বুধবার, ৮ জুলাই ২০২৬,
২৪ আষাঢ় ১৪৩৩
বাংলা English
ই-পেপার

বুধবার, ৮ জুলাই ২০২৬
শিরোনাম: রাষ্ট্র পরিচালনায় সংযমের বার্তা দিচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী      কক্সবাজার রুটে ট্রেন চলাচল বন্ধ      ১৬ জেলায় বন্যার শঙ্কা      বঙ্গোপসাগরে নিম্নচাপ, নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হওয়ার শঙ্কা      ডিসেম্বর পর্যন্ত ডেঙ্গু পরীক্ষা ফ্রি করল সরকার      গ্রামপর্যায়ে প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দিতে কাজ করছে সরকার      এনসিপির সমাবেশে ককটেল হামলার নিন্দা, দোষীদের শাস্তির দাবি      
খোলাকাগজ স্পেশাল
রাষ্ট্র পরিচালনায় সংযমের বার্তা দিচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী
আলতাফ হোসেন
প্রকাশ: বুধবার, ৮ জুলাই, ২০২৬, ৯:০৫ এএম আপডেট: ০৮.০৭.২০২৬ ১০:৪৩ এএম
ফাইল ছবি

ফাইল ছবি

চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে অনুষ্ঠিত জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপি নিরঙ্কুশ বিজয় অর্জনের পর দলটির চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নেতৃত্বে নতুন সরকার দায়িত্ব গ্রহণ করে। ক্ষমতায় আসার পর থেকেই প্রশাসনিক সংস্কার, সুশাসন প্রতিষ্ঠা, সরকারি ব্যয়সংকোচন, অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধার ও জনভোগান্তি কমানোর লক্ষ্যে একের পর এক নীতিগত সিদ্ধান্ত নিচ্ছে সরকার। প্রধানমন্ত্রীর বেতনের ১০ শতাংশ সরকারি কোষাগারে জমা দেওয়া, অতিরিক্ত ভিআইপি প্রটোকল পরিহার, ব্যক্তি বা পরিবারের নামে সরকারি প্রতিষ্ঠানের নামকরণে নিরুৎসাহিত করা, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচিত জনস্বার্থের ইস্যুতে দ্রুত নজর দেওয়া, বাজেট-পরবর্তী ঐতিহ্যবাহী নৈশভোজ বাতিল এবং মন্ত্রিসভার অধিকাংশ বৈঠক সচিবালয়ে আয়োজনের মতো উদ্যোগ ইতোমধ্যে ব্যাপক আলোচনা সৃষ্টি করেছে। পাশাপাশি অর্থনৈতিক কূটনীতি জোরদার, শিল্প উৎপাদনে গতি ফেরানো এবং প্রশাসনিক জবাবদিহি নিশ্চিত করার পদক্ষেপও সরকারের অগ্রাধিকার তালিকায় রয়েছে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এসব সিদ্ধান্ত শুধু প্রশাসনিক কার্যক্রমেই পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে না, বরং রাষ্ট্র পরিচালনায় সংযম, জবাবদিহি, প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কৃতি ও জনকেন্দ্রিক শাসনব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার একটি নতুন রাজনৈতিক বার্তাও তুলে ধরছে।

সংশ্লিষ্টদের মতে, দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই প্রধানমন্ত্রী প্রশাসনের প্রতিটি স্তরে গতি, শৃঙ্খলা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করছেন। মন্ত্রিসভার বৈঠকে বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের কার্যক্রম নিয়মিত পর্যালোচনা করা হচ্ছে। বাস্তবায়ন অগ্রগতিও নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। সম্প্রতি প্রকাশিত অগ্রগতি প্রতিবেদনে দেখা যায়, মন্ত্রিসভার গৃহীত সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের হার ৭০ শতাংশের বেশি। সরকারি ব্যয় সাশ্রয় এবং জনগণের দুর্ভোগ কমানোর লক্ষ্যে মন্ত্রিসভার অধিকাংশ বৈঠক সচিবালয়েই আয়োজনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এতে যানজট, নিরাপত্তাজনিত বিঘ্ন এবং অতিরিক্ত প্রশাসনিক ব্যয় কমবে বলে মনে করছে সরকার।

