কক্সবাজার শহরের কলাতলীতে সরকারি জায়গার অবৈধ স্থাপনা সরাতে একদিন সময় বেঁধে দিয়েছে জেলা প্রশাসন। এ সময়ের মধ্যে নিজ উদ্যেগে স্থাপনা না সরালে বড়সড় উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করা হবে বলে জানিয়েছেন জেলা প্রশাসনের অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট তাসনীম জাহান।
জানা যায়, কলাতলীর ৪ দশমিক ৫০ একরের বিশাল একটি সরকারি জমি দখল করে স্থাপনা নির্মাণ করছেন একটি চক্র। সেখানে ইতিমধ্যে ১৯ টি দোকানের কাজ চলমান রয়েছে। দোকানগুলো বুঝিয়ে দিতে দিনে ও রাতে কাজ চলমান রয়েছে। এরআগে আরও ২০ টি দোকান ঘর মোটা অংকের টাকা নিয়ে ভাড়া দোওয়া হয়। দখলের বিষয়টি বিভিন্ন গণমাধ্যমে ঢালাওভাবে সংবাদ প্রচারের পর নজরে আসে প্রশাসনের।
গতকাল মঙ্গলবার অভিযুক্তদের বরাবরে নোটিশ প্রদান করা হয়। নোটিশে একদিন সময় বেঁধে দিয়েছেন প্রশাসন।
নোটিশে বলা হয়েছে, সরকারি জমিতে স্থাপনা নির্মাণ করা আইনগতভাবে অপরাধ। আগামী চব্বিশ ঘন্টার মধ্যে নিজ উদ্যেগে স্থাপনা না সরালে উচ্ছেদসহ অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
নোটিশের বিষয়ে জানতে চাইলে অভিযুক্ত ব্যক্তি কামরুল জানান, জেলা প্রশাসনের একটি নোটিশ হাতে পেয়েছি। নোটিশ পাওয়ার পর স্থাপনার কাজ বন্ধ রয়েছে। বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) বিকালের মধ্যে সকল স্থাপনা নিজ উদ্যেগে সরিয়ে নেওয়া হবে জানান তিনি।
জেলা প্রশাসক মো. আ. মান্নান বলেন, ‘ইতিমধ্যে এ বিষয়টি আমরা পর্যবেক্ষণে রেখেছি এবং গণমাধ্যমের মারফতে বিষয়টি জানার পরে সেখানে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে তাদেরকে সতর্ক করা হয়েছে ও উক্ত জায়গা থেকে নির্মাণাধীন মার্কেট ১ দিনের মধ্যে নিজ উদ্যোগে সরানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া বাতিলকৃত সরকারি প্লটে যেকোনো ধরনের স্থাপনা নির্মাণ সম্পূর্ণ বেআইনি। এখন এ জায়গা সরকারের। সুতরাং সরকারি সম্পত্তি রক্ষায় প্রশাসন জিরো টলারেন্স নীতি অনুসরণ করবে।
এর আগে ১৭ আগস্ট শহরের পর্যটন জোনের সুগন্ধায় প্রায় ৩ একরের মতো সরকারি খাস জমি উচ্ছেদ অভিযান চালিয়ে দখলমুক্ত করেছিল জেলা প্রশাসন। যার জমির বাজার মূল্যে ২০০ কোটি টাকা।
২০২৫ সালে ৪ জুন সুগন্ধায় সাচ্চিদানন্দ সেন গুপ্ত নামের এক ব্যক্তির দখলে থাকা ২ দশমিক ৩৯ শতক সরকারি জমি দখলমুক্ত করেছিল প্রশাসন। যেখানে ১১০ টি দোকান গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়। এ ছাড়া চারপাশে দেওয়া টিনের ঘেরাও উচ্ছেদ করা হয়েছিল। উচ্ছেদ হওয়া জমির মূল্যে প্রায় কয়েকশো কোটি টাকা।
কেকে/এআই