ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে ব্যক্তিনির্ভর উন্নয়ন রাজনীতির বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানের ঘোষণা দিয়েছিলেন বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান। কিন্তু পরবর্তীতে সরকার গঠনের মাত্র চার মাসের মাথায় সেই অঙ্গীকারের সঙ্গে সাংঘর্ষিক কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়েছেন স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম। তার বিরুদ্ধে উন্নয়ন প্রকল্প বরাদ্দে বৈষম্য, স্বজনপ্রীতি, ইউনিয়ন পরিষদের নামকরণ বিতর্ক এবং সংসদীয় রেওয়াজ ভঙ্গ করে স্থায়ী কমিটিতে অন্তর্ভুক্তিসহ আরও নানা অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে।
হঠাৎ করে রাজনৈতিক অঙ্গনে প্রভাবশালী হয়ে ওঠা মীর শাহে আলমের একের পর এক বিতর্কিত কর্মকাণ্ডে সরকারের ভাবমূর্তি নিয়েও প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। বিরোধী রাজনৈতিক দল, স্থানীয় নাগরিক সমাজ এবং বিএনপির একটি অংশের নেতারাও বিষয়টিকে সরকারের ঘোষিত নীতির সঙ্গে অসামঞ্জস্যপূর্ণ বলে মনে করছেন। জাতীয় সংসদেও এ নিয়ে সমালোচনায় সরব হয়েছেন বিরোধীদলীয় সংসদ সদস্যরা।
সব মিলিয়ে সরকারের ঘোষিত নীতির সঙ্গে বাস্তবতার বিস্তর ফারাক তৈরি হয়েছে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। তারা বলছেন, সরকারের প্রথম দিককার সিদ্ধান্তগুলোই জনগণের কাছে ক্ষমতাসীনদের ভাবমূর্তির বার্তা দেয়। ফলে কোনো মন্ত্রী বা প্রতিমন্ত্রীর কর্মকাণ্ড যদি সরকার ঘোষিত নীতির সঙ্গে সাংঘর্ষিক হয়, তাহলে তার প্রভাব পুরো সরকারের ওপর পড়ে। তাদের মতে, ব্যক্তি বা পরিবারকেন্দ্রিক সিদ্ধান্তের অভিযোগ নতুন সরকারের জন্য একটি অস্বস্তিকর পরিস্থিতি তৈরি করতে পারে। বিশেষ করে যখন প্রধানমন্ত্রী নিজেই জেলা-প্রীতি ও সংকীর্ণ আঞ্চলিক রাজনীতির বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছিলেন, তখন তার সরকারের একজন প্রতিমন্ত্রীর বিরুদ্ধে উল্টো ধরনের অভিযোগ ওঠা স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্নের জন্ম দিচ্ছে। স্থানীয় পর্যায়ে তার সিদ্ধান্তগুলোকে কেন্দ্র করে যে বিতর্ক তৈরি হয়েছে, তা দ্রুত সমাধান না হলে সরকারের জন্য তা নতুন রাজনৈতিক চাপের কারণ হয়ে উঠতে পারে।
জানা যায়, প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম মন্ত্রিপরিষদে থাকা সত্ত্বেও গত রোববার তাকে অর্থ মন্ত্রণালয়-সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির সদস্য করা হয়। অনেকেই বলছেন, ক্ষমতার প্রভাব খাটিয়ে এ কমিটির সদস্য হয়েছেন তিনি। তবে একজন প্রতিমন্ত্রীকে সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য করাকে রেওয়াজ ভাঙার নজির হিসেবে দেখছেন বিশ্লেষকরা। তাদের মতে, সংসদীয় গণতন্ত্রে স্থায়ী কমিটির মূল কাজ হলো নির্বাহী