ফুটবল ঐতিহ্যের চেনা গণ্ডি পেরিয়ে ১৯৯৪ সালে প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপের আসর বসেছিল মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে। মাকির্নিদের ফুটবল নিয়ে অনাগ্রহের যে আশঙ্কা ছিল, তা উড়িয়ে দিয়ে এই আসরটি গ্যালারিতে দর্শক উপস্থিতির নতুন রেকর্ড গড়ে। তবে মাঠের ফুটবলে এই বিশ্বকাপ চিরস্মরণীয় হয়ে আছে ব্রাজিলের ২৪ বছরের অপেক্ষার অবসান এবং ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম বড় এক ট্র্যাজেডির জন্য।
এই বিশ্বকাপের সবচেয়ে বড় ধাক্কাটি ছিল কিংবদন্তি ফুটবলার দিয়েগো ম্যারাডোনার বিদায়ে। গ্রিসের বিপক্ষে দুর্দান্ত এক গোল করে ক্যামেরার সামনে ম্যারাডোনার সেই উল্লাস আজও ফুটবলপ্রেমীদের চোখে ভাসে। কিন্তু নাইজেরিয়া ম্যাচের পরেই ডোপ টেস্টে পজিটিভ ধরা পড়ায় নিষিদ্ধ হন তিনি। তার এই প্রস্থান কেবল আর্জেন্টিনারই নয়, বরং পুরো বিশ্বকাপের জৌলুস এক নিমিষেই ম্লান করে দিয়েছিল।
ব্রাজিল এই আসরে খেলছিল রোমারিও আর বেবেতোর অবিশ্বাস্য ছন্দে। লস অ্যাঞ্জেলেসের রোজ বোল স্টেডিয়ামে ফাইনাল ম্যাচটি ছিল ইতালির বিপক্ষে। বিশ্বকাপের ইতিহাসে প্রথমবার ফাইনালের ভাগ্য গড়ায় পেনাল্টি শুট-আউটে।
ছবি : সংগৃহীত
সেখানে ইতালিয়ান ফুটবল জাদুকর রবার্তো বাজ্জিওর নেওয়া শেষ শটটি যখন পোস্টের অনেক ওপর দিয়ে চলে যায়, তখন ব্রাজিলের চতুর্থ শিরোপা জয়ের উৎসব শুরু হয়। অন্যদিকে, চুপ হয়ে মাঠেই ঠায় দাঁড়িয়ে থাকেন বাজ্জিও।
১৯৯৪ সালের বিশ্বকাপে ৪২ বছর ১ মাস ৮ দিন বয়সে গোল করে বিশ্বকাপের ইতিহাসে প্রবীণতম গোলদাতার রেকর্ড গড়েছিলেন ক্যামেরুনের রজার মিল্লা। আর রাশিয়ার ওলেগ সালেঙ্কো গড়েছিলেন এক বিশ্ব রেকর্ড। ক্যামেরুনের বিপক্ষে ম্যাচে এই রুশ তারকা ফুটবলার একাই করেছিলেন ৫ গোল।
এই বিশ্বকাপ আরেকটি কারণে ফুটবলপ্রেমীদের কাছে স্মরণীয় হয়ে থাকবে। সেবার গ্রুপ পর্বের ম্যাচে শক্তিশালী সুইজারল্যান্ডকে হারালেও যুক্তরাষ্ট্রের কাছে হেরে যায় কলম্বিয়া। সেই ম্যাচে আত্মঘাতী গোল করেন কলম্বিয়ান ডিফেন্ডার আন্দ্রেস এসকোবারের।
ছবি : সংগৃহীত
সেই গোলটি না হলে সেরা ষোলোতে জায়গা পেতে পারত লাতিন আমেরিকান দলটি। তার করা আত্মঘাতী গোলের অপরাধে নিজ দেশে ফেরার পর তাকে গুলি করে হত্যা করা হয়।
এদিকে এই আসর থেকেই ফিফা গোলরক্ষকের কাছে ব্যাক-পাস নিষিদ্ধ করার আইনটি কঠোরভাবে প্রয়োগ শুরু করে। এছাড়া প্রথমবারের মতো খেলোয়াড়দের জার্সির পেছনে নাম ব্যবহার বাধ্যতামূলক করা হয়।