সোমবার, ২৯ জুন ২০২৬,
১৫ আষাঢ় ১৪৩৩
বাংলা English
ই-পেপার

সোমবার, ২৯ জুন ২০২৬
শিরোনাম: উদ্যোক্তা তৈরিতে বহুমুখী বাধা      তিস্তার পানি, বিপৎসীমার ওপরে, বন্যার শঙ্কা      বাংলাদেশকে ১৪০ রানে থামিয়ে দিলো জিম্বাবুয়ে      ডিআইজিসহ ঊর্ধ্বতন ২১ পুলিশ কর্মকর্তাকে একযোগে বদলি      ডিএমপির সাবেক কমিশনার হাবিবুর রহমানসহ তিনজনের মৃত্যুদণ্ড      হামের উপসর্গ নিয়ে ২৪ ঘণ্টায় চার শিশুর মৃত্যু      সিলেট ও কুমিল্লায় নতুন ডিসি নিয়োগ      
খোলাকাগজ স্পেশাল
ঠিকাদার-কর্তৃপক্ষের সিন্ডিকেট
চট্টগ্রাম হাসপাতালের আট কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ
জামালুদ্দিন হাওলাদার, চট্টগ্রাম
প্রকাশ: সোমবার, ২৯ জুন, ২০২৬, ৯:২৯ এএম
ছবি : খোলা কাগজ

ছবি : খোলা কাগজ

কাগজে-কলমে ওষুধ ও যন্ত্রপাতি ক্রয় দেখিয়ে প্রায় আট কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে সংঘবদ্ধ ঠিকাদার সিন্ডিকেট ও চট্টগ্রাম জেনারেল হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে। হাসপাতালের ওষুধ ও যন্ত্রপাতি ক্রয়ে এসব অনিয়মের বিষয়ে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মেসার্স এম রহমান অ্যান্ড কোং-এর স্বত্বাধিকারী নাছির উদ্দিন চৌধুরী দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) ও স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সচিব বরাবরে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন।

নাছির উদ্দিন চৌধুরী অভিযোগে উল্লেখ করেন, চট্টগ্রাম জেনারেল হাসপাতালের টেন্ডার কমিটি এসব মালামাল বুঝে না পাওয়ার আগে ৭ কোটি ৯৭ লাখ ৭৪ হাজার ৪৭ টাকা উত্তোলন করে নিয়ে গেছে। শুধু তাই নয়, একই ব্যক্তির মালিকানাধীন দুটি ভুঁইফোড় প্রতিষ্ঠানকে কাজ পাইয়ে দিতে নানা ছল-চাতুরির আশ্রয় নেওয়া হয়। আর এসবের সঙ্গে জড়িত রয়েছে চট্টগ্রাম জেনারেল হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. একরাম হোসেনের নেতৃত্বে একটি সিন্ডিকেট। চক্রের অন্য সদস্যরা হচ্ছেন—আরএমও আশিক আমান ও অ্যাকাউন্টস অফিসার নাসির উদ্দিন খালেদ। এমনকি সর্বনিম্ন দরদাতাকে কাজ না দিয়ে সর্বোচ্চ দরদাতাকে কাজ দেওয়া হয়েছে।

সংশ্লিষ্টরা জানান, ২০২৫-২৬ অর্থবছরের গত ২৫ জানুয়ারি আটটি প্যাকেজে জেনারেল হাসপাতালে এমএসআর নন-ইডিসিএল মেডিসিন, গজ, সুতা, অন্যান্য, রিএজেন্ট কেমিক্যাল, সার্জিক্যাল যন্ত্রপাতি, আসবাবপত্র, লিনেন, কম্পিউটার ও অ্যাকসেসরিজ কেনার দরপত্র আহ্বান করে কর্তৃপক্ষ। পরে এসব টেন্ডারে একাধিক ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান অংশগ্রহণ করে। নির্দিষ্ট একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে কাজ পাইয়ে দিতে নানা কারচুপির আশ্রয় নেওয়া হয়।

দুদকে দেওয়া অভিযোগে বলা হয়, ১৬ ফেব্রুয়ারি এমএসআর দরপত্র আইডি নম্বরের কয়েকটি প্যাকেজে একাধিক প্রতিষ্ঠানসহ অন্যান্য যোগ্য প্রতিষ্ঠান—মেসার্স শাদমান এন্টারপ্রাইজ, মেসার্স জম জম এন্টারপ্রাইজ, শাহ আমানত মেডিকেল হল, মেসার্স আলী অ্যাসোসিয়েটস—সব শর্ত পূরণ করা সত্ত্বেও অগ্রহণযোগ্য বা নন-রেসপনসিভ ঘোষণা করা হয়। চক্রের পছন্দের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ‘মেসার্স এমএসএম বাংলাদেশ’ ও ‘এমএসএম হেলথ কেয়ার’-কে কার্যাদেশ প্রদান করা হয়। এমএসএম বাংলাদেশ ও এমএসএম হেলথ কেয়ার নামে দুটি ভুঁইফোড় প্রতিষ্ঠানকে বেশি কাজ দেওয়া হয়। তাদের পাওয়া কাজের মধ্যে রয়েছে নন-ইডিসিএল মেডিসিনের (টেন্ডার নম্বর ১২০৬০৬৯) ৩ কোটি ৫০ লাখ টাকার কাজ, সার্জিক্যাল যন্ত্রপাতি কেনার প্যাকেজের ২ কোটি ৬৮ লাখ টাকার কাজ। এ ছাড়া কেমিক্যাল ও রিএজেন্ট এবং গজ ও সুতা টেন্ডারের আরও দুটি প্যাকেজের কোটি টাকার আরও একটি টেন্ডার হাতিয়ে নিয়েছে এই চক্রটি।

