্তমান সময়ে বাংলাদেশের রাজনীতি স্পষ্টভাবেই আমেরিকা, চীন ও তুরস্কের দিকে ঝুঁকছে। দেশের প্রধান রাজনৈতিক দলগুলো ক্ষমতার সমীকরণে বহির্বিশ্বের বড় বড় অক্ষের সমর্থন পেতে মরিয়া, যা গণমাধ্যমের ধারাবাহিক প্রতিবেদনে স্পষ্ট। তবে এই সম্পর্কের বাস্তব ফলাফল সবসময় বাংলাদেশের অনুকূলে নয়। প্রথম আলোর ৫ মে ২০২৬ তারিখে শওকত হোসেনের প্রতিবেদন ‘যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্যচুক্তিতে বাংলাদেশের লাভ সামান্য, ক্ষতিই বেশি’ শিরোনামে প্রকাশিত হয়, যা স্পষ্ট করে দেয় যে, পরাশক্তির সঙ্গে সম্পর্কের আড়ালে বাংলাদেশের জাতীয় স্বার্থ কতটা ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে। প্রথম আলোর প্রতিবেদন ২৭ নভেম্বর ২০২৪-এ ‘চীন সফরে যাচ্ছেন জামায়াতসহ ইসলামি দলগুলোর ১৪ নেতা’ শিরোনামে সংবাদ প্রকাশ হয়। বেইজিং সাধারণত সমাজতান্ত্রিক ভাবধারার হলেও ভূ-রাজনৈতিক স্বার্থে তারা বাংলাদেশের প্রধান প্রধান সব রাজনৈতিক শক্তির সঙ্গেই একটি গভীর কাজের সম্পর্ক তৈরি করতে আগ্রহী। এরপর প্রথম আলোর প্রতিবেদন ১৬ এপ্রিল ২০২৬-এ ‘চীন সফরে বিএনপির প্রতিনিধিদল’ শিরোনামে সংবাদ প্রকাশিত হয়, যা দেশের অন্যতম প্রধান রাজনৈতিক দলের সঙ্গে চীনের কৌশলগত যোগাযোগের গভীরতাকে নির্দেশ করে। একইভাবে দৈনিক দেশ রূপান্তর ২৬ মে ২০২৬ তারিখে ‘চীন সফরে যাচ্ছেন যুবদল-ছাত্রদলের ২০ নেতা’ শিরোনামে সংবাদ প্রকাশ করে। এর মাধ্যমে স্পষ্ট হয় যে, পরাশক্তিগুলো কেবল বর্তমান নেতৃত্বের সঙ্গেই নয়, বরং ভবিষ্যতের তরুণ নেতৃত্বের সঙ্গেও দীর্ঘমেয়াদি ছক কষছে। চীন ও আমেরিকার মতো পারমাণবিক দেশগুলো তাদের নিজস্ব ভূ-রাজনৈতিক স্বার্থে, যেমন ইন্দো-প্যাসিফিক স্ট্র্যাটেজি বা বেল্ট অ্যান্ড রোড ইনিশিয়েটিভ, বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ ক্ষমতার চালকদের নিজেদের নিয়ন্ত্রণে রাখতে চায়।

