রোববার, ৫ জুলাই ২০২৬,
২১ আষাঢ় ১৪৩৩
বাংলা English
ই-পেপার

রোববার, ৫ জুলাই ২০২৬
শিরোনাম: ড. ইউনূসসহ ৪ জনের বিরুদ্ধে মামলার আবেদন      সরকারি অনুষ্ঠানের ব্যানার-ফেস্টুনে প্রধানমন্ত্রীর ছবি ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞা      প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের পরিচালক নাসির উদ্দিনকে প্রত্যাহার      তেহরানে খামেনির প্রথম জানাজা অনুষ্ঠিত      প্রাথমিক বিদ্যালয়ের অবকাঠামো উন্নয়নে নতুন প্রকল্প      দুর্নীতির অভিযোগ প্রমাণিত হলে চাকরিচ্যুত করা হবে: স্বাস্থ্যমন্ত্রী      ধুমঘাট ফরেস্ট স্টেশন ঘুষের টোল প্লাজা      
দেশজুড়ে
ভাটা নিকলী হাওড়ের পর্যটনে, অনিশ্চয়তায় হাজারো মানুষের জীবন জীবিকা
সাব্বির হোসেন, কিশোরগঞ্জ
প্রকাশ: রোববার, ৫ জুলাই, ২০২৬, ৩:২৬ পিএম
ছবি : খোলা কাগজ

ছবি : খোলা কাগজ

বর্ষা মৌসুম শুরু হলেও প্রত্যাশিত রূপে সেজে ওঠেনি কিশোরগঞ্জের নিকলী হাওড়। অন্যান্য বছরের মতো বিস্তীর্ণ জলরাশি, নৌকার সারি আর হাজারো পর্যটকের কোলাহলে মুখর হওয়ার কথা থাকলেও এবার দেখা যাচ্ছে ভিন্ন চিত্র। আগাম পানি নেমে যাওয়া, পর্যাপ্ত বৃষ্টিপাতের অভাব, হাওড়ে জলরাশির সংকট, পর্যটকদের নিরাপত্তা ও ব্যবস্থাপনার ঘাটতি এবং কিছু ক্ষেত্রে অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের অভিযোগ—সব মিলিয়ে নিকলী হাওড়কেন্দ্রিক পর্যটনে স্পষ্ট ভাটা পড়েছে।

সম্প্রতি সরেজমিনে নিকলী উপজেলার বেড়িবাঁধ, নৌঘাট ও আশপাশের পর্যটন এলাকা ঘুরে দেখা যায়, যেখানে ছুটির দিনে তিল ধারণের ঠাঁই থাকত, সেখানে এখন দিনের বেশির ভাগ সময়ই নীরবতা বিরাজ করছে। সারি সারি নৌকা ঘাটে বাঁধা থাকলেও যাত্রী নেই। অলস সময় কাটাচ্ছেন মাঝিরা। বিক্রি নেই হোটেল-রেস্তোরাঁ, কফি শপ, মুদি দোকান কিংবা ভ্রাম্যমাণ ব্যবসায়ীদের। পর্যটননির্ভর এই অঞ্চলের হাজারো মানুষের জীবিকায় নেমে এসেছে অনিশ্চয়তা।

বাংলাদেশের অন্যতম জনপ্রিয় বর্ষাকালীন পর্যটন গন্তব্য নিকলী হাওড়। আকাশ আর পানির মিতালি, দিগন্তজোড়া জলরাশি, সবুজ প্রকৃতি ও নৌভ্রমণের আকর্ষণে প্রতিবছর লাখো পর্যটক এখানে ভিড় করেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে হাওড়ের সৌন্দর্যের ছবি ও ভিডিও ছড়িয়ে পড়ার পর গত কয়েক বছরে এর জনপ্রিয়তা আরও বেড়ে যায়।

শুধু পর্যটন নয়, এই খাতকে কেন্দ্র করে গড়ে ওঠে একটি বড় স্থানীয় অর্থনীতি। নৌকার মাঝি, স্পিডবোট চালক, হোটেল-রেস্তোরাঁ, কফি শপ, মুদি দোকান, পরিবহন শ্রমিক, মাছ বিক্রেতা, ভ্রাম্যমাণ ব্যবসায়ী, স্থানীয় গাইড ও ফটোগ্রাফারসহ হাজারো পরিবার জীবিকা নির্বাহ করছে এই পর্যটনের ওপর নির্ভর করে।

