রোববার, ২১ জুন ২০২৬,
৭ আষাঢ় ১৪৩৩
বাংলা English
ই-পেপার

রোববার, ২১ জুন ২০২৬
শিরোনাম: শ্রমবাজার ও তিস্তায় নতুনের হাতছানি      সম্প্রীতি নষ্টের পাঁয়তারা      প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান মালয়েশিয়া যাচ্ছেন আজ       বাংলাদেশকে ফুটবল বিশ্বকাপ খেলার স্বপ্ন দেখতে হবে : প্রধানমন্ত্রী      বগুড়ার সেই তিন ইউনিয়নের নাম পরিবর্তন করতে ডিসিকে চিঠি      ফের হরমুজ প্রণালি বন্ধ করলো ইরান      মালয়েশিয়া ও চীন সফরে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী, রওনা দেবেন রোববার      
খোলাকাগজ স্পেশাল
শ্রমবাজার ও তিস্তায় নতুনের হাতছানি
প্রণব আচার্য
প্রকাশ: রোববার, ২১ জুন, ২০২৬, ৯:৩৬ এএম
ছবি : খোলা কাগজ

ছবি : খোলা কাগজ

প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পর এই প্রথম বিদেশ সফরে মালয়েশিয়া ও চীন যাচ্ছেন তারেক রহমান। আজ রোববার দুই দেশ মিলিয়ে মোট ছয় দিনের সফরে ঢাকা ত্যাগ করবেন তিনি। সফরে মালয়েশিয়ায় বন্ধ থাকা বাংলাদেশি শ্রমবাজার চালু করতে বিশেষ জোর দেবেন প্রধানমন্ত্রী। চীন সফরে দেশটির প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং ও প্রধানমন্ত্রী লি চিয়াংয়ের সঙ্গে আলোচনায় বাংলাদেশের তিস্তা মহাপরিকল্পনার বিষয়টিও বিশেষভাবে আলোচিত হবে।

এ ছাড়া সামরিক সহযোগিতা এবং চীনের চারটি বৈশ্বিক উদ্যোগে যোগ দেওয়ার বিষয়টিও আলোচনায় রয়েছে। প্রধানমন্ত্রী প্রথমে প্রতিবেশী ভারত সফর করবেন—এমন আলোচনা ছিল ব্যাপকভাবে। কিন্তু এ যাত্রায় তিনি ভারত সফরে যাচ্ছেন না। প্রয়োজন হলে তিনি ভারত সফরে যাবেন বলে জানা গেছে। প্রধানমন্ত্রীর এ সফরে নতুন নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হবে বলে আশা করা হচ্ছে। সফরের দ্বিতীয়াংশে ২৩ থেকে ২৬ জুন প্রধানমন্ত্রী চীনে অবস্থান করবেন। দুই দেশে প্রধানমন্ত্রীর এ সফরকে কূটনৈতিকভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

যমুনা-ব্রহ্মপুত্রের উজানে চীনা বাঁধ নির্মাণের প্রসঙ্গ ধরে পদ্মা বহুমুখী প্রকল্প ও তিস্তা প্রকল্প নিয়ে আলোচনার বিষয়ে করা প্রশ্নে পররাষ্ট্রসচিব আসাদ আল সিয়াম বলেন, সমন্বিত নদী ব্যবস্থাপনা বা ‘ইন্টিগ্রেটেড ওয়াটার ম্যানেজমেন্ট’ একটি আলোচনার বিষয়। আমি ধারণা করি, সেই আলোচনা অনেক বিস্তৃত এবং সম্প্রসারিত হবে। সফরে তার বিস্তারিত আলোচনা হবে। আমরা তিস্তা প্রসঙ্গ তুলব। সে ক্ষেত্রে অন্যান্য নদী ব্যবস্থাপনা বা ‘ওয়াটার ম্যানেজমেন্ট’-এর ক্ষেত্রেও আলোচনা আরও বিস্তৃত হবে। তিস্তা মহাপরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা হবে।

এদিকে আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, প্রধানমন্ত্রী প্রথম সফরে দুই গুরুত্বপূর্ণ প্রতিবেশী ভারত ও চীনকে এড়িয়ে বেছে নিলেন মালয়েশিয়াকে। এরপর তিনি যাবেন চীনে। মালয়েশিয়াকে প্রথম সফর হিসেবে বেছে নেওয়া ভূরাজনৈতিক বিবেচনায় প্রধানমন্ত্রীর পরিপক্ব সিদ্ধান্ত।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা জানান, মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিমের আমন্ত্রণে কুয়ালালামপুর সফর করবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। সফরে দুই দেশের মধ্যে দুটি সমঝোতা স্মারক ও দুটি ‘নোট অব এক্সচেঞ্জ’ সই হতে পারে। রোববারই প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিমের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে বসবেন। দুই দেশের স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয় ছাড়াও বাণিজ্য নিয়ে আলোচনা হবে, যার মধ্যে অন্যতম আলোচনার বিষয় হিসেবে থাকবে হালাল পণ্য রপ্তানি।