বিভাগের স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা। একজন মন্ত্রী বা প্রতিমন্ত্রী অন্য মন্ত্রণালয়ের কমিটিতে থাকলে স্বার্থের দ্বন্দ্ব তৈরি হতে পারে এবং মন্ত্রিসভার সম্মিলিত দায়বদ্ধতা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা থাকে। তাই সংসদীয় গণতন্ত্রের স্বার্থে ভবিষ্যতে কার্যপ্রণালি বিধি সংশোধন করে মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী ও উপমন্ত্রীদের অন্য মন্ত্রণালয়-সংক্রান্ত স্থায়ী কমিটিতে অন্তর্ভুক্তির পথ বন্ধ করা উচিত।
প্রতিমন্ত্রী শাহে আলমের বিরুদ্ধে আরও অভিযোগ উঠেছে, দেশের সর্বোচ্চ সড়ক ও সেতু বরাদ্দ তার নির্বাচনি এলাকা বগুড়ার শিবগঞ্জে কেন্দ্রীভূত হওয়ার পাশাপাশি প্রকল্পের বড় অংশ পেয়েছে তার ছেলে ও বিএনপি-ঘনিষ্ঠ ব্যক্তিদের প্রতিষ্ঠান। শুধু উন্নয়ন বরাদ্দ নয়, বিভিন্ন স্থাপনা ও ইউনিয়নের নামকরণে পরিবারের সদস্য ও স্বজনদের নাম ব্যবহারে প্রভাব খাটিয়েছেন। সারা দেশের প্রয়োজনীয়তা উপেক্ষা করে প্রকল্প বণ্টন, সীমিত দরপত্রের অপব্যবহারের অভিযোগও রয়েছে প্রতিমন্ত্রীর বিরুদ্ধে।
সংশ্লিষ্ট এলাকার বাসিন্দা ও রাজনৈতিক সূত্রগুলো বলছে, নতুন ইউনিয়ন গঠন, সড়ক, কমিউনিটি স্থাপনা কিংবা বিভিন্ন অবকাঠামো প্রকল্পের নামসহ যেখানে সুযোগ পেয়েছেন, সেখানেই পরিবারের সদস্য বা ঘনিষ্ঠদের নামে নামকরণ করেছেন শাহে আলম। ইউনিয়নের নামকরণ নিয়ে এলাকাবাসীর মতামত নেওয়ার কথা থাকলেও বাস্তবে কোনো গণশুনানি বা উন্মুক্ত আলোচনা হয়নি বলে অভিযোগ উঠেছে।
স্থানীয়রা জানিয়েছেন, নামকরণের আগে জনগণের মতামত নেওয়া হয়েছে বলে প্রশাসনের পক্ষ থেকে দাবি করা হলেও তারা এমন কোনো প্রক্রিয়ার কথা জানেন না। একজন স্থানীয় বাসিন্দা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, ‘যে সিদ্ধান্ত জনগণের সঙ্গে সম্পর্কিত, সেখানে জনগণের মতামত নেওয়ার কথা। কিন্তু আমরা কোথাও কোনো গণশুনানির খবর পাইনি। হঠাৎ করেই সিদ্ধান্ত চলে এসেছে।’
এদিকে গতকাল বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটের ওপর আলোচনায় অংশ নিয়ে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সংসদ সদস্য আতিকুর রহমান মোজাহিদ বলেন, ‘নিন্দুকেরা বলে—একসময় বলা হতো, সবার আগে গোপালগঞ্জ। এখন কি আমরা বলব, সবার আগে বগুড়া? আমরা এই বাংলাদেশ চাই না। সবার আগে বাংলাদেশ হলে প্রতিটি প্রান্তের মানুষের জন্য সমান ধরনের বাজেট থাকতে হবে।’
আতিক মোজাহিদ বলেন, ‘নতুন একটা উপজেলার আবির্ভাব ঘটেছে—এটাকে নবাবি উপজেলা বলা হচ্ছে। আমি বগুড়ার শিবগঞ্জ উপজেলার কথা বলতেছি। যেখানে অন্যান্য এলাকায় বাজেট পায় না, সেখানে এক উপজেলায়, কী এক ক্যারিশমেটিক মিরাকল, সেখানে ৭৬ কোটি টাকা চলে যায়।’
