ঢাকার সাভার উপজেলায় শ্রমিক ছাঁটাই-নির্যাতন বন্ধ, ছাঁটাইকৃত শ্রমিকদের পুনর্বহাল, বন্ধ কারখানা চালু, বকেয়া বেতন-ভাতা পরিশোধ ও শ্রমিকদের বিরুদ্ধে দায়ের করা হয়রানিমূলক মামলা প্রত্যাহারের দাবিতে মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে।
সোমবার (১৫ জুন) দুপুরে সাভারের রানা প্লাজার সামনে শ্রমজীবী ঐক্য পরিষদ ও বিভিন্ন কারখানার ভুক্তভোগী শ্রমিকদের উদ্যোগে এ কর্মসূচি পালিত হয়।
সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন শ্রমজীবী ঐক্য পরিষদ ও বাংলাদেশ গার্মেন্টস অ্যান্ড শিল্প শ্রমিক ফেডারেশনের সভাপতি রফিকুল ইসলাম সুজন। বক্তব্য দেন সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক সুমাইয়া ইসলাম, জাতীয় গার্মেন্টস শ্রমিক ফেডারেশনের যুগ্ম সম্পাদক কবির হোসেন, সম্মিলিত শ্রমিক ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক নাহিদুল হাসান নয়ন, বাংলাদেশ প্রগতিশীল শ্রমিক ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক কামরুন্নাহার, সহ-সাধারণ সম্পাদক মো. আবু কালাম প্রমুখ।
সমাবেশে বক্তারা বলেন, ‘চলতি জাতীয় বাজেটে পোশাক খাতের সংকট নিরসনে কার্যকর কোনো উদ্যোগ না থাকায় শ্রমিকদের মধ্যে হতাশা বিরাজ করছে।’
তারা বাজেট পুনর্বিবেচনার পাশাপাশি শ্রমিক-কর্মচারীদের বকেয়া বেতন-ভাতা পরিশোধ, ছাঁটাইকৃত শ্রমিকদের কাজে পুনর্বহাল, হয়রানিমূলক মামলা প্রত্যাহার, ‘লে-অফ’ বাতিল ও ত্রিপক্ষীয় চুক্তি বাস্তবায়নের দাবি জানান।
রফিকুল ইসলাম সুজন অভিযোগ করে বলেন, ‘বিভিন্ন শিল্পপ্রতিষ্ঠানে শ্রমিকদের বেআইনিভাবে ছাঁটাই করা হচ্ছে এবং শ্রমিকদের ন্যায্য পাওনা পরিশোধ করা হচ্ছে না।’
তিনি আল মুসলিম গ্রুপের ছাঁটাইকৃত শ্রমিকদের দ্রুত পুনর্বহাল, ম্যাক্সন্স স্পিনিং মিলসসহ বন্ধ কারখানা পুনরায় চালু, বকেয়া বেতন-ভাতা পরিশোধ ও শ্রমিকদের বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলা প্রত্যাহারের দাবি জানান।
রফিকুল ইসলাম সুজন আরও বলেন, ‘বিভিন্ন শিল্পাঞ্চলে চলমান শ্রম অসন্তোষ নিরসন, শ্রমিকদের জন্য রেশনিং ব্যবস্থা চালু, নির্যাতন ও হয়রানি বন্ধ এবং শ্রমিকদের ন্যায্য অধিকার নিশ্চিত করতে হবে।’
অন্যথায় বৃহত্তর আন্দোলন কর্মসূচির মাধ্যমে দাবি আদায় করা হবে বলে তিনি হুঁশিয়ারি দেন।
সমাবেশে অন্য শ্রমিক নেতারা বলেন, ‘শ্রমিকদের স্বার্থবিরোধী কর্মকাণ্ড বন্ধ করে দ্রুত দাবি বাস্তবায়নে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি। অন্যথায় দেশের বিভিন্ন শিল্পাঞ্চলে আরও বৃহত্তর আন্দোলন গড়ে তোলা হবে।’
কেকে/এমএ