অর্থনৈতিক কূটনীতিতে জোর : দেশের অর্থনীতিকে স্থিতিশীল ও টেকসই ভিত্তির ওপর দাঁড় করাতে সরকার অর্থনৈতিক কূটনীতিকে বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে। ‘বাংলাদেশ ফার্স্ট’ নীতির আওতায় বিভিন্ন দেশের সঙ্গে বিনিয়োগ, বাণিজ্য, অবকাঠামো উন্নয়ন এবং প্রযুক্তি সহযোগিতা জোরদারের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। চীন, মালয়েশিয়াসহ বিভিন্ন দেশের সঙ্গে উন্নয়ন ও অর্থনৈতিক সহযোগিতা সম্প্রসারণের মাধ্যমে বৈদেশিক বিনিয়োগ বাড়ানোর চেষ্টা চলছে।

অর্থনীতিবিদদের মতে, বৈদেশিক বিনিয়োগ, রপ্তানি বাজার সম্প্রসারণ এবং উৎপাদনশীল খাতে নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি সরকারের অর্থনৈতিক কৌশলের গুরুত্বপূর্ণ অংশ।

শিল্প উৎপাদনে গতি ফেরানোর উদ্যোগ : দেশের শিল্প ও উৎপাদন খাতকে পুনরুজ্জীবিত করতে সরকার একাধিক নীতিগত উদ্যোগ নিয়েছে। দীর্ঘদিনের স্থবিরতা কাটিয়ে উৎপাদন বৃদ্ধি, নতুন বিনিয়োগ আকর্ষণ এবং কর্মসংস্থান সৃষ্টিকে অগ্রাধিকার দিয়ে শিল্পবান্ধব পরিবেশ তৈরির ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। এ লক্ষ্যে উদ্যোক্তাদের জন্য সহজ ঋণ, কর-প্রণোদনা, অবকাঠামো উন্নয়ন, জ্বালানি সরবরাহের স্থিতিশীলতা এবং ব্যবসা সহজীকরণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

সরকারের লক্ষ্য, স্থানীয় শিল্পের উৎপাদন সক্ষমতা বাড়িয়ে আমদানিনির্ভরতা কমানো এবং রপ্তানিমুখী শিল্পকে আরও প্রতিযোগিতামূলক করে তোলা। একই সঙ্গে ক্ষুদ্র, মাঝারি ও বৃহৎ শিল্পপ্রতিষ্ঠানের জন্য বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করার উদ্যোগও চলছে। সংশ্লিষ্টদের মতে, শিল্প খাতে নতুন বিনিয়োগ বাড়লে উৎপাদন বৃদ্ধি, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং অর্থনীতিতে ইতিবাচক গতি ফিরে আসবে।

অর্থনীতিবিদদের মতে, শিল্প খাতকে শক্তিশালী করা ছাড়া টেকসই অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি অর্জন সম্ভব নয়। তাই সরকারি নীতিগত সহায়তা, বেসরকারি বিনিয়োগ বৃদ্ধি এবং অবকাঠামোগত উন্নয়নের সমন্বিত বাস্তবায়ন দেশের শিল্পায়নকে নতুন গতি দিতে পারে এবং অর্থনীতিকে আরও শক্তিশালী ভিত্তির ওপর দাঁড় করাতে সহায়ক হবে।

সরকারি কর্মচারীদের নতুন বেতন কাঠামো : দীর্ঘ প্রায় এক যুগ পর সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য নতুন বেতন কাঠামো বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। সরকারের পরিকল্পনা অনুযায়ী এটি ধাপে ধাপে কার্যকর করা হবে, যাতে একদিকে কর্মচারীরা আর্থিক সুবিধা পান, অন্যদিকে বাজেটের ওপর অতিরিক্ত চাপও নিয়ন্ত্রণে থাকে।

