মঙ্গলবার, ৩০ জুন ২০২৬,
১৬ আষাঢ় ১৪৩৩
বাংলা English
ই-পেপার

মঙ্গলবার, ৩০ জুন ২০২৬
শিরোনাম: যুদ্ধবিরতির পরও গাজায় থামেনি ইসরাইলের হামলা, বাড়ছে হতাহত      জাতীয় সংসদে পাস হলো অর্থবিল-২০২৬      লালমনিরহাটের পাঁচ উপজেলার মানুষ পানিবন্ধি      ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গুতে আরও ৫ জনের মৃত্যু      এনবিআরের নতুন চেয়ারম্যান আহসান হাবিব      ‘যেকোনো মূল্যে তিস্তা ব্যারেজ মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা হবে’      একুশে পদকপ্রাপ্ত শিল্পী মুস্তাফা মনোয়ার আর নেই      
খোলাকাগজ স্পেশাল
সেবাখাতে দুর্নীতির মহোৎসব
আলতাফ হোসেন
প্রকাশ: শুক্রবার, ২৬ জুন, ২০২৬, ৯:২১ এএম
ছবি : খোলা কাগজ

ছবি : খোলা কাগজ

দেশের সেবা খাতে দুর্নীতি ও ঘুষের দৌরাত্ম্য উদ্বেগজনক মাত্রায় পৌঁছেছে। সরকারি-বেসরকারি বিভিন্ন সেবা নিতে গিয়ে ২০২৫ সালে ৮১ দশমিক ৬ শতাংশ পরিবার দুর্নীতির শিকার হয়েছে। অন্তর্বর্তী সরকারের এক বছরে বিভিন্ন সেবা খাতে ঘুষ লেনদেনের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ১২ হাজার ৬৩৩ কোটি ২০ লাখ টাকা। পাসপোর্ট, বিআরটিএ, বিচারিক, ভূমি ও আইনশৃঙ্খলা-সংশ্লিষ্ট সেবায় দুর্নীতির প্রকোপ সবচেয়ে বেশি। ডিজিটালাইজেশনের উদ্যোগ সত্ত্বেও সেবাগ্রহীতাদের বড় অংশ এখনো ঘুষ, দালালচক্র, হয়রানি ও প্রাতিষ্ঠানিক অনিয়মের শিকার হচ্ছেন। বিশেষ করে নিম্ন আয়ের মানুষ ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর ওপর দুর্নীতির আর্থিক ও সামাজিক চাপ আরও তীব্র হয়ে উঠেছে।

গতকাল বৃহস্পতিবার রাজধানীর ধানমন্ডিতে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের (টিআইবি) কার্যালয়ে ‘সেবা খাতে দুর্নীতি : জাতীয় খানা জরিপ ২০২৫’ শীর্ষক এক জরিপের ফলাফলে এ তথ্য তুলে ধরা হয়।

জরিপের ফলাফলে দেখা যায়, ২০২৩ সালের তুলনায় ২০২৫ সালে দুর্নীতি ও ঘুষের শিকার খানার পরিমাণ বেড়েছে যথাক্রমে ১৫.১ শতাংশ ও ২৫.২ শতাংশ। একই সঙ্গে ২০২৫ সালে জাতীয় পর্যায়ে প্রাক্কলিত মোট ঘুষ লেনদেনের পরিমাণ ১২ হাজার ৬৩৩ দশমিক ২ কোটি টাকা, যা ২০২৩ সালের তুলনায় ১৫.৯ শতাংশ বেশি। এ বিপুল ঘুষের অর্থ ২০২৪-২৫ অর্থবছরের সংশোধিত জাতীয় বাজেটের ১.৫৮ শতাংশ এবং জিডিপির ০.২৩ শতাংশ। এবার সর্বোচ্চ দুর্নীতির শিকার হতে হয়েছে যথাক্রমে পাসপোর্ট, বিআরটিএ ও বিচারসংশ্লিষ্ট সেবা নিতে গিয়ে।