বাংলাদেশের এই পরিবর্তিত রাজনৈতিক ভূ-দৃশ্যে পাকিস্তান ও তুরস্কের সঙ্গে সম্পর্ক পুনর্মূল্যায়নের প্রচেষ্টা সমীকরণটিকে আরও বহুমাত্রিক করে তুলেছে। প্রথম আলোর প্রতিবেদন ২৩ আগস্ট ২০২৪ তারিখে ‘বিএনপি নেতাদের সঙ্গে পাকিস্তান হাইকমিশনারের সাক্ষাৎ’ শিরোনামে খবর প্রকাশিত হয়। পরবর্তীতে টিবিএস রিপোর্ট ২৩ আগস্ট ২০২৫ তারিখে ‘পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে জামায়াত-এনসিপির বৈঠক, দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক উন্নয়নে জোর’ শিরোনামে প্রতিবেদন প্রকাশ করে। দীর্ঘ দেড় দশক ধরে ঢাকা-ইসলামাবাদ সম্পর্কের যে স্থবিরতা ছিল, বর্তমান প্রেক্ষাপটে রাজনৈতিক দলগুলোর এই যোগাযোগ অতীতের ‘একমুখী’ প্রভাবের বিপরীতে একটি নতুন আঞ্চলিক ভারসাম্য তৈরির চেষ্টা হিসেবে দেখা হচ্ছে। পাশাপাশি নিউজ২৪-এর সংবাদ শনিবার, ০৬ জুন, ২০২৬ তারিখে ‘তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে এনসিপি প্রতিনিধিদলের সাক্ষাৎ’ শিরোনামে সংবাদ প্রকাশ করে। মধ্যপ্রাচ্য ও ইউরোপের সংযোগস্থলে থাকা উদীয়মান শক্তি তুরস্কও এখন দক্ষিণ এশিয়ায় তার কূটনৈতিক ও রাজনৈতিক প্রভাব বাড়াতে সক্রিয় ভূমিকা রাখছে। একই সঙ্গে দৈনিক ইনকিলাব ২১ ডিসেম্বর ২০২৫ তারিখে প্রকাশিত সংবাদে বলে, ‘লন্ডন সফর সংক্ষিপ্ত করে ঢাকায় ফিরলেন জামায়াত আমির’; যা দেশের রাজনৈতিক দলগুলোর আন্তর্জাতিক লবিং ও দ্রুত পরিবর্তনশীল কৌশলগত সিদ্ধান্তের একটি বড় প্রমাণ।

বাহ্যিক ভূ-রাজনীতির পাশাপাশি বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ প্রশাসনিক অন্দরমহলেও এই অদৃশ্য নিয়ন্ত্রণের বিতর্কটি এখন চরম তুঙ্গে উঠেছে, যা সরাসরি অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের নীতিনির্ধারণী কাঠামোর দিকে আঙুল তোলে। দৈনিক খবরের কাগজ-এর ২৬ মে ২০২৬ তারিখের প্রতিবেদনে বাংলাদেশের অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের কার্যক্রম এবং পররাষ্ট্রনীতি নিয়ে কথা বলেছেন সাবেক পররাষ্ট্র উপদেষ্টা তৌহিদ হোসেন। এই সময় গণমাধ্যমে অন্যান্য রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বদের পক্ষ থেকে ‘ডিপ স্টেট’ এবং ‘কিচেন ক্যাবিনেট’ সংক্রান্ত বিস্ফোরক দাবি ও মন্তব্য সামনে আনা হয়েছে। এর আগে এনটিভির ২৫ মে ২০২৬ তারিখে প্রকাশিত বিশেষ প্রতিবেদনে এই বিষয়ে আরও চাঞ্চল্যকর দাবি তুলে ধরা হয়। “ড. ইউনূসের ‘কিচেন ক্যাবিনেট’-এর গোপন সিদ্ধান্তে চলত রাষ্ট্র? সামনে এলো ‘ডিপ স্টেট’।” শিরোনামের ওই প্রতিবেদনে বলা হয়, “বাংলাদেশের রাজনীতিতে নতুন করে আলোচনায় এসেছে ‘কিচেন ক্যাবিনেট’ ও ‘ডিপ স্টেট’-এর রহস্যময় ভূমিকা। শেখ হাসিনার পতনের পেছনে কারা কাজ করেছে, কীভাবে গোপনে নেওয়া হতো বড় বড় সিদ্ধান্ত—এই ভিডিওতে উঠে এসেছে সেই চাঞ্চল্যকর বিশ্লেষণ। রাজনৈতিক অন্দরমহলের গোপন বৈঠক, ক্ষমতার কেন্দ্রের অদৃশ্য নিয়ন্ত্রণ এবং সরকারের ভেতরের প্রভাবশালী চক্র নিয়ে এখন দেশজুড়ে তুমুল আলোচনা চলছে। ভিডিওটিতে বিশ্লেষণ করা হয়েছে কীভাবে ‘কিচেন ক্যাবিনেট’ দেশের গুরুত্বপূর্ণ নীতিনির্ধারণে ভূমিকা রাখত এবং কেন ‘ডিপ স্টেট’ শব্দটি আবারও রাজনৈতিক অঙ্গনে ভাইরাল হয়ে উঠেছে। বিশেষজ্ঞদের মতামত, রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের বিশ্লেষণ এবং সাম্প্রতিক ঘটনাপ্রবাহ মিলিয়ে পুরো বিষয়টি সহজভাবে তুলে ধরা হয়েছে।” সাবেক শীর্ষ উপদেষ্টাদের মুখ থেকে এবং মূলধারার গণমাধ্যমে এই কিচেন ক্যাবিনেটের গোপন বৈঠক ও অদৃশ্য চক্রের কথা সামনে আসা এটাই প্রমাণ করে যে, রাষ্ট্রীয় ক্ষমতার মূল চাবিকাঠি নির্বাচিত বা দৃশ্যমান কাঠামোর বাইরে অন্য কোনো অলক্ষিত শক্তির হাতে কেন্দ্রীভূত হচ্ছে।