ব্যয়সংকোচন ও প্রশাসনিক শৃঙ্খলা : সরকারি ব্যয় কমাতে বিভিন্ন পর্যায়ে মিতব্যয়িতা অনুসরণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। অপ্রয়োজনীয় অনুষ্ঠান, আনুষ্ঠানিকতা এবং বিলাসী ব্যয় কমানোর ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। একই সঙ্গে সরকারি সম্পদের যথাযথ ব্যবহার, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

জনবান্ধব প্রশাসনের লক্ষ্য : প্রশাসনের কার্যক্রমকে আরও দ্রুত, সহজ ও জনমুখী করতে বিভিন্ন মন্ত্রণালয়কে সময়মতো সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সরকারি সেবায় হয়রানি কমানো, ডিজিটাল সেবা সম্প্রসারণ এবং মাঠ প্রশাসনের কার্যকারিতা বাড়ানোর উদ্যোগও চলছে।

বিশ্লেষকদের মতে, সরকারের ধারাবাহিক এসব নীতিগত পদক্ষেপ বাস্তবায়ন হলে অর্থনীতি, প্রশাসন ও জনসেবায় ইতিবাচক পরিবর্তন আসতে পারে। তবে এসব উদ্যোগের প্রকৃত সফলতা নির্ভর করবে সিদ্ধান্তগুলোর কার্যকর বাস্তবায়ন, স্বচ্ছতা এবং দীর্ঘমেয়াদি ধারাবাহিকতার ওপর।

বেতনের ১০ শতাংশ সরকারি কোষাগারে জমা দেন প্রধানমন্ত্রী : প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান প্রতি মাসে নিজের বেতনের ১০ শতাংশ সরকারি কোষাগারে জমা দেন। এ ছাড়া প্রধানমন্ত্রী মন্ত্রিসভার সদস্যদেরও সামর্থ্য অনুযায়ী স্বেচ্ছায় তাদের বেতনের একটি অংশ রাষ্ট্রীয় কোষাগারে দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। তবে তিনি স্পষ্ট করেছেন, এটি কোনো বাধ্যবাধকতা নয়, বরং সম্পূর্ণ স্বেচ্ছাসেবী উদ্যোগ।

প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্য উদ্ধৃত করে স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন জানান, ‘প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, আমার আব্বা সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান প্রতি মাসে তার বেতন থেকে ১০ শতাংশ সরকারি কোষাগারে ফেরত দিতেন গরিব-মিসকিন মানুষদের সহযোগিতা করার জন্য বা সরকারি কোনো প্রয়োজনে খরচ করার জন্য। আমি কিন্তু বেতন নিচ্ছি, না নিয়ে চলতে পারছি না। আমার বেসিক বেতন ১ লাখ ১৫ হাজার টাকা। ১০ শতাংশ হারে আমি ১১ হাজার ৫০০ টাকা প্রতি মাসে বেতন থেকে জমা দিচ্ছি। বেতন যখন অ্যাকাউন্টে আসে, আমি তুলে একটা চেক দিয়ে দিই গভর্নমেন্টের অ্যাকাউন্টে। আমি আপনাদের অনুরোধ করব, আমার আব্বা কাজটা করতেন, আমি করছি; আপনারাও যদি মনে কিছু না নেন বা যদি আপনাদের পক্ষে সম্ভব হয়, আপনারাও প্রতি মাসে ১০ শতাংশ আপনাদের বেতনের টাকাটা সরকারের ঘরে ফেরত দিয়ে দেবেন।’

তিনি বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রীর এমন পদক্ষেপে মন্ত্রিসভার সবাই অত্যন্ত খুশি হয়েছেন।’

