রাজধানীর মোহাম্মদপুরে ব্র্যাকের উদ্যোগে মানবপাচার ও অভিবাসী চোরাচালান প্রতিরোধে জনসচেতনতা বৃদ্ধি ও সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের সক্ষমতা উন্নয়নের লক্ষ্যে ‘ক্যাপাসিটি বিল্ডিং কর্মশালা’ অনুষ্ঠিত হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) সকালে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) অঞ্চল-৫’-এর কনফারেন্স রুমে ব্র্যাকের মাইগ্রেশন প্রোগ্রামের আওতায় এ কর্মশালার আয়োজন করা হয়।
অস্ট্রেলিয়ার সরকারের অর্থায়নে পরিচালিত ‘ম্যাস ক্যাম্পেইন টু কমব্যাট হিউম্যান ট্রাফিকিং অ্যান্ড পিপল স্মাগলিং’ প্রকল্পের আওতায় এ কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন ডিএনসিসির অঞ্চল-৫’-এর আঞ্চলিক নির্বাহী কর্মকর্তা মো. খয়বর রহমান।
কর্মশালায় উপস্থিত ছিলেন ডিএনসিসির ২৯ ও ৩১ নম্বর ওয়ার্ডের সচিব মো. ইফতেয়ারুল ইসলাম, ৩২ নম্বর ওয়ার্ডের সচিব জাহিদ ফেরদৌস, ৩৩ ও ৩৪ নম্বর ওয়ার্ডে রসচিব জয়ন্ত রায়, সাংবাদিক মো. নিজাম উদ্দিন, মোহাম্মদপুর থানা পুলিশসহ স্থানীয় ব্যক্তিবর্গ।
কর্মশালায় বক্তারা বলেন, ‘মানবপাচার ও অভিবাসী চোরাচালান প্রতিরোধে জনসচেতনতার কোনো বিকল্প নেই। ওয়ার্ড ও মহল্লা পর্যায়ে ব্যাপক প্রচারণা, নিরাপদ অভিবাসন সম্পর্কে সঠিক তথ্য প্রদান এবং স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও প্রশাসনের সমন্বিত উদ্যোগের মাধ্যমে মানবপাচারের ঝুঁকি অনেকাংশে কমিয়ে আনা সম্ভব।’
বক্তারা আরও বলেন, ‘বিদেশে কর্মসংস্থানের প্রলোভনে পড়ে অনেক মানুষ প্রতারিত হচ্ছেন। তাই বৈধ ও নিরাপদ অভিবাসন নিশ্চিত করতে জনগণকে সচেতন হওয়ার পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের কার্যকর ভূমিকা প্রয়োজন।’
কর্মশালায় অংশগ্রহণকারীরা মানবপাচার ও অভিবাসী চোরাচালান প্রতিরোধে নিজেদের অভিজ্ঞতা ও মতামত তুলে ধরেন এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের সচেতনতামূলক কার্যক্রম আরও জোরদারের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
কর্মশালায় জেলা কর্মসংস্থান ও জনশক্তি অফিসের উপ-সহকারী পরিচালক হেলাল উদ্দিন আহমেদ বলেন, ‘মানুষ বিদেশে যাওয়ার জন্য পাসপোর্ট থেকে শুরু করে ভিসার জন্য প্রত্যেকটা কাজই দালালের ওপর নির্ভর করে। কিন্তু প্রতিটি জেলায় ডেমো অফিস আছে। বিদেশে যাওয়ার আগে ডেমো অফিসে যোগাযোগ করে প্রতারিত হওয়া থেকে অনেকেই বেঁচে যেতো পারে। কিন্তু তা অনেকেই করছে না। আমরা অনুরোধ করবো বিদেশে যাওয়ার আগে অবশ্যই জেলা কর্মসংস্থান ও ডেমো অফিসে যেন তারা যোগাযোগ করেন। এতে তারাই প্রতারণার হাত থেকে বেঁচে যাবে।’
কর্মশালায় মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ব্র্যাক মাইগ্রেশন প্রোগ্রামের সেন্টার ফর সেফ মাইগ্রেশন ঢাকার সেন্টার ম্যানেজার মুন্নাজা মাহিন।
বক্তারা মানব পাচার ও অনিরাপদ অভিবাসনের ঝুঁকি কমাতে তৃণমূল পর্যায়ে সচেতনতা বৃদ্ধি এবং সমন্বিতভাবে কাজ করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
উল্লেখ্য, বিশ্বের সর্ববৃহৎ উন্নয়ন সংস্থা ব্র্যাক নিরাপদ অভিবাসন নিশ্চিতকরণ ও মানবপাচার প্রতিরোধে সারা দেশেই সচেতনতামূলক কাজ করে যাচ্ছে। ব্র্যাকের মাইগ্রেশন প্রোগ্রাম ২০০৬ সাল থেকে নিরাপদ অভিবাসন নিশ্চিতকরণ ও মানবপাচার প্রতিরোধে কাজ করে আসছে।
কেকে/ এমএস