গতকাল শনিবার সকালে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে প্রধানমন্ত্রীর সফর উপলক্ষে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে পররাষ্ট্রসচিব আসাদ আলম সিয়াম বলেন, প্রধানমন্ত্রী ২১-২২ জুন মালয়েশিয়া এবং ২৩-২৬ জুন চীন সফর করবেন। দুই সফরসূচি নিয়ে বিস্তারিত জানান তিনি। বেইজিং সফরে প্রধানমন্ত্রীর সফরসঙ্গীর সংখ্যা এখন পর্যন্ত ২৮ জন জানিয়ে সচিব বলেন, মোটামুটি প্রতিটি ক্ষেত্রে সফরসঙ্গীর সংখ্যা যৌক্তিক রাখার চেষ্টা করেছি।

মালয়েশিয়া সফরে হবে দুই সমঝোতা ও দুই ‘নোট অব এক্সচেঞ্জ’ সই : মালয়েশিয়া সফরের সময় ২২ জুন তারেক রহমান দেশটির প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিমের সঙ্গে একান্ত বৈঠক করবেন। পরে দুই দেশের সরকারপ্রধানের নেতৃত্বে উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধি দলের মধ্যে দ্বিপাক্ষিক বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে। সেখানে পারস্পরিক দ্বিপাক্ষিক বিষয় আলোচনা হবে। আলোচনার ইস্যু হবে বাণিজ্য, বিনিয়োগ সম্প্রসারণ, জ্বালানি সহযোগিতা, হালাল অর্থনীতি, সেমিকন্ডাক্টর শিল্প, কৃষি, শিক্ষা ও জনযোগাযোগ। এসব ক্ষেত্রে দুই দেশের মধ্যে অধিকতর সহযোগিতা স্থাপন নিয়ে আলোচনা হবে।

মালয়েশিয়ায় আরও যা হবে : পররাষ্ট্রসচিব আরও বলেন, মালয়েশিয়ার বিভিন্ন সেক্টরে নতুন বাংলাদেশি কর্মী নেওয়া, আসিয়ানে বাংলাদেশের যোগদান এবং রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসনে মালয়েশিয়ার সমর্থন চাওয়া হবে। এ সফরে মালয়েশিয়ার সঙ্গে সাংস্কৃতিক বিনিময় ও মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি নিয়ে দুটি দলিল সইয়ের সম্ভাবনা রয়েছে।

চীন সফরে ১৫-১৭টি এমওইউ-চুক্তি সই হতে পারে : সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে পররাষ্ট্রসচিব আসাদ আলম সিয়াম বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের চীন সফরকালে দুই দেশের মধ্যে ১৫ থেকে ১৭টি সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) বা চুক্তি সই হতে পারে বলে আশা করা হচ্ছে। এর মধ্যে ১৩টি সমঝোতা স্মারক, দুটি চুক্তি, একটি কর্মপরিকল্পনা এবং একটি প্রটোকল সই হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

আলোচনা হতে পারে তিস্তা প্রকল্প নিয়েও : তিস্তা প্রকল্প নিয়েও আলোচনা হতে পারে এ সফরে। তবে প্রকল্পটির ভূরাজনৈতিক স্পর্শকাতরতা ও ভারতের আপত্তির কারণে অর্থায়নের চেয়ে সম্ভাব্যতা যাচাই নিয়েই আলোচনা হওয়ার সম্ভাবনা বেশি। এ ছাড়া ইতোমধ্যে নেওয়া চীনা ঋণের সুদের হার কমানো এবং ঋণ পরিশোধের মেয়াদ ও গ্রেস পিরিয়ড বাড়ানোর জন্যও অনুরোধ করতে পারে বাংলাদেশ।

২৩ জুন ডব্লিউইএফের প্রেসিডেন্ট-সিইওর সঙ্গে বৈঠক : পররাষ্ট্রসচিব আরও জানান, মালয়েশিয়া সফর শেষে ২২ জুন সন্ধ্যায় চীনের বন্দরনগরী দালিয়ানে পৌঁছাবেন প্রধানমন্ত্রী। পরদিন ২৩ জুন বিশ্ব অর্থনৈতিক ফোরাম (ডব্লিউইএফ)-এর প্রেসিডেন্ট ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তার (সিইও) সঙ্গে তারেক রহমানের বৈঠক করার কথা রয়েছে। ডব্লিউইএফ-এর বার্ষিক সভা ‘সামার দাভোস’-এ অংশগ্রহণকারী কাজাখস্তান, মঙ্গোলিয়া, দক্ষিণ কোরিয়ার মতো দেশগুলোর সরকারপ্রধানদের সঙ্গে তারেক রহমানের দ্বিপক্ষীয় বৈঠক করার কথা রয়েছে।

