মৌলভীবাজারের রাজনগর উপজেলায় মানবিকতার এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন ‘ছায়া রাজনগর সামাজিক সংগঠন’। সংগঠনটির উদ্যোগে একই মঞ্চে দুই পিতৃহীন ও অসচ্ছল পরিবারের কনের বিয়ের আয়োজন করা হয়েছে, যা স্থানীয়ভাবে ব্যাপক প্রশংসা কুড়িয়েছে।
বৃহস্পতিবার (১১ জুন), রাজনগর উপজেলার হরিপাশা এলাকার জান্নাত কমিউনিটি সেন্টারে এ ব্যতিক্রমী আয়োজন অনুষ্ঠিত হয়। আলোঝলমলে পরিবেশ, বর্ণাঢ্য সাজসজ্জা, বরযাত্রী ও শতাধিক অতিথির উপস্থিতিতে অনুষ্ঠানটি উৎসবমুখর হয়ে ওঠে।
নববধূরা হলেন, রাজনগর উপজেলার সারমপুর গ্রামের মদিনা বেগম ও মহলাল এলাকার রাজনা বেগম। তারা দুজনেই পিতৃহীন এবং অসচ্ছল পরিবারের সন্তান। জানা গেছে, উভয় পরিবারের তীব্র সাধ থাকলেও সাধ্য ছিল না ধুমধাম করে বিয়ে আয়োজনের। যেখানে দুমুঠো ভাত জোগাড় করাই কষ্টসাধ্য, সেখানে বিয়ের এত বয় আয়োজন ছিল তাদের কাছে এক অলীক স্বপ্ন। কিন্তু সেই স্বপ্নকেই বাস্তবে রূপ দিল ‘ছায়া রাজনগর সামাজিক সংগঠন’।
অনুষ্ঠানে শুধু ধুমধাম করে খাইয়েই দায়িত্ব শেষ করেনি সংগঠনটি। নব দম্পতিরা যাতে সুন্দরভাবে সংসার করতে পারেন, সেজন্য এ সংগঠনের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় কিছু গৃহস্থালি সামগ্রীও উপহার হিসেবে প্রদান করা হয়েছে। সব আনুষ্ঠানিকতা শেষে যখন মালাবদল হলো, তখন এক আবেগঘন পরিবেশের সৃষ্টি হয়। বাবার অনুপস্থিতি ভুলে সমাজের একঝাঁক মানুষের ভালোবাসায় সিক্ত হয়ে স্বজনদের চোখের জলে বিদায় নিলেন মদিনা ও রাজনা।
পিতৃহীন দুই কনের রাজকীয় বিয়ের এ উদ্যোগটি জেলাজুড়ে সাড়া ফেলেছে। দেশে ও প্রবাসে থাকা বাংলাদেশিদের উদ্যোগে পরিচালিত এই সংগঠনের এমন আয়োজন ছিল মানবিকবতার উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত। ফলে এর উদ্যোক্তাদের প্রশংসায় ভাসিয়েছেন নেটিজনরা। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকসহ সর্বমহলে প্রশংসা কুঁড়িয়েছে সংগঠনের মহৎ এ উদ্যোগটি।
আয়োজক সূত্রে জানা যায় সংগঠনটির উদ্যোগে উপজেলার সারমপুর গ্রামের মদিনা বেগমের বিয়ে ঘরগাঁও গ্রামের এক যুবকের সঙ্গে এবং রাজনা বেগমের বিয়ে মহলাল এলাকার এক যুবকের সঙ্গে সম্পন্ন হয়। বিেেত বরযাত্রীসহ প্রায় তিন শতাধিক অতিথি মানুষ অংশ নেন।
নববধূ মদিনা বেগম ও রাজনা বেগম কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে বলেন, আমাদের বাবা নেই। পরিবারের সীমিত সামর্থ্যের কারণে এমন আয়োজন করা সম্ভব ছিল না। যারা তাদের নতুন জীবনের পথচলায় সহায়তা করেছেন তাদের প্রতি তারা কৃতজ্ঞ। নতুন জীবনসঙ্গীকে নিয়ে যেন বাকিটা জীবন সুখে-শান্তিতে কাটাতে পারে এজন্য তারা সবার কাছে দোয়া কামনা করেন।
সংগঠনের অন্যতম দুই উদ্যোক্তা জয়নাল খান ও রুজনা বেগম জানান, তারা সবসময় অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়নোর চেষ্টা করেন। তবে দুই পিতৃহীন মেয়ের মুখে হাসি ফোটাতে পেরে এবং তাদের জমকালো বিয়ে দিতে পেরে সংগঠনের সবাই আজ ভীষণ আনন্দিত। এটাই আমাদের বড় প্রাপ্তি। সমাজের অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়িয়ে ভবিষ্যতেও এ ধরণের মানবিক কার্যক্রম অব্যাহত রাখার প্রতিশ্রুতি দেন আয়োজকরা।
কেকে/ এমএস