মীর শাহে আলমের পরিবারের সদস্যদের রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক প্রভাব নিয়েও নানা আলোচনা রয়েছে। স্থানীয় রাজনৈতিক মহলে তার ছেলের কর্মকাণ্ড নিয়েও অসন্তোষের কথা শোনা যাচ্ছে। অভিযোগ রয়েছে, প্রতিমন্ত্রীর ঘনিষ্ঠ পরিচয়ের কারণে বিভিন্ন ক্ষেত্রে অতিরিক্ত প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা করা হচ্ছে, যা দলীয় নেতাকর্মীদের মধ্যেও অস্বস্তির কারণ হয়ে উঠেছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
বিএনপির একাধিক নেতা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, দীর্ঘ আন্দোলন-সংগ্রামের পর ক্ষমতায় এসে সরকার যদি ব্যক্তি ও পরিবারকেন্দ্রিক সিদ্ধান্তের অভিযোগে জড়িয়ে পড়ে, তাহলে তা সরকারের জন্য রাজনৈতিকভাবে ক্ষতিকর হতে পারে। তাদের মতে, নতুন সরকারের প্রতি মানুষের প্রত্যাশা ছিল ভিন্নধর্মী রাজনৈতিক সংস্কৃতি প্রতিষ্ঠা। কিন্তু শুরুতেই এমন বিতর্ক সৃষ্টি হলে বিরোধী দলগুলো তা রাজনৈতিকভাবে কাজে লাগানোর সুযোগ পাবে। দলটির একজন কেন্দ্রীয় নেতা বলেন, ‘জনগণ অতীতের পুনরাবৃত্তি দেখতে চায় না। সরকারের ভাবমূর্তি রক্ষার স্বার্থেই এসব বিষয়ে সতর্ক থাকা প্রয়োজন।’
সম্প্রতি অনুসন্ধানী গণমাধ্যম নেত্র নিউজের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিএনপি সরকারের চার মাসে সিটি করপোরেশনের বাইরে সারা দেশে তিন হাজারেরও বেশি সড়ক ও সেতু প্রকল্প বরাদ্দ দিয়েছে স্থানীয় সরকার বিভাগ। সবচেয়ে বড় প্রকল্পের মূল্য প্রায় ১৯ কোটি টাকা, সবচেয়ে ছোটটির ৭০ হাজার টাকা। জেলা হিসেবে সবচেয়ে বেশি পেয়েছে বগুড়া—দ্বিতীয় স্থানে থাকা গাজীপুরের চেয়ে ৯০ শতাংশ বেশি। গড়ে ছয়টি জেলার সমান প্রকল্প পেয়েছে বগুড়া একাই। আবার বগুড়ার মোট বরাদ্দের অর্ধেকেরও বেশি, ৭৪ কোটি টাকার প্রকল্প গেছে একটি মাত্র উপজেলায়—প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলমের নির্বাচনি এলাকা শিবগঞ্জে। প্রধানমন্ত্রীর নিজের উপজেলা গাবতলীর চেয়েও প্রতিমন্ত্রীর শিবগঞ্জ পেয়েছে সাড়ে তিন গুণেরও বেশি। বগুড়ার বাকি ১০ উপজেলার ভাগ্যে জেলার মোট বরাদ্দের ৩০ শতাংশও মেলেনি। অর্থাৎ, শিবগঞ্জ একাই পেয়েছে বাকি ১০ উপজেলার সম্মিলিত বরাদ্দের প্রায় দ্বিগুণ। গড়ে দেশের প্রায় ২০টি উপজেলার বরাদ্দ একাই পেয়েছে প্রতিমন্ত্রীর এলাকা। এছাড়া বিএনপি সরকারের প্রথম চার মাসে দেশের সর্বোচ্চ সড়ক-সেতু বরাদ্দ পেয়েছে স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলমের শিবগঞ্জ—কাজের বড় অংশ বাটোয়ারা হয়েছে তার ছেলে ও বিএনপি-ঘনিষ্ঠ ঠিকাদারদের মধ্যে।
