কিশোরগঞ্জ-ঢাকা রুটে চলাচলকারী আন্তঃনগর কিশোরগঞ্জ এক্সপ্রেস ট্রেনকে নেত্রকোনার জারিয়া পর্যন্ত সম্প্রসারণের সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে মানববন্ধন, বিক্ষোভ ও প্রতিবাদ সমাবেশ হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) বিকালে কিশোরগঞ্জ রেলওয়ে স্টেশনের প্ল্যাটফর্মে ‘আমরা কিশোরগঞ্জবাসী’ ব্যানারে এ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়।
মানববন্ধনে পৌর মহিলা কলেজের সহকারী অধ্যাপক ফরিদ আহাম্মদ, সাবেক কাউন্সিলর সাইফুল ইসলাম, জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) কিশোরগঞ্জ জেলা শাখার সাংগঠনিক সম্পাদক হাফেজ ইকরাম হোসেন প্রমুখ অংশ নেন।
মানববন্ধন শেষে অংশগ্রহণকারীরা বিক্ষোভ মিছিল করেন। এ সময় ঢাকা থেকে আসা কিশোরগঞ্জ এক্সপ্রেস স্টেশনে পৌঁছালে আন্দোলনকারীরা ট্রেনের ইঞ্জিনের সামনে রেললাইনে অবস্থান নিয়ে প্রতিবাদ জানান।
তবে তাদের অবস্থানের কারণে ট্রেন চলাচলে কোনো বিঘ্ন ঘটেনি।
এ সময় বক্তারা বলেন, ‘কিশোরগঞ্জের মানুষের যাতায়াতের চাহিদা দিন দিন বাড়ছে। বিদ্যমান সংকট নিরসন না করে আন্তঃনগর ট্রেন অন্য জেলায় সম্প্রসারণ করা হলে জেলার মানুষ দীর্ঘমেয়াদে ভোগান্তির মুখে পড়বেন।’
তারা কিশোরগঞ্জের জন্য নতুন আন্তঃনগর ট্রেন চালু, কোচ বৃদ্ধি ও টিকিট সংকট নিরসনেরও দাবি জানান।
সমাবেশে ইকরাম হোসেন বলেন, ‘কিশোরগঞ্জ এক্সপ্রেস এই জেলার মানুষের দীর্ঘদিনের আন্দোলন, ত্যাগ ও দাবির ফসল। কিশোরগঞ্জবাসীর ন্যায্য অধিকার উপেক্ষা করে ট্রেনটির গন্তব্য পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। কিশোরগঞ্জ এক্সপ্রেস নিয়ে যদি কোনো ষড়যন্ত্র করা হয়, তাহলে কিশোরগঞ্জের মানুষ বসে থাকবে না। প্রয়োজনে আরও কঠোর কর্মসূচি দেওয়া হবে।’
তিনি আরও বলেন, ‘কিশোরগঞ্জ থেকে ঢাকাগামী ট্রেনের সংখ্যা প্রয়োজনের তুলনায় অনেক কম। প্রতিদিন হাজারো যাত্রী টিকিট সংকট ও চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন। এমন পরিস্থিতিতে এই ট্রেন অন্য জেলায় সম্প্রসারণ করা হলে কিশোরগঞ্জের সাধারণ মানুষ আরও বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হবেন।’
ব্যবসায়ী মো. আব্দুল কাদের বলেন, ‘প্রতিদিন শত শত ব্যবসায়ী, চাকরিজীবী, শিক্ষার্থী ও রোগী এই ট্রেনে ঢাকা যাতায়াত করেন। ট্রেনটি সম্প্রসারণ করা হলে সময়সূচি, আসনসংখ্যা ও টিকিট সংকট আরও প্রকট হবে। তাই আমরা এ সিদ্ধান্ত বাতিলের দাবি জানাচ্ছি।’
শিক্ষার্থী তানভীর হাসান বলেন, ‘ঢাকায় ভর্তি পরীক্ষা, বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লাস, চাকরির পরীক্ষা ও চিকিৎসার জন্য সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য মাধ্যম কিশোরগঞ্জ এক্সপ্রেস। এই ট্রেনের ওপর বাড়তি চাপ সৃষ্টি হলে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হবে শিক্ষার্থী ও সাধারণ যাত্রীরা।’
ফরিদ আহাম্মদ বলেন, ‘এটি কেবল একটি ট্রেন নয়, কিশোরগঞ্জবাসীর আবেগ ও অধিকার। জেলার মানুষ বছরের পর বছর আন্দোলন করে এই আন্তঃনগর ট্রেন পেয়েছে। আগে কিশোরগঞ্জের যাত্রীদের চাহিদা পূরণ করতে হবে, তারপর অন্য কোনো বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া যেতে পারে।’
সাইফুল ইসলাম বলেন, ‘রেলওয়ের উচিত কিশোরগঞ্জবাসীর মতামত ও যাত্রীসংখ্যা বিবেচনা করে সিদ্ধান্ত নেওয়া। কোনো জেলার স্বার্থ ক্ষুণ্ন করে অন্য জেলার সুবিধা নিশ্চিত করা যৌক্তিক হতে পারে না। আমরা চাই, সরকার দ্রুত এই সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা করুক।’
আন্দোলনকারীরা দ্রুত সম্প্রসারণের সিদ্ধান্ত প্রত্যাহারের আহ্বান জানিয়ে বলেন, ‘দাবি বাস্তবায়ন না হলে বৃহত্তর আন্দোলনের কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।’
প্রসঙ্গত, সম্প্রতি ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামালের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে বাংলাদেশ রেলওয়ে কিশোরগঞ্জ-ঢাকা রুটে চলাচলকারী আন্তঃনগর কিশোরগঞ্জ এক্সপ্রেস ট্রেনকে নেত্রকোনার জারিয়া পর্যন্ত সম্প্রসারণের সিদ্ধান্ত নেয়। এ সিদ্ধান্ত প্রকাশের পর থেকেই কিশোরগঞ্জের বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক ও পেশাজীবী সংগঠনের মধ্যে ক্ষোভে সৃষ্টি হয়েছে।
কেকে/এমএ