টিআইবি বলছে, কিছু সেবা খাতে আংশিক ডিজিটাইজেশন বাস্তবায়ন সত্ত্বেও দুর্নীতি ও ঘুষের উচ্চ হার নির্দেশ করে যে, এ ব্যবস্থা এখনো দুর্নীতি-সহায়ক রয়ে গেছে। সেবামূলক প্রতিষ্ঠানে মিশ্র পদ্ধতির জটিলতা ও দালালের ওপর নির্ভরতার কারণে ৯৮.১ শতাংশ খানা ঘুষ দিতে বাধ্য হচ্ছে—যেখানে ৯১.২ শতাংশ ক্ষেত্রেই সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা-কর্মচারীরাই সরাসরি ঘুষ আদায়ের সঙ্গে জড়িত। ঘুষ দেওয়ার প্রধান কারণ হিসেবে ৮১.৫ শতাংশ খানা জানিয়েছে, ‘ঘুষ না দিলে সেবা পাওয়া যায় না।’

জরিপের ফলাফল অনুযায়ী, খানাপ্রতি গড় ঘুষের পরিমাণ ২০২৩ সালে ছিল ৫ হাজার ৬৮০ টাকা, যা ২০২৫ সালে কমে দাঁড়িয়েছে ৫ হাজার ১২৪ টাকা। তবে স্বাস্থ্যসেবায় টিকিট সংগ্রহ ও কৃষি খাতে সার প্রাপ্তির মতো সেবায় ঘুষের বা নিয়মবহির্ভূত অর্থের লেনদেনের হার দ্বিগুণ থেকে প্রায় পাঁচ গুণ পর্যন্ত বৃদ্ধি পেয়েছে। এসব সেবায় কম অঙ্কের কিন্তু উচ্চসংখ্যক ঘুষ লেনদেন ব্যাপকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। অন্যদিকে শিক্ষা খাতে দুর্নীতি বৃদ্ধির প্রধান কারণ নিয়মবহির্ভূত অর্থের লেনদেনের হারের উল্লেখযোগ্য বৃদ্ধি, যা প্রায় ১৫ শতাংশ থেকে ৩৫ শতাংশে পৌঁছেছে। এ ছাড়া ঘুষের হার উল্লেখযোগ্যভাবে না বাড়লেও অন্যান্য অনিয়মের বৃদ্ধি এনজিও খাতে সামগ্রিক দুর্নীতি বাড়িয়েছে। বিশেষ করে দায়িত্বে অবহেলা ২২.৭ শতাংশ থেকে ৩৬.৫ শতাংশ এবং অসদাচরণ ও দুর্ব্যবহার ১৫.২ শতাংশ থেকে ২৩.২ শতাংশে উন্নীত হওয়ায় সার্বিক দুর্নীতির হার ৬.৫ শতাংশ থেকে ১৩.১ শতাংশে পৌঁছেছে।

খাতওয়ারি দুর্নীতির চিত্র

টিআইবির জরিপে দেশের বিভিন্ন সেবা খাতে দুর্নীতির উদ্বেগজনক চিত্র উঠে এসেছে। দুর্নীতির হারে শীর্ষে রয়েছে পাসপোর্ট সেবা, যেখানে ৮৪ দশমিক ৪ শতাংশ সেবাগ্রহীতা দুর্নীতির শিকার হয়েছেন। এরপরই রয়েছে বিআরটিএ, যেখানে দুর্নীতির হার ৭৯ দশমিক ৩ শতাংশ। বিচারিক সেবায় ৭১ দশমিক ৩ শতাংশ, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সংস্থার সেবায় ৬৯ দশমিক ৪ শতাংশ এবং ভূমি সেবায় ৬৬ দশমিক ৩ শতাংশ মানুষ দুর্নীতির শিকার হয়েছেন।

তবে ঘুষের পরিমাণের দিক থেকে সবচেয়ে ব্যয়বহুল খাত বিচারিক সেবা। এ খাতে খানাপ্রতি গড় ঘুষের পরিমাণ ২৪ হাজার ৬৯১ টাকা। সরকারি ও বেসরকারি ব্যাংকিং খাতে গড় ঘুষ ১৯ হাজার ৩২২ টাকা, ভূমি সেবায় ১১ হাজার ৩১০ টাকা এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সংস্থার ক্ষেত্রে ৭ হাজার ৪০৭ টাকা।

