উচ্চাভিলাষী লক্ষ্য নির্ধারণের মাধ্যমে জাতীয় সংসদে পেশ হলো ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেট। এবারের বাজেটের আকার ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকা, যা দেশের ইতিহাসে সর্বোচ্চ। চব্বিশের গণঅভ্যুত্থানের পর দলীয় সরকারের অধীনে এটাই প্রথম বাজেট। বিএনপি নেতৃত্বাধীন সরকারের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তারেক রহমানেরও প্রথম বাজেট। এমন একটি সময়ে এ বাজেট ঘোষণা হলো, যখন বৈশ্বিক অস্থিরতার পাশাপাশি দেশের সামগ্রিক অর্থনীতিও বহুমুখী সংকটে নিমজ্জিত। এর মধ্যেও গত ফেব্রুয়ারিতে গঠন হওয়া নতুন সরকার ২০৩৪ সালের মধ্যে বাংলাদেশকে ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতিতে রূপান্তরের উচ্চাভিলাষী লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে। আর এ বাজেটকেও তারা ‘গণতান্ত্রিক, মানবিক ও অন্তর্ভুক্তিমূলক অর্থনীতির অভিযাত্রা’র স্লোগানে রূপ দিয়েছে। এবারের বাজেটে মূল্যস্ফীতি ৭.৫ শতাংশে নামিয়ে আনা ও জিডিপি প্রবৃদ্ধি ৬.৫ শতাংশে উন্নীত করাই মূল লক্ষ্য।
গতকাল বৃহস্পতিবার সংসদে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেট পেশ করেন অর্থমন্ত্রী ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী।
এদিকে এই বাজেট বাস্তবায়নের বিষয়ে তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় বিএনপির মহাসচিব এবং স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, নতুন বাজেট বাংলাদেশের অর্থনীতিতে একটি যুগান্তকারী পরিবর্তনের সম্ভাবনা সৃষ্টি করেছে। তবে অন্য রাজনৈতিক দলগুলো শঙ্কা প্রকাশ করলেও ব্যবসায়ীরা এই বাজেটকে স্বাগত জানিয়েছেন।
অর্থনীতির ধারাবাহিক গতিশীলতা ও টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত করতে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে সরকার ‘৩আর’ কৌশল গ্রহণ করেছে। এ কৌশলকে তিনটি ধাপে ভাগ করে মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদি অর্থনৈতিক পুনর্গঠনের রূপরেখা নির্ধারণ করা হয়েছে। প্রথম ধাপে ‘রিকভারি ও স্ট্যাবিলাইজেশন’ বা পুনরুদ্ধার ও স্থিতিশীলতায় আগামী এক বছরের মধ্যে সামষ্টিক অর্থনীতির স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। দ্বিতীয় ধাপে ‘রিস্টোরেশন’ বা পুনর্গঠনের আওতায় আগামী তিন বছরের মধ্যে রাজস্ব ব্যবস্থার সংস্কার, বিনিয়োগ বৃদ্ধি এবং মানবসম্পদ উন্নয়নের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
তৃতীয় ধাপে ‘রিকনস্ট্রাকশন’ বা পূর্ণ পুনর্গঠনের মাধ্যমে আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে উদ্ভাবননির্ভর প্রবৃদ্ধি নিশ্চিত করা এবং একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক উন্নয়ন কাঠামো গড়ে তোলার পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে।