অতিরিক্ত ভিআইপি প্রটোকল পরিহার : দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই প্রধানমন্ত্রী ভ্রমণের ক্ষেত্রে প্রচলিত অতিরিক্ত ভিআইপি প্রটোকল পরিহার করার নীতি অনুসরণ করছেন। জনদুর্ভোগ কমানো এবং সরকারি সম্পদের সাশ্রয় নিশ্চিত করতে সফরের সময় অপ্রয়োজনীয় নিরাপত্তা ও প্রশাসনিক আয়োজন সীমিত রাখার নির্দেশনা দেওয়া হয়। ফলে প্রধানমন্ত্রীর যাতায়াতের কারণে দীর্ঘ সময় সড়ক বন্ধ রাখা, অতিরিক্ত যানজট সৃষ্টি কিংবা সাধারণ মানুষের চলাচলে অযথা বিঘ্ন ঘটানোর প্রবণতা কমেছে।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এ উদ্যোগের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী একটি জনবান্ধব ও দায়িত্বশীল প্রশাসনের বার্তা দিতে চেয়েছেন। একই সঙ্গে রাষ্ট্রীয় পদে থেকে সরলতা, মিতব্যয়িতা এবং জনগণের ভোগান্তি কমানোর বিষয়ে সরকারের অবস্থানও স্পষ্ট হয়েছে। প্রধানমন্ত্রীসহ রাষ্ট্রের অতি গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিরা (ভিআইপি) প্রটোকল ছাড়া সাধারণ সিগন্যাল মেনে চলায় যানবাহনের গতি বেড়েছে বলে জানা যায়।

সরকারি ও রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানের নামকরণের রাজনীতি সম্পূর্ণ পরিহার

দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ব্যক্তিগত বা পরিবারের সদস্যদের নামে সরকারি ও রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানের নামকরণের রাজনীতি সম্পূর্ণ পরিহার করেছেন। এমনকি তিনি কেরানীগঞ্জ কারিগরি প্রশিক্ষণকেন্দ্রের (টিটিসি) নাম তার মা ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া এবং তার পরিবার বা বংশের নামে করার প্রস্তাবও দৃঢ়ভাবে নাকচ করে দিয়েছেন। তিনি স্পষ্ট নির্দেশনা দিয়েছেন, সরকারি অর্থায়নে নির্মিত কোনো প্রতিষ্ঠান, প্রকল্প বা স্থাপনার নাম তাঁর নিজের, পরিবারের সদস্য কিংবা রাজনৈতিক বংশের নামে রাখা হবে না।

সরকারের সংশ্লিষ্ট সূত্রের মতে, সরকারি স্থাপনা বা প্রতিষ্ঠানগুলোর নাম যেন বিতর্ক ও দলীয় রাজনীতির ঊর্ধ্বে থাকে, সে বিষয়ে তিনি জোর দিয়েছেন।

সংশ্লিষ্টদের মতে, এ অবস্থানের মাধ্যমে সরকার ব্যক্তি বা পরিবারকেন্দ্রিক নামকরণের রাজনৈতিক সংস্কৃতি থেকে সরে এসে প্রাতিষ্ঠানিক পরিচয় ও রাষ্ট্রীয় নিরপেক্ষতাকে গুরুত্ব দেওয়ার বার্তা দিয়েছে।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের ইস্যুতেও প্রধানমন্ত্রীর নজর

দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচিত জনস্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন ইস্যুকে গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করছেন। ফেসবুক, এক্স (সাবেক টুইটার) ও অন্যান্য ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে নাগরিকদের অভিযোগ, জনদুর্ভোগ, অনিয়ম, সেবার মান এবং বিভিন্ন সামাজিক সমস্যা নিয়ে আলোচনা শুরু হলে সেগুলো দ্রুত সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও সংস্থার নজরে আনার নির্দেশনা দেওয়া হচ্ছে। অনেক ক্ষেত্রে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিষয়টি আলোচনায় আসার পর তদন্ত, ব্যাখ্যা কিংবা প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার উদ্যোগও দেখা গেছে।

সংশ্লিষ্টদের মতে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমকে সরকার এখন জনমত ও নাগরিক প্রতিক্রিয়া জানার একটি কার্যকর মাধ্যম হিসেবে বিবেচনা করছে। ফলে এসব প্ল্যাটফর্মে উঠে আসা গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুগুলো দ্রুত মূল্যায়ন করে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার মাধ্যমে জনসেবার মান, প্রশাসনিক জবাবদিহি এবং জনগণের আস্থা বাড়ানোর চেষ্টা করা হচ্ছে।