স্থানীয়দের ভাষ্য, ২০২০ সালে প্রায় ৯০০ কোটি টাকা ব্যয়ে ইটনা-মিঠামইন-অষ্টগ্রাম অলওয়েদার সড়ক নির্মাণের পর নিকলী হাওড়ে পর্যটকের সংখ্যা কয়েক গুণ বেড়ে যায়। বর্তমানে প্রায় ১০ হাজার নৌকার মাঝিসহ কয়েক হাজার ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা এই পর্যটন শিল্পের সঙ্গে জড়িত।

পানি কম, পর্যটকও কম

চলতি মৌসুমে আগাম পানি নেমে যাওয়ায় হাওড়ে পর্যাপ্ত জলরাশি সৃষ্টি হয়নি। অনেক এলাকায় বড় নৌকা চলাচলে সমস্যা হচ্ছে। পাশাপাশি পর্যাপ্ত লাইফ জ্যাকেট, উদ্ধার সরঞ্জাম, সতর্কতামূলক সাইনবোর্ড, প্রশিক্ষিত উদ্ধারকর্মী ও নিয়মিত তদারকির অভাব পর্যটকদের মধ্যে নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি করেছে। ফলে অনেকেই নিকলীর পরিবর্তে অন্য পর্যটনকেন্দ্র বেছে নিচ্ছেন বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।

একসময় যেখানে একটি নৌকা দিনে একাধিক ট্রিপ দিয়ে কয়েক হাজার টাকা আয় করত, সেখানে এখন অনেক মাঝি সারাদিনেও একটি ট্রিপ পাচ্ছেন না। একইভাবে হোটেল, রেস্তোরাঁ ও দোকানপাটেও ক্রেতা কমে যাওয়ায় ব্যবসা টিকিয়ে রাখাই কঠিন হয়ে পড়েছে।

স্থানীয় প্রবীণদের মতে, জলবায়ু পরিবর্তন, অনিয়মিত বৃষ্টিপাত ও আগাম পানি নেমে যাওয়ার কারণে হাওড়ের স্বাভাবিক জলাবদ্ধতার চিত্র বদলে যাচ্ছে। কোথাও কোথাও কচুরিপানা ও পলি জমে নৌপথও সরু হয়ে গেছে। তাদের মতে, হাওড়ের পরিবেশ ও পর্যটন রক্ষায় দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা প্রয়োজন।

পর্যটকদের অভিজ্ঞতা

ঢাকা থেকে পরিবার নিয়ে ঘুরতে আসা সাথী আক্তার বলেন, “অনেক দিন ধরেই নিকলী হাওড়ে আসার ইচ্ছা ছিল। ফেসবুক, ইউটিউবসহ বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে হাওড়ের অসংখ্য ছবি ও ভিডিও দেখে জায়গাটির প্রতি আলাদা আকর্ষণ তৈরি হয়। তাই ছুটির সুযোগে পরিবার নিয়ে এখানে চলে এসেছি। বাস্তবে এসে দেখলাম, জায়গাটি সত্যিই অনেক সুন্দর। চারদিকে বিস্তীর্ণ জলরাশি, খোলা আকাশ, সবুজ প্রকৃতি আর নির্মল পরিবেশ মনকে অন্যরকম প্রশান্তি দেয়। শহরের ব্যস্ত জীবন থেকে কিছুটা সময় প্রকৃতির মাঝে কাটানোর জন্য এটি দারুণ একটি স্থান। তবে এবার পানির পরিমাণ তুলনামূলক কম। পানি আরও বেশি থাকলে হাওড়ের সৌন্দর্য ও নৌভ্রমণের অভিজ্ঞতা নিঃসন্দেহে আরও উপভোগ্য হতো। তারপরও পরিবারের সঙ্গে সুন্দর সময় কাটাতে পেরে আমরা খুব আনন্দিত।”

ষষ্ঠ শ্রেণির শিক্ষার্থী সারা বলে, “অনেক দিন ধরেই বাবা-মাকে বলছিলাম আমাকে নিকলী হাওড়ে নিয়ে আসতে। স্কুলে বন্ধুদের কাছ থেকেও এই জায়গার অনেক গল্প শুনেছি। আজ সবাই মিলে এখানে এসে খুব ভালো লাগছে। চারদিকে শুধু পানি, নৌকা আর সবুজ প্রকৃতি দেখে আমি মুগ্ধ। নৌকায় ঘুরতে অনেক মজা লাগছে। মোবাইলে অনেক ছবি তুলেছি এবং পরিবারের সঙ্গে সুন্দর সময় কাটাচ্ছি। আমার মনে হয়, যারা এখনো নিকলী হাওড়ে আসেননি, তাদের অন্তত একবার হলেও এখানে ঘুরতে আসা উচিত। সুযোগ পেলে আমি আবারও এখানে আসতে চাই।”

