মঙ্গলবার, ২৩ জুন ২০২৬,
৯ আষাঢ় ১৪৩৩
বাংলা English
ই-পেপার

মঙ্গলবার, ২৩ জুন ২০২৬
শিরোনাম: একযোগে ১৭ ডেপুটি-সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেলের পদত্যাগ      বিকল লঞ্চ থেকে ৯৯৯-এ ফোন, ৮০ যাত্রী উদ্ধার      সেপ্টেম্বর থেকে স্থানীয় সরকার নির্বাচন শুরু হতে পারে: ডা. জাহেদ      সালমান শাহর লাশ উত্তোলনের আদেশ বাতিল      সুশাসন ও সংস্কার ছাড়া বাজেট বাস্তবায়ন কঠিন      দেশজুড়ে কঠোর সতর্কতা      চীনের দালিয়ানে পৌঁছেছেন প্রধানমন্ত্রী      
দেশজুড়ে
কিশোরগঞ্জে তিন দিনব্যাপী ফল মেলা শুরু
সাব্বির হোসেন, কিশোরগঞ্জ
প্রকাশ: মঙ্গলবার, ২৩ জুন, ২০২৬, ৫:৫২ পিএম
ছবি: প্রতিনিধি

ছবি: প্রতিনিধি

আম, কাঁঠাল, লিচু, জাম, জামরুল, সফেদা, পেয়ারা, বরই, কামরাঙা, জলপাইসহ দেশীয় নানা মৌসুমি ফলের সুগন্ধে মুখর হয়ে উঠেছে কিশোরগঞ্জ জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর প্রাঙ্গণ। সেই সঙ্গে স্থান পেয়েছে বিলুপ্তপ্রায় দেশীয় ফল ও আধুনিক উচ্চ ফলনশীল বিদেশি জাতের ফল। ফলের উৎপাদন বৃদ্ধি, নিরাপদ ও পুষ্টিকর খাদ্য গ্রহণে জনসচেতনতা সৃষ্টি এবং হারিয়ে যেতে বসা দেশীয় ফলের ঐতিহ্য ফিরিয়ে আনার লক্ষ্য নিয়ে কিশোরগঞ্জে শুরু হয়েছে তিনদিনব্যাপী ফল মেলা।

‘করব মোরা ফল চাষ, সংরক্ষণ করব বারো মাস’—এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে সোমবার (২৩ জুন) সকালে জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর প্রাঙ্গণে মেলার উদ্বোধন করেন কিশোরগঞ্জ জেলা প্রশাসক সোহানা নাসরিন।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক ড. সাদিকুর রহমান, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মো. ইশতিয়াক ইমন, কিশোরগঞ্জ পৌরসভার প্রশাসক জেবুন নাহার শাম্মী, জেলা জামায়াতে ইসলামীর আমীর অধ্যাপক মো. রমজান আলী, কৃষি বিভাগের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তা, বিভিন্ন উপজেলার কৃষক ও ফলচাষি, কৃষি উদ্যোক্তা, শিক্ষার্থী এবং বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ।

উদ্বোধনের পর অতিথিরা মেলার বিভিন্ন স্টল ঘুরে দেখেন এবং প্রদর্শিত ফল, উন্নত জাতের চারা, আধুনিক ফল চাষ প্রযুক্তি ও সংরক্ষণ পদ্ধতি সম্পর্কে উদ্যোক্তাদের সঙ্গে কথা বলেন। দর্শনার্থীদের ভিড়ে দিনভর প্রাণবন্ত হয়ে ওঠে পুরো মেলা প্রাঙ্গণ।

মেলায় জেলার ১৩টি উপজেলার ফলচাষি ও কৃষি উদ্যোক্তারা তাদের উৎপাদিত বিভিন্ন দেশীয় ও বিদেশি জাতের ফল প্রদর্শন করছেন। স্টলগুলোতে আম, কাঁঠাল, লিচু, পেয়ারা, ড্রাগন ফল, মাল্টা, কমলা, লেবু, সফেদা, আনারস, জলপাই, কামরাঙা, বরই, বেল, আতা, ডেউয়া, করমচা, লটকনসহ অসংখ্য দেশীয় ফলের পাশাপাশি বিলুপ্তপ্রায় বিভিন্ন প্রজাতির ফলও দর্শনার্থীদের আকৃষ্ট করছে।

শুধু ফল প্রদর্শনীই নয়, মেলায় আধুনিক ফল চাষাবাদের প্রযুক্তি, উচ্চ ফলনশীল ফলের চারা, রোগবালাই দমন, পরিচর্যার কৌশল এবং ফল সংরক্ষণের বিভিন্ন পদ্ধতিও তুলে ধরা হচ্ছে। কৃষি কর্মকর্তারা আগ্রহী কৃষকদের বিভিন্ন পরামর্শ দিচ্ছেন এবং বাণিজ্যিক ফল চাষে উদ্বুদ্ধ করছেন।

আয়োজকরা জানান, দেশে ফল উৎপাদন উল্লেখযোগ্য হারে বাড়লেও সংরক্ষণের অভাবে প্রতিবছর বিপুল পরিমাণ ফল নষ্ট হয়ে যায়। এ কারণে উৎপাদন বৃদ্ধির পাশাপাশি ফল সংরক্ষণ, অপচয় রোধ এবং পুষ্টিকর খাদ্য গ্রহণে মানুষকে সচেতন করাই এ মেলার অন্যতম উদ্দেশ্য। পাশাপাশি নতুন প্রজন্মকে হারিয়ে যেতে বসা দেশীয় ফলের সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দিয়ে ঐতিহ্য সংরক্ষণেও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