ব্যয় সাশ্রয়ে বাজেট-পরবর্তী নৈশভোজ বাতিল

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নির্দেশে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেট-পরবর্তী ঐতিহ্যবাহী নৈশভোজ বাতিল করা হয়েছে। সরকারি ব্যয়সংকোচনের অংশ হিসেবে নেওয়া এ সিদ্ধান্তে প্রায় ৫০ লাখ টাকা সাশ্রয় হয়েছে। অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন জানান, অপ্রয়োজনীয় ব্যয় কমানোর নীতির অংশ হিসেবেই এবার নৈশভোজের আয়োজন করা হয়নি।

প্রতি বছর বাজেট পাসের দিন জাতীয় সংসদ ভবনে অর্থ মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে এ নৈশভোজ অনুষ্ঠিত হতো। এতে প্রধানমন্ত্রী, মন্ত্রিসভার সদস্য, সংসদ সদস্য, ঊর্ধ্বতন সরকারি কর্মকর্তা এবং গণমাধ্যমকর্মীরা অংশ নিতেন। তবে এবার সেই দীর্ঘদিনের প্রচলিত আয়োজন থেকে সরে এসেছে সরকার।

আতিকুর রহমান রুমন আরও জানান, বিগত সরকারের সময়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের আপ্যায়ন খাতে বছরে ৩০ থেকে ৫৫ কোটি টাকা পর্যন্ত ব্যয় হতো। দায়িত্ব গ্রহণের পর প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সেই ব্যয় উল্লেখযোগ্যভাবে কমানোর নির্দেশ দেন। তারই ধারাবাহিকতায় চলতি মাসে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের আপ্যায়ন ব্যয় নেমে এসেছে প্রায় ১১ লাখ টাকায়। সংশ্লিষ্টদের মতে, সরকারি অর্থের সাশ্রয়, মিতব্যয়িতা এবং ব্যয় ব্যবস্থাপনায় শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে এই উদ্যোগ সরকারের নতুন নীতির প্রতিফলন।

জনভোগান্তি কমাতে সচিবালয়ে মন্ত্রিসভার বৈঠক

জনভোগান্তি কমানো এবং প্রশাসনিক কার্যক্রম আরও স্বাভাবিক রাখতে মন্ত্রিসভার বৈঠকসহ অধিকাংশ সরকারি উচ্চপর্যায়ের সভা সচিবালয়ে আয়োজনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় নেওয়া এ উদ্যোগের লক্ষ্য, গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকের কারণে রাজধানীতে অতিরিক্ত নিরাপত্তাব্যবস্থা, সড়ক বন্ধ এবং দীর্ঘ যানজটের মতো পরিস্থিতি এড়িয়ে সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ কমানো।

সংশ্লিষ্টরা জানান, সচিবালয়ে বৈঠক আয়োজন করলে প্রশাসনিক সমন্বয় সহজ হওয়ার পাশাপাশি সরকারি ব্যয়ও কমবে। একই সঙ্গে সরকারি কর্মকর্তাদের কর্মঘণ্টার কার্যকারিতা বৃদ্ধি পাবে এবং সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের গতি বাড়বে।

কেকে/এলএ


আরও সংবাদ   বিষয়:  প্রধানমন্ত্রী   তারেক রহমান  
মতামত লিখুন:
Loading...
Loading...

খোলাকাগজ স্পেশাল- এর আরো খবর

সম্পাদক ও প্রকাশক : আহসান হাবীব
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : বসতি হরাইজন, ১৭-বি, বাড়ি-২১ সড়ক-১৭, বনানী, ঢাকা-১২১৩
ফোন : বার্তা-০২২২২২৭৬০৩৭, মফস্বল-০২২২২২৭৬০৩৬, বিজ্ঞাপন ও সার্কুলেশন-০২২২২২৭৬০২৯, ০১৭৮৭৬৯৭৮২৩, ০১৮৫৩৩২৮৫১০ (বিকাশ)
ই-মেইল: [email protected], [email protected]

© 2025 Kholakagoj
🔝
close