রোববার, ১২ জুলাই ২০২৬,
২৮ আষাঢ় ১৪৩৩
বাংলা English
ই-পেপার

রোববার, ১২ জুলাই ২০২৬
শিরোনাম: বন্যা পরিস্থিতিতে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের জরুরি নির্দেশনা      ভাঙ্গায় বাসচাপায় নিহত পাঁচ      ১৬ জুলাই পর্যন্ত চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের এইচএসসি পরীক্ষা স্থগিত      রাতের মধ্যে চট্টগ্রামসহ ১৯ অঞ্চলে ঝড়ের আভাস      হামের উপসর্গ নিয়ে আরও তিন শিশুর মৃত্যু      দেশে ২৫ হজার মিডওয়াইফ নিয়োগ দেয়া হবে: প্রধানমন্ত্রী      জেলা-উপজেলা হাসপাতালের সক্ষমতা বাড়াতে কাজ করছে সরকার: প্রধানমন্ত্রী      
জাতীয়
পরিবেশ অধিদপ্তরের শব্দদূষণ নিয়ন্ত্রণ প্রকল্পের সমাপনী কর্মশালা অনুষ্ঠিত
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ: রোববার, ২১ জুন, ২০২৬, ৭:১৫ পিএম
ছবি: খোলা কাগজ

ছবি: খোলা কাগজ

পরিবেশ অধিদপ্তর কর্তৃক বাস্তবায়নাধীন শব্দদূষণ নিয়ন্ত্রণে সমন্বিত ও অংশীদারিত্বমূলক প্রকল্পের সমাপনী কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

রোববার (২১ জুন) সকালে পরিবেশ অধিদপ্তরের অডিটোরিয়ামে এ কর্মশালার আয়োজন করা হয়।

কর্মশালায় প্রধান অতিথি ছিলেন পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী আবদুল আউয়াল মিন্টু।

তিনি শব্দদূষণের বিষয়টি শিক্ষা কারিকুলামে অন্তর্ভুক্ত করা প্রয়োজন বলে মন্তব্য করেন এবং একই সাথে শব্দদূষণ নিয়ন্ত্রণে সকলের সহযোগিতা কামনা করেন। 

কর্মশালায় বিশেষ অতিথি ছিলেন একই মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. রায়হান কাওছার, বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআরটিএ) পরিচালক (অপারেশন) মীর আহমেদ তারিকুল ওমর, পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব ড. নুরুন নাহার, ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) অতিরিক্ত কমিশনার (ট্রাফিক) মো. আনিছুর রহমান এবং পরিবেশ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক মো. জিয়াউল হক। 

কর্মশালায় সভাপতিত্ব করেন পরিবেশ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ড. লুৎফর রহমান। 

মো. রায়হান কাওছার বলেন, ‘শব্দদূষণের কারণে মানুষের স্বাস্থ্য ঝুঁকি বাড়ছে। শব্দদূষণ শুধু মানুষের না জীববৈচিত্রেরও মারাত্মক ক্ষতি সাধন করছে।’

মো. আনিছুর রহমান বলেন, ‘এই প্রকল্পের আওতায় শব্দদূষণ নিয়ন্ত্রণ বিধিমালা ২০২৫ জারির পর থেকে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ মোট ২৯৪৭৮টি মামলা করে ১ কোটি ৯২ লক্ষ টাকা জরিমানা আদায় করেছে।’

লুৎফর রহমান প্রকল্পটি ভালোভাবে সমাপ্ত করার জন্য প্রকল্প টিমকে ধন্যবাদ জানান এবং শব্দদূষণ নিয়ন্ত্রণে সরকারের পাশাপাশি সবাইকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান।

প্রকল্পের আওতায় পরিচালিত ৬৪ জেলায় শব্দের মানমাত্রা বিষয়ক জরিপ প্রতিবেদনের মোড়ক উন্মোচন করা হয়। 

প্রকল্পটি ২০২০ সালের জানুয়ারি হতে শুরু হয়ে ২০২৬ সালের জুন পর্যন্ত সমাপ্তির জন্য নির্ধারিত রয়েছে। এই প্রকল্পটির মোট বরাদ্দ ছিল ৫,৪৮৪.৮৯ লক্ষ টাকা। ৩টি প্রধান উদ্দেশ্য নিয়ে এ প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করা হয়েছে- প্রথম উদ্দেশ্য- জনস্বাস্থ্য ও পরিবেশ উন্নয়নে শব্দদূষণ নিয়ন্ত্রণের লক্ষ্যে শব্দদূষণ নিয়ন্ত্রণ বিধিমালা ২০০৬ বাস্তবায়নে অংশীজনদের দক্ষতা ও জনসচেতনতা বৃদ্ধি। দ্বিতীয় উদ্দেশ্য- শব্দদূষণ নিয়ন্ত্রণে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের লক্ষ্যে দূষণের মাত্রা, উৎস ও এর প্রভাব সম্পর্কিত তথ্য সংগ্রহ ও সংরক্ষণ কার্যক্রম বাস্তবায়ন করা। তৃতীয় উদ্দেশ্য- শব্দদূষণ নিয়ন্ত্রণে পরীক্ষামূলক কার্যক্রমের (পাইলটিং) মাধ্যমে কার্যকরী ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠিত করা।

এ উদ্দেশ্যগুলো বাস্তবায়নের লক্ষ্যে মোট ১ লাখ ৩৯ হাজার ৬৪০ জনকে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে। বিভিন্ন অংশীজন নিয়ে মোট ১৬টি কর্মশালা আয়োজন করা হয়েছে। বিআরটিএ, ইসলামিক ফাউন্ডেশন ও ডিএমপির কর্মকর্তাদের নিয়ে ট্রেনিং ফর ট্রেনার (টিওটি) প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে। বিশেষকরে ড্রাইভারদের জন্য দিনব্যাপী বিআরটিএর প্রশিক্ষণে শব্দদূষণের জন্য আলাদা সেশন পরিচালনা করা হয়েছে। 

