নীলফামারীর জলঢাকা উপজেলার কৈমারী সড়কের নেকবক্ত এলাকায় নবনির্মিত একটি ব্রিজের কাজ শেষ হলেও দীর্ঘ প্রায় এক বছরেও তৈরি হয়নি সংযোগ সড়ক। ফলে প্রায় চার কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত এ ব্রিজটি জনসাধারণের কোনো কাজেই আসছে না। সংযোগ সড়কের অভাবে তিস্তা নদী তীরবর্তী চার ইউনিয়নের লক্ষাধিক মানুষ প্রতিনিয়ত চরম দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন।
সরেজমিন এবং স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, জলঢাকা টু কৈমারী সড়কের নেকবক্ত এলাকায় অবস্থিত ‘সৈন্যাসির পুলথ নামক পুরনো ব্রিজটি বেশ কয়েক বছর ধরে ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় ছিল। জনসাধারণের যাতায়াত নির্বিঘ্ন করতে পুরাতন ব্রিজটির স্থানে নতুন একটি ব্রিজ নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়।
এলাকাবাসী জানান, ২০২৩ সালের মার্চ মাসে এই নতুন ব্রিজের নির্মাণ কাজ শুরু হয় এবং দীর্ঘ সময় পর ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারিতে কাজ সম্পন্ন হয়। ব্রিজটির মূল কাঠামো দৃশ্যমান এবং কাজ শেষ হওয়ার প্রায় ১ বছর পার হতে চললেও দুই পাশে মাটি ভরাট বা সংযোগ সড়ক না করায় এটি এখন পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে আছে।
গুরুত্বপূর্ণ এই সড়কটি দিয়ে প্রতিদিন ডাউয়াবাড়ী, গোলমুন্ডা, শৌলমারী ও কৈমারী—এই চার ইউনিয়নের মানুষ জেলা ও উপজেলা শহরে যাতায়াত করেন। কিন্তু ব্রিজে ওঠার কোনো ব্যবস্থা না থাকায় স্থানীয় বাসিন্দারা, বিশেষ করে স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থী, কৃষক ও রোগীরা চরম বিপাকে পড়েছেন। কৃষিপণ্য আনা-নেওয়া বা জরুরি চিকিৎসার জন্য রোগীদের হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার ক্ষেত্রে চরম ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে।
ভুক্তভোগী এলাকাবাসী ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘ব্রিজ তৈরি হলো কিন্তু আমরা এর ওপর দিয়ে হাঁটতে পারছি না। এক বছর ধরে কাজ শেষ হয়ে পড়ে আছে, অথচ সংযোগ সড়ক না করায় আমাদের আগের মতোই কষ্ট করতে হচ্ছে। আমরা দ্রুত এই সমস্যার সমাধান চাই।’
এ বিষয়ে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, নতুন ব্রিজটিতে সংযোগ সড়ক নির্মাণের জন্য প্রয়োজনীয় ভূমির মধ্যে প্রায় ৭৫ শতাংশ জমি অধিগ্রহণে একটু সময় লাগছে। তবে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ আশা প্রকাশ করেছেন যে, ভূমি অধিগ্রহণের জটিলতা কেটে খুব দ্রুত সংযোগ সড়কের কাজ শুরু করা হবে।
ভুক্তভোগী চার ইউনিয়নের আপামর জনসাধারণ অবিলম্বে জমি অধিগ্রহণ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে সংযোগ সড়কটি নির্মাণ এবং ব্রিজটি চলাচলের উপযোগী করার জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সুদৃষ্টি ও জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
কেকে/ এমএস