দীর্ঘমেয়াদি অর্থনৈতিক রূপান্তরের লক্ষ্য সামনে রেখে বাজেটে ১০টি প্রধান অগ্রাধিকার নির্ধারণ করেছে সরকার। এর মধ্যে রয়েছে বৈষম্যহীন ও অন্তর্ভুক্তিমূলক অর্থনীতি প্রতিষ্ঠা, মানসম্পন্ন শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিতকরণ, সর্বজনীন সামাজিক সুরক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তোলা এবং বিনিয়োগ ও উৎপাদনমুখী অর্থনীতির মাধ্যমে কর্মসংস্থান সৃষ্টি। একইসঙ্গে ব্যবসা সহজীকরণ, আর্থিক খাতে স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনা, জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং তথ্যপ্রযুক্তি খাতকে বিকশিত করে বাংলাদেশকে একটি প্রধান আইসিটি রপ্তানিকারক দেশে পরিণত করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। এ ছাড়া জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলায় পরিবেশ ও পানিসম্পদ ব্যবস্থাপনার উন্নয়ন এবং মেধাভিত্তিক, স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলক প্রশাসনিক কাঠামো গড়ে তোলার ওপরও বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছে সরকার।
২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানের পর ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে অনুষ্ঠিত জাতীয় নির্বাচনে নিরঙ্কুশ বিজয় অর্জনের মাধ্যমে গঠিত বিএনপি নেতৃত্বাধীন সরকারের এটি প্রথম পূর্ণাঙ্গ বাজেট। ‘গণতান্ত্রিক, মানবিক ও অন্তর্ভুক্তিমূলক অর্থনীতির অভিযাত্রা’-এই স্লোগানেআমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর উপস্থাপিত প্রথম বাজেট উপস্থাপন করেন। দেশের ইতিহাসে এটি ৫৫তম জাতীয় বাজেট, বিএনপি সরকারের ১৭তম বাজেট। অর্থমন্ত্রী দেশের অর্থনৈতিক পুনর্গঠন, মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ এবং কর্মসংস্থান সৃষ্টিকে সরকারের প্রধান অগ্রাধিকার হিসেবে তুলে ধরেন। তিনি ভঙ্গুর অর্থনীতিকে পুনরুজ্জীবিত করতে সরকারের ‘৩আর’ কৌশল অর্থাৎ রিকভারি, রিস্টোরেশন ও রিকনস্ট্রাকশন বাস্তবায়নের প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।
বাজেট বক্তৃতায় অর্থমন্ত্রী বলেন, দেশের অর্থনীতি বর্তমানে একটি রূপান্তরের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। এই প্রেক্ষাপটে জনগণের আস্থা পুনরুদ্ধার, মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ, উৎপাদন বৃদ্ধি এবং নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি করাই সরকারের প্রধান লক্ষ্য।
তিনি বলেন, নির্বাচনি ইশতেহারে গণতন্ত্র, জবাবদিহিতা, সুশাসন, ন্যায়ভিত্তিক উন্নয়ন এবং অর্থনৈতিক সুযোগের বিস্তারের ওপর জোর দিয়ে একটি মানবিক গণতান্ত্রিক ও কল্যাণমুখী বাংলাদেশ গড়ে তোলার রূপরেখা উপস্থাপন করেছিলাম। সরকার গঠনের পর দ্রুততম সময়ের মধ্যে সে লক্ষ্যে আমরা ইতোমধ্যে কাজ শুরু করেছি।
৬ দশমিক ৯৫ লাখ কোটি টাকা, যার প্রায় ৮৬ দশমিক ৯০ শতাংশই আসবে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) কর রাজস্ব থেকে। এই ঘাটতি পূরণে সরকার অভ্যন্তরীণ উৎস থেকে ১ দশমিক ২৭ লাখ কোটি টাকা এবং বৈদেশিক উৎস থেকে ১ দশমিক ১৬ লখ কোটি টাকা সংগ্রহের পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে।