দরিদ্র মানুষের ওপর দুর্নীতির বাড়তি চাপ

প্রতিবেদনে দেখা গেছে, দুর্নীতির বোঝা সবচেয়ে বেশি বহন করছে নিম্ন আয়ের মানুষ। যেখানে একটি পরিবার গড়ে তাদের বার্ষিক আয়ের ১ দশমিক ৭ শতাংশ ঘুষ হিসেবে ব্যয় করে, সেখানে দারিদ্র্যসীমার নিচে থাকা পরিবারগুলোর ক্ষেত্রে দুর্নীতিপ্রবণ পাঁচটি খাতে এই হার ৫ দশমিক ১ শতাংশে পৌঁছেছে।

পাসপোর্ট সেবা গ্রহণ করতে গিয়ে দরিদ্র পরিবারগুলোকে তাদের মাসিক আয়ের প্রায় ৭৮ শতাংশ ব্যয় করতে হয়, যার মধ্যে ৩৭ শতাংশই ঘুষ হিসেবে দিতে হয়। একইভাবে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সেবা নিতে গিয়ে তাদের মাসিক আয়ের গড়ে ৩৪ শতাংশ পর্যন্ত ঘুষ দিতে হয়।

যেভাবে ও যাদের মাধ্যমে চলে দুর্নীতি

জরিপে অংশগ্রহণকারী ৮১ দশমিক ৫ শতাংশ মানুষ জানিয়েছেন, ‘ঘুষ না দিলে সেবা পাওয়া যায় না।’ এটি দেশের সেবা খাতে দুর্নীতির প্রাতিষ্ঠানিক রূপ নেওয়ার ইঙ্গিত দেয়। ঘুষ আদায়ের ক্ষেত্রে সবচেয়ে বেশি জড়িত সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা, যাদের সম্পৃক্ততার হার ৯১ দশমিক ২ শতাংশ। এ ছাড়া রাজনৈতিক ব্যক্তি বা জনপ্রতিনিধি (১৮ দশমিক ৯ শতাংশ) এবং দালালদের (১৮ দশমিক ১ শতাংশ) মাধ্যমেও উল্লেখযোগ্য পরিমাণ ঘুষ লেনদেন হয়ে থাকে।

ঘুষের বাইরে সাধারণ মানুষ দায়িত্ব পালনে অবহেলা, হয়রানি, দুর্ব্যবহার এবং স্বজনপ্রীতির মতো নানা ধরনের অনিয়মেরও শিকার হচ্ছেন। জরিপ অনুযায়ী, ৫৫ দশমিক ৭ শতাংশ মানুষ দায়িত্বে অবহেলা, ৩৮ দশমিক ৮ শতাংশ হয়রানি বা দুর্ব্যবহার এবং ৮ দশমিক ৮ শতাংশ স্বজনপ্রীতির শিকার হয়েছেন।

কৃষি ও শিক্ষা খাতে দুর্নীতির উল্লম্ফন

পেশাভিত্তিক বিশ্লেষণে সবচেয়ে বেশি দুর্নীতির শিকার হয়েছেন কৃষির সঙ্গে সম্পৃক্ত পরিবারগুলো। এদের মধ্যে ৮৭ দশমিক ৬ শতাংশ পরিবার দুর্নীতির অভিজ্ঞতার কথা জানিয়েছে। উদ্বেগজনক বিষয় হলো, কৃষি খাতে ঘুষের হার ২০২৩ সালের তুলনায় ২০২৫ সালে ৫৯৪ দশমিক ৪ শতাংশ বেড়েছে। মূলত সার ও অন্যান্য কৃষি উপকরণ পেতে কৃষকদের ব্যাপক ঘুষ দিতে হচ্ছে। একইভাবে শিক্ষা খাতেও দুর্নীতির হার ১০১.৯ শতাংশ বেড়েছে, যার প্রধান কারণ হিসেবে মাসিক বেতন ও ভর্তি ফি প্রদানে অনিয়মকে দায়ী করা হয়েছে।

