রোববার, ২১ জুন ২০২৬,
৭ আষাঢ় ১৪৩৩
বাংলা English
ই-পেপার

রোববার, ২১ জুন ২০২৬
শিরোনাম: সম্প্রীতি নষ্টের পাঁয়তারা      প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান মালয়েশিয়া যাচ্ছেন আজ       বাংলাদেশকে ফুটবল বিশ্বকাপ খেলার স্বপ্ন দেখতে হবে : প্রধানমন্ত্রী      বগুড়ার সেই তিন ইউনিয়নের নাম পরিবর্তন করতে ডিসিকে চিঠি      ফের হরমুজ প্রণালি বন্ধ করলো ইরান      মালয়েশিয়া ও চীন সফরে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী, রওনা দেবেন রোববার      আগামী ৭২ ঘণ্টায় চার জেলায় বন্যার আশঙ্কা      
খোলাকাগজ স্পেশাল
সম্প্রীতি নষ্টের পাঁয়তারা
রবিউল ইসলাম
প্রকাশ: রোববার, ২১ জুন, ২০২৬, ৯:১৯ এএম
ছবি : খোলা কাগজ

ছবি : খোলা কাগজ

গাইবান্ধায় রামমূর্তি নির্মাণকে কেন্দ্র করে নতুন করে উত্তেজনা দেখা দিয়েছে। এ নিয়ে মুসলিম ও হিন্দু সম্প্রদায়ের কয়েকটি সংগঠনের মধ্যে চলছে পাল্টাপাল্টি কর্মসূচি। দুই পক্ষের এ উত্তেজনা যে কোনো সময় বড় সংকটে রূপ নিতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

বিশ্লেষকরা বলছেন, দু-একটি বিচ্ছিন্ন ঘটনা বাদ দিলে বাংলাদেশ বরাবরই সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির দেশ। এ দেশে সব ধর্মের মানুষ শান্তিপূর্ণভাবে নিজ নিজ ধর্ম পালন করে আসছে। কিন্তু এ সম্প্রীতি বিনষ্ট করতে তৎপর হয়েছে একটি বিশেষ মহল। এর পেছনে বিদেশি শক্তির ইন্ধন থাকাও অস্বাভাবিক নয়। বিশ্লেষকরা আরও বলছেন, বিশেষ করে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের চীন সফরের আগে দেশে একটি অস্থিতিশীল পরিস্থিতি তৈরির পাঁয়তারা চলছে। সরকারকে এ বিষয়ে দ্রুত যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তারা।

ঘটনার সূত্রপাত গাইবান্ধা জেলার পলাশবাড়ী উপজেলায় শ্রীশ্রী রাধা গোবিন্দ ও কালী মন্দির চত্বরে রামের বিগ্রহ স্থাপনকে কেন্দ্র করে। মন্দির কর্তৃপক্ষ দাবি করেছিল, এটি নির্মিত হলে এটি হবে এশিয়ার সর্ববৃহৎ রামমূর্তি। তবে এ মূর্তি নির্মাণের উদ্দেশ্য নিয়ে বিভিন্ন মহলে সন্দেহের দানা বাঁধে। এ উদ্যোগকে প্রতিবেশী দেশের হিন্দুত্ববাদী দলের এজেন্ডা বলে জনমনে শঙ্কা জাগে। এ নিয়ে ইমাম-ওলামা পরিষদ স্থানীয়ভাবে কর্মসূচি পালন করে। একপর্যায়ে গত ১১ জুন বিগ্রহ নির্মাণকাজ স্থগিত ঘোষণা করে মন্দির কর্তৃপক্ষ। এক সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে রাম বিগ্রহের নির্মাণকাজ স্থগিতের ঘোষণা দেন মন্দির কমিটির উপদেষ্টা শ্যামল কুমার মহন্ত। এ সময় তিনি বলেন, ‘কোনো রাজনৈতিক বা প্রশাসনিক চাপে নয়। ধর্মীয় সম্প্রীতি ও পারস্পরিক সৌহার্দ্যের প্রতি সম্মান জানিয়ে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।’ তিনি বলেন, ‘আমরা সব ধর্মের মানুষের সঙ্গে সৌহার্দ্যপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রাখতে বিশ্বাস করি। ভবিষ্যতে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সঙ্গে আলোচনা করে পরবর্তীতে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হবে। তবে মন্দিরের নিয়মিত ধর্মীয় ও সামাজিক কার্যক্রম চলমান থাকবে।’