যখন কোনো রাষ্ট্রের রাজনৈতিক দল ও সরকারের ভেতরের অংশীজনরা ক্ষমতায় যাওয়া, টিকে থাকা বা রাষ্ট্র পরিচালনার জন্য জনগণের প্রত্যক্ষ সমর্থনের চেয়ে দেশি-বিদেশি অদৃশ্য অক্ষ, পারমাণবিক দেশ বা আঞ্চলিক শক্তিগুলোর গোপন বোঝাপড়ার ওপর বেশি নির্ভরশীল হয়ে পড়ে, তখন রাষ্ট্রটি ‘ডিপ স্টেট’ বা ছায়া রাষ্ট্রের গভীর ফাঁদে আটকে যায়। ডিপ স্টেট হলো নির্বাচিত বা দৃশ্যমান সরকারের বাইরে থাকা এমন এক অদৃশ্য কাঠামো—যেখানে প্রভাবশালী আমলা, গোয়েন্দা সংস্থা, কিচেন ক্যাবিনেটের মতো প্রভাবশালী চক্র এবং বিদেশি শক্তির অক্ষ পর্দার আড়াল থেকে রাষ্ট্র পরিচালনা করে। বাংলাদেশের বর্তমান প্রেক্ষাপটে এই ঝুঁকিটি তীব্র। একদিকে ‘র’-এর মতো সংস্থার মাঠপর্যায়ের এজেন্ট তৎপরতার দাবি, পরাশক্তিগুলোর গভীর কূটনৈতিক ছক, আর অন্যদিকে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের ভেতরের অদৃশ্য নিয়ন্ত্রণ নিয়ে খোদ সাবেক উপদেষ্টাদের বিস্ফোরক মন্তব্য—এই বহুমাত্রিক শক্তির টানাটানিতে দৃশ্যমান সরকার হয়তো দেশ পরিচালনা করবে, কিন্তু মূল নীতিনির্ধারণী সিদ্ধান্তগুলো আসবে কোনো এক অদৃশ্য চক্রের ইশারায়। এর ফলে রাষ্ট্র একটি হাইব্রিড ডিপ স্টেটে পরিণত হওয়ার আশঙ্কা থাকে, যেখানে সাধারণ মানুষের ভোটাধিকার বা ইচ্ছার কোনো মূল্য থাকে না; বরং রাষ্ট্র পরিণত হয় অভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিক শক্তির এক গোপন যুদ্ধক্ষেত্রে।

