বগুড়ার দুপচাঁচিয়ায় জমি নিয়ে বিরোধের জেরে মারপিটে আহত জামায়াত নেতা সম্রাট হোসেন বাপ্পা (৪১) মারা গেছেন।
তিনি জামায়াতে ইসলামী দুপচাঁচিয়া সদর ইউনিয়ন যুব ও ক্রীড়া বিভাগের সহসভাপতি এবং ভেলুরচক গ্রামের বাসিন্দা ছিলেন। এ ঘটনায় পুলিশ নিহতের চাচা বিএনপি নেতা আব্দুল করিমকে গ্রেপ্তার করেছে।
শনিবার (৪ জুলাই) রাত ১২টার দিকে ঢাকায় চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান। দুপচাঁচিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তাজমিলুর রহমান এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
এর আগে বুধবার (২৫ জুন) জমিজমা নিয়ে মারপিটের ঘটনা ঘটে। এতে সম্রাট হোসেন বাপ্পা গুরুতর আহত হন।
পুলিশ জানায়, ভেলুরচক গ্রামের বাসিন্দা রফিক আকন্দ (৬৮) এবং তার ছোট ভাই বিএনপি নেতা আব্দুল করিম আকন্দের মধ্যে জমিজমা নিয়ে বিরোধ চলছিল। বুধবার দুপুর ১২টার দিকে উভয় পক্ষের মধ্যে কথা-কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে ছোট ভাই আব্দুল করিম তার লোকজন নিয়ে বড় ভাই রফিক আকন্দের ওপর হামলা করেন। এ সময় পিতাকে বাঁচাতে রফিক আকন্দের ছেলে, জামায়াত নেতা সম্রাট হোসেন বাপ্পা এগিয়ে গেলে তার ওপরও হামলা করা হয়। এ ঘটনায় রফিক আকন্দ ও তার স্ত্রী জোসনা বেগম (৬২) আহত হন। তাদের বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। বাপ্পার শারীরিক অবস্থার উন্নতি না হলে পরদিন তাকে ঢাকায় স্থানান্তর করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শনিবার রাতে সম্রাট মারা যান।
এদিকে, এ ঘটনায় সম্রাটের মা জোসনা বেগম বাদী হয়ে শুক্রবার (২৭ জুন) দুপচাঁচিয়া থানায় ইউনিয়ন বিএনপির দপ্তর সম্পাদক আব্দুল করিম আকন্দসহ আটজনের নাম উল্লেখ করে মামলা দায়ের করেন।
এ ঘটনায় পুলিশ মঙ্গলবার (১ জুলাই) রাতে জয়পুরহাট জেলার আক্কেলপুর থানার দাড়ালকুল গ্রাম থেকে বিএনপি নেতা আব্দুল করিম এবং তার স্ত্রী মিথিলাকে গ্রেপ্তার করে।
দুপচাঁচিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তাজমিলুর রহমান জানান, একই পরিবারের এক ভাই বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে জড়িত, আরেক ভাই জামায়াতের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত। তাদের মধ্যে জমিজমা নিয়ে বিরোধের জেরে মারপিটের ঘটনা ঘটে। এতে আহত একজন ঢাকায় চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান।
কেকে/এলএ