টানা কয়েক দিনের ভারী বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে বান্দরবানের সাংগু ও মাতামুহুরী নদীর পানি বৃদ্ধি পেয়েছে। অতিবৃষ্টিতে বান্দরবান জেলা সদর, লামা, আলীকদম ও নাইক্ষ্যংছড়িসহ বিভিন্ন উপজেলার নিম্নাঞ্চল পানিতে প্লাবিত হয়ে পড়েছে।
টানা বৃষ্টি ও অতিবর্ষণের ফলে জেলার সাংগু ও মাতামুহুরী নদীর পানি বৃদ্ধি পেয়েছে। নদীর পানি উপচে অনেক স্থানে লোকালয়ে প্রবেশ করেছে।
অতিবৃষ্টিতে নদীর পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় বান্দরবান জেলা সদরের নদীতীরবর্তী ঘরবাড়িসহ আর্মিপাড়া, ইসলামপুর, শেরে বাংলা নগর ও আশপাশের নিম্নাঞ্চলে পানি প্রবেশ করায় স্থানীয়রা চরম দুর্ভোগে পড়েছেন। অনেকে প্রাণ বাঁচাতে আশ্রয়কেন্দ্রে উঠছেন।
মঙ্গলবার (৭ জুলাই) রাত থেকে বিভিন্ন এলাকার বাসিন্দারা আশ্রয়কেন্দ্রে আসতে শুরু করেছেন। প্রশাসনের পক্ষ থেকে তাদের বিভিন্ন ধরনের শুকনো খাবার ও অন্যান্য সহযোগিতা অব্যাহত রয়েছে।
পানি উন্নয়ন বোর্ডের বান্দরবানের নির্বাহী প্রকৌশলী অপু দেব জানান, সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী (গত রাত সাড়ে ১০টা) বান্দরবানের সাংগু নদীর পানি ১৪.৮৮৯ মিটার উচ্চতায় প্রবাহিত হচ্ছে।
আবহাওয়া অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় (আজ সকাল ৯টা পর্যন্ত) বান্দরবানে ৩০৯ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে, যা অতি ভারী বৃষ্টিপাত।
বান্দরবান সরকারি শহর প্রাথমিক বিদ্যালয়ে আশ্রয় নেওয়া ইসলামপুরের বাসিন্দা আনোয়ার হোসেন জানান, বান্দরবানে প্রচুর বৃষ্টি হচ্ছে। তার সঙ্গে অতিবর্ষণের ফলে সাংগু নদীর পানি বৃদ্ধি পেয়ে ঘরবাড়ি ডুবে গেছে। খাবার পানির সংকট থাকায় তারা প্রচুর কষ্টে রয়েছেন।
আশ্রয়কেন্দ্রে আশ্রয় নেওয়া জরিনা বেগম জানান, তাদের দুর্ভোগের শেষ নেই। বৃষ্টিতে ঘরবাড়ি ভেঙে গেছে। আবার ঘরে পানি ঢুকে অনেক মালামাল নষ্ট হয়ে যাচ্ছে।
এদিকে জেলা প্রশাসনের কর্মকর্তারা বলছেন, বান্দরবানে দুর্যোগ মোকাবেলায় সাতটি উপজেলায় ২২০টি আশ্রয়কেন্দ্র খোলা হয়েছে।
বান্দরবানের জেলা প্রশাসক মো. সানিউল ফেরদৌস জানান, দুর্যোগ মোকাবেলায় প্রশাসন কাজ করে যাচ্ছে এবং এ বিষয়ে উপজেলা প্রশাসনও সচেষ্ট রয়েছে।
কেকে/এলএ