বৃহস্পতিবার, ২ জুলাই ২০২৬,
১৮ আষাঢ় ১৪৩৩
বাংলা English
ই-পেপার

বৃহস্পতিবার, ২ জুলাই ২০২৬
শিরোনাম: প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ৩২ হাজার প্রধান শিক্ষক নিয়োগে বাধা নেই      আজ শুরু হচ্ছে এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষা      প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে জাপানের প্রতিনিধি দলের সাক্ষাৎ      এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ সাইবার নিরাপত্তা: তথ্যমন্ত্রী      ডিএমপির আওতায় আসছে পূর্বাচল, ৪টি থানা স্থাপনের সিদ্ধান্ত       জাল সনদে এমপিও ভোগী ১৩ শিক্ষকের বেতন বন্ধ      পাহাড় ধসের শঙ্কায় লাখো রোহিঙ্গা      
খোলাকাগজ স্পেশাল
বিচারে ধীরগতি, বাড়ছে হতাশা
জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক
প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ২ জুলাই, ২০২৬, ৯:৩৪ এএম
ছবি : খোলা কাগজ

ছবি : খোলা কাগজ

রক্তাক্ত জুলাই অভ্যুত্থানের দুবছর পেরোতে চলেছে। এর মধ্যে জাতীয় নির্বচানের মধ্যদিয়ে গঠিত হয়েছে নতুন সরকার। তার আগে ছিল অন্তর্বর্তী সরকারের ১৭ মাসের শাসন। কিন্তু এর মধ্যেও জুলাই হত্যা মামলার উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়নি। এ পর্যন্ত যত মামলা হয়েছে তার মধ্যে অল্প সংখ্যকেরই অভিযোগপত্র দিতে পেরেছে পুলিশ। 

অন্যদিকে দুবছরে মাত্র তিনটি মামলার বিচার কাজ সম্পন্ন হয়েছে। মামলা ও বিচারের এমন দীর্ঘসূত্রতায় হতাশা বাড়ছে জুলাই যোদ্ধা ও শহীদ পরিবারের মধ্যে। তারা দ্রুততম সময়ের মধ্যে জুলাই হত্যা মামলার বিচার সম্পন্নের দাবি করেছেন। 

তথ্য বলছে, জুলাই গণঅভ্যুত্থানে হতাহত ও গুমের ঘটনায় দেশের বিভিন্ন থানায় এ পর্যন্ত মোট ১ হাজার ৮৫৬টি মামলা হয়েছে।  এর মধ্যে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বিরুদ্ধেই হয়েছে ৪৫৩টি মামলা। এদিকে পুলিশ সদর দপ্তরের তথ্য বলছে, এর মধ্যে ২১৫টি মামলার তদন্ত প্রতিবেদন (চার্জশিট) জমা দেওয়া হয়েছে। 

এদিকে গত ২১ জুন জাতীয় সংসদে আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান জানান, জুলাই আন্দোলনে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের ঘটনায় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে এ পর্যন্ত ৮০টি মামলা দায়ের করা হয়েছে। এর মধ্যে সাতটি মামলায় রায় হয়েছে এবং বাকি ৭৩টি মামলার কার্যক্রম চলমান রয়েছে। 

মামলার অগ্রগতি সম্পর্কে আইনমন্ত্রী বলেন, জুলাই ২০২৪-এ সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধসংক্রান্ত মামলাগুলোর মধ্যে বর্তমানে ২২টি মামলা সাক্ষ্যগ্রহণ পর্যায়ে রয়েছে এবং ৫১টি মামলা তদন্তাধীন। 

তিনি জানান, নিষ্পত্তিকৃত সাতটি মামলায় মোট ৫৯ জন আসামিকে সাজা দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে ১৩ জনকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছে। অন্যদের যাবজ্জীবন কারাদণ্ডসহ বিভিন্ন মেয়াদে সাজা দেওয়া হয়েছে। 