তবে গাইবান্ধা ও পলাশবাড়ীতে সংবাদ সম্মেলন করে ইমাম-ওলামা পরিষদ নির্মাণাধীন রাম বিগ্রহ অপসারণের দাবি জানিয়েছে। সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনটির নেতারা বিগ্রহ নির্মাণ কার্যক্রম সম্পূর্ণভাবে বন্ধ এবং সংশ্লিষ্ট সব উদ্যোগ বাতিলের দাবি জানান।

ইমাম-ওলামা পরিষদের জেলা সেক্রেটারি মুফতি মানছুর রহমান খান লিখিত বক্তব্যে বলেন, ‘জনশ্রুতি অনুযায়ী, এটি বিশ্বের সর্ববৃহত্তম রামমূর্তি হিসেবে প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। বিষয়টি ইতোমধ্যে স্থানীয় জনগণের মধ্যে ব্যাপক আলোচনা, উদ্বেগ, ক্ষোভ ও নিরাপত্তাহীনতার অনুভূতি সৃষ্টি করেছে। রংপুর বিভাগের মতো একটি গুরুত্বপূর্ণ ও স্পর্শকাতর অঞ্চলে এত বৃহৎ মন্দির ও বাইরে রিসোর্ট স্পট বানিয়ে সেখানে প্রকাশ্যে মূর্তি নির্মাণকে কেন্দ্র করে ভবিষ্যতে সাম্প্রদায়িক উত্তেজনা, সামাজিক অস্থিরতা এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতির আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।’ তিনি বলেন, ‘এই প্রকল্পের মূল উদ্যোক্তা সম্পর্কে বিভিন্ন মহলে নানা অভিযোগ, বিতর্ক ও প্রশ্ন বিদ্যমান রয়েছে। তার বিরুদ্ধে অতীতে উগ্রবাদী আচরণসহ বিভিন্ন অনিয়ম ও অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের অভিযোগ রয়েছে। এসব অভিযোগের সত্যতা ও প্রকৃত অবস্থা নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে যাচাই করা প্রয়োজন।’ এ সময় ৭২ ঘণ্টার মধ্যে এই রামমূর্তি অপসারণ ও মূর্তি নির্মাণের প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটন করা না হলে কঠোর আন্দোলনের ঘোষণা দেওয়া হয়।

এদিকে গত শুক্রবার রাতে রাজধানীর শাহবাগে মিছিল করে সনাতনপন্থিদের একাধিক সংগঠন। এ সময় তারা রামমূর্তি অবমাননার অভিযোগ আনেন। মিছিলে অংশগ্রহণকারীরা বাংলাদেশের ৬৪ জেলায় রাম মন্দির ও রামমূর্তি স্থাপনের ঘোষণা দেন।

বিক্ষোভ মিছিলে সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী চৈতালি চক্রবর্তী বলেন, যেভাবে সনাতনীদের কোণঠাসা করা হচ্ছে, তাদের ধর্মাচরণের অধিকার কেড়ে নেওয়া হচ্ছে, তা বন্ধ না হলে আমাদেরও বিকল্প ভাবতে হবে। তিনি বলেন, আমরা আন্তর্জাতিক সংগঠনগুলোর সহায়তায় শুধুমাত্র সনাতন ধর্মাবলম্বীদের জন্য একটি আলাদা প্রদেশ দাবি করব। তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশে হিন্দু, মুসলিম, বৌদ্ধ, খ্রিষ্টান একত্রে বসবাস করত। এখন বিভাজন তৈরির চেষ্টা চলছে।

উল্লেখ্য, চৈতালি চক্রবর্তী আওয়ামী লীগের সহযোগী সংগঠন বাংলাদেশ আওয়ামী স্বেচ্ছাসেবক লীগের জাতীয় পরিষদ সদস্য।

এ ছাড়া সনাতনপন্থিদের বিভিন্ন সংগঠন দেশের জেলা, উপজেলা পর্যায়েও নানা কর্মসূচি পালন করছে।