টাঙ্গাইল থেকে বন্ধুদের নিয়ে আসা মোহাম্মদ বেলাল হোসেন বলেন, “অনলাইনে নিকলী হাওড়ের অনেক ভিডিও দেখেছি। তখন থেকেই বন্ধুদের নিয়ে এখানে আসার পরিকল্পনা করি। অবশেষে আজ সেই ইচ্ছা পূরণ হলো। জায়গাটি সত্যিই অনেক সুন্দর এবং প্রাকৃতিক সৌন্দর্যে ভরপুর। তবে এখানে আসার পথে যোগাযোগ ব্যবস্থার কিছু সীমাবদ্ধতা রয়েছে। পর্যটকদের জন্য আরও ভালো বিশ্রামাগার, তথ্যকেন্দ্র, পরিচ্ছন্ন পরিবেশ এবং প্রয়োজনীয় সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করা গেলে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আরও বেশি মানুষ এখানে আসবেন। এতে স্থানীয় অর্থনীতিও আরও সমৃদ্ধ হবে বলে আমি মনে করি।”

একই জেলার আরেক পর্যটক মো. কামরুল হাসান বলেন, “আমরা ১১টি মোটরসাইকেলে প্রায় ২৬ থেকে ২৭ জন বন্ধু একসঙ্গে এখানে এসেছি। সবাই মিলে একটি সুন্দর সময় কাটানোর পরিকল্পনা ছিল। জায়গাটি আমাদের ভালো লেগেছে, তবে এবার পানির পরিমাণ তুলনামূলক কম থাকায় হাওড়ের প্রকৃত সৌন্দর্য পুরোপুরি উপভোগ করা সম্ভব হয়নি। এছাড়া নৌকা ভাড়া ও কিছু খাবারের দামও তুলনামূলক বেশি মনে হয়েছে। প্রশাসন যদি নৌযানের ভাড়া নির্ধারণ, বাজার মনিটরিং, পরিচ্ছন্নতা ও নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নয়নে আরও কার্যকর পদক্ষেপ নেয়, তাহলে পর্যটকদের ভোগান্তি কমবে এবং নিকলী হাওড় আরও জনপ্রিয় পর্যটনকেন্দ্রে পরিণত হবে।”

গাজীপুর থেকে পরিবার নিয়ে আসা মোহাম্মদ তুষার আহমেদ বলেন, “অনেক দিন ধরেই নিকলী হাওড়ে আসার পরিকল্পনা ছিল। বিভিন্ন জায়গায় ঘুরেছি, কিন্তু হাওড়ের মতো এত বিস্তীর্ণ প্রাকৃতিক সৌন্দর্য খুব কম জায়গাতেই দেখা যায়। এখানে এসে সত্যিই ভালো লাগছে। খোলা আকাশ, জলরাশি আর শান্ত পরিবেশ মনকে অন্যরকম প্রশান্তি দেয়। তবে এবার পানির পরিমাণ আরও বেশি থাকলে হাওড়ের সৌন্দর্য কয়েক গুণ বেড়ে যেত। আশা করছি, বর্ষার পুরো মৌসুমে পানি বাড়লে আবারও পরিবার নিয়ে এখানে আসব এবং তখন হাওড়ের আসল সৌন্দর্য উপভোগ করতে পারব।”