২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটে মোট ব্যয় ধরা হয়েছে ৯ দশমিক ৩৮ লাখ কোটি টাকা। এর বিপরীতে মোট রাজস্ব আয় ও বৈদেশিক অনুদান মিলিয়ে সরকারের প্রাপ্তির লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ৭ লাখ ১ হাজার ১৫০ কোটি টাকা। এর মধ্যে পরিচালন ব্যয়ের জন্য বরাদ্দ রাখা হয়েছে ৬ লাখ ৫ হাজার ৭৪০ কোটি টাকা এবং উন্নয়ন ব্যয়ের জন্য ৩ লাখ ১৬ হাজার ৭৫ কোটি টাকা, যার মধ্যে বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি (এডিপি) বাবদ বরাদ্দ রয়েছে ৩ লাখ কোটি টাকা।
ঘাটতি পূরণের পরিকল্পনা
২০২৬-২৭ অর্থবছরে সরকারের মোট রাজস্ব আয়ের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ৬ লাখ ৯৫ হাজার কোটি টাকা। এর মধ্যে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) থেকে আদায়ের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে ৬ লাখ ৪ হাজার কোটি টাকা। ব্যয় ও আয়ের ব্যবধানের ফলে বাজেটে ঘাটতির পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ২ দশমিক ৪৩ লাখ কোটি টাকা, যা দেশের মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) প্রায় ৩ দশমিক ৬০ শতাংশ। এ ঘাটতি মেটাতে অভ্যন্তরীণ উৎস থেকে ১ লাখ ২৭ হাজার কোটি টাকা এবং নিট বৈদেশিক ঋণ থেকে ১ লাখ ৯ হাজার ৮৫০ কোটি টাকা সংগ্রহের লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে সরকার।
আয়কর কাঠামোয় স্বস্তি
সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতা বিবেচনায় নিয়ে আয়কর কাঠামোয় বেশ কিছু পরিবর্তনের প্রস্তাব এসেছে। সাধারণ করদাতাদের জন্য করমুক্ত আয়সীমা ৩ লাখ ৭৫ হাজার টাকা নির্ধারণের প্রস্তাব করা হয়েছে। নারী ও ৬৫ বছর বা তার বেশি বয়সি করদাতাদের জন্য এই সীমা হবে ৪ লাখ ২৫ হাজার টাকা।
প্রতিবন্ধী ব্যক্তি এবং তৃতীয় লিঙ্গের করদাতাদের জন্য করমুক্ত আয়সীমা ৫ লাখ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। অন্যদিকে গেজেটভুক্ত যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধা ও ‘জুলাই যোদ্ধা’দের জন্য এ সীমা হবে ৫ লাখ ২৫ হাজার টাকা। যেসব করদাতার প্রতিবন্ধী সন্তান বা পোষ্য রয়েছে, তাদের জন্য অতিরিক্ত ৫০ হাজার টাকা পর্যন্ত করমুক্ত সুবিধা দেওয়ার প্রস্তাব করা হয়েছে। এ ছাড়া আগামী পাঁচ বছরে ধাপে ধাপে সাধারণ করদাতাদের করমুক্ত আয়সীমা বাড়িয়ে ২০৩০-৩১ অর্থবছরে ৪ লাখ ৫০ হাজার টাকায় উন্নীত করার পরিকল্পনার কথাও জানিয়েছে সরকার।
সাধারণ মানুষের জন্য স্বস্তি
চাল, ডাল, ভোজ্যতেল, চিনি ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় পণ্যসহ প্রায় ৬০টি নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের ওপর উৎসে কর ৫ শতাংশ থেকে কমিয়ে মাত্র ০.৫ শতাংশে নামিয়ে আনার প্রস্তাব করা হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, এই পদক্ষেপ বাস্তবায়িত হলে বাজারে সরবরাহ ব্যবস্থা শক্তিশালী হওয়ার পাশাপাশি ভোক্তাদের ওপর মূল্যস্ফীতির চাপ কিছুটা কমতে পারে।
