কৃষকের মুখে হাসি ফোটাতে এবং কৃষি উৎপাদন বাড়ানোর লক্ষ্যে দিনাজপুরের খানসামা উপজেলায় ২০২৫-২৬ অর্থবছরের কৃষি প্রণোদনা কর্মসূচির আওতায় ৩ হাজার ৫০০ ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক কৃষকের মাঝে বিনামূল্যে বীজ, চারা ও রাসায়নিক সার বিতরণ করা হয়েছে। পাশাপাশি সরকারের নির্বাচনি অঙ্গীকার বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির আওতায় বিভিন্ন প্রজাতির গাছের চারাও বিতরণ করা হয়।
সোমবার (২২ জুন) সকালে উপজেলা কৃষক প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের আয়োজনে এ কর্মসূচির উদ্বোধন ও বিতরণ কার্যক্রম অনুষ্ঠিত হয়।
এ উপলক্ষে সকাল থেকেই উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়ন থেকে কৃষক-কৃষাণীরা প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে এসে উপস্থিত হন। অনেকের হাতে ছিল আবেদনপত্র, আবার অনেকেই আগ্রহভরে অপেক্ষা করছিলেন নিজেদের প্রাপ্য কৃষি উপকরণ গ্রহণের জন্য।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা ইয়াসমিন আক্তার। প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) কামরুজ্জামান সরকার। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জেলা বিএনপির অর্থনৈতিক বিষয়ক সম্পাদক ও ভাবকী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান রবিউল আলম তুহিন।
এছাড়াও অনুষ্ঠানে বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তা, উপজেলা বিএনপি ও এর অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মী, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি এবং বিভিন্ন এলাকার কৃষক-কৃষাণীরা উপস্থিত ছিলেন।
উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, খরিপ-২ মৌসুমে উফশী রোপা আমন ধান, হাইব্রিড কাঁচামরিচ, শীতকালীন পেঁয়াজ বীজ (কন্দ) এবং গ্রীষ্মকালীন পেঁয়াজ উৎপাদন বৃদ্ধির লক্ষ্যে এই প্রণোদনা কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। এর আওতায় কৃষকদের মাঝে উন্নতমানের বীজ, রাসায়নিক সার ও বিভিন্ন প্রজাতির গাছের চারা বিনামূল্যে বিতরণ করা হয়।
অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, দেশের খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কৃষকের ভূমিকা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। কৃষকদের উৎপাদন ব্যয় কমাতে এবং অধিক ফলন নিশ্চিত করতে সরকার নিয়মিতভাবে বিভিন্ন প্রণোদনা কর্মসূচি বাস্তবায়ন করছে। কৃষকদের আধুনিক কৃষি প্রযুক্তির সঙ্গে পরিচিত করা এবং উৎপাদন বৃদ্ধি করাই এ ধরনের উদ্যোগের মূল লক্ষ্য।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কামরুজ্জামান সরকার বলেন, কৃষি আমাদের অর্থনীতির অন্যতম প্রধান ভিত্তি। কৃষকদের সহযোগিতা ছাড়া দেশের উন্নয়ন সম্ভব নয়। সরকার কৃষকদের পাশে রয়েছে এবং ভবিষ্যতেও বিভিন্ন সহায়তা কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা ইয়াসমিন আক্তার বলেন, ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক কৃষকদের কৃষি উৎপাদনে আরও উৎসাহিত করতেই এ প্রণোদনা কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। সঠিকভাবে এসব বীজ ও সার ব্যবহার করা হলে উৎপাদন বৃদ্ধি পাবে এবং কৃষকরা আর্থিকভাবে লাভবান হবেন।
কৃষকরা জানান, বিনামূল্যে বীজ ও সার পাওয়ায় তাদের চাষাবাদের খরচ অনেকটাই কমে যাবে। বিশেষ করে বর্তমান সময়ে কৃষি উপকরণের দাম বৃদ্ধি পাওয়ায় এ ধরনের সহায়তা তাদের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তারা সরকারের এই উদ্যোগকে স্বাগত জানান এবং ভবিষ্যতেও এ ধরনের সহযোগিতা অব্যাহত রাখার দাবি জানান।
অনুষ্ঠান শেষে পর্যায়ক্রমে উপজেলার ৩ হাজার ৫০০ ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক কৃষকের হাতে বীজ, চারা ও রাসায়নিক সার তুলে দেওয়া হয়। কৃষকদের মুখে তখন ছিল স্বস্তির হাসি। অনেকেই মনে করছেন, এই প্রণোদনা শুধু কৃষি উৎপাদন বাড়াতেই সহায়তা করবে না, বরং কৃষকদের অর্থনৈতিক অবস্থার উন্নয়নেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
স্থানীয়দের মতে, কৃষকদের পাশে সরকারের এমন উদ্যোগ গ্রামীণ অর্থনীতিকে আরও শক্তিশালী করবে। পাশাপাশি বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায়ও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।
কৃষি সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন, সময়মতো বিতরণ করা এসব বীজ, চারা ও সার ব্যবহার করে চলতি মৌসুমে উপজেলায় কৃষি উৎপাদন আরও বৃদ্ধি পাবে এবং কৃষকদের জীবনে নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচিত হবে।
কেকে/ এমএস