সোমবার, ১৫ জুন ২০২৬,
১ আষাঢ় ১৪৩৩
বাংলা English
ই-পেপার

সোমবার, ১৫ জুন ২০২৬
শিরোনাম: বাতিল হচ্ছে সরকারি চাকরিজীবীদের ‘বিশেষ সুবিধা’      ভারতের ভিসা অ্যাপয়েন্টমেন্ট নিয়ে নতুন নির্দেশনা      ২০ জুলাইয়ের মধ্যে এসএসসির ফল প্রকাশ: শিক্ষামন্ত্রী      দিল্লিতে রাষ্ট্রীয় সফর বাতিল করে দেশে ফিরলেন তথ্য উপদেষ্টা      দেশে ফিরেছেন ৫৬ হাজারের বেশি হাজি      শহর-নগরে আতঙ্ক, অনিরাপদ মানুষ      রক্ষা পেলেন না বেনজীর      
দেশজুড়ে
অবকাঠামো সংকটে টোক নয়নবাজার পুলিশ তদন্ত কেন্দ্র
গাজীপুর প্রতিনিধি
প্রকাশ: সোমবার, ১৫ জুন, ২০২৬, ৩:২৪ পিএম
ছবি: প্রতিনিধি

ছবি: প্রতিনিধি

গাজীপুরের কাপাসিয়া উপজেলার টোক নয়নবাজারে পুলিশের উপস্থিতি বেড়েছে, মানুষের নিরাপত্তাবোধও কিছুটা জোরালো হয়েছে। কিন্তু যে স্বপ্ন নিয়ে প্রায় নয় বছর আগে উদ্বোধন করা হয়েছিল টোক নয়নবাজার পুলিশ তদন্ত কেন্দ্র, সেই স্বপ্নের বড় অংশই এখনো বাস্তবায়নের অপেক্ষায়।

২০১৭ সালের ১৬ সেপ্টেম্বর আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন করা হয় তদন্ত কেন্দ্রটি। উদ্দেশ্য ছিল গাজীপুর, কিশোরগঞ্জ ও ময়মনসিংহ জেলার সীমান্তবর্তী এই গুরুত্বপূর্ণ জনপদে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন এবং দ্রুত পুলিশি সেবা নিশ্চিত করা। কিন্তু উদ্বোধনের দীর্ঘ সময় পরও নির্মিত হয়নি স্থায়ী ভবন। ফলে সীমিত জনবল ও অস্থায়ী অবকাঠামো নিয়েই চলছে কার্যক্রম।

তিন নদীর মোহনায় অবস্থিত টোক নয়নবাজার অঞ্চলটি ভৌগোলিক কারণে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। শীতলক্ষ্যা নদীকেন্দ্রিক এই এলাকায় প্রতিদিন ব্যবসা-বাণিজ্য, নৌপথের যাতায়াত এবং বিভিন্ন জেলার মানুষের চলাচল অব্যাহত থাকে। ফলে অপরাধ দমন ও নিরাপত্তা নিশ্চিতে একটি শক্তিশালী পুলিশ ইউনিটের প্রয়োজনীয়তা দীর্ঘদিনের।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, তদন্ত কেন্দ্র প্রতিষ্ঠার সময় একজন পরিদর্শক, চারজন উপপরিদর্শকসহ মোট ৪০ জন সদস্যের জনবল কাঠামো নির্ধারণ করা হয়েছিল। সাধারণ ডায়েরি গ্রহণ, অভিযোগ তদন্ত এবং বিভিন্ন পুলিশি কার্যক্রম পরিচালনার পরিকল্পনাও ছিল। তবে মামলা রুজুর দায়িত্ব রাখা হয় কাপাসিয়া থানার অধীনে।

বর্তমানে তদন্ত কেন্দ্রে কর্মরত আছেন ২৪ জন পুলিশ সদস্য। তাদের মধ্যে তিনজন উপপরিদর্শক রয়েছেন। কিন্তু স্থায়ী ভবন, পর্যাপ্ত যানবাহন ও প্রয়োজনীয় অবকাঠামোর অভাবে কাঙ্ক্ষিত সেবা নিশ্চিত করা সম্ভব হচ্ছে না বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।