সামাজিক নিরাপত্তায় বড় বরাদ্দ
সামাজিক সুরক্ষা খাতে ১ লাখ ৪৪ হাজার ৩৩৮ কোটি টাকা বরাদ্দের প্রস্তাব করা হয়েছে। সরকার ৪১ লাখ নারী-প্রধান পরিবারকে ‘ফ্যামিলি কার্ড’-এর আওতায় এনে মাসে ২ হাজার ৫০০ টাকা করে সহায়তা দেওয়ার উদ্যোগ নিয়েছে। এছাড়া বয়স্ক ভাতা, বিধবা ভাতা এবং প্রতিবন্ধী ভাতার পরিমাণ ও উপকারভোগীর সংখ্যা বাড়ানোর প্রস্তাব করা হয়েছে। প্রবীণদের জন্য সরকারি পরিবহনে যাতায়াত ভাড়া মওকুফ ও মেট্রোরেলে ২৫ শতাংশ ছাড়ের প্রস্তাব এসেছে। জীবনচক্রভিত্তিক সামাজিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা গড়ে তোলার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
শিক্ষা খাতে সর্বোচ্চ গুরুত্ব
মানবসম্পদ উন্নয়নকে জাতীয় পুনর্গঠনের ভিত্তি হিসেবে উল্লেখ করে শিক্ষা খাতে ১ লাখ ৩৬ হাজার ৬০৬ কোটি টাকা বরাদ্দের প্রস্তাব করা হয়েছে, যা জিডিপির প্রায় ২ শতাংশ। সরকার আগামী পাঁচ বছরে শিক্ষা খাতে বরাদ্দ জিডিপির ৫ শতাংশে উন্নীত করার লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে। শিক্ষা খাতে আধুনিক ও অন্তর্ভুক্তিমূলক ব্যবস্থা গড়ে তুলতে একগুচ্ছ নতুন উদ্যোগের ঘোষণা দিয়েছে সরকার। শিক্ষকদের প্রযুক্তিনির্ভর পাঠদান নিশ্চিত করতে ‘ওয়ান টিচার, ওয়ান ট্যাব’ কর্মসূচি চালুর পাশাপাশি দেশের সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে বিনামূল্যে ওয়াই-ফাই সুবিধা এবং মাল্টিমিডিয়া ক্লাসরুম সম্প্রসারণের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। মেয়েদের জন্য স্নাতক পর্যায় পর্যন্ত বিনামূল্যে শিক্ষার সুযোগ নিশ্চিত করার পাশাপাশি প্রত্যেক শিক্ষার্থীর জন্য পৃথক ‘এডু আইডি’ চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
এ ছাড়া দক্ষ মানবসম্পদ গড়ে তুলতে ষষ্ঠ শ্রেণি থেকেই কারিগরি শিক্ষা বাধ্যতামূলক করা এবং পাঠ্যক্রমে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই), রোবটিক্স ও কোডিং অন্তর্ভুক্ত করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। বিদেশে উচ্চশিক্ষার সুযোগ বাড়াতে সর্বোচ্চ ১০ লাখ টাকা পর্যন্ত শিক্ষা ঋণ প্রদানের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। একইসঙ্গে শিক্ষার্থীদের পুষ্টি নিশ্চিত করতে দেশব্যাপী পর্যায়ক্রমে মিড-ডে মিল কর্মসূচি সম্প্রসারণ এবং পরিবেশ সচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে ‘ওয়ান চাইল্ড, ওয়ান ট্রি’ কর্মসূচি বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
স্বাস্থ্যসেবায় ডিজিটাল রূপান্তর
স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ খাতে ৬৯ হাজার ৪০৯ কোটি টাকা বরাদ্দের প্রস্তাব করা হয়েছে। আগামী পাঁচ বছরে স্বাস্থ্য খাতে জিডিপির ৫ শতাংশ ব্যয় করার লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে সরকার। প্রতিটি নাগরিককে একটি করে ডিজিটাল ‘হেলথ কার্ড’ দেওয়ার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে, যা কেন্দ্রীয় রোগী ব্যবস্থাপনা ব্যবস্থার সঙ্গে সংযুক্ত থাকবে।