এদিকে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের মালয়েশিয়া ও চীন সফরের আগে এ ধরনের কর্মকাণ্ডের পেছনে গভীর রাজনৈতিক উদ্দেশ্য দেখছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। তারা বলছেন, প্রধানমন্ত্রী চীন সফর ঘিরে প্রতিবেশী ভারতের অস্বস্তি রয়েছে। কারণ চীন সফরে তিস্তাসহ এমন কিছু বিষয় থাকছে, যা ভারতকে স্বস্তি দিচ্ছে না। তাই দেশের ভেতর অস্থিরতা তৈরির চেষ্টা করা হচ্ছে। আর এ ক্ষেত্রে পতিত আওয়ামী লীগকে কাজে লাগানো হচ্ছে। আওয়ামী লীগ-সংশ্লিষ্ট চৈতালি চক্রবর্তীর বিতর্কিত মন্তব্য সে ইঙ্গিতই দেয়।

এ বিষয়ে বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব ও প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা রুহুল কবির রিজভী বলেছেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সাম্প্রতিক দুটি বিদেশ সফরকে ঘিরে দেশে বিভিন্ন ধরনের উসকানির একটা আবছা ইঙ্গিত পাচ্ছি। তিনি বলেন, ‘এ সরকার এমন কিছু করবে না, যাতে আমাদের সার্বভৌমত্ব প্রতিদিন একটু একটু করে দুর্বল হয়। সে কাজ তো করবে না। সুতরাং এ সরকারকে অনেক চক্রান্ত, অনেক ষড়যন্ত্র মোকাবিলা করেই এগোতে হবে।’ তিনি বলেন, ‘আপনারা লক্ষ্য করেছেন যে, বর্তমান সরকার তার প্রথম বিদেশ সফরে যাচ্ছে। হয়তো আজকেই যাত্রা শুরু করবেন। এর মধ্যে একটি দেশে আগামীকাল যাবে। তো এর সঙ্গে দুই-একটি দেশ সফর করবেন। কিন্তু এ সফরকে কেন্দ্র করে কেন জানি আমার মনে হচ্ছে, দেশের অভ্যন্তরে বিভিন্ন ধরনের উসকানি এবং এক ধরনের নেতিবাচক পরিবেশ-পরিস্থিতি তৈরি করার প্রচেষ্টা চলছে। এটা কিন্তু খুবই ইঙ্গিতপূর্ণ।’

তিনি বলেন, ‘দেশের স্বার্থে, কল্যাণে পৃথিবীর বিভিন্ন দেশগুলোর মধ্যে আমাদের কেউ শত্রু নয়, আবার কেউ প্রভুও নয়। সবাই আমাদের বন্ধু। এটি হচ্ছে মরহুমা দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার একটি ঘোষিত নীতি। সেই নীতির ওপর ভিত্তি করেই বর্তমান সরকারপ্রধান তার কর্মকাণ্ড পরিচালনা করছেন। দেশের অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি এবং বিশ্বের সঙ্গে আমাদের যোগাযোগ ও সম্পৃক্ততা বাড়ানোর জন্য বিভিন্ন দেশের সঙ্গে কথা বলা এবং আমাদের ব্যবসা-বাণিজ্য, যোগাযোগ—সবকিছু ক্রমবর্ধমানভাবে বাড়িয়ে তোলার জন্য একটি শক্তিশালী পররাষ্ট্রনীতি থাকতে হবে। সেই নীতির ওপর ভিত্তি করেই বিভিন্ন দেশে আমাদের কার্যক্রম বৃদ্ধি করতে হবে। তারই অংশ হিসেবে দেশের প্রধানমন্ত্রী আগামীকাল (আজ) দুটি দেশ সফরে যাচ্ছেন। এটা আমি আগেই বলেছি।’

রিজভী বলেন, ‘কেন জানি আমার কাছে মনে হচ্ছে যে, বাংলাদেশে নানাভাবে বিভিন্ন ধরনের উসকানির একটা আবছা ইঙ্গিত পাচ্ছি।’

কেকে/এলএ


আরও সংবাদ   বিষয়:  সম্প্রীতি নষ্ট   পাঁয়তারা  
মতামত লিখুন:
Loading...
Loading...
সম্পাদক ও প্রকাশক : আহসান হাবীব
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : বসতি হরাইজন, ১৭-বি, বাড়ি-২১ সড়ক-১৭, বনানী, ঢাকা-১২১৩
ফোন : বার্তা-০২২২২২৭৬০৩৭, মফস্বল-০২২২২২৭৬০৩৬, বিজ্ঞাপন ও সার্কুলেশন-০২২২২২৭৬০২৯, ০১৭৮৭৬৯৭৮২৩, ০১৮৫৩৩২৮৫১০ (বিকাশ)
ই-মেইল: kholakagojnews@gmail.com, kholakagojadvt@gmail.com

© 2025 Kholakagoj
🔝
close