স্থানীয় ব্যবসায়ী আব্দুল হালিম বলেন, “টোক নয়নবাজার এখন উপজেলার অন্যতম বড় ব্যবসাকেন্দ্র। প্রতিদিন হাজার হাজার মানুষ এখানে আসেন। পূর্ণাঙ্গ তদন্ত কেন্দ্র হলে অপরাধ নিয়ন্ত্রণ আরও সহজ হবে।”

বাসিন্দা মো. সাইফুল ইসলাম বলেন, “আগে সামান্য সমস্যার জন্যও কাপাসিয়া থানায় যেতে হতো। তদন্ত কেন্দ্র হওয়ার পর কিছু সুবিধা মিলেছে। তবে জনবল ও অবকাঠামো বাড়ানো জরুরি।”

স্থানীয় পরিবহন শ্রমিক নেতাদের মতে, তিন জেলার সীমান্তবর্তী হওয়ায় অপরাধীরা অনেক সময় দ্রুত এলাকা পরিবর্তন করে পালিয়ে যায়। ফলে এখানে শক্তিশালী পুলিশি নজরদারি গড়ে তোলা প্রয়োজন।

তদন্ত কেন্দ্রের দায়িত্বে থাকা উপপরিদর্শক মাইন উদ্দিন বলেন, বর্তমানে সীমিত পরিসরে কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে। স্থায়ী ভবন নির্মাণ হলে জনগণকে আরও উন্নত সেবা দেওয়া সম্ভব হবে।

কাপাসিয়া থানার কর্মকর্তারাও বলছেন, টোক নয়নবাজার তদন্ত কেন্দ্র এলাকার আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। ভবন নির্মাণসহ প্রয়োজনীয় বিষয়গুলো ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের বিবেচনায় রয়েছে।

গাজীপুর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (কাপাসিয়া সার্কেল) মো. আসাদুজ্জামান জানান, সীমান্তবর্তী এই গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় পূর্ণাঙ্গ অবকাঠামো গড়ে উঠলে অপরাধ দমন, মাদক নিয়ন্ত্রণ এবং দ্রুত পুলিশি সেবা নিশ্চিত করা অনেক সহজ হবে।

স্থানীয়দের ভাষ্য, টোক নয়নবাজারে কোরবানির পশুর হাট, নদীপথের বাণিজ্য, সবজি বাজার এবং আঞ্চলিক যোগাযোগব্যবস্থা সম্প্রসারণের সঙ্গে সঙ্গে জনসমাগমও বাড়ছে। তাই একটি আধুনিক ও পূর্ণাঙ্গ তদন্ত কেন্দ্র এখন শুধু প্রয়োজনই নয়, সময়ের দাবিও।

তাদের প্রত্যাশা, দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে দ্রুত স্থায়ী ভবন নির্মাণ এবং প্রয়োজনীয় জনবল নিয়োগ দেওয়া হবে। তাহলে সাধারণ মানুষ আরও সহজে পুলিশি সেবা পাবেন, আর সীমান্তবর্তী এই জনপদের নিরাপত্তাও হবে আরও শক্তিশালী।

কেকে/ এমএস


মতামত লিখুন:
Loading...
Loading...

দেশজুড়ে- এর আরো খবর

সম্পাদক ও প্রকাশক : আহসান হাবীব
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : বসতি হরাইজন, ১৭-বি, বাড়ি-২১ সড়ক-১৭, বনানী, ঢাকা-১২১৩
ফোন : বার্তা-০২২২২২৭৬০৩৭, মফস্বল-০২২২২২৭৬০৩৬, বিজ্ঞাপন ও সার্কুলেশন-০২২২২২৭৬০২৯, ০১৭৮৭৬৯৭৮২৩, ০১৮৫৩৩২৮৫১০ (বিকাশ)
ই-মেইল: kholakagojnews@gmail.com, kholakagojadvt@gmail.com

© 2025 Kholakagoj
🔝
close