অভিযোগ ব্যবস্থায় আস্থার সংকট

জরিপে দেখা গেছে, দুর্নীতির শিকার হলেও অধিকাংশ মানুষ অভিযোগ জানানোর ক্ষেত্রে অনাগ্রহী। দুর্নীতির শিকার হওয়া পরিবারগুলোর মধ্যে মাত্র ১০ দশমিক ৩ শতাংশ অভিযোগ দায়েরের চেষ্টা করেছে। তবে যারা অভিযোগ করেছেন, তাদের মধ্যে ৫১ শতাংশ জানিয়েছেন যে, সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান অভিযোগের বিষয়ে কোনো ধরনের ব্যবস্থা নেয়নি।

অভিযোগ না করার কারণ হিসেবে ২৭ দশমিক ৮ শতাংশ মানুষ জানিয়েছেন, অভিযোগ করেও কোনো ফল পাওয়া যায় না বলে তারা মনে করেন। অন্যদিকে ৩২ দশমিক ৩ শতাংশ মানুষ সম্ভাব্য হয়রানি, প্রতিশোধমূলক আচরণ বা নেতিবাচক পরিস্থিতির আশঙ্কায় অভিযোগ করতে চান না। জরিপের এ তথ্য দুর্নীতি প্রতিরোধে বিদ্যমান অভিযোগ ব্যবস্থার প্রতি সাধারণ মানুষের আস্থার ঘাটতিকে স্পষ্টভাবে তুলে ধরে।

সংবাদ সম্মেলনে টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, ‘দুর্নীতি সকলের জন্যই ক্ষতিকর, তবে একইসঙ্গে বৈষম্যমূলক। যারা ক্ষমতার অপব্যবহার করেন তারা দুর্নীতির ফলে লাভবান হলেও, এর নেতিবাচক প্রভাব পড়ে দরিদ্র ও নিম্ন আয়ের মানুষের ওপর। জরিপেও উঠে এসেছে, গ্রামাঞ্চলে মানুষ বেশি দুর্নীতির শিকার হয়েছেন এবং নিম্ন আয়ের মানুষের ওপর দুর্নীতির বোঝা তুলনামূলকভাবে উচ্চতর আয়ের খানার তুলনায় প্রায় তিন গুণ বেশি। এ ছাড়া বেশ কয়েকটি সেবা খাতে নারী, আদিবাসী, প্রতিবন্ধী ব্যক্তি ও সুবিধাবঞ্চিত জনগোষ্ঠী তুলনামূলকভাবে বেশি দুর্নীতির শিকার হচ্ছেন ও তাদের ন্যায্য প্রাপ্য সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। সার্বিকভাবে আর্থসামাজিক ক্ষতির পাশাপাশি দুর্নীতির বৈষম্যমূলক প্রভাব নিরসনে তাই এ ব্যাধির প্রতিরোধ ও প্রতিকার করা অপরিহার্য।’

ড. জামান আরও বলেন, ‘বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠান হিসেবে দুর্নীতি দমন কমিশনের দায়িত্ব দুর্নীতি প্রতিরোধ ও নিয়ন্ত্রণ করা। জরিপে আমরা দেখেছি, সিংহভাগ উত্তরদাতা বলেছেন, দুর্নীতির প্রতিকার হয় না, বরং ব্যাপকতা বাড়ছে। প্রতিকার ও নিয়ন্ত্রণ করার জন্য যে প্রতিষ্ঠানটি, সেটিকে স্বাধীন ও কার্যকর করতে হবে। জরিপের উত্তরদাতাদের মধ্যে ২৯.৫ শতাংশ মানুষ সংস্থাটি সম্পর্কে জানলেও, দুদকে অভিযোগ করেছেন মাত্র ০.৩ শতাংশ। অর্থাৎ দুদকের ওপর জনগণের আস্থার ঘাটতি রয়েছে, যা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ইঙ্গিতবহ। প্রতিষ্ঠানটির দক্ষতা ও গ্রহণযোগ্যতা বাড়াতে হবে, এর ওপর মানুষের আস্থা বাড়াতে হবে। বর্তমানে এমন একটা পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছে, যেখানে প্রতিষ্ঠানটি কার্যত স্থবির, থেকেও নেই। দীর্ঘ প্রায় চার মাস ধরে কমিশনারদের পদ শূন্য। এ অবস্থার দায় সরকারের নেওয়া উচিত এবং অনতিবিলম্বে যে সার্চ কমিটি গঠন করা হয়েছে, তার মাধ্যমে এমন নেতৃত্বকে দায়িত্ব দেওয়া, যাতে প্রতিষ্ঠানটির ওপর যে আস্থার সংকট এ জরিপে উঠে এসেছে, তা কাটিয়ে ওঠা সম্ভব হয়। বাংলাদেশের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে এবং বিশেষ করে নির্বাচনের পর, এ ধরনের নিয়োগে অভিজ্ঞতার পরিপ্রেক্ষিতে, দুদকে নিয়োগের ক্ষেত্রে সরকারদলীয় বিবেচনার ঊর্ধ্বে যেতে পারবে বলে মনে হয় না, যদিও দলীয় প্রভাবে জিম্মি দুদকের নেতিবাচক প্রভাবের ভুক্তভোগী শুধু সাধারণ জনগণ নয়, বরং সরকারদলের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরাও। তা সত্ত্বেও দুদকে এমন ব্যক্তিকে নিয়োগ দিতে হবে, যাদের সংশ্লিষ্ট খাতে দক্ষতা ও অভিজ্ঞতা আছে এবং দুর্নীতি নিয়ন্ত্রণ ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে সোচ্চার হওয়ার মতো সৎ সাহস আছে। যারা ব্যক্তির দলীয় বা অন্য পরিচয় ও অবস্থানের ঊর্ধ্বে থেকে আইনের দৃষ্টিতে সবার সমান—এমন অবস্থানে অনড় থেকে দায়িত্ব পালন করতে পারবেন। সরকারের কাছে আমরা এ প্রত্যাশা করছি।’