মাঝি ও ব্যবসায়ীদের দুর্দশা

নৌকার মাঝি হেলাল উদ্দিন বলেন, “লাখ লাখ টাকা খরচ করে পর্যটকদের জন্য বড় নৌকা বানিয়েছি। অন্য বছর এই সময় সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত একের পর এক ট্রিপ দিতে হতো। বিশেষ করে সাপ্তাহিক ছুটি ও সরকারি ছুটির দিনে এত বেশি পর্যটক আসতেন যে বিশ্রাম নেওয়ারও সময় পাওয়া যেত না। কিন্তু এবার চিত্র পুরোপুরি ভিন্ন। হাওড়ে পর্যাপ্ত পানি না থাকায় অনেক জায়গায় নৌকা নিয়ে যাওয়া যাচ্ছে না। পর্যটকও খুব কম আসছেন। সারাদিন ঘাটে বসে থাকলেও অনেক দিন একটি ট্রিপও মেলে না। নৌকার রক্ষণাবেক্ষণ, শ্রমিকের মজুরি ও পরিবারের খরচ চালাতে হিমশিম খেতে হচ্ছে। সংসার চালানো এখন খুবই কঠিন হয়ে পড়েছে। আমরা শুধু অপেক্ষা করছি, কখন পানি বাড়বে আর পর্যটক ফিরবে।”

স্পিডবোট চালক মোহাম্মদ মেহেদী হাসান বলেন, “আগে দিনে চার-পাঁচটি ট্রিপ দেওয়া যেত। পর্যটকদের চাহিদা এত বেশি ছিল যে অনেক সময় সবাইকে সেবা দেওয়া সম্ভব হতো না। কিন্তু এবার স্পিডবোটগুলো দিনের পর দিন ঘাটে পড়ে আছে। যাত্রী এত কম যে একজন পর্যটক এলেই কয়েকজন চালকের মধ্যে প্রতিযোগিতা শুরু হয়ে যায়। আয় প্রায় বন্ধ হয়ে গেছে। অথচ স্পিডবোটের কিস্তি, জ্বালানি, রক্ষণাবেক্ষণসহ বিভিন্ন খরচ তো থেমে নেই। আমরা সবাই চাই দ্রুত পানি বাড়ুক। পানি বাড়লে হাওড়ে পর্যটকও বাড়বে, তখন আবার আগের মতো কাজ করতে পারব।”

কোষা নৌকার মাঝি ইছব আলী বলেন, “কয়েক বছর আগে ভয়াবহ বন্যায় ধানের ফসল নষ্ট হওয়ার পর ধারদেনা করে একটি কোষা নৌকা কিনেছিলাম। ভেবেছিলাম পর্যটকদের নিয়ে নৌকা চালিয়ে সংসার চালাব, পাশাপাশি ধীরে ধীরে ঋণও পরিশোধ করতে পারব। প্রথম কয়েক বছর ভালোই আয় হয়েছিল। কিন্তু এবার হাওড়ে পানি না থাকায় নৌকা নিয়ে ঠিকমতো চলাচলই করা যাচ্ছে না। আয় বন্ধ হওয়ার পাশাপাশি ঋণের কিস্তি, পরিবারের খাবার, ছেলেমেয়েদের লেখাপড়ার খরচ—সবকিছু চালাতে খুব কষ্ট হচ্ছে। যদি দ্রুত পরিস্থিতির উন্নতি না হয়, তাহলে কীভাবে সংসার চলবে সেটাই এখন সবচেয়ে বড় চিন্তা।”

হোটেল কর্মচারী মোহাম্মদ মুমিন বলেন, “আগে বর্ষা মৌসুম এলেই হোটেলে তিল ধারণের ঠাঁই থাকত না। সকাল থেকে রাত পর্যন্ত পর্যটকদের ভিড়ে সবাই ব্যস্ত সময় পার করতাম। এখন সেই চিত্র আর নেই। সারাদিন অপেক্ষা করেও তেমন কোনো ক্রেতা পাওয়া যায় না। হোটেলের কক্ষগুলো খালি পড়ে থাকে। বিক্রি না থাকায় মালিকরাও লোকসানের মুখে পড়েছেন। আমাদের চাকরি নিয়েও অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। আমরা চাই দ্রুত পানি বাড়ুক এবং পর্যটকরা আবার আগের মতো নিকলী হাওড়ে আসতে শুরু করুন।”

মুদি দোকানি মুহাম্মদ ওসমান বলেন, “এবার হাওড়ে পানি কম থাকায় পর্যটকের সংখ্যাও অনেক কম। অথচ জ্বালানি তেলের দাম, দোকান ভাড়া, বিদ্যুৎ বিল, কর্মচারীর বেতনসহ সব ধরনের খরচ আগের তুলনায় বেড়েছে। কিন্তু বিক্রি না থাকায় ব্যবসা টিকিয়ে রাখাই কঠিন হয়ে পড়েছে। অনেক সময় সারাদিন দোকান খোলা রেখেও আশানুরূপ বিক্রি হয় না। যদি দ্রুত পানি বাড়ে এবং পর্যটক আসে, তাহলে আবার ব্যবসায় গতি ফিরবে। পাশাপাশি প্রশাসনের উচিত নৌকা ভাড়া, দ্রব্যমূল্য ও বাজার ব্যবস্থাপনায় নিয়মিত তদারকি করা এবং পর্যটকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা।”

