ঢাকা উত্তর সিটির পল্লবীতে দুই সপ্তাহের ব্যবধানে ফের গুলির ঘটনা ঘটেছে। এবার চলন্ত গাড়ি থেকে সন্ত্রাসীদের ছোঁড়া গুলিতে এক পথচারী নারীসহ দুইজন আহত হয়েছেন।
পুলিশের দাবি, মাদক কারবারকে কেন্দ্র করে পূর্ববিরোধের জেরে এ হামলার ঘটনা ঘটেছে।
পল্লবী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হাসান বশীর বলেন, ‘শুক্রবার (৭ আগস্ট) সন্ধ্যা পৌনে ছয়টার দিকে পল্লবীর মিল্লাত ক্যাম্পের দুই নম্বর গলিতে চলন্ত গাড়ি থেকে আলমগীর হোসেন (৪৫) নামে ব্যক্তিকে নিশানা করে তিন রাউন্ড গুলি ছোঁড়া হয়। এ সময় রাস্তা পার হওয়াকালীন জোৎস্না বেগম নামে নারীও গুলিবিদ্ধ হন।’
তিনি আরও বলেন ‘ঘটনার পর পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে এবং আশপাশের সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহের পাশাপাশি জড়িতদের শনাক্তে কাজ শুরু করেছে।’
পল্লবী থানার এক পুলিশ কর্মকর্তা গণমাধ্যমকে জানান, প্রাথমিকভাবে তারা জানতে পেরেছেন শুক্রবার বিকাল সাড়ে ৫টার দিকে সেকশন-১১’-এর ব্লক-বি, লাইন-২ এলাকায় ইমনের চায়ের দোকানের সামনে মাদক কারবারকে কেন্দ্র করে পূর্ববিরোধের জেরে এ হামলার ঘটনা ঘটেছে।
পুলিশের কাছে থাকা তথ্যানুযায়ী, এলাকার চিহ্নিত সন্ত্রাসী হিসেবে পরিচিত ‘ল্যাংড়া রুবেল’ ও তার সহযোগী বাপ্পা একটি ব্যক্তিগত গাড়িতে করে এসে আলমগীরকে লক্ষ্য করে গুলি চালায়। আলমগীরের মাথা ও পেটে দুইটি গুলি লাগে। হামলার পর দ্রুত পালিয়ে যাওয়ার সময় ছোড়া আরেকটি গুলিতে পথচারী জ্যোৎস্না বেগমের ডান পায়ে গুলি লাগে।
আহত আলমগীরকে প্রথমে স্থানীয় একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানকার চিকিৎসক তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠান। তিনি সেখানে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। অপর আহত জ্যোৎস্না বেগমকে কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
ওই পুলিশ কর্মকর্তা আরও বলেন, ঘটনাস্থল থেকে তিনটি গুলির খোসা উদ্ধার করা হয়েছে। আশপাশের সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করা হয়েছে এবং সেগুলো পর্যালোচনা করা হচ্ছে। হামলায় ব্যবহৃত একটি ব্যক্তিগত গাড়ির তথ্যও তদন্তকারীদের হাতে এসেছে। জড়িতদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে এবং পল্লবী থানায় মামলা প্রক্রিয়াধীন।
এদিকে ঘটনাস্থলে থাকা এক পুলিশ সদস্য বলেন, আলমগীরের চাচা পরিচয় দেওয়া আশিক নামে একজন তাকে ঢামেক হাসপাতালে নিয়ে গেছেন।
এ ব্যাপারে আশিক নামে ওই ব্যক্তির সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, ‘আমি ডাক্তারের সঙ্গে কথা বলতেছি। এখন কিছু বলতে পারবো না।’
এর পূর্বে, গেল মাসে কাফরুল এলাকায় ভাড়াটে শ্যুটারদের গুলিতে যুবদল কর্মী ইউসুফ নিহত হন। ওই ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) ও মিরপুর থানা পুলিশ দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে আটজনকে গ্রেপ্তার করে।
গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন চঞ্চল, জিহাদ মোল্লা, জিয়ারুল মোল্লা, মাসুম বিল্লাহ, নাহিদ হাসান, আবির হাওলাদার, আলী হোসেন ও শাফিন আহমেদ।
ঘটনার তদন্তে নেমে ডিবি জানিয়েছিল, কাফরুল থানা যুবদলের সদস্যসচিব হাফিজুল ইসলাম বাবুকে হত্যার জন্য একই থানার স্বেচ্ছাসেবক দলের যুগ্ম আহ্বায়ক হাফিজুর রহমান হাফিজ ওরফে সিএনজি হাফিজ শ্যুটার নিয়োগ করেছিলেন। তবে হামলায় বাবু বেঁচে গেলেও গুলিতে নিহত হন যুবদল কর্মী ইউসুফ। আহত হন সবজি বিক্রেতা নালাম সরদার ও মনির হোসেন।
ডিবির ভাষ্যানুযায়ী, পুরো হামলা বাস্তবায়নে ঢাকার বাইরে থেকে আনা শ্যুটারদের ২৫ লাখ টাকায় ভাড়া করা হয়েছিল। গ্রেপ্তারদের মধ্যে চারজন সরাসরি গুলি চালান, আর বাকিরা সহযোগীর ভূমিকা পালন করেন।
ওই সময় ঢাকা মেট্রোপলিটন (ডিএমপি) অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার ও ডিবি প্রধান শফিকুল ইসলাম বলেছিলেন, ‘স্থানীয় আধিপত্য, ময়লার টেন্ডার, ফুটপাতের ব্যবসায়, জমি দখল এবং আসন্ন কাউন্সিলর নির্বাচনকে কেন্দ্র করে বিরোধের জেরেই হাফিজুল ইসলাম বাবুকে হত্যার পরিকল্পনা করা হয়েছিল। চুক্তির অংশ হিসেবে ২৫ লাখ টাকার একটি অংশ অগ্রিম পরিশোধ করা হয় এবং শ্যুটারদের থাকা-খাওয়াসহ অন্যান্য ব্যয়ও বহন করা হয়।’
‘প্রথম দফায় গত ২৯ জুন বাবুকে হত্যার পরিকল্পনা করা হলেও অস্ত্রে গুলি ভরার সময় মিসফায়ার হওয়ায় হামলা চালানো সম্ভব হয়নি। পরে ২২ জুলাই অভিযুক্তরা আবার ঢাকায় এসে মিরপুর-২ এলাকার একটি হোটেলে ওঠে। পরদিন রাতে বাবুর কার্যালয়ের সামনে অবস্থান নিয়ে হামলার প্রস্তুতি নেয়।’
তবে শুক্রবার পল্লবীর হামলার নেপথ্যের কারণ সম্পর্কে এখনও নিশ্চিত হতে পারেনি পুলিশ। ডিএমপির মিরপুর বিভাগের উপকমিশনার মোস্তাক সরকার বলেন, ‘আমরা শ্যুটারকে শনাক্ত করতে পেরেছি। দুই সপ্তাহের ব্যবধানে সে আবারও এ ধরনের ঘটনা ঘটিয়েছে। খুব শিগগিরই তাকে আইনের আওতায় আনা হবে।’
কেকে/এমএ