নগর জলবায়ু ও বর্জ্য ব্যবস্থাপনা বিষয়ে সচেতনতা বৃদ্ধি এবং টেকসই নগর উন্নয়নের লক্ষ্যে রাজশাহীতে টাউন ক্লাইমেট অ্যান্ড ওয়েস্ট জাস্টিস ইনিশিয়েটিভ বিষয়ক অ্যাডভোকেসি সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
সোমবার (১৭ আগস্ট) দুপুরে রাজশাহী সিটি কর্পোরেশনের নগর ভবনের সরিৎ দত্ত গুপ্ত সভাকক্ষে সিরাক বাংলাদেশের উদ্যোগে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়।
সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন রাজশাহী সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক মো. মাহফুজুর রহমান রিটন।
মো. মাহফুজুর রহমান রিটন বলেন, ‘নগর জলবায়ু ও বর্জ্য ব্যবস্থাপনা বিষয়ে সচেতনতা বৃদ্ধিতে সিরাক বাংলাদেশ যে উদ্যোগ নিয়েছে, তা প্রশংসনীয়। যুবদের সম্পৃক্ত করে নগরীর উন্নয়নে তাদের কার্যক্রমকে স্বাগত জানাই।’
রাজশাহী সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক আরও বলেন, ‘মাদকমুক্ত যুব সমাজ গড়ে তোলা ও ক্রীড়ার উন্নয়নে মহানগরীতে খেলার মাঠ নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। সিনিয়র সিটিজেনদের জন্য পার্ক নির্মাণ এবং জাপানে জনশক্তি রপ্তানির মাধ্যমে কর্মসংস্থান সৃষ্টির উদ্যোগও নেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি নগরীর বর্জ্য ব্যবস্থাপনা উন্নয়নে নতুন প্রকল্প গ্রহণের কাজ চলছে। এ সব উদ্যোগে সিরাক বাংলাদেশ পাশে থাকবে বলে প্রত্যয় ব্যক্ত করেছে।’
রাজশাহী সিটি কর্পোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. রেজাউল করিমের সভাপতিত্বে সভায় বিশেষ অতিথি ছিলেন রাসিকের সচিব সোহেল রানা। প্রকল্পের কর্মপরিকল্পনা তুলে ধরেন সিরাক-বাংলাদেশের নির্বাহী পরিচালক ও ইউএন হ্যাবিটেড ইয়ুথ অ্যাডভাইজারি বোর্ডের উপদেষ্টা এসএম সৈকত।
স্বাগত বক্তব্য দেন সিরাক বাংলাদেশের উপ-পরিচালক (প্রোগ্রাম) মো. সেলিম মিয়া। এ ছাড়া বক্তব্য দেন রাসিকের নগর পরিকল্পনাবিদ বনি আহসান। প্রকল্পের সার্বিক কার্যক্রম উপস্থাপন করেন সিরাক-বাংলাদেশের প্রজেক্ট ম্যানেজার লুৎফা পাঠান।
সভায় প্রকল্পের বিস্তারিত উপস্থাপনা, নগর যুব কাউন্সিলের কর্মপরিকল্পনা, কার্যক্রম ও কাঠামো নিয়ে আলোচনা করা হয়। একই সঙ্গে সংশ্লিষ্টদের মধ্যে সমন্বয় ও সহযোগিতা বাড়ানোর বিষয়েও মতবিনিময় হয়।
উম্মুক্ত আলোচনা পর্বে নগর জলবায়ু ও বর্জ্য ব্যবস্থাপনার বিভিন্ন চ্যালেঞ্জ, সম্ভাবনা ও করণীয় নিয়ে অংশগ্রহণকারীরা মতামত তুলে ধরেন। বক্তারা নগরীর বর্জ্য ব্যবস্থাপনাকে আরও কার্যকর ও পরিবেশবান্ধব করা, জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব মোকাবিলা, নাগরিক সম্পৃক্ততা বৃদ্ধি এবং তরুণদের নেতৃত্বে নগর উন্নয়ন কার্যক্রমকে গতিশীল করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
আলোচনায় নগর যুব কাউন্সিলকে জলবায়ু পরিবর্তন ও বর্জ্য ব্যবস্থাপনা বিষয়ে জনসচেতনতা সৃষ্টি এবং নাগরিক পর্যায়ে ইতিবাচক পরিবর্তন আনার গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার হিসেবে এগিয়ে নেওয়ার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়। সভায় প্রকল্পের কর্মকর্তাবৃন্দসহ নগর যুব কাউন্সিলের সদস্যরা অংশগ্রহণ করেন।
কেকে/এআই