আইনমন্ত্রী আরও জানান, মানবতাবিরোধী অপরাধের এসব মামলায় মোট আসামির সংখ্যা ৪৬৩ জন। এর মধ্যে ১৭৪ জন গ্রেপ্তার হয়েছেন, ২৮৮ জন পলাতক। এ ছাড়া একজন আসামি মারা গেছেন এবং একজন খালাস পেয়েছেন। 

জুলাই হত্যার বিচারকে বাধাগ্রস্ত করা হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন অভ্যুত্থানের অন্যতম নেতা ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম। তিনি বলেন, জুলাই হত্যার বিচার নানাভাবে বাধাগ্রস্ত করা হচ্ছে। 

গণঅভ্যুত্থানের দুবছর পেরিয়ে গেলেও জুলাইয়ের আকাক্সক্ষা এখনো পূরণ হয়নি। তিনি আরও বলেন, ‘হাসানুল হক ইনু, যিনি জাসদের সভাপতি ছিলেন, তাকে যে ১০ বছর করে তিনটি মামলায় সাজা দিয়েছে, এটা এনাফ নয়, এটা যথেষ্ট নয়। আমরা, আমাদের আবেদন থাকবে রাষ্ট্রপক্ষ যাতে এটা আপিল করেন এবং আমরা তার কঠোর থেকে কঠোর বিচার প্রত্যাশা করতেছি।’

এদিকে আহত যোদ্ধাদের পুনর্বাসন ও আওয়ামী লীগের দোষীদের দ্রুত ফিরিয়ে এনে বিচারের দাবি জানান জুলাইয়ের অন্যতম সমন্বয়ক আকতার হোসেন। 

তিনি বলেন, ‘অভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে আমরা নতুন এক বাংলাদেশের যাত্রা শুরু করতে চেয়েছিলাম। সেই বাংলাদেশ দুবছর পরে এসেও আমরা এখনো পর্যন্ত পুরোপুরি অর্জন করতে পারি নাই। ভারত সরকারের সঙ্গে আলাপ-আলোচনার মধ্যদিয়ে শেখ হাসিনাকে দেশে ফিরিয়ে নিয়ে এসে গণঅভ্যুত্থানের সময়কালে যে গণহত্যা সংগঠিত করেছিল শেখ হাসিনা, তার দায়ে যে ফাঁসির রায় হয়েছে শেখ হাসিনার, সেটা যেন কার্যকর করা হয়।’ 

জুলাইয়ে শহীদ ও পরিবারের একজন বলেন, ‘বর্তমান সরকারকে বলি, যে আপনারা যত দ্রুত সম্ভব আমাদের ভাইদের হত্যার বিচার নিশ্চিত করুন।’ 

বিচারের দীর্ঘসূত্রতা নিয়ে বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক বলেন, ‘মামলার গতি এভাবে চললে এবং দেখা যাবে যে আগামী দশ বছরেও সব মামলা শেষ করা যাবে না। এটা, এটা হলো রাষ্ট্রের অগ্রাধিকারের প্রশ্ন। বোঝা যাচ্ছে যে বিচারের গতি তরান্বিত করবার ক্ষেত্রে রাষ্ট্রের অগ্রাধিকারের সংকট আছে।’ 

তিনি আরও বলেন, ‘গোটা প্রক্রিয়ারই একটা দীর্ঘসূত্রতা, যেটাকে বলে আঠারো মাসের বছর। এরকম একটা তৎপরতা আমি লক্ষ করেছি। আমি মনে করি প্রসিকিউশনের টিম বাড়ানো দরকার। তদন্ত কমিটিকে শক্তিশালী করা দরকার। আর যারা চার্জশিট দেবেন তাদের আরও তৎপর হওয়া দরকার।’

