প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে গড়ে ওঠা ভাবমূর্তি, সামাজিক মর্যাদা এবং সাধারণ মানুষের মধ্যে তার ব্যাপক গ্রহণযোগ্যতাকে প্রশ্নবিদ্ধ করার উদ্দেশ্যে সম্প্রতি কিছু অসমর্থিত ও প্রমাণবিহীন প্রচারণা চালানো হচ্ছে বলে প্রতীয়মান হচ্ছে। বিশেষ করে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলমকে প্রধানমন্ত্রীর ‘ঘনিষ্ঠ বন্ধু’ হিসেবে উপস্থাপনের যে চেষ্টা দেখা যাচ্ছে, তা বাস্তবতা ও প্রাসঙ্গিক তথ্যের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।
তারেক রহমানের শিক্ষা ও রাজনৈতিক বিকাশ ঘটেছে ঢাকাকেন্দ্রিক পরিবেশে। অন্যদিকে মীর শাহে আলমের বেড়ে ওঠা ও শিক্ষাজীবন সম্পূর্ণ ভিন্ন প্রেক্ষাপটে। পাশাপাশি তাদের বয়সের মধ্যেও উল্লেখযোগ্য ব্যবধান রয়েছে। ফলে তাদের মধ্যে ব্যক্তিগত বন্ধুত্বের সম্পর্ক রয়েছে—এমন দাবি প্রতিষ্ঠার জন্য সুস্পষ্ট ও নির্ভরযোগ্য তথ্য থাকা অপরিহার্য।
বগুড়ার মানুষ হিসেবে আমরা জানি, তারেক রহমান একজন জাতীয় পর্যায়ের নেতা। অন্যদিকে মীর শাহে আলম জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে দলীয় দায়িত্ব পালনকারী একজন রাজনৈতিক কর্মী ও সংগঠক। সে বিবেচনায় তাদের সম্পর্ককে নেতা-কর্মীর সম্পর্ক হিসেবে দেখাই অধিকতর বাস্তবসম্মত। এ অবস্থায় হঠাৎ করে তাদের ব্যক্তিগত বন্ধুত্বের গল্প প্রচার করার পেছনে কী উদ্দেশ্য কাজ করছে, তা নিয়ে স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্নের সৃষ্টি হয়।
বিশেষ করে প্রধানমন্ত্রীর গুরুত্বপূর্ণ চীন সফরের প্রাক্কালে এ ধরনের প্রচারণা কেন সামনে আনা হলো, কারা এর পেছনে রয়েছে এবং এর মাধ্যমে কী রাজনৈতিক বা ব্যক্তিগত স্বার্থ হাসিলের চেষ্টা করা হচ্ছে—এসব বিষয় গুরুত্বের সঙ্গে খতিয়ে দেখা প্রয়োজন।
একই সঙ্গে কোনো গোষ্ঠী বা স্বার্থান্বেষী মহল সরকারের ভেতর থেকে কিংবা বাইরে থেকে এ ধরনের বিভ্রান্তিকর তথ্য প্রচারে জড়িত কি না, তাও তদন্তসাপেক্ষ বিষয়।
গণমাধ্যমের স্বাধীনতা অবশ্যই গুরুত্বপূর্ণ। তবে জনস্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়ে তথ্য প্রকাশের ক্ষেত্রে দায়িত্বশীলতা, তথ্যের সত্যতা যাচাই এবং পেশাগত মানদণ্ড অনুসরণ করাও সমানভাবে জরুরি। জনপরিসরে প্রচারিত যেকোনো তথ্যের ক্ষেত্রে সত্যতা ও নির্ভরযোগ্যতা নিশ্চিত করা হলে অপ্রয়োজনীয় বিতর্ক ও বিভ্রান্তি এড়ানো সম্ভব হবে।
রাষ্ট্র, সরকার এবং গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানসমূহের স্বার্থে তথ্যভিত্তিক সাংবাদিকতা ও দায়িত্বশীল রাজনৈতিক চর্চাই হওয়া উচিত আমাদের সবার প্রত্যাশা।
লেখক: উপাচার্য, নওগাঁ বিশ্ববিদ্যালয়।
কেকে/ এমএস