দুই দিন ধরে মেয়েকে ফিরে পাওয়ার আশায় পথে পথে ছুটেছেন বাবা-মা। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছিল ছোট্ট সেঁজুতির হাসিমাখা মুখ। দেশজুড়ে মানুষ প্রার্থনা করেছিলেন, হারিয়ে যাওয়া শিশুটি যেন সুস্থ অবস্থায় পরিবারের কোলে ফিরে আসে। কিন্তু সব অপেক্ষা, সব প্রার্থনা আর সব আশার অবসান ঘটিয়ে পুকুর থেকে উদ্ধার করা হলো আট বছর বয়সী সেঁজুতির নিথর দেহ।
সোমবার (২২ জুন) সকালে টাঙ্গাইলের সখীপুর উপজেলা পরিষদের পুকুর থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
নিহত সেঁজুতি পৌরসভার ৭ নম্বর ওয়ার্ডের মন্দিরপাড়া এলাকার মাছ ব্যবসায়ী ফালু চন্দ্র মালুর মেয়ে। সে সখীপুর আদর্শ শিশু কানন প্রি-ক্যাডেট স্কুলের দ্বিতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল। শনিবার বিকেল ৪টার পর থেকে সে নিখোঁজ হয়। পরিবারের সদস্যরা সম্ভাব্য সব জায়গায় খোঁজাখুঁজি করেও তার কোনো সন্ধান পাননি।
মেয়েকে ফিরে পাওয়ার আশায় শনিবার রাতেই সখীপুর থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন বাবা।
পরিবারের দাবি, রোববার রাতে একটি ফোনকল আসে। কলকারী সেঁজুতিকে ফিরিয়ে দেওয়ার কথা বলে তিন লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করে। কিন্তু শেষ পর্যন্ত পরিবারের আদরের মেয়েটি আর জীবিত ফিরে আসেনি।
সোমবার (২২ জুন) সকাল সাড়ে ৮টার দিকে স্থানীয়রা উপজেলা পরিষদের পুকুরে একটি শিশুর মরদেহ ভাসতে দেখে পুলিশকে খবর দেন। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহটি উদ্ধার করে। পরিবারের সদস্যরা সেটি সেঁজুতির মরদেহ হিসেবে শনাক্ত করেন।
শোকে ভেঙে পড়া বাবা ফালু চন্দ্র মালু কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, “আমার ছোট্ট মেয়েটিকে মেরে পুকুরে ফেলে রাখা হয়েছে। আমি আমার মেয়ের হত্যাকারীদের দৃষ্টান্তমূলক বিচার চাই।”
সখীপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. হেলাল উদ্দিন জানান, মরদেহটি উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। ঘটনার প্রকৃত রহস্য উদ্ঘাটনে তদন্ত চলছে এবং আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
কেকে/ এমএস