একাধিক ঠিকাদার অভিযোগ করে বলেন, নানা সূক্ষ্ম কৌশলে ভুঁইফোড় প্রতিষ্ঠানকে টেন্ডার পাইয়ে দিতে নানা অনিয়ম করা হয়েছে। যখন যে প্রতিষ্ঠানকে নন-রেসপনসিভ বা অগ্রহণযোগ্য করলে ‘এমএসএম বাংলাদেশ’ ও ‘এমএসএম হেলথ কেয়ার’ কার্যাদেশ পাবে, তখন সেই প্রতিষ্ঠানকে সব ডকুমেন্ট থাকা সত্ত্বেও নন-রেসপনসিভ করা হয়। একই প্রতিষ্ঠানকে কাজ পাইয়ে দিতে অযোগ্য প্রতিষ্ঠানকে রেসপনসিভ বা গ্রহণযোগ্য দেখানো হয়েছে।

একই ডকুমেন্ট জমা দেওয়ার পরও মেসার্স শাহ আমানত মেডিকেল হল নামে একটি প্রতিষ্ঠানকে এক প্যাকেজে নন-রেসপনসিভ দেখানো হয়েছে। আবার আরেক প্যাকেজে রেসপনসিভ দেখানো হয়েছে।

মেসার্স শাহ আমানত মেডিকেল হল নামে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের মালিক আবুল কাশেম বলেন, এসব টেন্ডারে ভয়াবহ অনিয়ম হয়েছে। একটি ভুঁইফোড় ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে কাজ দিতে নানা অনিয়ম করা হয়েছে। মালামাল দেওয়ার আগেই বিপুল পরিমাণ টাকা উত্তোলন করে দেওয়া হয়েছে প্রতিষ্ঠানটিকে। একটি প্যাকেজে আমাকে নন-রেসপনসিভ করা হয়েছে। উল্লেখ করা হয়েছে, ডকুমেন্টে আমি নাকি ব্যাংক সলভেন্সি সনদ ও অথরাইজেশন লেটার দিইনি। আবার একই ডকুমেন্ট দেওয়ার পর আরেকটি প্যাকেজে রেসপনসিভ করা হয়েছে।

দুদকে দেওয়া অভিযোগে দাবি করা হয়, ২০২৪-২০২৫ অর্থবছরের মেডিসিনসহ বিভিন্ন ক্রয়ে সাবেক তত্ত্বাবধায়ক অনিয়ম ও দুর্নীতির মাধ্যমে অনৈতিকভাবে এমএসএম বাংলাদেশ ও এমএসএম হেলথ কেয়ার নামে প্রতিষ্ঠান দুটিকে কাজ দেওয়ার অপচেষ্টা চালিয়ে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অনুমোদনের চেষ্টা করেন। কিন্তু মহাপরিচালক, স্বাস্থ্য অধিদপ্তর দুর্নীতি ও স্বজনপ্রীতির কারণে ২০২৪-২০২৫ সালের দরপত্র অনুমোদন প্রদান করেননি। স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয় একটি তদন্ত কমিটি গঠন করে। তদন্তে অনিয়ম, দুর্নীতি ও অনৈতিক সুবিধা গ্রহণের প্রমাণ পাওয়ায় তৎকালীন তত্ত্বাবধায়ক ডা. আব্দুল মান্নানকে অন্যত্র বদলি করা হয়। পরবর্তীতে তাঁরই উত্তরসূরি ২০২৪-২০২৫ সালের দরপত্রের ফাইল অনুমোদনের চেষ্টা করে ব্যর্থ হন। ওই অর্থবছরের সমুদয় অর্থ মন্ত্রণালয়ে ফেরত যায়।

মেসার্স এম রহমান অ্যান্ড কোং নামে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের স্বত্বাধিকারী নাছির উদ্দিন চৌধুরী বলেন, একই পরিবারের দুটি প্রতিষ্ঠানকে কাজ দিতে জেনারেল হাসপাতালের কর্তৃপক্ষ গুরুতর অনিয়ম ও দুর্নীতি করেছে। এই কারণে আমি ক্ষুব্ধ হয়ে দুদক ও স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সচিবসহ বিভিন্ন দপ্তরে লিখিতভাবে অভিযোগ দিয়েছি।

এই বিষয়ে জানতে চট্টগ্রাম জেনারেল হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. মোহাম্মদ একরাম হোসেনের মোবাইল নম্বরে একাধিকবার কল দেওয়া হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি। ফলে তাঁর বক্তব্য জানা সম্ভব হয়নি।

কেকে/এলএ


আরও সংবাদ   বিষয়:  চট্টগ্রাম হাসপাতাল   আট কোটি টাকা আত্মসাত   অভিযোগ  
মতামত লিখুন:
Loading...
Loading...
সম্পাদক ও প্রকাশক : আহসান হাবীব
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : বসতি হরাইজন, ১৭-বি, বাড়ি-২১ সড়ক-১৭, বনানী, ঢাকা-১২১৩
ফোন : বার্তা-০২২২২২৭৬০৩৭, মফস্বল-০২২২২২৭৬০৩৬, বিজ্ঞাপন ও সার্কুলেশন-০২২২২২৭৬০২৯, ০১৭৮৭৬৯৭৮২৩, ০১৮৫৩৩২৮৫১০ (বিকাশ)
ই-মেইল: [email protected], [email protected]

© 2025 Kholakagoj
🔝
close