ইতিহাস সাক্ষী, যে দেশগুলো নিজেদের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে পরাশক্তিগুলোর এই গভীর ছকের খেলায় কিংবা অভ্যন্তরীণ কিচেন ক্যাবিনেটের মতো ছায়া নিয়ন্ত্রণে জড়িয়েছে, তাদের দীর্ঘমেয়াদি রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতার মুখোমুখি হতে হয়েছে। এই ফাঁদ থেকে বাংলাদেশকে মুক্ত করতে হলে কয়েকটি জরুরি পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন। প্রথমত, দলমতনির্বিশেষে দেশের রাজনৈতিক দলগুলোকে একটি সাধারণ রেড লাইনে একমত হতে হবে, যেখানে স্পষ্ট থাকবে যে, অভ্যন্তরীণ ক্ষমতার পরিবর্তনে বা রাষ্ট্র পরিচালনায় কোনো অদৃশ্য অভ্যন্তরীণ চক্র বা বিদেশি হস্তক্ষেপ বরদাশত করা হবে না। দ্বিতীয়ত, বাংলাদেশের মূল পররাষ্ট্রনীতি—‘সবার সঙ্গে বন্ধুত্ব, কারও সঙ্গে বৈরিতা নয়’—এর প্রকৃত বাস্তবায়ন ঘটাতে হবে। পর্দার আড়ালের গোপন কিচেন ক্যাবিনেটের ছক পরিহার করে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক ও রাষ্ট্রীয় সিদ্ধান্তগুলোকে জাতীয় স্বার্থের ভিত্তিতে স্বচ্ছ ও উন্মুক্ত রাখতে হবে। তৃতীয়ত, রাজনৈতিক দল ও সরকারের শক্তির মূল উৎস হতে হবে দেশের সাধারণ মানুষ, কোনো অদৃশ্য ছায়া গোষ্ঠী বা পারমাণবিক পরাশক্তি নয়। একমাত্র অবাধ, সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়াই পারে অভ্যন্তরীণ ও বিদেশি শক্তির এই ছায়া নিয়ন্ত্রণকে রুখে দিতে।

বাংলাদেশ বর্তমানে যে সংকটের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে, তা কেবল ক্ষমতার দ্বন্দ্ব নয়; বরং এটি রাষ্ট্রের অস্তিত্ব ও সার্বভৌমত্ব রক্ষার লড়াই। পরাশক্তিগুলোর পারমাণবিক, সামরিক ও অর্থনৈতিক শক্তির বিপরীতে এবং ভেতরের অদৃশ্য কুশীলবদের চক্রান্তের মুখে বাংলাদেশের একমাত্র শক্তি তার বিশাল জনগোষ্ঠী এবং জাতীয় ঐক্য। রাজনৈতিক দল এবং নীতিনির্ধারকরা যদি এই সত্যটি অনুধাবন করে নিজেদের অতিরিক্ত বিদেশমুখিতা এবং পর্দার আড়ালের গোপন সংস্কৃতি পরিহার না করেন, তবে ডিপ স্টেটের এই অদৃশ্য ফাঁদ থেকে বের হওয়া ভবিষ্যতের বাংলাদেশের জন্য অত্যন্ত কঠিন হয়ে পড়বে।

কলামিস্ট: কায়ছার উদ্দীন আল-মালেকী

কেকে/এলএ


আরও সংবাদ   বিষয়:  ডিপ স্টেট   ঝুঁকি  
মতামত লিখুন:
Loading...
Loading...

খোলা মত ও সম্পাদকীয়- এর আরো খবর

সম্পাদক ও প্রকাশক : আহসান হাবীব
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : বসতি হরাইজন, ১৭-বি, বাড়ি-২১ সড়ক-১৭, বনানী, ঢাকা-১২১৩
ফোন : বার্তা-০২২২২২৭৬০৩৭, মফস্বল-০২২২২২৭৬০৩৬, বিজ্ঞাপন ও সার্কুলেশন-০২২২২২৭৬০২৯, ০১৭৮৭৬৯৭৮২৩, ০১৮৫৩৩২৮৫১০ (বিকাশ)
ই-মেইল: kholakagojnews@gmail.com, kholakagojadvt@gmail.com

© 2025 Kholakagoj
🔝
close