মঙ্গলবার, ৩০ জুন ২০২৬,
১৬ আষাঢ় ১৪৩৩
বাংলা English
ই-পেপার

মঙ্গলবার, ৩০ জুন ২০২৬
শিরোনাম: যুদ্ধবিরতির পরও গাজায় থামেনি ইসরাইলের হামলা, বাড়ছে হতাহত      জাতীয় সংসদে পাস হলো অর্থবিল-২০২৬      লালমনিরহাটের পাঁচ উপজেলার মানুষ পানিবন্ধি      ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গুতে আরও ৫ জনের মৃত্যু      এনবিআরের নতুন চেয়ারম্যান আহসান হাবিব      ‘যেকোনো মূল্যে তিস্তা ব্যারেজ মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা হবে’      একুশে পদকপ্রাপ্ত শিল্পী মুস্তাফা মনোয়ার আর নেই      
দেশজুড়ে
হোয়াইক্যং সীমান্ত যেন মাদক ও চোরাচালানের অস্থায়ী করিডোর
আবদুল্লাহ আল সম্রাট, টেকনাফ (কক্সবাজার)
প্রকাশ: শুক্রবার, ২৬ জুন, ২০২৬, ৫:৫০ পিএম
ছবি: প্রতিনিধি

ছবি: প্রতিনিধি

কক্সবাজারের টেকনাফ উপজেলার হোয়াইক্যং সীমান্ত এলাকা দীর্ঘদিন ধরে মাদক ও চোরাচালানকারীদের সক্রিয় করিডোরে পরিণত হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। সীমান্তের বিভিন্ন পয়েন্ট ব্যবহার করে সংঘবদ্ধ চক্র ইয়াবাসহ বিভিন্ন মাদক দেশে প্রবেশ করানোর পাশাপাশি অবৈধভাবে পণ্য পাচার করছে বলে দাবি স্থানীয়দের।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সীমান্তের উলুবনিয়া, খারাঙ্গাঘোনা, হোয়াইক্যং, উনছিপ্রাং, কান্জরপাড়া, ঝিমংখালী, মিনাবাজার ও খারাংখালীসহ বিভিন্ন পয়েন্ট দিয়ে মাদক প্রবেশ এবং কয়েকটি এলাকা দিয়ে চোরাচালান অব্যাহত রয়েছে। এতে একদিকে তরুণ সমাজ মাদকের ঝুঁকিতে পড়ছে, অন্যদিকে সরকার বিপুল পরিমাণ রাজস্ব হারাচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, সীমান্তের কিছু চিহ্নিত মাদক কারবারি রাজনৈতিক প্রভাব কাজে লাগিয়ে অবৈধ কর্মকাণ্ড চালিয়ে যাচ্ছে। মাদক পরিবহনে তারা দেশীয় অস্ত্র ও ভয়ভীতি প্রদর্শনের কৌশল ব্যবহার করছে। বিপুল অর্থের জোরে এসব চক্রের সদস্যরা এলাকায় প্রভাব বিস্তার করে সাধারণ মানুষের মধ্যে আতঙ্ক সৃষ্টি করছে বলেও অভিযোগ ওঠে।

সংশ্লিষ্টদের মতে, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নিয়মিত অভিযানে কোটি কোটি টাকার ইয়াবা ও অন্যান্য মাদক জব্দ হলেও সীমান্ত দিয়ে মাদকের প্রবেশ পুরোপুরি বন্ধ করা সম্ভব হচ্ছে না। একই সঙ্গে বিভিন্ন সীমান্ত পয়েন্ট দিয়ে দেশের পণ্য অবৈধভাবে পাচারের ঘটনাও ঘটছে বলে তারা দাবি করেন।

স্থানীয় সচেতন মহল বলছে, সীমান্ত দিয়ে প্রতিনিয়ত বিপুল পরিমাণ ইয়াবা দেশে প্রবেশ করায় যুবসমাজের ওপর এর নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে। মাদকের কারণে অপরাধপ্রবণতা ও সামাজিক অস্থিরতা বাড়ছে। পাশাপাশি অব্যাহত চোরাচালানের কারণে সরকার রাজস্ব হারাচ্ছে।

তাদের মতে, ঝুঁকিপূর্ণ সীমান্ত পয়েন্টগুলোতে কঠোর নজরদারি, গোয়েন্দা তৎপরতা বৃদ্ধি এবং মাদক ও চোরাচালানের সঙ্গে জড়িত প্রভাবশালী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি।

এ বিষয়ে উখিয়া ব্যাটালিয়ন (৬৪ বিজিবি)-এর অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. জহিরুল ইসলাম বলেন, সীমান্ত সুরক্ষা, মাদক দমন ও চোরাচালান প্রতিরোধে বিজিবি প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকেই কাজ করে যাচ্ছে। সংঘবদ্ধ অপরাধচক্রের নানা কৌশলের কারণে কাজটি চ্যালেঞ্জিং হলেও বিজিবি সদস্যরা সর্বোচ্চ পেশাদারিত্বের সঙ্গে দায়িত্ব পালন করছেন।

তিনি বলেন, শুধু বিজিবির একার পক্ষে পুরো সীমান্ত নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব নয়। মাদক ও চোরাচালান প্রতিরোধে স্থানীয় জনগণ, জনপ্রতিনিধি, প্রশাসন এবং অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন। প্রকৃত মাদক ব্যবসায়ী ও চোরাকারবারিদের বিষয়ে সুনির্দিষ্ট তথ্য পাওয়া গেলে দ্রুত ও কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব হবে।

লেফটেন্যান্ট কর্নেল জহিরুল ইসলাম আরও বলেন, সীমান্ত এলাকায় মাদক ও চোরাচালানবিরোধী অভিযান অব্যাহত রয়েছে এবং ভবিষ্যতে তা আরও জোরদার করা হবে। 

নিরাপদ ও মাদকমুক্ত সমাজ গঠনে জনগণের সহযোগিতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

কেকে/ এমএস


মতামত লিখুন:
Loading...
Loading...

দেশজুড়ে- এর আরো খবর

সম্পাদক ও প্রকাশক : আহসান হাবীব
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : বসতি হরাইজন, ১৭-বি, বাড়ি-২১ সড়ক-১৭, বনানী, ঢাকা-১২১৩
ফোন : বার্তা-০২২২২২৭৬০৩৭, মফস্বল-০২২২২২৭৬০৩৬, বিজ্ঞাপন ও সার্কুলেশন-০২২২২২৭৬০২৯, ০১৭৮৭৬৯৭৮২৩, ০১৮৫৩৩২৮৫১০ (বিকাশ)
ই-মেইল: [email protected], [email protected]

© 2025 Kholakagoj
🔝
close