রাজধানীর মোহাম্মদপুরে পাটালি গ্রুপের আট সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব)-২।
মোহাম্মদপুরের বসিলা, চন্দ্রিমা মডেল টাউন, চাঁদ উদ্যান, বাবর রোড ও রায়েরবাজার এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।
গ্রেপ্তারকৃতদের মধ্যে রয়েছে পাটালি গ্রুপের শীর্ষ নেতা শামীম পাটালি। তাদের কাছ থেকে একটি বিদেশি পিস্তল, একটি ম্যাগাজিন, দুই রাউন্ড তাজা গুলি, দুইটি চাইনিজ কুড়াল, দুইটি চাপাতি ও একটি তরবারি উদ্ধার করা হয়।
রোববার (২৮ জুন) দুপুরে কারওয়ান বাজারে র্যাব মিডিয়া সেন্টারে সংবাদ সম্মেলন করে র্যাব-২’-এর অধিনায়ক ও অতিরিক্ত ডিআইজি নয়মুল হাসান এসব তথ্য জানান।
সংবাদ সম্মেলনে তিনি অপরাধীদের সতর্ক করে বলেন, “মোহাম্মদপুর এলাকায় আর কোনো সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড বরদাশত করা হবে না।”
সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, আদাবর-মোহাম্মদপুর এলাকায় ছিনতাই, কিশোর গ্যাং, চাঁদাবাজি, মাদক কারবার ও চুরি প্রতিরোধে নিয়মিত অভিযান চালানো হচ্ছে। এরই অংশ হিসেবে শনিবার (২৭ জুন) রাতে নিজস্ব গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে জানা যায়, বসিলা এলাকায় পাটালি গ্রুপের সদস্যরা ছিনতাইয়ের প্রস্তুতি নিচ্ছে। পরে অভিযান চালিয়ে প্রথমে গ্রুপটির সহযোগী খোকন মুন্সি ও সজীব ব্যাপারীকে গ্রেপ্তার করা হয়। তাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে একই রাতে চন্দ্রিমা মডেল টাউন এলাকায় অভিযান চালিয়ে শীর্ষ নেতা শামীম পাটালিকে একটি বিদেশি পিস্তল, একটি ম্যাগাজিন ও দুই রাউন্ড তাজা গুলিসহ আটক করা হয়।
র্যাব আরও জানায়, শামীম পাটালিসহ পাটালি পরিবারের সদস্যরা গত ১৫ মে মোহাম্মদপুরে একই পরিবারের সাত সদস্যকে কুপিয়ে জখম করার আলোচিত ঘটনার আসামি। এছাড়া পরিবারের আরও দুই সদস্য রানা পাটালি ও রাসেল পাটালি হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার হয়ে কারাগারে রয়েছেন। পাটালি পরিবারের সদস্যদের বিরুদ্ধে মোহাম্মদপুর থানায় চুরি, ছিনতাই, ডাকাতি ও মাদকসহ একাধিক মামলা রয়েছে।
একই রাতে পৃথক আরও দুইটি অভিযানে চাঁদ উদ্যান এলাকা থেকে শাকিউল করিম ও আরিফকে একটি চাপাতিসহ এবং বাবর রোড এলাকা থেকে হৃদয় (৩০) ও নয়নকে (৩৫) একটি চাপাতিসহ গ্রেপ্তার করা হয়।
এছাড়া গত ২৪ জুন রায়েরবাজার এলাকায় অভিযান চালিয়ে পাটালি গ্রুপের সদস্য জুয়েল (২৬) ও তার সহযোগী শাকিলকে (২২) একটি তরবারিসহ গ্রেপ্তার করা হয়।
র্যাবের দাবি, গ্রেপ্তারকৃতরা দীর্ঘদিন ধরে দেশীয় অস্ত্রের ভয় দেখিয়ে পথচারী ও নিরীহ মানুষের কাছ থেকে ছিনতাই করে আসছিল।
র্যাবের তথ্যানুযায়ী, শামীমের বিরুদ্ধে মোহাম্মদপুর থানায় চুরি, দস্যুতা, হত্যাচেষ্টা, গুরুতর আঘাত ও মাদকসহ আটটি মামলা রয়েছে। এছাড়া আরিফের বিরুদ্ধে চারটি, খোকন মুন্সির বিরুদ্ধে দুইটি, সজীব ব্যাপারীর বিরুদ্ধে একটি, হৃদয়ের বিরুদ্ধে সাতটি ও জুয়েলের বিরুদ্ধে একটি মামলা রয়েছে।
গ্রেপ্তারকৃতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। তাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে পলাতক অন্যান্য ছিনতাইকারীকে গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে বলে জানিয়েছে র্যাব-২।
কেকে/এমএ