শুক্রবার, ৩১ জুলাই ২০২৬,
১৬ শ্রাবণ ১৪৩৩
বাংলা English
ই-পেপার

শুক্রবার, ৩১ জুলাই ২০২৬
শিরোনাম: ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের ভয়ংকর পরিকল্পনা      লটারির মাধ্যমে ৭৬৭ জন উপ-সহকারী প্রকৌশলীকে বদলি      কল ড্রপ কমানোর আহ্বান টেলি যোগাযোগ মন্ত্রীর      হামের উপসর্গ নিয়ে ২৪ ঘণ্টায় চার শিশুর মৃত্যু      ৮৬ ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল ও ১৭৯ সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল নিয়োগ      ঢাকায় ট্রাম্পের বিশেষ দূত সার্জিও গর      শুধু ওষুধ দিয়ে জাতিকে রোগ থেকে বাঁচানো সম্ভব নয়: স্বাস্থ্যমন্ত্রী      
খোলাকাগজ স্পেশাল
দিল্লির ঢাকামুখী কূটনীতি
প্রণব আচার্য
প্রকাশ: শুক্রবার, ৩১ জুলাই, ২০২৬, ১০:১২ এএম
ছবি : খোলা কাগজ

ছবি : খোলা কাগজ

গণঅভ্যুত্থানে শেখ হাসিনার পর প্রবল বৈরী রূপ নেয় বাংলাদেশ ভারত সম্পর্ক। বিশেষ করে ভারতের দিক থেকে বিমাতাসুলভ আচরণে ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয় দ্বিপাক্ষিক এ সম্পর্ক। বিশেষ করে ভারত থেকে বাংলাদেশবিরোধী কর্মকাণ্ড, সীমান্তহত্যা ও পুশইনের মতো বিষয়গুলো বিরোধেকে উসকে দেয়। তবে সম্প্রতি বাংলাদেশ প্রশ্নে নিজেদের অবস্থান বদলের ইঙ্গিত দিয়েছে নরেন্দ্র মোদি সরকার। তারই অংশ হিসেবে আগামী সেপ্টেম্বরে নয়া দিল্লিতে অনুষ্ঠেয় ব্রিকস শীর্ষ সম্মেলনে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে আমন্ত্রণ জানিয়েছে ভারত।

দুই প্রতিবেশীর মধ্যে গত কয়েক বছরের অস্থির সম্পর্কের পর এ পদক্ষেপে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক পুনরুদ্ধারের সম্ভাবনা হিসেবে দেখা হচ্ছে। এ আমন্ত্রণ গ্রহণ করলে গত ফেব্রুয়ারির নির্বাচনের পর বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর মোদির সঙ্গে তারেক রহমানের এটিই হবে প্রথম সরাসরি বৈঠক।

এ ছাড়া বাংলাদেশে নবনিযুক্ত ভারতীয় রাষ্ট্রদূত দীনেশ ত্রিবেদীকে মন্ত্রীর পদমর্যাদা দেয় ভারত সকার। বিশ্লেষকদের মতে এটিও ঢাকার সঙ্গে দিল্লির সম্পর্ক উন্নয়নের চেষ্টারই অংশ।

উন্নয়নশীল শীর্ষ অর্থনীতিগুলোর জোট ব্রিকসের ১৮তম শীর্ষ সম্মেলন আগামী ১২ ও ১৩ সেপ্টেম্বর নয়া দিল্লিতে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। এর সদস্য দেশগুলোর মধ্যে রয়েছে ব্রাজিল, রাশিয়া, ভারত, চীন ও দক্ষিণ আফ্রিকা। বাংলাদেশ বর্তমানে বিমসটেকের (বে অব বেঙ্গল ইনিশিয়েটিভ ফর মাল্টি-সেক্টরাল টেকনিক্যাল অ্যান্ড ইকোনমিক কো-অপারেশন) চেয়ারম্যান পদে দায়িত্ব পালন করায় ব্রিকসের সদস্য না হওয়া সত্ত্বেও বাংলাদেশকে বিশেষ অতিথি হিসেবে এ আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তা নিশ্চিত করেছেন যে, ভারতের পাঠানো আমন্ত্রণপত্রটি ইতোমধ্যে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে পাঠানো হয়েছে।

