গাজীপুরের শ্রীপুর উপজেলায় জমি সংক্রান্ত বিরোধে জসিম উদ্দিনের ছরিসহ কলা গাছ কেটে ফেলার অভিযোগ উঠেছে প্রতিপক্ষ শাহ-জালালের বিরুদ্ধে। এতে ওই কৃষকের ১ লাখ ২০ হাজার টাকার ক্ষতি হয়েছে। তবে জমিতে কলা গাছ রোপনের বিষয়ে উভয়য়ের পক্ষ থেকে পরষ্পর বিরোধী বক্তব্য পাওয়া গেছে।
এ ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্থ কৃষক থানায় দেওয়া লিখিত এজাহারে চার জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাত ৪ জনকে অভিযুক্ত করেছে।
গত ৬ জুন সকাল সাড়ে ৯টার দিকে উপজেলার বরমী ইউনিয়নের কাশিজুলী (নতুন বাজার) গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।
জমিতে কলা গাছ কেটে ফেলার ঘটনাটি ইতোমধ্যে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল এবং ব্যাপক সমালোচনা হয়।
ক্ষতিগ্রস্থ কৃষক জসিম উদ্দিন (৫৫) গ্রামের মৃত রউফ সরকারের ছেলে।
অভিযুক্তরা হলো একই গ্রামের মৃত আক্তার হোসেনের ছেলে সুরুজ মিয়া (৪৫), নবী হোসেনের ছেলে শাহ-জালাল (২৫), মৃত জমির আলীর ছেলে নূর মোহাম্মদসহ (৬০) তাদের অজ্ঞাত ৪ জন সহযোগী।
জসিম উদ্দিন বলেন, “প্রায় এক বছর আগে স্থানীয় আবুল কাশেমের কাছ থেকে ১৪ শতাংশ জমি ক্রয় করে। ওই জমিতে তিনি ১২০টি কলা গাছ রোপণ করেন।”
এর আগে বিক্রেতা আবুল কাশেম অভিযুক্ত শাহ-জালালের কাছে ওই ১৪ শতাংশ জমি ব্যবহার করার জন্য মৌখিকভাবে অনুমতি দেয়।
শাহ-জালালের দাবি, তাকে মৌখিকভাবে জমি ব্যবহার করার অনুমতি দিলে তিনি জমিতে প্রায় শতাধিক কলা গাছ রোপণ করেন। ওইসব কলা গাছে প্রত্যেকটিতে ফলন (ছরি) আসছিলো। আর কয়েকদিন পরেই কলা বড় হলে বিক্রি করা যেতো।
এদিকে, জমি বিক্রি করার পর স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যাক্তি এবং শাহ-জালালের উপস্থিতিতে বিক্রেতা আবুল কাশেম ক্রেতা জসিমের কাছে জমি বুঝিয়ে দেয়।
পরে জসিম তার ক্রয়কৃত জমি ছেড়ে দেয়ার জন্য শাহ-জালালকে সময় দেয়। নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে জমি ছেড়ে না দেয়ায় স্থানীয় লোকদের মাধ্যমে জমি ছেড়ে দেয়ার জন্য পুনরায় শাহ-জালালকে সময় দেয় জমির প্রকৃত মালিক জসিম উদ্দিন।
জসিম উদ্দিনকে ফাঁসানোর জন্য শাহ জালাল নিজেই জমির ছরিসহ কলা গাছ কেটে ফেলে।
জমির মালিক দাবি করেন জমি কেনার পর তিনি জমিতে ১২০টি কলা গাছ রোপন করেছেন। ওইসব গাছে ইতোমধ্যে কলার ছরি আসছে। জৈষ্ঠ্য মাসের শেষের দিকে কলা পেকে গেলে বাজারে বিক্রি করা যেতো। এতে তার প্রায় ১ লাখ ২০ হাজার টাকা ক্ষতি হয়েছে।
শাহ-জালাল বলেন, “জসিম প্রায় ১১ মাস আগে জমি ক্রয় করে নিয়েছে এটা সত্য। আমি মৌখিকভাবে অনুমতি পেয়ে জমিতে কলা গাছ রোপন করেছিলাম। তবে, যেহেতু কলা গাছে ফলন এসে পড়েছে তাই জমির মালিকের কাছে সময় চেয়েছিলাম। তিনি সময় না দিয়ে কলা গাছগুলো কেটে ফেলেছেন।”
কেকে/এসএম