প্রতিটি ইউনিয়ন এবং শহরের প্রতিটি ওয়ার্ডে আধুনিক প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা ইউনিট গড়ে তোলা হবে। প্রতিটি ইউনিটের আওতায় তিনটি করে কমিউনিটি ক্লিনিক পরিচালিত হবে। স্বাস্থ্যসেবায় জনবল সংকট কাটাতে দ্রুত ৫ হাজার এমবিবিএস চিকিৎসক এবং এক লাখ স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগের কার্যক্রম শুরু হয়েছে। এর মধ্যে প্রায় ৮০ শতাংশ নারী কর্মী থাকবেন। এছাড়া জাতীয় অ্যাম্বুলেন্স পুল ও জরুরি সেবা নেটওয়ার্ক গঠনের পরিকল্পনাও রয়েছে।
রোগীদের জন্য শুল্ক ছাড়
কিডনি রোগীদের জন্য ব্যবহৃত ডায়ালাইসিস ফিল্টার আমদানিতে শুল্ক-কর সম্পূর্ণ প্রত্যাহারের প্রস্তাব করা হয়েছে। এর ফলে প্রতি ডায়ালাইসিসে প্রায় ৮০০ টাকা পর্যন্ত খরচ কমতে পারে। একইসঙ্গে ক্যানসার প্রতিরোধী ওষুধ এবং আরও ১৭টি মৌলিক ওষুধের কাঁচামাল আমদানিতে শুল্ক ছাড় দেওয়ার প্রস্তাব করা হয়েছে।
কৃষি ও খাদ্য নিরাপত্তায় গুরুত্ব
কৃষি খাতে ৪৩ হাজার ৩৩৫ কোটি টাকা বরাদ্দের প্রস্তাব করা হয়েছে। কৃষকদের জন্য ‘কৃষক কার্ড’ চালুর ঘোষণা দেওয়া হয়েছে, যার মাধ্যমে প্রাথমিকভাবে ৪২.৫ লাখ কৃষক ২,৫০০ টাকা করে নগদ সহায়তা পাবেন। পাশাপাশি কৃষিঋণ মওকুফ কর্মসূচি অব্যাহত রাখার কথাও জানানো হয়েছে। খাদ্য নিরাপত্তাকে কৌশলগত বিষয় হিসেবে বিবেচনা করে কৃষিভিত্তিক উৎপাদন ও আধুনিকায়নের ওপর গুরুত্ব আরোপ করা হয়েছে। এ ছাড়া কৃষি যন্ত্রপাতি ও সার আমদানিতে ব্যাপক শুল্ক সুবিধা অব্যাহত থাকছে।
বিনিয়োগ ও শিল্পায়ন
‘ডি-রেগুলেশন’ কৌশল ব্যবসায়িক পরিবেশ সহজ করতে সরকার ‘ডি-রেগুলেশন’ নীতির ওপর গুরুত্ব দিয়েছে। শিল্প স্থাপনে লাইসেন্স প্রাপ্তি সহজ করতে ‘সিঙ্গেল উইন্ডো’ চালু করা হবে। ইলেকট্রিক ভেহিকেল উৎপাদন ও ব্যাটারি শিল্পে আগামী ১০ বছরের জন্য কর অবকাশ সুবিধা দেওয়ার প্রস্তাব করা হয়েছে।
নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে কর অবকাশ
বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতে ১৭ হাজার ৩৪৫ কোটি টাকা বরাদ্দের প্রস্তাব করা হয়েছে। সৌরবিদ্যুৎ ও অন্যান্য নবায়নযোগ্য জ্বালানিকে উৎসাহ দিতে ২০৩৫ সাল পর্যন্ত শূন্য শতাংশ করহার নির্ধারণের প্রস্তাব করা হয়েছে। জ্বালানি নিরাপত্তা ও পরিবেশবান্ধব উন্নয়ন নিশ্চিত করাকে সরকারের অন্যতম লক্ষ্য হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।
আইসিটি ও স্টার্টআপ খাতে বিশেষ সুবিধা
তরুণ উদ্যোক্তা ও প্রযুক্তিভিত্তিক অর্থনীতিকে এগিয়ে নিতে আইটি ফ্রিল্যান্সারদের সব ধরনের আয়ের ওপর সম্পূর্ণ কর অব্যাহতির প্রস্তাব করা হয়েছে। স্টার্টআপ উদ্যোক্তাদের জন্য ৫০০ কোটি টাকার বিশেষ তহবিল গঠনের ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে ল্যাপটপ, প্রিন্টারসহ বিভিন্ন তথ্যপ্রযুক্তি পণ্যের আমদানিতে শুল্ক ও ভ্যাট প্রত্যাহারের প্রস্তাব করা হয়েছে। সরকারের লক্ষ্য, বাংলাদেশকে বিশ্বের অন্যতম প্রধান আইসিটি রপ্তানিকারক দেশে পরিণত করা।
কেকে/এমএ