সম্ভাবনা এখনও রয়েছে

স্থানীয়দের মতে, নিকলী হাওড়ের পর্যটন সম্ভাবনা এখনও শেষ হয়ে যায়নি। পরিকল্পিত উদ্যোগ গ্রহণ করা গেলে খুব দ্রুতই এই পর্যটনকেন্দ্র আবারও প্রাণ ফিরে পেতে পারে। তারা বলেন, নিয়মিত পরিচ্ছন্নতা অভিযান পরিচালনা, নিরাপদ নৌভ্রমণ নিশ্চিত করা, পর্যাপ্ত লাইফ জ্যাকেট ও উদ্ধার সরঞ্জাম সরবরাহ, সতর্কতামূলক সাইনবোর্ড স্থাপন, নৌকা ভাড়া ও দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণ, যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন এবং সরকারি-বেসরকারি উদ্যোগে ব্যাপক প্রচারণা চালানো প্রয়োজন। তাদের বিশ্বাস, বর্ষার পানি স্বাভাবিকভাবে বৃদ্ধি পেলে এবং প্রশাসনের কার্যকর উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে নিকলী হাওড় আবারও পর্যটকের পদচারণায় মুখর হয়ে উঠবে। এতে শুধু পর্যটন শিল্পই নয়, হাওড়াঞ্চলের হাজারো মানুষের কর্মসংস্থান ও স্থানীয় অর্থনীতিও নতুন করে গতি পাবে।

প্রশাসনের বক্তব্য

নিকলী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মাহবুবুর রহমান বলেন, নতুন পুলিশ সুপারের নির্দেশনায় নিকলী ও করিমগঞ্জ পর্যটন এলাকায় নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। নদীপথে টহল, নৌ পুলিশ ও ট্যুরিস্ট পুলিশের সমন্বিত কার্যক্রম, স্বেচ্ছাসেবকভিত্তিক ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা এবং সার্বিক নজরদারি বৃদ্ধি করা হয়েছে। পর্যটকদের সহায়তায় একটি কমান্ড ও কন্ট্রোল সেন্টার স্থাপনের পরিকল্পনাও রয়েছে।

নিকলী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. শহীদউল্লাহ বলেন, পর্যটকদের নিরাপদ ও নির্বিঘ্ন ভ্রমণ নিশ্চিত করতে উপজেলা প্রশাসন প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নিচ্ছে। হাওড়ে পর্যাপ্ত পানি এলে সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে আলোচনা করে নৌযানের ভাড়া নির্ধারণ করা হবে। একই সঙ্গে পরিচ্ছন্নতা, আইনশৃঙ্খলা ও পর্যটকদের নিরাপত্তা নিশ্চিতে প্রশাসন ও থানা পুলিশ সমন্বিতভাবে কাজ করছে।

তিনি আশা প্রকাশ করেন, হাওড়ে পর্যাপ্ত পানি এলে নিকলী আবারও পর্যটকের পদচারণায় মুখর হয়ে উঠবে এবং পর্যটননির্ভর হাজারো মানুষের জীবিকা স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে আসবে।

কেকে/ এমএস


আরও সংবাদ   বিষয়:  ভাটা   নিকলী হাওড়   পর্যটন   জীবন জীবিকা  
মতামত লিখুন:
Loading...
Loading...

দেশজুড়ে- এর আরো খবর

সম্পাদক ও প্রকাশক : আহসান হাবীব
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : বসতি হরাইজন, ১৭-বি, বাড়ি-২১ সড়ক-১৭, বনানী, ঢাকা-১২১৩
ফোন : বার্তা-০২২২২২৭৬০৩৭, মফস্বল-০২২২২২৭৬০৩৬, বিজ্ঞাপন ও সার্কুলেশন-০২২২২২৭৬০২৯, ০১৭৮৭৬৯৭৮২৩, ০১৮৫৩৩২৮৫১০ (বিকাশ)
ই-মেইল: [email protected], [email protected]

© 2025 Kholakagoj
🔝
close