প্রতি বছর প্রকল্পের আওতায় সারাদেশে আন্তর্জাতিক শব্দসচেতনতা দিবস পালন করা হয়েছে। শব্দদূষণ নিয়ন্ত্রণে জনসচেতনতা বৃদ্ধির জন্য প্রচারণামূলক কাজের মধ্যে প্রকল্পের আওতায় ২৩টি টিভি চ্যানেলে ৭ হাজার ৬২৩ মিনিট এবং ২টি এফএম রেডিওতে সচেতনতামূলক বিজ্ঞাপন প্রচার করা হয়েছে। বিভিন্ন সময়ে দেশের জাতীয় দৈনিকে ৩০০টি শব্দসচেতনতামূলক রঙিন বিজ্ঞাপন প্রকাশ করা হয়েছে। 

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুক, ইউটিউব, ইনস্টাগ্রাম, নিউজ পোর্টাল ও মোবাইল মেসেজের মাধ্যমেও শব্দদূষণ নিয়ন্ত্রণে ব্যাপক প্রচারণা চালানো হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রচারণার অংশ হিসেবে শব্দদূষণ নিয়ন্ত্রণ বিধিমালার উপর অনলাইনে কুইজ প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়েছে যেখানে বিভিন্ন কলেজ বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রায় আশি হাজার শিক্ষার্থী  অংশগ্রহণ করেছে। প্রচারণার অংশ হিসেবে প্রতিটি জেলা শহরে ২টি করে মোট ১২৮টি শব্দসচেতনতামূলক বিলবোর্ড স্থাপন করা হয়েছে এবং ঢাকার গুরুত্বপূর্ণ রোড ডিভাইডারে ২১০টি সাইনবোর্ড স্থাপন করা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের দক্ষতা উন্নয়নের জন্য প্রকল্পের আওতায় ৩০০টি সাউন্ড মিটার ক্রয় করে পরিবেশ অধিদপ্তরের বিভাগীয় ও জেলা অফিস, বিআরটিএ ও ডিএমপি-কে বিতরণ করা হয়েছে।

দেশের ৬৪ জেলায় শব্দের মানমাত্রা পরিমাপ সংক্রান্ত জরিপ সম্পন্ন করা হয়েছে এবং একটি সংরক্ষিত তথ্যভান্ডার প্রস্তুত করা হয়েছে, যা ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা প্রণয়ন ও গবেষণা কার্যক্রমে সহায়ক হিসেবে ব্যবহৃত হবে। 

প্রকল্পের আওতায় গুলশান, বনানী, বারিধারা ও নিকেতন এলাকাগুলোকে ‘নীরব এলাকা’ হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে। একই সঙ্গে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের সামনের সড়কের লো মেরিডিয়ান হোটেল হতে উত্তরা স্কলাস্টিকা সেকেন্ডারি স্কুল পর্যন্ত এলাকাকেও নীরব এলাকা হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। নীরব এলাকা বাস্তায়নে ডিএমপি, বিআরটিএ, ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের সমন্বয়ে ঢাকায় সমন্বিত অভিযান চালানো হয়েছে। 

এছাড়াও গুলশান, বনানী, বারিধারা, নিকেতন, ধানমণ্ডি সোসাইটি এবং বিভিন্ন পরিবেশবাদী সংগঠন ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ক্লাবসমূহকে সম্পৃক্ত করে ৭০০টিরও বেশি জনসচেতনতামূলক ক্যাম্পেইন পরিচালনা করা হয়েছে।

এ কার্যক্রম বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে সংশ্লিষ্ট সংস্থা বিশেষ করে বিআরটিএ, ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন এবং ডিএমপি-কে সম্পৃক্ত করা হয়েছে। পাশাপাশি নীরব এলাকার পরিধি সম্প্রসারণের লক্ষ্যে সংশ্লিষ্ট সকল সংস্থা সমন্বিতভাবে কার্যক্রম পরিচালনা করছে।

পাশাপাশি আইন প্রয়োগ জোরদার করতে আড়াই হাজার মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করা হয়েছে। প্রকল্পকে যুগোপযোগী ও কার্যকর করার লক্ষ্যে ‘শব্দদূষণ নিয়ন্ত্রণ বিধিমালা ২০০৬ হালনাগাদ করে শব্দদূষণ বিধিমালা ২০২৫’ প্রণয়ন করা হয়েছে।

কেকে/এমএ


আরও সংবাদ   বিষয়:  পরিবেশ অধিদপ্তর   শব্দদূষণ নিয়ন্ত্রণ প্রকল্প   সমাপনী কর্মশালা  
মতামত লিখুন:
Loading...
Loading...

জাতীয়- এর আরো খবর

সম্পাদক ও প্রকাশক : আহসান হাবীব
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : বসতি হরাইজন, ১৭-বি, বাড়ি-২১ সড়ক-১৭, বনানী, ঢাকা-১২১৩
ফোন : বার্তা-০২২২২২৭৬০৩৭, মফস্বল-০২২২২২৭৬০৩৬, বিজ্ঞাপন ও সার্কুলেশন-০২২২২২৭৬০২৯, ০১৭৮৭৬৯৭৮২৩, ০১৮৫৩৩২৮৫১০ (বিকাশ)
ই-মেইল: [email protected], [email protected]

© 2025 Kholakagoj
🔝
close