পররাষ্ট্রসচিব আরও জানান, চীন সফরের প্রথম দিন বিকালে ডব্লিউইএফ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ‘ক্লাইমেট লিডারশিপ ইন শিফটিং গ্লোবাল ল্যান্ডস্কেপ’ শীর্ষক একটি অধিবেশনে প্রধান বক্তা হিসেবে বক্তব্য দেবেন। সন্ধ্যায় চীনের প্রধানমন্ত্রী লি কিয়াং আয়োজিত স্বাগত নৈশভোজে প্রধানমন্ত্রী যোগ দেবেন। ২৪ জুন সকালে প্রধানমন্ত্রী ‘সামার দাভোস’-এর ১৩তম বার্ষিক সভার মূল উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে অংশ নেবেন। এবারের এ সম্মেলনের প্রতিপাদ্য হলো ‘ইনোভেটিং অ্যাট স্কেল’। ওই দিন এ অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়ার পর দুপুরে প্রধানমন্ত্রী ট্রেনে বেইজিংয়ের উদ্দেশে রওনা দেবেন। বেইজিংয়ে তিনি রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবনে থাকবেন।

২৫ জুন সকালে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে চীনের কমিউনিস্ট পার্টির (সিপিসি) কেন্দ্রীয় কমিটির আন্তর্জাতিক বিভাগের মন্ত্রী এবং চীনের এক্সিম ব্যাংকের চেয়ারম্যানের সঙ্গে আলাদাভাবে বৈঠক হবে। বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (বিডা) ‘বাংলাদেশ ইনভেস্টমেন্ট ফোরাম’ নামে একটি বিনিয়োগ সম্মেলনের আয়োজন করেছে। সেখানে প্রধানমন্ত্রী বক্তব্য দেবেন। চীনের ব্যবসায়ীদের সামনে বাংলাদেশের বিনিয়োগ পরিবেশ ও সম্ভাবনা তুলে ধরবেন। বাংলাদেশে বিনিয়োগের জন্য আহ্বান জানাবেন।

বিকালে চীনের গ্রেট হলে দেশটির প্রধানমন্ত্রী লি কিয়াংয়ের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে যোগ দেবেন তারেক রহমান। সেখানে বাংলাদেশের স্বার্থসংশ্লিষ্ট সব বিষয় এবং ভবিষ্যতে এ সম্পর্ক আরও কীভাবে এগিয়ে নেওয়া যায়, সে বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা হবে।

এদিকে প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির বলেন, বাংলাদেশ এখন থেকে বিদেশ সফরের সিদ্ধান্ত নিজস্বভাবে নেবে। কোন দেশ কখন সফর করা হবে, তা সম্পূর্ণভাবে জাতীয় স্বার্থ ও দ্বিপাক্ষিক প্রয়োজনের ওপর নির্ভর করবে। সরকার এখন একটি পূর্ণাঙ্গ সার্বভৌম পররাষ্ট্রনীতি অনুসরণ করছে, যেখানে বৈশ্বিক অংশীদারদের সঙ্গে সম্পর্ক গড়ে তোলা হচ্ছে বাস্তব প্রয়োজন ও অগ্রাধিকারের ভিত্তিতে, কোনো বাহ্যিক চাপের কারণে নয়।

আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশ্লেষকদের মতে, দক্ষিণ এশিয়ার পরিবর্তিত ভূরাজনীতিতে এ সফর শুধু দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক নয়, ঢাকার ভবিষ্যৎ কৌশলগত অবস্থানের জন্যও গুরুত্বপূর্ণ। এমন এক সময়ে এ সফর হচ্ছে, যখন দক্ষিণ এশিয়ায় নতুন করে প্রভাব বিস্তারের প্রতিযোগিতা তীব্র হচ্ছে। বিশেষ করে প্রতিবেশী ভারত চায় না বাংলাদেশ কোনোভাবেই চীনের দিকে ঝুঁকে পড়ুক। তিস্তার বিষয়ে তো নয়ই। তবে বাংলাদেশ খুঁজছে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি, অবকাঠামো উন্নয়ন এবং বহুমুখী কূটনৈতিক অংশীদারত্বের নতুন পথ।

কেকে/এলএ


আরও সংবাদ   বিষয়:  শ্রমবাজার   তিস্তা  
মতামত লিখুন:
Loading...
Loading...
সম্পাদক ও প্রকাশক : আহসান হাবীব
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : বসতি হরাইজন, ১৭-বি, বাড়ি-২১ সড়ক-১৭, বনানী, ঢাকা-১২১৩
ফোন : বার্তা-০২২২২২৭৬০৩৭, মফস্বল-০২২২২২৭৬০৩৬, বিজ্ঞাপন ও সার্কুলেশন-০২২২২২৭৬০২৯, ০১৭৮৭৬৯৭৮২৩, ০১৮৫৩৩২৮৫১০ (বিকাশ)
ই-মেইল: kholakagojnews@gmail.com, kholakagojadvt@gmail.com

© 2025 Kholakagoj
🔝
close