সংবাদ সম্মেলনে দুর্নীতি প্রতিরোধপূর্বক সেবা খাতে সুশাসন নিশ্চিত করতে ১০ দফা সুপারিশ প্রদান করে টিআইবি। সুপারিশগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো— সরকারের ৩১ দফাভিত্তিক রাষ্ট্র কাঠামো মেরামত রূপরেখা, নির্বাচনি ইশতেহার ও জুলাই জাতীয় সনদের আলোকে সমন্বিত কৌশল প্রণয়ন এবং সব কর্মসূচিতে সুশাসন বাধ্যতামূলক করতে হবে। এ ছাড়া দুর্নীতির বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ; সেবাগ্রহীতা ও সেবাদাতার প্রত্যক্ষ যোগাযোগ কমাতে সরকারি সেবাগুলো সম্পূর্ণ ডিজিটালাইজ করা; প্রতিটি প্রতিষ্ঠানে সেবা প্রদানে আচরণবিধি প্রণয়ন, বার্ষিক কর্মমূল্যায়নে নাগরিকদের মতামতকে গুরুত্ব দেওয়া; অভিযোগ নিষ্পত্তি ব্যবস্থা ও দুদকের হটলাইন নম্বর (১০৬) কার্যকর করা; তথ্য অধিকার আইন অনুযায়ী স্বপ্রণোদিতভাবে তথ্য প্রকাশ করা; জনগুরুত্বপূর্ণ খাতে জনবল ও লজিস্টিকসের ঘাটতি দূর করা; সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বার্ষিক সম্পদ বিবরণী দাখিল বাধ্যতামূলক করা; এবং স্থানীয় পর্যায়ে সামাজিক আন্দোলন জোরদার করার সুপারিশ করা হয়েছে।

কেকে/এলএ


আরও সংবাদ   বিষয়:  সেবাখাত   দুর্নীতি   মহোৎসব  
মতামত লিখুন:
Loading...
Loading...

খোলাকাগজ স্পেশাল- এর আরো খবর

সম্পাদক ও প্রকাশক : আহসান হাবীব
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : বসতি হরাইজন, ১৭-বি, বাড়ি-২১ সড়ক-১৭, বনানী, ঢাকা-১২১৩
ফোন : বার্তা-০২২২২২৭৬০৩৭, মফস্বল-০২২২২২৭৬০৩৬, বিজ্ঞাপন ও সার্কুলেশন-০২২২২২৭৬০২৯, ০১৭৮৭৬৯৭৮২৩, ০১৮৫৩৩২৮৫১০ (বিকাশ)
ই-মেইল: [email protected], [email protected]

© 2025 Kholakagoj
🔝
close