কিশোরগঞ্জের অষ্টগ্রামে জলমহালের দখল ও নিয়ন্ত্রণকে কেন্দ্র করে বিএনপির দুই পক্ষের সংঘর্ষের ঘটনায় উপজেলা ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক সৈয়দ তাওকিরের হাতে চাইনিজ কুড়াল থাকা একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে।
রবিবার (২৭ সেপ্টেম্বর) সকাল থেকে ভিডিওটি প্রকাশ্যে আসার পর স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গন ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এ নিয়ে আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়েছে। সৈয়দ তাওকির অষ্টগ্রাম উপজেলা বিএনপির সভাপতি সৈয়দ সাঈদ আহমেদের ছেলে।
জানা যায়, জলমহালের ভোগদখল ও ইজারা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে স্থানীয় বিএনপির দুই পক্ষের মধ্যে বিরোধ চলে আসছিল। এরই ধারাবাহিকতায় গত ২৫ সেপ্টেম্বর শুক্রবার দুপুরে উপজেলার পূর্ব অষ্টগ্রাম ইউনিয়নের আখড়াবাজার এলাকায় জলমহাল দখলকে কেন্দ্র করে বিএনপির দুই পক্ষের লোকজন সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়েন। একপর্যায়ে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। এতে উভয় পক্ষের অন্তত ২৫ জন আহত হওয়ার খবর পাওয়া যায়।
সংঘর্ষের সময়কার একটি ভিডিওতে উপজেলা বিএনপির সভাপতি সৈয়দ সাঈদ আহমেদের ছেলে ও উপজেলা ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক সৈয়দ তাওকিরকে হাতে একটি চাইনিজ কুড়াল নিয়ে ঘটনাস্থলে দেখা যায়। ভিডিওতে তাঁকে কুড়াল হাতে নিয়ে প্রতিপক্ষের দিকে এগিয়ে যেতে দেখা যায়। পরে ভিডিওটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে বিষয়টি নিয়ে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়।
সৈয়দ তাওকিরকে ঘিরে স্থানীয়ভাবে আরও বেশ কিছু অভিযোগের কথাও আলোচনা হচ্ছে। তাঁর বিরুদ্ধে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন, মামলা বাণিজ্য, মাদক ব্যবসা এবং অনলাইন জুয়ার এজেন্ট হিসেবে কাজ করাসহ বিভিন্ন অনিয়মে জড়িত থাকার অভিযোগ উঠেছে।
তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে সৈয়দ তাওকির তা অস্বীকার করে বলেন, সংঘর্ষের সময় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ ও সংঘর্ষ থামানোর উদ্দেশ্যেই তিনি অন্য একজনের হাত থেকে কুড়ালটি নিয়েছিলেন।
চাইনিজ কুড়াল হাতে ভিডিওতে তাকে প্রতিপক্ষের দিকে এগিয়ে যেতে দেখা যাওয়ার বিষয়ে জানতে চাইলে তাওকির বলেন, “সংঘর্ষ থামানোর জন্য অন্য একজনের হাত থেকে কুড়ালটি নিয়েছিলাম। আমি কাউকে আঘাত করার উদ্দেশ্যে কুড়ালটি হাতে নিইনি।”
উপজেলা ছাত্রদলের সদস্য সচিব আল মাহমুদ মোস্তাক বলেন, “বিষয়টি সত্য, আমরা সবাই অবগত। তবে এ বিষয়ে এই মুহূর্তে আমি কোনো মন্তব্য করতে পারব না।”
উপজেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক তিতুমীর হোসেন সোহেল বলেন, “বিষয়টি আমরা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেখে যাচাই-বাছাই করে সত্যতা পেয়েছি। এ বিষয়ে জেলা ছাত্রদলের নেতৃবৃন্দকে জানিয়েছি। জেলা নেতৃবৃন্দ এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবেন।”
উপজেলা ছাত্রদলের নেতারা জানান, সৈয়দ তাওকিরকে ঘিরে ওঠা অভিযোগ এবং সংঘর্ষের সময়ের ভিডিওর বিষয়ে তাঁরা বিষয়টি জেলা ছাত্রদলের নজরে এনেছেন। এখন জেলা পর্যায়ের সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় রয়েছেন তাঁরা।
এ বিষয়ে কিশোরগঞ্জ জেলা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক রাফিউল ইসলাম নওসাদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, “বিষয়টি এখনও জানা নেই। দেখে ব্যবস্থা নেব।”
এদিকে জলমহাল দখলকে কেন্দ্র করে বিএনপির দুই পক্ষের সংঘর্ষের ঘটনায় সৈয়দ তাওকিরের বাবা ও অষ্টগ্রাম উপজেলা বিএনপির সভাপতি সৈয়দ সাঈদ আহমেদকে শোকজ করেছে কিশোরগঞ্জ জেলা বিএনপি। সংঘর্ষের ঘটনায় দলীয় পর্যায়ে বিষয়টি নিয়ে তদন্ত ও সাংগঠনিকভাবে আলোচনা চলছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।
স্থানীয় বিএনপির নেতাকর্মীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, জলমহালের নিয়ন্ত্রণ ও ইজারা নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে আগে থেকেই বিরোধ ছিল। সংঘর্ষের পর বিষয়টি আরও রাজনৈতিক উত্তেজনার সৃষ্টি করেছে। এর মধ্যেই সৈয়দ তাওকিরের চাইনিজ কুড়াল হাতে ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ায় নতুন করে আলোচনা তৈরি হয়েছে।
কেকে/ এমএস