ব্রিকস শীর্ষ সম্মেলনে অংশ নিতে ভারতের আমন্ত্রণে সাড়া দিয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দিল্লি যাচ্ছেন কি না, সে প্রশ্নে ভারতের হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী বলেছেন, এ সিদ্ধান্ত নেবেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী। এটা সম্পূর্ণ তার বিষয়। তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশের মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর ভারত সফরের জন্য আমরা অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছি। আমি নিশ্চিত, নিকট ভবিষ্যতে এটা হবে বলে আমরা খুবই আশাবাদী। আমরা তার অপেক্ষায় আছি।’ বাংলাদেশর সঙ্গে সম্পর্ক প্রসঙ্গে ভারতীয় হাইকমিশনার বলেন, ‘দুই দেশের সম্পর্ক ঐতিহাসিক। আমাদের শুধু সীমান্ত নয়, অভিন্ন সংস্কৃতি ও স্বপ্নও রয়েছে। তাই বৈঠকটা খুবই ভালো হয়েছে। উভয়পক্ষের জনগণের জন্য লাভজনক হয়, এমন সম্পর্কের ভিত্তি গড়ে তোলার অপেক্ষায় রয়েছি আমরা।’ 

এদিকে বাংলাদেশ ও ভারতের সম্পর্কে অস্বস্তি কাটিয়ে এ সম্পর্ক আবার শুরু করার বিষয়ে ঐকমত্য হওয়ার কথা জানিয়েছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান। গত বুধবার মন্ত্রণালয়ে পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান ও প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলামের সঙ্গে বৈঠক করেন দীনেশ ত্রিবেদী। বৈঠক শেষে পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান সাংবাদিকদের বলেন, ‘দুই নিকট প্রতিবেশী দেশের সম্পর্কে কিছু অস্বস্তি রয়েছে। সেটা উনিও (দীনেশ ত্রিবেদী) জানেন, আমিও জানি। আমাদের এগুলো নিরসন করার প্রয়োজন। সেই প্রয়োজনীয়তা তো সবাই উপলব্ধি করে না। তবে দুই দেশের সম্পর্ক রিসেটের (নতুন করে শুরু) ব্যাপারে আমরা দুজনে ঐকমত্য পোষণ করি।’

খলিলুর রহমান বলেন, ‘আগামীতে আমাদের দুই দেশের সম্পর্ক যাতে পারস্পরিক স্বার্থ সমুন্নত রেখে হয়। আমি বাংলাদেশ প্রথম এটা সব সময় বলি, এখনো বলছি, সার্বভৌম সমতার ভিত্তিতে আমরা এগিয়ে নিয়ে যাব। এ বিষয়ে আমরা একমত পোষণ করি। কোনো বিশেষ বিষয়ে আমাদের দীর্ঘ আলোচনা হয়নি। শুধু দুই দেশের সম্পর্ক সাধারণভাবে উন্নীত করার বিষয়ে আলোচনা করেছি।’ 

এদিকে বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্ক নিয়ে একটি নিবন্ধ প্রকাশ করেছে সাউথ চায়না মর্নিং পোস্ট। নিবন্ধে তারা বলেছে, ২০২৪ সালের আগস্টে শেখ হাসিনার সরকারের পতনের পর দুই দেশের সম্পর্কে যে টানাপড়েন তৈরি হয়েছিল, তা কাটিয়ে সম্পর্ক স্থিতিশীল করার ইঙ্গিত দিচ্ছে দুপক্ষই। লন্ডনের কিংস কলেজের আন্তর্জাতিক সম্পর্কের অধ্যাপক হার্শ প্যান্ট বলেন, ড. মুহাম্মদ ইউনূসের অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের পর নির্বাচিত নতুন সরকার আসার পর ভারত ঢাকার সঙ্গে সুসম্পর্ক বজায় রাখতে চাইছে। দুই দেশই সম্পর্ক এগিয়ে নিতে এবং সহযোগিতার সুফল বজায় রাখতে আগ্রহ দেখাচ্ছে।

তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর ভারত ও চীনের সঙ্গে সম্পর্কের ভারসাম্য বজায় রেখে ভারতের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কে উন্নতির লক্ষণ দেখা যাচ্ছে। সম্প্রতি বাংলাদেশে ভারতের নতুন হাইকমিশনার হিসেবে দীনেশ ত্রিবেদী দায়িত্ব নিয়েছেন, যাকে মন্ত্রী মর্যাদা দিয়েছে দিল্লি। যা সম্পর্ক জোরদারে দিল্লির সদিচ্ছা হিসেবে দেখা হচ্ছে। ভারতের ওপি জিন্দাল গ্লোবাল ইউনিভার্সিটির আন্তর্জাতিক সম্পর্কের অধ্যাপক শ্রীরাধা দত্ত বলেন, বাংলাদেশের এখন বন্ধু ও প্রতিবেশীদের সহযোগিতা প্রয়োজন। দুই দেশের বাণিজ্য অংশীদারত্ব পুনরায় জোরদার করা উচিত।

বিশ্লেষকদের মতে, বিশ্ব বাণিজ্যে উত্তেজনা এবং প্রণালি সংকটের এ সময়ে আঞ্চলিক বাণিজ্য সম্প্রসারণের দিকে নজর দেওয়া প্রয়োজন। লন্ডনভিত্তিক গবেষক প্রিয়জিৎ দেবসরকার জানান, পর্যটন ভিসা চালু হওয়ায় দুই দেশের উত্তেজনা কমার ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে এবং ভৌগোলিক বাস্তবতার কারণে উভয় দেশের একটি সৌহার্দ্যপূর্ণ সমাধানে আসা উচিত।

এ ছাড়া তারেক রহমানের সরকার আঞ্চলিক সহযোগিতা সংস্থা সার্ক পুনরুদ্ধারের আহ্বান জানিয়েছে, যার অন্যতম স্বপ্নদ্রষ্টা ছিলেন তার বাবা ও সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান। ১৯৮৫ সালে গঠিত হলেও ২০১৬ সালে উরি হামলার পর ভারত সম্মেলন বয়কট করলে সার্কের কার্যক্রম স্থবির হয়ে পড়ে। মালদ্বীপের প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ মুইজ্জু তারেক রহমানের এ উদ্যোগকে সমর্থন জানিয়েছেন এবং ভারত-পাকিস্তানের মধ্যে মধ্যস্থতা করার ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, সার্ক পুনরুজ্জীবিত হলে সদস্য দেশগুলোর মধ্যে বাণিজ্য ও আঞ্চলিক সহযোগিতা আরও বেগবান হবে।

কেকে/এলএ



আরও সংবাদ   বিষয়:  কূটনীতি  
মতামত লিখুন:
Loading...
Loading...
সম্পাদক ও প্রকাশক : আহসান হাবীব
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : বসতি হরাইজন, ১৭-বি, বাড়ি-২১ সড়ক-১৭, বনানী, ঢাকা-১২১৩
ফোন : বার্তা-০২২২২২৭৬০৩৭, মফস্বল-০২২২২২৭৬০৩৬, বিজ্ঞাপন ও সার্কুলেশন-০২২২২২৭৬০২৯, ০১৭৮৭৬৯৭৮২৩, ০১৮৫৩৩২৮৫১০ (বিকাশ)
ই-মেইল: [email protected], [email protected]

© 2025 Kholakagoj
🔝
close