প্রতিবেদনে বলা হয়, প্রয়োজনে-অপ্রয়োজনে সড়ক ও পথ বানানোর হিড়িক পড়েছে শিবগঞ্জে। আর অর্থের যোগান আসছে মীর শাহে আলমের মন্ত্রণালয় থেকেই। সরকারি পরিসংখ্যান ও নথিপত্র বিশ্লেষণ করে নেত্র নিউজ দেখেছে, বিএনপি সরকারের চার মাসে সড়ক, পথ ও সেতু নির্মাণে শিবগঞ্জ পেয়েছে ৭৪ কোটি টাকার প্রকল্প। সারা দেশে শিবগঞ্জের ধারেকাছেও নেই আর কোনো উপজেলা। দ্বিতীয় অবস্থানে থাকা গাজীপুরের কালীগঞ্জ পেয়েছে অর্ধেকেরও কম—৩২ কোটি টাকা। মন্ত্রণালয়ের এ ধরনের কাজে বরাদ্দ ছিল ১,৪০০ কোটি টাকা। দেশের প্রায় শতাধিক উপজেলা এক টাকারও কাজ পায়নি। ৩৭৩টি উপজেলা গড়ে পেয়েছে ৩ কোটি ৮০ লাখ টাকার প্রকল্প। অর্থাৎ, শিবগঞ্জ একাই পেয়েছে ২০টি উপজেলার সমান প্রকল্প। শিবগঞ্জের এই উন্নয়ন-যজ্ঞ বগুড়াকে বরাদ্দের দিক থেকে দেশের শীর্ষ জেলায় পরিণত করেছে, যেখানে মোট বরাদ্দ গেছে ১৩২ কোটি টাকা। দ্বিতীয় স্থানে থাকা গাজীপুরের চেয়েও ৯০ শতাংশ বেশি। গড়ে প্রায় ছয়টি জেলার বরাদ্দ একাই পেয়েছে বগুড়া।
আবার শিবগঞ্জের উন্নয়ন-উৎসবে বরাদ্দের সবচেয়ে বড় ভাগটা গেছে খোদ প্রতিমন্ত্রীর নিকটজনদের কাছেই। এখানে এককভাবে সবচেয়ে বেশি মূল্যমানের প্রকল্প বাগিয়ে নিয়েছে স্বয়ং প্রতিমন্ত্রীর সন্তান মীর শাকরুল আলম সীমান্তের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। আর ছেলের পাওয়া এসব প্রকল্পের বেশ কয়েকটির ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেছেন প্রতিমন্ত্রীই।
সীমান্ত নিজে শিবগঞ্জ বিএনপির ছাত্রবিষয়ক সম্পাদক। তার ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মীর সীমান্ত ইঞ্জিনিয়ারিং এই উপজেলায় পিতার মন্ত্রণালয় থেকে সড়ক ও সেতুর কাজ পেয়েছে সাড়ে ১৩ কোটি টাকার। উপজেলার মোট প্রকল্পের ১৮ শতাংশই গেছে তার কাছে। অর্থাৎ, শিবগঞ্জের সবচেয়ে বড় অঙ্কের কাজ পেয়েছেন যে ঠিকাদার, তারই পিতা সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী।
নেত্র নিউজ বলছে, ক্ষমতার এই জাদুকাঠি শুধু যে মীর শাহে আলমের সন্তানকেই স্পর্শ করেছে, তা নয়—স্থানীয় বিএনপির নেতাকর্মীরাও লাভবান হয়েছেন। স্থানীয় সরকার বিভাগের মোট কাজের ১৪ শতাংশ পেয়ে সীমান্তের পরেই আছেন শিবগঞ্জ পৌর বিএনপির সভাপতি বুলবুল ইসলাম। এরপর প্রায় ১২ শতাংশ কাজ পেয়ে তৃতীয় স্থানে আছেন সোহানী খাতুন নামে এক নারী, যিনি শিবগঞ্জ উপজেলা যুবদলের সভাপতি খালিদ হাসান আরমানের বোন। আরমানের নিজের প্রতিষ্ঠান মেসার্স আরমান ট্রেডার্সও আছে এই ঠিকাদারির বাটোয়ারায়। সব মিলিয়ে শিবগঞ্জের সড়ক বরাদ্দের অর্ধেকের বেশি পড়েছে বিএনপির সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিদের অন্তত সাতটি প্রতিষ্ঠানের ভাগে। অঙ্কের হিসাবে প্রায় ৫৩ শতাংশ—অর্থাৎ, ৫২টির মধ্যে অন্তত ৩০টি প্রকল্প।
বিএনপি সরকারের প্রথম চার মাসে দেশজুড়ে এলটিএম পদ্ধতিতে নেওয়া সবচেয়ে বড় অঙ্কের ৫০টি সড়ক প্রকল্পের মধ্যে ১৬টিই গেছে শিবগঞ্জে। বাংলাদেশের পাবলিক প্রকিউরমেন্ট আইন অনুযায়ী, কেবল পাঁচ কোটি টাকার কম বরাদ্দের ক্ষেত্রে সীমিত দরপত্র পদ্ধতি অনুসরণ করা যাবে। তাই এলটিএম পদ্ধতির সুবিধা নিতে বড় প্রকল্পগুলোকে খণ্ড খণ্ড করে ছোট করা হয়েছে, যেন সহজে পছন্দের ঠিকাদারদের কাজ দেওয়া যায়।
কেকে/এলএ