কৃষি বিভাগের কর্মকর্তারা জানান, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলায় সহনশীল ফল চাষ সম্প্রসারণ, আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার এবং বাণিজ্যিকভাবে ফল উৎপাদন বৃদ্ধি কৃষকের আয় বাড়াতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। একই সঙ্গে দেশের পুষ্টি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতেও ফল চাষের বিকল্প নেই। তাই কৃষকদের ফল চাষে আরও আগ্রহী করে তুলতে এবং সাধারণ মানুষের মধ্যে ফলভিত্তিক খাদ্যাভ্যাস গড়ে তুলতে এ ধরনের মেলার আয়োজন অব্যাহত থাকবে।

মেলায় অংশ নেওয়া ফলচাষি মো. আব্দুল করিম বলেন, ‘মেলায় এসে নিজের উৎপাদিত ফল প্রদর্শনের সুযোগ পেয়েছি। এতে আমাদের ফলের পরিচিতি যেমন বাড়ছে, তেমনি নতুন ক্রেতা ও উদ্যোক্তাদের সঙ্গে যোগাযোগের সুযোগও তৈরি হচ্ছে। এ ধরনের আয়োজন নিয়মিত হলে ফলচাষিরা আরও উৎসাহিত হবেন।’

মেলা দেখতে আসা দর্শনার্থী রাবেয়া আক্তার বলেন, ‘এক জায়গায় এত ধরনের দেশীয় ও বিদেশি ফল আগে কখনও দেখিনি। বিশেষ করে বিলুপ্তপ্রায় দেশীয় ফলগুলো দেখে খুব ভালো লেগেছে। নতুন প্রজন্মের জন্য এ ধরনের আয়োজন অত্যন্ত প্রয়োজন।’

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক ড. সাদিকুর রহমান বলেন, “নিরাপদ ফল চাষ ও সংরক্ষণ—বারো মাস ফলের প্রাপ্যতা নিশ্চিত করা” এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে সরকার জাতীয় পর্যায়ে ফল মেলা আয়োজন করেছে, যার ধারাবাহিকতায় কিশোরগঞ্জেও এই মেলার আয়োজন করা হয়েছে। এই মেলার উদ্দেশ্য হলো দেশীয় ফলের উৎপাদন বৃদ্ধি এবং কৃষকের উৎপাদিত ফল সঠিকভাবে সংরক্ষণ করে সারা বছর বাজারজাত ও চাহিদা পূরণ নিশ্চিত করা।

তিনি আরও জানান, মেলায় প্রদর্শিত সব ফলই কিশোরগঞ্জের কৃষকদের উৎপাদিত, যা অত্যন্ত উৎসাহব্যঞ্জক। বাঙ্গি থেকে শুরু করে কাঠবাদামসহ বিভিন্ন দেশীয় ফল এখানে প্রদর্শিত হচ্ছে। দেশীয় ফলের উৎপাদন আরও বাড়াতে ভবিষ্যতেও এ ধরনের কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।

ফল মেলা পরিদর্শন শেষে জেলা প্রশাসক সোহানা নাসরিন বলেন, এখানে এসে আমরা দেখতে পেয়েছি, তৈকর, ননী ফলসহ অনেক বিলুপ্তপ্রায় ও লোকজ ফল, যেগুলোর অনেকটাই আমরা আগে চিনতাম না। এই মেলার মাধ্যমে এসব ফল সম্পর্কে মানুষের জানার সুযোগ তৈরি হয়েছে এবং তাদের পুষ্টিগুণ সম্পর্কেও সচেতনতা বৃদ্ধি পাচ্ছে।

তিনি আরও বলেন, আমাদের দেশীয় ফলের চাষাবাদকে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে দেওয়া এবং মানুষকে পুষ্টি সম্পর্কে সচেতন করাই এই আয়োজনের মূল লক্ষ্য। মেলার প্রতিপাদ্য বিষয় ‘করবো মোরা ফল চাষ, সংরক্ষণ করবো বারো মাস’—যা অত্যন্ত সময়োপযোগী।

তিনি জানান, কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের এই আয়োজন অত্যন্ত সুন্দর ও সফল হয়েছে। জেলার বিভিন্ন উপজেলা থেকে কৃষকরা এখানে অংশ নিয়েছেন। পাশাপাশি নার্সারিগুলো ফলদ, বনজ ও শোভাবর্ধনকারী গাছ প্রদর্শন ও বিক্রি করছে, যা পরিবেশ ও অর্থনীতির জন্য ইতিবাচক।

তিনদিনব্যাপী এই ফল মেলা প্রতিদিন সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত সবার জন্য উন্মুক্ত থাকবে। আয়োজকদের আশা, জেলার বিভিন্ন প্রান্ত থেকে বিপুলসংখ্যক মানুষ মেলায় এসে দেশীয় ফল সম্পর্কে জানবেন, ফল চাষে উদ্বুদ্ধ হবেন এবং নিরাপদ ও পুষ্টিকর খাদ্য গ্রহণে আরও সচেতন হয়ে উঠবেন।

কেকে/ এমএস


মতামত লিখুন:
Loading...
Loading...

দেশজুড়ে- এর আরো খবর

সম্পাদক ও প্রকাশক : আহসান হাবীব
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : বসতি হরাইজন, ১৭-বি, বাড়ি-২১ সড়ক-১৭, বনানী, ঢাকা-১২১৩
ফোন : বার্তা-০২২২২২৭৬০৩৭, মফস্বল-০২২২২২৭৬০৩৬, বিজ্ঞাপন ও সার্কুলেশন-০২২২২২৭৬০২৯, ০১৭৮৭৬৯৭৮২৩, ০১৮৫৩৩২৮৫১০ (বিকাশ)
ই-মেইল: kholakagojnews@gmail.com, kholakagojadvt@gmail.com

© 2025 Kholakagoj
🔝
close