নীলফামারীর কিশোরগঞ্জ উপজেলায় বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের দুই শ্রমিক নিহত হয়েছেন।
রোববার (৫ জুলাই) বেলা ১১টার দিকে উপজেলার সদর ইউনিয়নের পাড়ের হাট পাকারমাথা এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহতরা হলেন, নীলফামারী সদর উপজেলার কালিতলা এলাকার দারিকা চন্দ্র রায়ের ছেলে জয়ন্ত রায় (২৬) এবং একই উপজেলার সুঠিপাড়া গ্রামের মৃত মেহের উদ্দিনের ছেলে মো. মোমিনুল ইসলাম বাচ্চাউ (৫০)। তারা পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের শ্রমিক ছিলেন।
স্থানীয়রা জানান, রোববার সকালে পাকারমাথা সড়ক এলাকায় পল্লী বিদ্যুতের সরবরাহ লাইনের মেরামতের কাজ চলছিল। বেলা ১১টার দিকে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে দুই শ্রমিক গুরুতর আহত হন। পরে তাদের উদ্ধার করে কিশোরগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। কাজের সময় বিদ্যুৎ সংযোগ বন্ধ না করায় এ দুর্ঘটনা ঘটেছে বলে দাবি করেন স্থানীয়রা।
নীলফামারী পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির কিশোরগঞ্জ জোনাল কার্যালয়ের ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার মো. নুরুজ্জামান বলেন, ‘ওই এলাকায় নতুন ৩৩ কেভি লাইনের খুঁটি স্থাপনের কাজ করছিল সুমাইয়া এন্টারপ্রাইজ নামে একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। তারা বিদ্যুৎ লাইন শাটডাউন না নিয়েই কাজ শুরু করায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।’
তবে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধি আখতার হোসেন ভিন্ন দাবি করে বলেন, ‘বিদ্যুৎ লাইনের কাজের জন্য শ্রমিকদের সেখানে পাঠানো হলেও সুপারভাইজার শাটডাউনের অনুমতি নিতে বিদ্যুৎ অফিসে যান। শাটডাউন নিয়ে কাজ শুরু করার কথা ছিল। কিন্তু ওই দুই শ্রমিক সুপারভাইজারের অনুমতি ছাড়াই শাটডাউনের আগেই একটি হেলে থাকা খুঁটি সোজা করার কাজ শুরু করেন। এ সময় পাশের বিদ্যুতের তারের সংস্পর্শে এসে তারা বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হন।’
কিশোরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) লুৎফর রহমান বলেন, ‘খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। মরদেহ উদ্ধার করে আইনগত প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।’
কেকে/ এমএস