নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠন ছাত্রলীগের ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলা শাখার এক বছর মেয়াদি নতুন কমিটি ঘোষণা করা হয়েছে। তবে কমিটি ঘোষণার পরপরই তা নিয়ে শুরু হয়েছে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা। কমিটি প্রকাশের কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই দুই সহ-সভাপতি পদত্যাগের ঘোষণা দিয়েছেন। একই সঙ্গে কমিটি গঠন নিয়ে অবমূল্যায়ন, আর্থিক লেনদেন এবং বিবাহিত ও অছাত্রদের পদায়নের অভিযোগ তুলেছেন কয়েকজন নেতা।
শুক্রবার (৩১ জুলাই) রাতে প্রকাশিত কমিটিতে উল্লেখ করা হয়, ৩০ জুলাই বাংলাদেশ ছাত্রলীগের ময়মনসিংহ জেলা শাখার সভাপতি মোহাম্মদ আল-আমিন ও সাধারণ সম্পাদক হুমায়ূন কবিরের স্বাক্ষরিত বিজ্ঞপ্তিতে ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলা ছাত্রলীগের এক বছর মেয়াদি নতুন কমিটি অনুমোদন দেওয়া হয়। এতে ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি শেখ অলিউল্লাহ রাসেলকে ফের সভাপতি এবং আলমগীর কবির সায়মনকে সাধারণ সম্পাদক করা হয়। এছাড়া সহ-সভাপতি, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক, সাংগঠনিক সম্পাদকসহ বিভিন্ন পদে বিপুলসংখ্যক নেতাকর্মীকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়।
কমিটি ঘোষণার কিছু সময়ের মধ্যেই সহ-সভাপতি পদ থেকে পদত্যাগের ঘোষণা দিয়ে একটি স্ট্যাটাস দেন ঈশ্বরগঞ্জ পৌর ছাত্রলীগের সাবেক সিনিয়র যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক ইমরান হাসান সিজান।
তিনি বলেন, ‘আমাকে সম্পূর্ণ অবমূল্যায়ন করা হয়েছে। দলের সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারকদের কথা বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে যে কমিটি করা হয়েছে, তা সম্পূর্ণ অগ্রহণযোগ্য। আমি আমার ব্যক্তিত্ব ও আত্মসম্মান রক্ষার্থে এবং শুভাকাঙ্ক্ষীদের আকাঙ্ক্ষা পূরণে পদত্যাগ করেছি। আগামী দিনে আমি শেখ হাসিনার কর্মী হয়ে যেকোনো পরিস্থিতি মোকাবিলা করতে বদ্ধপরিকর। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের আদর্শে কমিটেড ছিলাম, আছি এবং আমৃত্যু থাকব।’
একইভাবে সহ-সভাপতি পদে থাকা অর্ণব হোম চৌধুরীও ফেসবুকে দেওয়া পোস্টে পদত্যাগের ঘোষণা দেন।
তিনি দাবি করেন, তিনি বিবাহিত হওয়ায় সাংগঠনিক নীতিমালা অনুযায়ী ছাত্রলীগের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত থাকার সুযোগ নেই।
এছাড়া তার অজান্তেই ভুলক্রমে নতুন কমিটিতে নাম অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে বলে অভিযোগ করে অর্ণব হোম চৌধুরী কমিটি থেকে স্বেচ্ছায় পদত্যাগ করেন।
এদিকে প্রকাশিত কমিটিতে সভাপতি পদপ্রত্যাশী ছাত্রলীগ নেতা রফিকুল ইসলাম অভিযোগ করে স্ট্যাটাসে বলেন, ‘৫ আগস্টের পর থেকে যারা আত্মগোপনে ছিলেন এবং সংগঠনের কোনো কর্মসূচিতে অংশ নেননি, তাদের মধ্যে কয়েকজনকে আর্থিক লেনদেনের মাধ্যমে পদ দেওয়া হয়েছে। ফলে দীর্ঘদিন ধরে সংগঠনের জন্য কাজ করা ত্যাগী নেতাকর্মীরা মূল্যায়ন পাননি। এছাড়া নবগঠিত কমিটিতে বিবাহিত ও অছাত্র ব্যক্তিদেরও পদ দেওয়া হয়েছে, যা সংগঠনের নীতিমালার পরিপন্থী।’
কমিটি ঘোষণার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও এ নিয়ে নানা সমালোচনা দেখা গেছে। অনেকেই কমিটিতে বিবাহিত, অছাত্র ও বিতর্কিত ব্যক্তিদের অন্তর্ভুক্তির অভিযোগ তুলে ফেসবুক স্ট্যাটাসে কমিটি পুনর্বিবেচনার দাবি জানিয়েছেন।
শেখ অলিউল্লাহ রাসেল নিজের ফেসবুক পেজে দেওয়া স্ট্যাটাসে বলেন, ‘পদটা বড় নয়, দায়িত্বটাই বড়। আবারও ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতির দায়িত্ব পেয়ে আমি গর্বিত। এ জন্য ময়মনসিংহ জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি মো. আল-আমিন ভাইয়ের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানাই। তার দিকনির্দেশনা ও সহযোগিতা ছাড়া এটি সম্ভব হতো না। ঈশ্বরগঞ্জের প্রতিটি ছাত্রের পাশে ছিলাম, আছি এবং ভবিষ্যতেও থাকব।’
নবগঠিত কমিটিতে আর্থিক লেনদেন, বিবাহিত ও অছাত্রদের পদায়নসহ উত্থাপিত অভিযোগের বিষয়ে ময়মনসিংহ জেলা ছাত্রলীগ বা নবগঠিত ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের কোন বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
কেকে/এমএ