সাইফুল হক বলেন, ‘আমি মনে করি এ ব্যাপারে যত্ন বাড়াতে মনোযোগ দরকার সরকারের। শুধু এ জুলাই মাস আসছে বলে এখন হইচই হবে। এই যে এটা, এটা, এটা অনেকটা বাজেটের মতো আরকি। যে বাজেট আলোচনা যখন জুন মাসে এটা বাজেট নিয়ে অনেক হইচই চিৎকার। ত্রিশে জুনের পর এখন দেখবেন বাজেট গোটা আলোচনাটাই এখন হিমাগারে। সেরকমই জুলাই মাস পার হয়ে গেলে দেখা যাবে যে বিচারের ব্যাপারগুলো অনেকখানি হিমাগারে আবার চলে যাওয়ার আশঙ্কা আছে।’

জুলাই অভ্যুত্থানে দেড় হাজারের বেশি মামলা হলেও দুবছরে মাত্র ৩টি মামলার রায় হয়েছে। 

শেখ হাসিনা ও আসাদুজ্জামানের মৃত্যুদণ্ড, চৌধুরী আবদুল্লাহর ৫ বছরের কারাদণ্ড : জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধে শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে করা মামলার রায় দিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। দুটি অভিযোগে তাকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছে। গত বছরের ১৭ নভেম্বর এ রায় ঘোষণা করা হয়। 

রায়ে ট্রাইব্যুনাল বলেছেন, শেখ হাসিনাসহ তিন আসামির অপরাধ প্রমাণিত। শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে পাঁচটি অভিযোগ আনা হয়েছিল। এর মধ্যে চানখাঁরপুলে ৬ হত্যাকাণ্ড এবং আশুলিয়ায় ছয় জনকে পুড়িয়ে হত্যার ঘটনায় তাকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়। একটি অভিযোগে সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়। অ্যাপ্রুভার (রাজসাক্ষী) হওয়ায় পুলিশের সাবেক মহাপরিদর্শক চৌধুরী আবদুল্লাহ আল-মামুনকে পাঁচ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়।

সাবেক ডিএমপি কমিশনারের মৃত্যুদণ্ড : ২০২৪ সালের জুলাই মাসে রামপুরায় মানুষ হত্যা ও নির্যাতনের ঘটনায় করা মামলায় ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) সাবেক কমিশনার হাবিবুর রহমানসহ পুলিশের তিন কর্মকর্তাকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। 

গত ২৮ জুন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের বিচারক মো. গোলাম মুর্তজা মজুমদার এ রায় ঘোষণা করেন। একই মামলায় সাবেক উপপরিদর্শক তারিকুল ইসলাম ভূঁইয়াকে যাবজ্জীবন এবং পুলিশের সহকারী উপপরির্দশক চঞ্চল চন্দ্র সরকারকে ২০ বছর কারাদণ্ড দেওয়া হয়। 

এ ছাড়া ৩০ জুন জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের ঘটনায় করা মামলায় জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের (জাসদ) সভাপতি হাসানুল হক ইনুকে ১০ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়। মামলার একমাত্র আসামি ইনুর বিরুদ্ধে মোট আটটি অভিযোগ আনা হয়েছিল।

কেকে/ এমএস


আরও সংবাদ   বিষয়:  বিচার   ধীরগতি   হতাশা  
মতামত লিখুন:
Loading...
Loading...

খোলাকাগজ স্পেশাল- এর আরো খবর

সম্পাদক ও প্রকাশক : আহসান হাবীব
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : বসতি হরাইজন, ১৭-বি, বাড়ি-২১ সড়ক-১৭, বনানী, ঢাকা-১২১৩
ফোন : বার্তা-০২২২২২৭৬০৩৭, মফস্বল-০২২২২২৭৬০৩৬, বিজ্ঞাপন ও সার্কুলেশন-০২২২২২৭৬০২৯, ০১৭৮৭৬৯৭৮২৩, ০১৮৫৩৩২৮৫১০ (বিকাশ)
ই-মেইল: [email protected], [email protected]

© 2025 Kholakagoj
🔝
close