দৈনিক খোলা কাগজে সংবাদ প্রকাশের পর মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গল উপজেলার আশিদ্রোন ইউনিয়নের কালিঘাট-মনু-ধলই সার্কুলার সড়কের নির্মাণকাজে অনিয়মের অভিযোগে নড়েচড়ে বসেছে উপজেলা প্রশাসন ও স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি)। স্থানীয়দের বাধার মুখে টানা তিন দিন বন্ধ থাকার পর গুণগত মান নিশ্চিতের শর্তে পুনরায় কাজ শুরুর সিদ্ধান্ত হয়েছে।
বুধবার (১ জুলাই) বিকালে শ্রীমঙ্গল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. জিয়াউর রহমান এবং উপজেলা প্রকৌশলী (এলজিইডি) মো. আব্দুর রাকিব নির্মাণাধীন সড়কটি সরেজমিন পরিদর্শন করেন।
পরিদর্শনের সময় উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) প্লাবন পাল, উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক নুরুল আলম সিদ্দিকী, উপজেলা যুবদলের আহ্বায়ক মহিউদ্দিন জারু, আশিদ্রোন ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান রনেন্দ্র প্রসাদ বর্ধন জহর, বিএনপি নেতা মশিউর রহমান রিপন এবং শ্রীমঙ্গল ব্যবসায়ী সমিতির সাধারণ সম্পাদক হাজী মো. কামাল হোসেনসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।
পরিদর্শনকালে ইউএনও ও উপজেলা প্রকৌশলী নির্মাণাধীন সড়কের বিভিন্ন অংশ ঘুরে দেখেন এবং স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ শোনেন।
এলাকাবাসীর দাবি, প্রকল্পের শুরু থেকেই নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রী ব্যবহার এবং কাজে গাফিলতি করা হয়েছে। এসব অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে গত রোববার এলাকাবাসী কাজ বন্ধ করে দিয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে লিখিত অভিযোগ দেন।
সড়ক পরিদর্শনের আগে ঘটনাস্থলে প্ল্যাকার্ড হাতে বিক্ষোভ করেন স্থানীয়রা। তারা নির্মাণকাজে নিম্নমানের উপকরণ ব্যবহারের অভিযোগ তুলে স্লোগান দেন এবং উপজেলা প্রকৌশল বিভাগের তদারকি নিয়েও প্রশ্ন তোলেন।
পরিদর্শন শেষে ইউএনও ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে অনুমোদিত নকশা ও কার্যসূচি (শিডিউল) অনুযায়ী গুণগত মান বজায় রেখে কাজ সম্পন্ন করার নির্দেশ দেন।
এর আগে, গত সোমবার (২৯ জুন) দৈনিক খোলা কাগজের শেষ পাতায় ‘শ্রীমঙ্গল হোসনাবাদ সড়কে ৪ কোটি টাকার প্রকল্পে অনিয়মের অভিযোগ’ শিরোনামে সংবাদ প্রকাশিত হয়। সংবাদ প্রকাশের পর প্রশাসন বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে আমলে নেয়। একই সঙ্গে বুধবার সকালে প্রকল্প এলাকায় তড়িঘড়ি করে প্রকল্পের সাইনবোর্ড স্থাপন করতে দেখা যায়।
ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান সানি এন্টারপ্রাইজের স্বত্বাধিকারী মো. হাসানুজ্জামান বলেন, ‘নিয়ম মেনে এলজিইডির নির্দেশনা অনুযায়ী কাজ করা হচ্ছিল। তবু এলাকাবাসীর বাধায় তিন দিন কাজ বন্ধ ছিল। অবশেষে ইউএনও মহোদয়ের হস্তক্ষেপে বিষয়টি সমাধান হয়েছে। আমরা আগামীকাল থেকে গুণগত মান বজায় রেখে পুনরায় কাজ শুরু করব।’
উপজেলা প্রকৌশলী মো. আব্দুর রাকিব বলেন, ‘কাজের মান নিয়ে এলাকাবাসীর অভিযোগ ছিল। সজেমিনে এসে আমরা মান যাছাই করেছি। বিষয়টি সমাধান হয়েছে। আগামীতে গুণগত মান বজায় রেখে যথাযথভাকে কাজ সম্পন্ন করা হবে।’
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. জিয়াউর রহমান বলেন, ‘স্থানীয়দের অভিযোগের ভিত্তিতে আমরা সরেজমিনে এসেছি। কাজের মান নিয়ে যেসব অভিযোগ উঠেছে, সেগুলো গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে। বিশেষ করে ইটের খোয়া, পাথর এবং গাইডওয়ালের গুণগত মান নিয়ে পর্যালোচনা করা হচ্ছে।প্রকল্প কাজের মান তদারকি করার জন্য স্থানীয়দের সম্পৃক্ত করে একটি কমিটি গঠনের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। একইসঙ্গে মানসম্মতভাবে কাজ সম্পন্ন করতে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে কঠোর নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। আগামীতে কোনো ধরণের অনিয়ম বা নিম্নমানের কাজ গ্রহণযোগ্য হবে না।’
কেকে/ এমএস