পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ব্রাজিলের বহু প্রতীক্ষিত ‘হেক্সা’ স্বপ্ন আবারও অধরাই থেকে গেল। বরং ২০০২ সালের পর টানা ষষ্ঠ বিশ্বকাপে ইউরোপীয় প্রতিপক্ষের কাছে নকআউট পর্বে হেরে এক অস্বস্তিকর ‘হারের হেক্সা’ পূর্ণ করল সেলেসাওরা।
রোববার (৫ জুলাই) যুক্তরাষ্ট্রের মেটলাইফ স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত ২০২৬ বিশ্বকাপের শেষ ষোলোর ম্যাচে নরওয়ের কাছে ২-১ গোলে হেরে বিদায় নেয় ব্রাজিল।
বিশ্বকাপের আগে কোচ কার্লো আনচেলত্তির অধীনে অন্যতম শিরোপাপ্রত্যাশী হিসেবে বিবেচিত হচ্ছিল ব্রাজিলকে। তারকাবহুল দল নিয়েও শেষ পর্যন্ত প্রত্যাশা পূরণ করতে পারেনি পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা। গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তে সুযোগ নষ্ট এবং রক্ষণভাগের দুর্বলতার সুযোগ নিয়েই জয় তুলে নেয় নরওয়ে।
ম্যাচের শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ফুটবল খেললেও গোলের সামনে কার্যকর হতে পারেনি ব্রাজিল। প্রথমার্ধে পাওয়া পেনাল্টিও কাজে লাগাতে ব্যর্থ হন ব্রুনো গুইমারায়েস। সেই ব্যর্থতারই মূল্য দিতে হয় সেলেসাওদের।
অন্যদিকে সুযোগের সর্বোচ্চ ব্যবহার করে নরওয়েকে জেতান তারকা স্ট্রাইকার এরলিং হালান্ড। তার জোড়া গোলে ২-১ ব্যবধানে জয় নিশ্চিত করে কোয়ার্টার ফাইনালে জায়গা করে নেয় নরওয়ে।
এই হারের মধ্য দিয়ে আরও একটি হতাশাজনক রেকর্ড গড়ল ব্রাজিল। ২০০২ সালে সর্বশেষ বিশ্বকাপ জয়ের পর ২০০৬ সালে ফ্রান্স, ২০১০ সালে নেদারল্যান্ডস, ২০১৪ সালে জার্মানি, ২০১৮ সালে বেলজিয়াম, ২০২২ সালে ক্রোয়েশিয়া এবং এবার ২০২৬ সালে নরওয়ের কাছে নকআউট পর্বে হেরে বিদায় নিতে হলো তাদের। অর্থাৎ টানা ছয়টি বিশ্বকাপেই ইউরোপীয় প্রতিপক্ষের বিপক্ষে বিদায়—যা ব্রাজিলের ‘হেক্সা’ স্বপ্নকে রূপ দিয়েছে ‘হারের হেক্সায়’।
বিশ্বফুটবলের সবচেয়ে সফল দল ব্রাজিলের জন্য এই পরিসংখ্যান নিঃসন্দেহে উদ্বেগের। দুই দশকের বেশি সময় ধরে বিশ্বকাপ জয়ের অপেক্ষা যেমন শেষ হয়নি, তেমনি ইউরোপীয় প্রতিপক্ষের বিপক্ষে নকআউট পর্বের অভিশাপও কাটাতে পারেনি সেলেসাওরা।
কেকে/ এমএস