কুমিল্লার চান্দিনা উপজেলার মাধাইয়া-নবাবপুর সড়কের উন্নয়নকাজ শুরু হওয়ার নয় মাস পেরিয়ে গেলেও কাজের ধীরগতিতে চরম দুর্ভোগে পড়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। টানা বৃষ্টিতে সড়কজুড়ে বড় বড় গর্ত ও কাদার সৃষ্টি হওয়ায় যান চলাচল প্রায় অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। প্রতিনিয়ত ঘটছে দুর্ঘটনা, ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে যানবাহন।
সরেজমিনে দেখা যায়, টানা বৃষ্টিতে পুরো সড়কজুড়ে বড় বড় গর্ত ও কাদার সৃষ্টি হয়েছে। অনেক স্থানে পানি জমে থাকায় কোথায় সড়ক আর কোথায় গর্ত—তা বোঝা কঠিন। এমন অবস্থার মধ্যেও ভাঙা সড়ক দিয়ে বালুবোঝাই ড্রাম ট্রাক চলাচল করছে। এতে সড়কের ক্ষতি আরও বাড়ছে।
বেহাল সড়কে প্রতিদিনিই দুর্ঘটনা ঘটেছে। গত ২৩ জুন মালামাল নিয়ে যাওয়ার সময় মহিচাইল ইউনিয়ন পরিষদের সাইড ওয়াল ভেঙে ট্রাক খাদে পড়ে যায়। গত সপ্তাহে কাশিমপুর মাজারসংলগ্ন এলাকায় মালবাহী ট্রাক উল্টে পুকুরে পড়ে যায়। এর আগে নিশ্চিন্তপুর এলাকায় মাছের ফিডবোঝাই ট্রাক খাদে পড়ে যায়। এ ছাড়াও ছেঙ্গাছিয়া ব্রিজ এলাকায় ৫৫০ বস্তা সিমেন্টবোঝাই ট্রাক উল্টে খাদে পড়ে যায়।
জানা যায়, স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) ১৩ কোটি ৮৪ লাখ টাকা ব্যয়ে মাধাইয়া থেকে রাণীচড়া ব্রিকস ফিল্ড পর্যন্ত ৯ দশমিক ৬ কিলোমিটার সড়কের উন্নয়নকাজ গত বছরের ২৩ নভেম্বর শুরু হয়। প্রকল্প অনুযায়ী রসুলপুর বাজার ও মহিচাইল বাজার অংশে আরসিসি ঢালাই সড়ক নির্মাণের কথা রয়েছে।
কাজ শুরুর নয় মাস পেরিয়ে গেলেও রসুলপুর বাজার অংশে আরসিসি ঢালাই হয়েছে। মহিচাইল বাজার অংশে এখনো কাজ শুরু হয়নি। পুরো সড়কের পুরোনো কার্পেটিং তুলে ফেলা হলেও সংস্কারকাজ চলছে ধীরগতিতে। নিশ্চিন্তপুর থেকে ইটের কংক্রিট ফেলে মহিচাইল হাসপাতাল পর্যন্ত কাজ এগিয়েছে। রসুলপুর বাজারে আরসিসি ঢালাইয়ের গাইড ওয়াল নির্মাণে নিম্নমানের কাজের অভিযোগও রয়েছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, সড়কের পাশ থেকেই মাটি কেটে সড়কে ফেলা হচ্ছে। এতে সড়কের ভিত্তি দুর্বল হয়ে ধসে পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
সিএনজিচালক জাকির বলেন, ‘সড়কের বর্তমান অবস্থায় গাড়ি চালানো অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। ইতোমধ্যে অনেক সিএনজিচালক যাত্রী নিয়ে সড়কের গর্তে পড়ে মারাত্মক আহত হয়েছেন। প্রতিদিনই গাড়ির যন্ত্রাংশ ভেঙে যাচ্ছে এবং মেরামত করতে হচ্ছে।’
জামিরাপাড়া গ্রামের বাসিন্দা সাইফুল ইসলাম বলেন, ‘বাড়ি থেকে মাধাইয়া যাওয়ার পথে নিশ্চিন্তপুর এলাকায় সিএনজির এক্সেল ভেঙে খাদে পড়ে যাই। এ সময় যাত্রীসহ সিএনজি আমার ওপর পড়ে বুক ও পিঠের হাড় ভেঙে যায়। বেহাল সড়কের কারণেই এ দুর্ঘটনার শিকার হয়েছি।’
নিশ্চিন্তপুর গ্রামের আব্দুস সালাম বলেন, ‘সড়কের বর্তমান অবস্থায় গাড়ি চলাচল করা কঠিন। কিছুদিন আগে মাছের ফিডবোঝাই একটি ট্রাক উল্টে খাদে পড়ে যায়। সড়ক দিয়ে হাঁটাচলাও এখন মুশকিল হয়ে পড়েছে।’
রাস্তা নির্মাণ কাজের সাইট ম্যানেজার মো. আনোয়ার বলেন, ‘বৃষ্টির কারণে সড়কের উন্নয়নকাজে কিছুটা সমস্যা হচ্ছে। তবে প্রকল্পের নির্ধারিত সময়সীমা এখনো শেষ হয়নি। কাজ দ্রুত শেষ করতে লোকবল বাড়ানো হয়েছে। আশা করছি নির্ধারিত সময়ের আগেই উন্নয়নকাজ শেষ করা সম্ভব হবে।’
চান্দিনা উপজেলা প্রকৌশলী (এলজিইডি) গোলাম উল্লাহ বলেন, ‘সম্প্রতি চান্দিনায় যোগ দিয়েছি। দায়িত্ব নেওয়ার পর ঠিকাদার প্রতিষ্ঠানকে দ্রুত কাজ শেষ করার জন্য নির্দেশনা দিয়েছি।’
কেকে/এআই